প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সোনম ওয়াংচুক দুই শর্তে অনশন ভাঙ্গতে সম্মত হয়েছেন। রবিবার (১৯ জুলাই) সোনমের স্ত্রী গীতাঞ্জলি জানান, যদি রাজনৈতিক নেতারা হাসপাতালে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং সোমবার (২০ জুলাই) থেকে শুরু হতে যাওয়া সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনে শিক্ষার জবাবদিহিতার বিষয়টি উত্থাপন হবে, তাহলে তিনি আজ সোমবার অনশন ভাঙবেন।
ভারতে নিট পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদের অংশ হিসেবে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে ২৮ জুন থেকে দিল্লির যন্তর মন্তরে আমরণ অনশন শুরু করেন লাদাখের এই বিখ্যাত প্রকৌশলী, বিজ্ঞানী, শিক্ষা সংস্কারক ও পরিবেশবাদী সোনম ওয়াংচুক। শনিবার (১৮ জুলাই) সকালে পুলিশ তাকে যন্তর মন্তর এলাকা থেকে তুলে এনে দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করে। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দিল্লি হাইকোর্ট সরকারকে সোনম ওয়াংচুকের জীবন রক্ষায় সম্ভাব্য সবকিছু করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। হাইকোর্টের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে।
সোনমের স্ত্রী গীতাঞ্জলি সফদরজং হাসপাতালের ওপর আস্থা না থাকায় রবিবার সকালে তাকে গুরুগ্রামের মেদান্তা হাসপাতালে স্থানান্তর করতে হাইকোর্টে একটি আবেদন করেছিলেন। কিন্তু রবিবার বিকেলে আদালত তার আবেদন ফিরিয়ে দেয়। বিচারপতি মিনি পুশকরণার নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ রায় দেন যে, সোনমের স্বাস্থ্য অবনতি হওয়ার সত্ত্বেও তিনি নিজে হাসপাতালে ভর্তি না হওয়ায়, তাকে স্থানান্তরের ক্ষেত্রে সরকার সম্পূর্ণভাবে তার অধিকারের মধ্যেই কাজ করেছে। আদালত মন্তব্য করেন যে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তকে প্রাথমিকভাবে খামখেয়ালি বলা যাবে না এবং এটি তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতাকে লঙ্ঘনও করেনি।
গীতাঞ্জলি আংমোর আরও দাবি করেন যে, ওয়াংচুক বা তার পরিবারের সম্মতি ছাড়া তাকে সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার আবেদনে আরও যুক্তি দেওয়া হয়েছে যে, ওয়াংচুককে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে আটকে রাখা হচ্ছে। শুনানির সময় একজন চিকিৎসক আদালতকে জানান, ওয়াংচুককে তার নিজের সম্মতিতেই মুখে খাওয়ার ওষুধ দেওয়া হয়েছে। বিচারপতি পুশকরণা বলেন, 'যেহেতু হাসপাতালের চিকিৎসকেরা তাকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং তার সম্মতিতে মুখে খাওয়ার ওষুধ দিয়েছেন, তাই এটি বলা যাচ্ছে না যে তার ওপর বলপ্রয়োগ করা হচ্ছে অথবা তার ব্যক্তি স্বাধীনতা খর্ব করা হচ্ছে।' আদালত আরও উল্লেখ করেছে যে, আংমো ও ওয়াংচুকের পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের হাসপাতলে অবাধ যাতায়াতের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে গীতাঞ্জলি হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করার পরিকল্পনা করেছেন। ওয়াংচুক হাসপাতাল থেকে স্ত্রীর মাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় আজ 'সংসদে চলো' কর্মসূচি সফল করার আহ্বান জানিয়েছেন। সোনমের স্ত্রী গীতাঞ্জলিও ককরোচ জনতা পার্টি আয়োজিত আজকের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করবেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন