০৩:০৯ পি.এম
ঢাকা, ৯ অক্টোবর, ২০২৬ : কানাডীয় কবি অ্যান কারসন সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার অর্জন করায় কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি এই অর্জনকে কানাডার জন্য ‘গর্বের মুহূর্ত’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
সংবাদ সংস্থা এএফপি’র প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক বার্তায় কার্নি বলেন, ৭৬ বছর বয়সী কারসনের সাহিত্যকর্মে ‘বুদ্ধিদীপ্ত রসবোধ, কল্পনাশক্তি এবং সম্পূর্ণ নিজস্ব এক লেখনশৈলী’ বিদ্যমান।
আরও পড়ুন: রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে প্রাণ হারালেন চান্দিনার সাগর
তিনি আরও বলেন, ‘তিনি প্রাচীন কালের গল্পগুলোকে নতুন প্রজন্মের পাঠকদের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন এবং সাহিত্যকে দেখার ও বোঝার আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিয়েছেন।’
এ অর্জনকে ‘অসাধারণ সাফল্য এবং কানাডার জন্য গর্বের মুহূর্ত’ বলেও উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
এএফপি-কে দেওয়া এক বিবৃতিতে কানাডার প্রখ্যাত ঔপন্যাসিক মার্গারেট অ্যাটউড বলেন, বিভিন্ন দেশের কবিদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে কারসনের সাহিত্যকর্ম সমাদৃত হয়ে আসছে।
নতুন পাঠকদের জন্য কারসনের ‘দ্য বিউটি অব দ্য হাজব্যান্ড’ বইটি পড়ার পরামর্শ দিয়েছেন অ্যাটউড। তাঁর মতে, বইটি সরাসরি ও আবেগঘন ভাষায় লেখা; এতে রয়েছে রসবোধ, ক্ষোভ ও বিষণ্নতার মিশেল। তিনি ‘মেন ইন দ্য অফ আওয়ার্স’ বইটির কথাও উল্লেখ করেন।
আরও পড়ুন: সৌদি-হুথি সংঘাত সমাধানে সহযোগিতার জন্য প্রস্তুত ইরান
দীর্ঘদিন ধরে নোবেল পুরস্কারের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত অ্যাটউড ২০১৩ সালে সাহিত্যে নোবেল পাননি। সে বছর পুরস্কারটি পেয়েছিলেন তাঁরই স্বদেশি কানাডীয় লেখক অ্যালিস মুনরো।
প্রাচীন গ্রিক ও রোমান সাহিত্য বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিত কারসন কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি মর্যাদাপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মন্ট্রিলের ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয় অন্যতম।
১৯৮৮ সালে তিনি ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ল্যাসিকস বিভাগে যোগ দেন এবং ২০০২ সালে সেখান থেকে চলে যান।
ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন লিসা শাপিরোকে উদ্ধৃত করে বিশ্ববিদ্যালয়টির সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ম্যাকগিল রিপোর্টার’ জানায়, কারসনের নোবেলপ্রাপ্তি অত্যন্ত যথার্থ সম্মাননা।
আরও পড়ুন: কলকাতার পূজামণ্ডপে পদদলনে ২০ জন নিহত, আহত অনেকে
শাপিরো বলেন, ‘অতীতের সাহিত্যিক কণ্ঠস্বরকে বর্তমানের সঙ্গে সংলাপে যুক্ত করে অ্যান কারসন বিশ্বজুড়ে পাঠকদের মুগ্ধ করেছেন। এটি তাঁর প্রাপ্য এক অসাধারণ সম্মান।’
তিনি আরও বলেন, ‘তাঁর অসাধারণ প্রতিভা, স্বকীয়তা ও বুদ্ধিবৃত্তিক গভীরতা সমকালীন সাহিত্যে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলেছে। বহু বছর ধরে ম্যাকগিল তাঁর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছিল বলে আমরা গর্বিত। বিশ্বমঞ্চে তাঁর অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিতে আমরা আনন্দিত।’
মন্ট্রিলে বিশ্ববিদ্যালয়টির বাইরে কারসনের নোবেলপ্রাপ্তিতে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন ২৪ বছর বয়সী রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষার্থী ভিকি হুয়াং।
তিনি এএফপিকে বলেন, ‘আমার বন্ধুরা এবং আমি তাঁর ‘ইরোস দ্য বিটারসুইট’ বইটি খুব পছন্দ করি। তাই এ খবর আমাদের জন্য ভীষণ আনন্দের।’
আরও পড়ুন: বেনজির-নওয়াজের মতো ইমরান খানকে দেশ ছাড়ায় বাধ্য করার চেষ্টা
তিনি আরও বলেন, ‘তিনি একজন কানাডীয় নারী এবং উচ্চাঙ্গ সাহিত্যে কাজ করছেন— এ বিষয়টি আমাদের সবাইকে সত্যিই গর্বিত করে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন