০৮:৪৯ পি.এম
রাজশাহীর বাঘা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাম্মী আক্তারকে বদলি করার পর উপজেলা প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। একযোগে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ পদের দায়িত্ব শূন্য হয়ে পড়ায় দাপ্তরিক অনুমোদন, উন্নয়ন প্রকল্পের কার্যক্রম এবং ভূমি-সংক্রান্ত নাগরিক সেবা চরমভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
খোঁজ নেওয়ার পর জানা যায়, গত শনিবার বাঘা উপজেলায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক ঘণ্টা পর পরীক্ষাটি শুরু করা হয় এবং সম্পূর্ণ ফলাফল প্রকাশ না করে কেবল সুপারভাইজার পদের ফলাফল প্রকাশ করা হয়।
আরও পড়ুন: যুগে যুগে এমপি-মন্ত্রী আসবেন, একজন নজরুলের জন্ম হবে না: জহির উদ্দিন স্বপন
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিয়োগে অনিয়ম, দুর্নীতি ও বৈষম্যের অভিযোগ তুলে উপজেলা পরিষদ চত্বরে বিক্ষোভ মিছিল করেন স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। তারা ইউএনওর পদত্যাগ ও বিচারের দাবি জানান।
বিক্ষোভকালে বাঘা পৌর বিএনপির সভাপতি কামাল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক তফিকুল ইসলাম বলেন, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ন্যূনতম স্বচ্ছতা রাখা হয়নি। অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ধরে তারা দ্রুত ইউএনওর অপসারণ ও বদলির দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) ঘটনাস্থলে গিয়ে বিএনপি নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
এরই ধারাবাহিকতায় পরের দিন রবিবার রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে জনস্বার্থে ইউএনও শাম্মী আক্তারকে নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় বদলি করা হয়।
ইউএনওর এই আকস্মিক বদলির ফলে বাঘা উপজেলার অন্তত পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদ পদশূন্য হয়ে পড়েছে। বিদায়ী ইউএনও শাম্মী আক্তার নিজের মূল দায়িত্বের পাশাপাশি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, বাঘা পৌরসভার প্রশাসক, আড়ানী পৌরসভার প্রশাসক এবং সহকারী কমিশনারের (ভূমি) অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছিলেন। এখন পর্যন্ত নতুন কোনো কর্মকর্তা যোগদান না করায় বা বিকল্প দায়িত্ব না দেওয়ায় দাপ্তরিক কাজে এসে চরম ভোগান্তিতে ভুগছেন সাধারণ মানুষ।
আরও পড়ুন: চুয়াডাঙ্গায় দেয়ালে ‘জয় বাংলা’সহ বিভিন্ন স্লোগান লিখলেন নারী শিক্ষার্থীরা, ভিডিও ভাইরাল
তবে নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে বিদায়ী ইউএনও শাম্মী আক্তার বলেন, ‘সরকারি বিধিমালা ও নীতিমালা অনুসরণ করে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। একটি পক্ষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই অসত্য অভিযোগ তুলছে।’
তিনি জানান, দায়িত্ব হস্তান্তরের বিষয়টি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সম্পন্ন করবে এবং পরবর্তী সিদ্ধান্ত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নেবেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন