ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

বরিশালে পরোয়ানা সত্ত্বেও অধরা শীর্ষ সন্ত্রাসীরা: পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন, সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি


বরিশালে পরোয়ানা সত্ত্বেও অধরা শীর্ষ সন্ত্রাসীরা: পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন, সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি


আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা এবং একাধিক মাদক ও অস্ত্র মামলা থাকা সত্ত্বেও অধরাই রয়ে গেছে বরিশালের চিহ্নিত সন্ত্রাসী রুবেল, ‘গাঁজা’ রফিক ও মাইনুল বাহিনী। অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশের জেরে প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে এক সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার তীব্র অভিযোগ উঠেছে এই সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি—আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অসাধু কিছু কর্মকর্তার পরোক্ষ মদদ এবং স্থানীয় প্রভাবশালী গডফাদারদের ছত্রছায়ায় আসামিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে নগরীতে প্রকাশ্যে তাণ্ডব চালিয়ে যাচ্ছে, যা যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের জন্ম দিতে পারে।
হকার থেকে কোটিপতি: রিফুজি কলোনিতে মাদকের সম্রাজ্য
অনুসন্ধানে জানা যায়, বরিশাল নগরীর ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা রফিক ওরফে ‘গাঁজা রফিক’ একসময় পত্রিকার হকারি করে জীবিকা নির্বাহ করলেও অল্প সময়েই বিপুল সম্পদ ও কোটি টাকার মালিক বনে যান। ১৩ নম্বর ওয়ার্ড সংলগ্ন ঘনবসতিপূর্ণ ও শ্রমজীবী অধ্যুষিত রিফুজি কলোনি এবং কাজীপাড়া এলাকায় মাদকের বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তুলে তিনি এই সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। কিনেছেন জমি, প্লট, ফ্ল্যাট এবং নির্মাণ করেছেন আলিশান ভবন। তার এই মাদক কারবারের প্রধান সহযোগী হিসেবে কাজ করেন স্ত্রী আনু বেগম, যার বিরুদ্ধেও একাধিক মাদক মামলা বিচারাধীন।
আন্ডারওয়ার্ল্ডের সমীকরণ ও 'নাক কাটা' রুবেলের উত্থান
দক্ষিণাঞ্চলে মাদক ও অবৈধ অস্ত্রের বিশাল সিন্ডিকেট পরিচালনায় রফিকের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে র‍্যাবের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘নাক কাটা’ রুবেল ও মাইনুলদের নাম। ২০০২ সালে তৎকালীন ১৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও মহানগর যুবদল নেতা মাহবুবুল আলম মেহেদীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত এই রুবেলের বিরুদ্ধে টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি ও ধর্ষণের মতো বহু গুরুতর অভিযোগ ছিল। ২০০৬ সালে র‍্যাবের ক্রসফায়ারে মেহেদী নিহত হওয়ার পর গ্রেফতার এড়াতে দীর্ঘ এক যুগ আত্মগোপনে ছিল রুবেল। তবে সাম্প্রতিক ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের সুযোগে এলাকায় ফিরে সে পুনরায় অস্ত্রসহ প্রকাশ্যে মহড়া দিতে শুরু করে।
কলোনিতে প্রকাশ্যে গুলিবর্ষণ ও পেশাগত ঝুঁকি
গত ১৭ ডিসেম্বর রাত আনুমানিক ১০টা ৩০ মিনিটে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে শীর্ষ সন্ত্রাসী রুবেল ও রফিক বাহিনী মোটরসাইকেলযোগে ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের রিফুজি কলোনিতে প্রকাশ্যে গুলিবর্ষণ করতে করতে নূরীয়া স্কুলের দিকে চলে যায়। কলোনিতে নতুন সন্ত্রাসী বাহিনী গঠন ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে স্থানীয় তরুণরা বাধা দিলে এই হামলার ঘটনা ঘটে।
এই গোলাগুলির ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘তালাশ বিডি’-র সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার মাছুদুর রহমান আসলাম একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করলে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে রুবেলের অপরাধের ইতিহাস নিয়ে আরও তিনটি অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশ করায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে রুবেল-রফিক বাহিনী।
প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে প্রাণনাশের হুমকি
গত ২১ জানুয়ারি সন্ধ্যায় সংবাদ সংগ্রহের কাজে সাংবাদিক মাছুদুর রহমান আসলাম ও ‘বিজলী বার্তা’র সংবাদকর্মী জানে আলম লিখন শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে সন্ত্রাসীরা তাদের চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে। এ সময় রফিকের বাইক থেকে নেমে ‘নাক কাটা’ রুবেল সাংবাদিক আসলামের দিকে সরাসরি আগ্নেয়াস্ত্র তাক করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং প্রকাশিত সংবাদ দ্রুত মুছে ফেলার হুমকি দেয়। অন্যথায় তাঁকে সপরিবারে হত্যার হুমকি দিয়ে সন্ত্রাসীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
রিফুজি কলোনির এক ক্ষুব্ধ বাসিন্দা বলেন, "রফিক আমাদের এলাকার তরুণ সমাজকে মাদকের মাধ্যমে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে। তাকে অতি দ্রুত গ্রেফতার করে কঠোর শাস্তির আওতায় না আনলে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাবে।"
আইনি লড়াই, চার্জশিট ও ক্রমাগত হুমকি
হুমকির ঘটনায় সাংবাদিক মাছুদুর রহমান আসলাম বরিশাল ৩য় যুগ্ম জেলা জজ আদালতে দ্রুত বিচার আইনে একটি মামলার আবেদন করেন। বিজ্ঞ বিচারক ভিডিও ফুটেজ ও আসামিদের অপরাধের নথি পর্যালোচনা করে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) আবেদনটি এজাহার (এফআইআর) হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।
মামলা দায়েরের পর সাংবাদিক আসলামের সন্তানদের ক্ষতির হুমকি দেওয়া হলেও, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি মডেল থানার এসআই রাজিব দাস সনেট ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন। এদিকে চার্জশিটে নাম আসায় রফিকের স্ত্রী আনু বেগম সাংবাদিক আসলামকে মুঠোফোনে কল দিয়ে মিথ্যা মাদক ও অস্ত্র মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিশের অভিযানের তথ্য আগাম পেয়ে যাওয়ায় পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা বারবার পালিয়ে যেতে সক্ষম হচ্ছে।
পুলিশ প্রশাসনের আশ্বাস
এ বিষয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) কমিশনার মোঃ আব্দুল হান্নান জানান, শীর্ষ সন্ত্রাসী রুবেল, ‘গাঁজা’ রফিক ও মাইনুলদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ও পরোয়ানা থাকা সত্ত্বেও তারা কীভাবে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে—বিষয়টি সম্পর্কে তিনি সম্প্রতি অবগত হয়েছেন।
কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিএমপি কমিশনার বলেন, "চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অতি দ্রুত সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হবে। কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না; যেকোনো মূল্যে তাদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সচেতনতা ও মানবিক উদ্যোগেই থ্যালাসেমিয়া নিয়ন্ত্রণ সম্ভব: ডা. জুবাইদা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৩১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:৪৭ পি.এম


সচেতনতা ও মানবিক উদ্যোগেই থ্যালাসেমিয়া নিয়ন্ত্রণ সম্ভব: ডা. জুবাইদা

ডা. জুবাইদা রহমান বলেছেন, সবাই যদি মিলে মানবিক সমাজব্যবস্থা গড়ে তুলতে সক্ষম হন তাহলে তখন থ্যালাসেমিয়া রোগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়। এ মন্তব্য তিনি করেছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন (আইইবি) মিলনায়তনে বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া সমিতির (বিটিএস) আয়োজনে বিশ্ব রক্তদাতা দিবস উপলক্ষে ‘রক্তদাতা সম্মাননা-২০২৬’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

ডা. জুবাইদা রহমান বলছিলেন, থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়ে তাঁদের সহায়তা ও প্রয়োজনীয় আশ্বাস দেওয়া জরুরি। অনেকেই জানেন না যে থ্যালাসেমিয়া একটি প্রতিরোধযোগ্য ব্যাধি। সঠিক ও সময়োপযোগী চিকিৎসার মাধ্যমে মারাত্মকভাবে আক্রান্ত ব্যক্তিও সক্ষম হন সুস্থ জীবন যাপন করতে।

তিনি রোগটি মোকাবিলায় সারা দেশে থ্যালাসেমিয়া ও অন্যান্য জন্মগত বিরল রোগে আক্রান্তদের জন্য একটি নির্ভুল ডেটাবেজ (রেজিস্ট্রি) তৈরির প্রস্তাব দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, দেশজুড়ে এসব রোগীদের জন্য একটি কেন্দ্রীয় তালিকা তৈরি করা প্রয়োজন। যদিও থ্যালাসেমিয়া যোদ্ধাদের শতভাগ সুস্থ করা সব সময় সম্ভব থাকে না, তবুও তাঁদের ও তাঁদের পরিবারের প্রতি আন্তরিক সহমর্মিতা ও সেবার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে।

তিনি সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেন এবং জানান, গর্ভকালীন পরীক্ষা কিংবা যেকোনো বয়সে স্ক্রিনিং টেস্টের মাধ্যমে এ রোগ নির্ণয় করা সম্ভব। সদর হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং ইউনিয়ন ও গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত থ্যালাসেমিয়া শনাক্তকরণ ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান। এছাড়া নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের সময় এই রোগের উপসর্গ ও চিকিৎসা বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণের ওপরও গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।

অনুষ্ঠানে স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে গিয়ে জুবাইদা রহমান তাঁর কন্যা জাইমা রহমানের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, জাইমা একজন নিয়মিত স্বেচ্ছায় রক্তদাতা এবং এখন পর্যন্ত তিনি সাতবার রক্তদান করেছেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া সমিতির সভাপতি প্রকৌশলী এম এ মতিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম এবং জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার। এ ছাড়া বিশেষ আমন্ত্রণে উপস্থিত ছিলেন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ ও রাজউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রিয়াজুল ইসলাম।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী

‘কেউ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সব কৃতিত্ব কুক্ষিগ্রাস করবে, সেই সুযোগ নেই’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৩১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:৪৮ পি.এম


‘কেউ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সব কৃতিত্ব কুক্ষিগ্রাস করবে, সেই সুযোগ নেই’

‘বিএনপি ধৈর্য ধরে বসে থাকবে এবং একটি পক্ষ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সব কৃতিত্ব কুক্ষিগ্রাস করবে, সেই সুযোগ নেই’ বলে মন্তব্য করেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

তিনি এই মন্তব্য করেন শুক্রবার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে অনুষ্ঠিত জাতীয়তাবাদী সাস্টিয়ান সোসাইটির ‘জুলাই স্মৃতিচারণ’ অনুষ্ঠানে। অনুষ্ঠানে বক্তারা শহীদদের আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

তারা উল্লেখ করেন, জুলাই ছিল ছাত্র-জনতার সম্মিলিত গণঅভ্যুত্থান। তাই এর ইতিহাস বিকৃত বা একক কোনো পক্ষের কৃতিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়।

এছাড়া নতুন প্রজন্মের কাছে আন্দোলনের প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরতে তথ্যমূলক প্রচার ও সাংগঠনিকভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. খায়রুল ইসলামসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাঘায় প্রশাসনিক শূন্যতা, ইউএনওসহ ৫ গুরুত্বপূর্ণ পদ খালি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৩১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:৪৯ পি.এম


বাঘায় প্রশাসনিক শূন্যতা, ইউএনওসহ ৫ গুরুত্বপূর্ণ পদ খালি

 

রাজশাহীর বাঘা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাম্মী আক্তারকে বদলি করার পর উপজেলা প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। একযোগে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ পদের দায়িত্ব শূন্য হয়ে পড়ায় দাপ্তরিক অনুমোদন, উন্নয়ন প্রকল্পের কার্যক্রম এবং ভূমি-সংক্রান্ত নাগরিক সেবা চরমভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

খোঁজ নেওয়ার পর জানা যায়, গত শনিবার বাঘা উপজেলায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক ঘণ্টা পর পরীক্ষাটি শুরু করা হয় এবং সম্পূর্ণ ফলাফল প্রকাশ না করে কেবল সুপারভাইজার পদের ফলাফল প্রকাশ করা হয়।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিয়োগে অনিয়ম, দুর্নীতি ও বৈষম্যের অভিযোগ তুলে উপজেলা পরিষদ চত্বরে বিক্ষোভ মিছিল করেন স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। তারা ইউএনওর পদত্যাগ ও বিচারের দাবি জানান।

বিক্ষোভকালে বাঘা পৌর বিএনপির সভাপতি কামাল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক তফিকুল ইসলাম বলেন, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ন্যূনতম স্বচ্ছতা রাখা হয়নি। অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ধরে তারা দ্রুত ইউএনওর অপসারণ ও বদলির দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) ঘটনাস্থলে গিয়ে বিএনপি নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

এরই ধারাবাহিকতায় পরের দিন রবিবার রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে জনস্বার্থে ইউএনও শাম্মী আক্তারকে নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় বদলি করা হয়।

ইউএনওর এই আকস্মিক বদলির ফলে বাঘা উপজেলার অন্তত পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদ পদশূন্য হয়ে পড়েছে। বিদায়ী ইউএনও শাম্মী আক্তার নিজের মূল দায়িত্বের পাশাপাশি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, বাঘা পৌরসভার প্রশাসক, আড়ানী পৌরসভার প্রশাসক এবং সহকারী কমিশনারের (ভূমি) অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছিলেন। এখন পর্যন্ত নতুন কোনো কর্মকর্তা যোগদান না করায় বা বিকল্প দায়িত্ব না দেওয়ায় দাপ্তরিক কাজে এসে চরম ভোগান্তিতে ভুগছেন সাধারণ মানুষ।

তবে নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে বিদায়ী ইউএনও শাম্মী আক্তার বলেন, ‘সরকারি বিধিমালা ও নীতিমালা অনুসরণ করে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। একটি পক্ষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই অসত্য অভিযোগ তুলছে।’

তিনি জানান, দায়িত্ব হস্তান্তরের বিষয়টি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সম্পন্ন করবে এবং পরবর্তী সিদ্ধান্ত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নেবেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকা উত্তরের নগর ব্যবস্থাপনা দেখতে নিজেই গাড়ির চালকের আসনে প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৩১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:৫৪ পি.এম


ঢাকা উত্তরের নগর ব্যবস্থাপনা দেখতে নিজেই গাড়ির চালকের আসনে প্রধানমন্ত্রী

নিজেই গাড়ি চালিয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিকাল ৪টার দিকে তিনি গুলশানের বাসা থেকে গাড়ি নিয়ে বের হন। প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

জাহিদুল ইসলাম রনি জানান, ব্যতিক্রমী এই পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী নিজেই গাড়ি চালিয়ে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেন। তার পরিদর্শনের রুট ছিল– রাজধানীর ইসিবি চত্বর, মিরপুর ডিওএইচএস, দিয়াবাড়ি, উত্তরা সেক্টর ৩, ৪, ৫ ও ৬, এয়ারপোর্ট রোড হয়ে কাকলী মোড়, মহাখালী, ফার্মগেট, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, আসাদগেট, মোহাম্মদপুর, সলিমুল্লাহ রোড, ইকবাল রোড, তাজমহল রোড, জাপান গার্ডেন সিটি, শ্যামলী মোড়, গণভবন মোড়, জিয়া উদ্যান, শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া, মিরপুর-১০, কচুক্ষেত, ক্যান্টনমেন্ট, সৈনিক ক্লাব, কাকলী ও বনানী।

তিনি জানান, ঢাকার উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন সড়কের পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা কেমন, তা দেখতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেই গাড়ি ড্রাইভ করে ঘুরেছেন।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী বার বার বলেছেন, তিনি ঢাকাকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন শহর হিসেবে দেখতে চান। সেজন্য সরেজমিন ঘুরে দেখছেন।

পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িতে ছিলেন– স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির বিশেষ সম্পাদক মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন মৃধা, প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-২ মো. মেহেদুল ইসলাম এবং সহকারী একান্ত সচিব-২ আব্দুর রহমান সানী।

এর আগে বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাতেও ডিএনসিসি প্রশাসককে সঙ্গে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক ঘুরে দেখেন। তিনি রাজধানীর সড়কগুলোর সার্বিক অবস্থা, গভীর রাতের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ফুটপাতের পরিস্থিতি, সড়কবাতির কার্যকারিতা, রাতের যান চলাচল এবং নগরসেবার সামগ্রিক চিত্র সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%