ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ভারতে ককরোচ জনতা পার্টির সমর্থকদের ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচি


ভারতে ককরোচ জনতা পার্টির সমর্থকদের ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচি

শিক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কারের দাবিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-এর আহ্বানে হাজার হাজার শিক্ষার্থী, অভিভাবক, কর্মী ও রাজনৈতিক নেতা ভারতীয় সংসদের দিকে পদযাত্রা করার জন্য প্রস্তুত রয়েছেন। বিক্ষোভকারীদের মধ্যে অন্যতম প্রধান দাবি হচ্ছে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।

গতকাল রবিবার (১৯ জুন) থেকে বিক্ষোভকারীরা দিল্লির নির্ধারিত প্রতিবাদস্থলে জড়ো হতে দেখা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাজধানীতে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

এর আগে শনিবার উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল, যখন সিজেপি-সমর্থিত আন্দোলনের অংশ হিসেবে ২১ দিন ধরে অনশনরত শিক্ষাবিদ ও কর্মী সোনম ওয়াংচুককে জোর করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে হাসপাতালে গিয়ে তিনি অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন।

আরও পড়ুন: ঢাকায় ২৪ ঘণ্টার অভিযানে পুলিশের হাতে ৫৩৪ গ্রেপ্তার

অভিজিৎ দীপকের প্রতিষ্ঠিত ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) প্রশ্নপত্র ফাঁস ও বিভিন্ন পরীক্ষায় অনিয়মের প্রতিবাদে চলতি বছরের মে মাসে একটি অনলাইন ব্যঙ্গাত্মক আন্দোলন হিসেবে যাত্রা শুরু করে। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। আন্দোলনকারীরা নিজেদের ‘ককরোচ’ বা তেলাপোকা বলে পরিচয় দিচ্ছেন।

গত এক মাস ধরে তারা দিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর মন্তরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। তাদের সঙ্গে কয়েকটি ছাত্র সংগঠনের সদস্যরাও যোগ দিয়েছেন। আন্দোলনের অংশ হিসেবে শিক্ষাবিদ ও কর্মী সোনম ওয়াংচুক এখনও অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। দিল্লির তীব্র গরমের মধ্যেও তিনি শুধু পানি ও লবণ খেয়ে অনশন অব্যাহত রেখেছেন। এতে তার ওজন ৯ কেজির বেশি কমে গেছে এবং তিনি শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছেন।

শারীরিক অসুস্থতা সত্ত্বেও সোনম ওয়াংচুক সংসদ অভিমুখে পদযাত্রায় অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি রসিকতা করে বলেছেন, প্রয়োজনে মৃত্যুর পরও তার আত্মা এই আন্দোলনের সঙ্গে থাকবে।

তবে শনিবার সকালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৭টার কিছু আগে কয়েক ডজন পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য অনশনস্থলে প্রবেশ করেন। পরে তারা অনশনরত ওয়াংচুককে সেখান থেকে হাসপাতালে নিয়ে যান।

আরও পড়ুন: রুয়েটের বাসে থাকা প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ‘স্নাইপারের অভাব’ মন্তব্য, যুবক গ্রেফতার

এ সময় তাকে নিয়ে যাওয়া ঠেকাতে আন্দোলনকারীরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়। ঘটনাটি বিক্ষোভ স্থলে উত্তেজনা সৃষ্টি করে। মঞ্চ থেকে নামানোর আগে পুলিশ সোনমকে একটি চাদর দিয়ে ঢেকে দেয়। পরে তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে নয়াদিল্লির সরকারি সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমো জানান, হাসপাতালে থেকেও সোনম অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন এবং খাবার বা পানীয় গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

রবিবার গীতাঞ্জলি বলেছেন, ‘সংসদের অধিবেশনে শিক্ষা খাতে জবাবদিহিতার বিষয়টি প্রধান আলোচ্য হবে, এমন আশ্বাস রাজনৈতিক নেতারা হাসপাতালে এসে দিলে তবেই সোনম তার অনশন ভাঙবেন।’

ওয়াংচুক মিছিলে অংশ নিতে না পারলেও আন্দোলন থেমে থাকবে না বলে জানিয়েছেন দিপকে। তিনি বলেন, সোমবারের মিছিল পূর্বঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে। দিপকের ভাষায়, ‘ওয়াংচুককে সরিয়ে দিলেই আন্দোলন শেষ হয়ে যাবে, এমনটা যদি কেউ ভেবে থাকে, তাহলে তারা ভুল করছে। আমরা এখানেই থাকব এবং ২০ জুলাই সংসদের দিকে মিছিল করব।’

ওয়াংচুকের পরিবর্তে দিপকে শনিবার থেকে অনির্দিষ্টকালের অনশন শুরু করেছেন। তিনি জানান, বিক্ষোভকারীদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করতে হাজার হাজার মানুষ এই মিছিলে অংশ নেবেন। প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা বাতিল হওয়ার প্রতিবাদে সিজেপির নেতৃত্বে এই আন্দোলন চলছে।

আরও পড়ুন: মানিকগঞ্জে বাস-ইজিবাইক সংঘর্ষে ২ নিহত, আহত ১

মে মাসের শুরুতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে একটি গুরুত্বপূর্ণ মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা বাতিল হয়। এতে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রায় ২২ লাখ ৮০ হাজার শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হন। পরে ২১ জুন আবার পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। তবে বিক্ষোভকারীদের দাবি, এই ঘটনার চাপ ও অনিশ্চয়তার কারণে ২০ জনের বেশি শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন।

বিক্ষোভকারীদের অন্যতম প্রধান দাবি হলো শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। তাদের মতে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার নৈতিক দায়ভার নিয়ে তাঁর পদত্যাগ করা উচিত। অন্যদিকে ধর্মেন্দ্র প্রধান সিজেপি ও তাদের সমর্থকদের ‘বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী শক্তির বি-টিম’ হিসেবে মন্তব্য করেছেন। এ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনায় বসেনি।

শনিবারের ঘটনার পর সিজেপি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পদত্যাগের দাবিও জানিয়েছে। আন্দোলনের নেতা দীপকে বলছেন, ‘এতকাল আমরা ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করছিলাম। কিন্তু এই ঘটনার পর আমরা এখন নরেন্দ্র মোদীর পদত্যাগও দাবি করব।’

ওয়াংচুকের বিরুদ্ধে নেওয়া এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন বিভিন্ন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা। তারা ঘটনাটিকে ‘চমকপ্রদ জবরদস্তিমূলক রাষ্ট্রীয় সহিংসতা’ ও ‘গণতন্ত্রের ওপর আঘাত’ বলে অভিহিত করেছেন।

আরও পড়ুন: মামদানির ঘনিষ্ঠ কংগ্রেস প্রার্থী ব্র্যাড ল্যান্ডারকে আটক করল ইসরাইল

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সরকারের আলোচনার দাবিতে বিরোধী দল ও সুশীল সমাজের নেতাদের চাপ ক্রমেই বাড়ছিল। এ সময় অনেক রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতা অনশনরত ওয়াংচুকের সঙ্গে দেখা করেন। তাদের মতে, বিক্ষোভকারীদের দাবিগুলো যৌক্তিক এবং তাদের উদ্বেগ ও অভিযোগগুলোর গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করতে সরকারের উচিত দ্রুত আলোচনায় বসা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্পেনের জয় উদযাপন করলো ফিলিস্তিনিরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

সোমবার, ২০ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৫৬ এম


স্পেনের জয় উদযাপন করলো ফিলিস্তিনিরা

আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলের ব্যবধানে হারিয়ে স্প্যানিশরা দীর্ঘ ১৬ বছর পর নিজেদের দ্বিতীয় শিরোপা ঘরে তুলেছে। তাদের এই সাফল্য উদযাপন করেছেন গাজার শত শত ফিলিস্তিনি।

ইসরায়েলের পরিচালিত গণহত্যামূলক যুদ্ধ শুরু হওয়ার দুই বছরেরও বেশি সময় পর, ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া বিভিন্ন এলাকায় শত শত মানুষ একত্রিত হয়ে এই উদযাপনে অংশ নেন।

ফিলিস্তিনিরা স্পেন জাতীয় দলের জয় উপলক্ষে স্বাগত ও আনন্দধ্বনি দেন। অন্যদিকে, স্পেনেও বিজয় উদযাপনের সময় অনেক সমর্থক ফিলিস্তিনকে স্মরণ করতে ভোলেননি।

স্পেনের বিভিন্ন স্থানে বিজয়োৎসবের সময় সমর্থকদের ফিলিস্তিনের পতাকা উড়াতে এবং ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ স্লোগান দিতে দেখা যায়।

এর আগে, স্পেন জাতীয় দলের তারকা লামিন ইয়ামাল ২০২৫–২৬ মৌসুমে তার ক্লাব বার্সেলোনার স্থানীয় লিগ শিরোপা উদযাপনের সময় ফিলিস্তিনের পতাকা উড়িয়েছিলেন।

এই পদক্ষেপটি ফিলিস্তিনিদের কাছ থেকে প্রশংসা পেলেও, ইসরায়েলিদের একটি অংশের পক্ষ থেকে স্পেনের এই তারকার বিরুদ্ধে সমালোচনা করা হয়।

সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দিল্লিকে ঢাকার চিঠি সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামালের প্রত্যর্পণে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ২০ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:০০ পি.এম


দিল্লিকে ঢাকার চিঠি সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামালের প্রত্যর্পণে

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে প্রত্যর্পণের জন্য ভারত সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানিয়ে বাংলাদেশ চিঠি পাঠিয়েছে। এ উদ্দেশ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ভারতকে ওই চিঠিটি পাঠানো হয়েছে।

সোমবার (২০ জুলাই) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সূত্রে আরও জানা গেছে, সম্প্রতি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে দিয়ে আসাদুজ্জামান খান কামালকে ফেরত চেয়ে চিঠি ভারত সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায়ের কপিও ভারত সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং তৎকালীন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে আসামি করা হয়েছিল।

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ রায় ঘোষণা করে। ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে। রায়ে বলা হয়, তারা ‘সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটি’ (ঊর্ধ্বতন কমান্ডের দায়) নীতির আওতায় নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকাণ্ডের জন্য দায়ী। এরপর ট্রাইব্যুনাল ৪৫৩ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করে, যেখানে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের রাষ্ট্রীয় অনুকূলে সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেওয়া হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হোসেনপুরে বজ্রপাতে নিহত সৌদি প্রবাসীর বিধবা স্ত্রী ও চার সন্তানের মানবেতর জীবনযাপন, দেখার কেউ নেই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

হোসেনপুর কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

সোমবার, ২০ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:০৫ পি.এম


হোসেনপুরে বজ্রপাতে নিহত সৌদি প্রবাসীর বিধবা স্ত্রী ও চার সন্তানের মানবেতর জীবনযাপন, দেখার কেউ নেই

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে বজ্রপাতে নিহত সৌদি প্রবাসীর বিধবা স্ত্রী ও চার সন্তানের মানবেতর জীবনযাপন, দেখতে পাচ্ছে না কেউ।

সে পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ডের পশ্চিম ধুলজুরী গ্রামের লিয়াকত আলীর পুত্র প্রবাসী রাসেল মিয়া।

কয়েক মাস কেটে গেছে মৃত্যুর, কিন্তু সরকারি সহায়তার আশ্বাসের বেশিরভাগই গুড়েবালি হয়ে গেছে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনশীল ব্যক্তি বজ্রপাতে নিহত হওয়ায় তার পরিবারের ওপর পড়েছে অন্ধকার।

এক সময় যে ব্যক্তি প্রবাসে কঠোর পরিশ্রম করে পরিবারে খাবার জোগাড় করতেন, তার মৃত্যুর পর আজ সেই পরিবারের চুলায় অনেক দিন আগুনই জ্বলে না।

রাসেল মিয়ার স্ত্রী শাহানাজ, চার সন্তানকে নিয়ে একটি ভাঙাচোরা ঘরে অসহায় জীবন কাটাচ্ছেন। পরিবারের কোনো স্থায়ী আয় নাই।

সরেজমিন তথ্য পাওয়া গেছে, রাসেলের স্ত্রী শাহানাজ নিজেও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। স্বামীর মৃত্যুতে শোক সামলাতে না সামলাতেই মাত্র ১৬ দিনের মাথায় মারা যান তার মা। জীবনযাত্রার সবচেয়ে কঠিন সময় তিনি হারিয়েছেন একমাত্র আশ্রয়টুকুও।

রাসেলের বৃদ্ধ মা মোমেনা আক্তার ও স্থানীয়দের ভাষ্য, তিন বেলার খাবারের পরিবর্তে অনেক দিন একবেলা খেয়েই তাদের দিন কাটাতে হচ্ছে। সন্তানদের লেখাপড়াও বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়ে পড়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ তো বাদই দিন, ঠিক মতো খাবার জোগাড় করাও এখন পরিবারের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।

গত ১০ মার্চ ২০২৬ সালে সৌদি আরবে কর্মস্থলে মাঠে কাজ করার সময় বজ্রপাতে রাসেল মিয়ার মৃত্যু ঘটে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে স্ত্রী ও চার সন্তান চরম অনিশ্চয়ের মধ্যে পড়ে গেছে। অপর দিকে পরিবারের অভাব দূর করতে ধারদেনা করে বিদেশে কাজ করছিল রাসেল। কিন্তু সে আশা বর্তমানে বিষাদে রূপ নিয়েছে।

এরপর তিন-চার দিন পরে নিহতের বাড়িতে গিয়ে উপজেলা প্রশাসনের সর্বোচ্চ ব্যক্তিরা ঈদ উপলক্ষে জামাকাপড়, খাদ্যসামগ্রী ও কিছু নগদ অর্থ বিতরণ করেছেন। তারা পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিয়ে বলেছিলেন, সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে এবং বিভিন্ন সরকারি অনুদানের ব্যবস্থারও আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল।

কিন্তু পরিবারটির অভিযোগ, সেই আশ্বাসের পর দীর্ঘ সময়ে কেটে গেছে, তারা উল্লেখযোগ্য কোনো সরকারি সহায়তা পাননি। ফলে দিনকে দিন আরো অসহায় হয়ে পড়ছে পরিবারটি।

প্রতিবেশী আবু রায়হান জানান, রাসেল মিয়ার পরিবার বর্তমানে চরম মানবিক সংকটের মধ্যে রয়েছে। তারা সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসন, সমাজসেবা অধিদপ্তর এবং দেশের বিত্তবান ব্যক্তি ও মানবিক সংগঠনগুলোকে সম্মান জানানোর আহ্বান জানাচ্ছেন।

এলাকাবাসীর দাবি, সাময়িক সহায়তার পাশাপাশি পরিবারটির জন্য স্থায়ী পুনর্বাসন, বিধবা ভাতা, শিশুদের শিক্ষা সহায়তা এবং নিয়মিত সরকারি সহযোগিতার ব্যবস্থা করা জরুরি। তাদের প্রশ্ন, একজন প্রবাসী দেশে অর্থনীতি প্রবাহিত করতে গিয়ে মৃত্যুর মুখে পড়ার পর তার অসহায় পরিবার কি এভাবে অনিশ্চয়তার মধ্যে বেঁচে থাকবে?

কান্নাজড়িত কণ্ঠে শাহানাজ বলেন, "স্বামী চলে গেছে, তারপর মা-ও মারা গেলেন। আমার মা-বাবা, ভাই-বোন কেউ নেই। চারজন সন্তান নিয়ে কোথায় যাব, কীভাবে বাঁচব জানি না। অনেক সময় সন্তানদের ঠিকমতো খাবারও দিতে পারি না।"

তিনি বলেন, সরকারি সহযোগিতার আশায় আছি, কিন্তু এখনো তেমন কোনো সহায়তা পাইনি।

হোসেনপুর পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মিছবাহ উদ্দিন মানিক বলেন, "রাসেল মিয়ার পরিবার আজ চরম অসহায় অবস্থায় রয়েছে। তারা একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। সরকারি সহায়তার পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান মানুষ ও মানবিক সংগঠনের সবাইকে দ্রুত এই পরিবারের পাশে দাঁড়ানো উচিত। চারটি নিষ্পাপ শিশুর ভবিষ্যৎ রক্ষায় এখনই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।"

একজন প্রবাসীর মৃত্যুর ঘটনা শুধু একটি প্রাণের অবসান নয়, এটি একটি পরিবারের স্বপ্ন, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের বাস্তবতা। রাসেল মিয়ার চার সন্তান এখনো অপেক্ষা করছে, তাদের বাবার দেওয়া সেই স্বপ্নগুলো অন্তত রাষ্ট্র ও সমাজের সহযোগিতার মাধ্যমে যেন বেঁচে থাকে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সোনম ওয়াংচুককে নিয়ে কী বলছেন তার স্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ২০ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:০৯ পি.এম


সোনম ওয়াংচুককে নিয়ে কী বলছেন তার স্ত্রী

 

সোনম ওয়াংচুক দুই শর্তে অনশন ভাঙ্গতে সম্মত হয়েছেন। রবিবার (১৯ জুলাই) সোনমের স্ত্রী গীতাঞ্জলি জানান, যদি রাজনৈতিক নেতারা হাসপাতালে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং সোমবার (২০ জুলাই) থেকে শুরু হতে যাওয়া সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনে শিক্ষার জবাবদিহিতার বিষয়টি উত্থাপন হবে, তাহলে তিনি আজ সোমবার অনশন ভাঙবেন।

ভারতে নিট পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদের অংশ হিসেবে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে ২৮ জুন থেকে দিল্লির যন্তর মন্তরে আমরণ অনশন শুরু করেন লাদাখের এই বিখ্যাত প্রকৌশলী, বিজ্ঞানী, শিক্ষা সংস্কারক ও পরিবেশবাদী সোনম ওয়াংচুক। শনিবার (১৮ জুলাই) সকালে পুলিশ তাকে যন্তর মন্তর এলাকা থেকে তুলে এনে দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করে। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দিল্লি হাইকোর্ট সরকারকে সোনম ওয়াংচুকের জীবন রক্ষায় সম্ভাব্য সবকিছু করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। হাইকোর্টের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে।

সোনমের স্ত্রী গীতাঞ্জলি সফদরজং হাসপাতালের ওপর আস্থা না থাকায় রবিবার সকালে তাকে গুরুগ্রামের মেদান্তা হাসপাতালে স্থানান্তর করতে হাইকোর্টে একটি আবেদন করেছিলেন। কিন্তু রবিবার বিকেলে আদালত তার আবেদন ফিরিয়ে দেয়। বিচারপতি মিনি পুশকরণার নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ রায় দেন যে, সোনমের স্বাস্থ্য অবনতি হওয়ার সত্ত্বেও তিনি নিজে হাসপাতালে ভর্তি না হওয়ায়, তাকে স্থানান্তরের ক্ষেত্রে সরকার সম্পূর্ণভাবে তার অধিকারের মধ্যেই কাজ করেছে। আদালত মন্তব্য করেন যে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তকে প্রাথমিকভাবে খামখেয়ালি বলা যাবে না এবং এটি তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতাকে লঙ্ঘনও করেনি।

গীতাঞ্জলি আংমোর আরও দাবি করেন যে, ওয়াংচুক বা তার পরিবারের সম্মতি ছাড়া তাকে সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার আবেদনে আরও যুক্তি দেওয়া হয়েছে যে, ওয়াংচুককে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে আটকে রাখা হচ্ছে। শুনানির সময় একজন চিকিৎসক আদালতকে জানান, ওয়াংচুককে তার নিজের সম্মতিতেই মুখে খাওয়ার ওষুধ দেওয়া হয়েছে। বিচারপতি পুশকরণা বলেন, 'যেহেতু হাসপাতালের চিকিৎসকেরা তাকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং তার সম্মতিতে মুখে খাওয়ার ওষুধ দিয়েছেন, তাই এটি বলা যাচ্ছে না যে তার ওপর বলপ্রয়োগ করা হচ্ছে অথবা তার ব্যক্তি স্বাধীনতা খর্ব করা হচ্ছে।' আদালত আরও উল্লেখ করেছে যে, আংমো ও ওয়াংচুকের পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের হাসপাতলে অবাধ যাতায়াতের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে গীতাঞ্জলি হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করার পরিকল্পনা করেছেন। ওয়াংচুক হাসপাতাল থেকে স্ত্রীর মাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় আজ 'সংসদে চলো' কর্মসূচি সফল করার আহ্বান জানিয়েছেন। সোনমের স্ত্রী গীতাঞ্জলিও ককরোচ জনতা পার্টি আয়োজিত আজকের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করবেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%