জাকির হোসেন পাটোয়ারী রাজবাড়ী প্রতিনিধি
০১:১২ পি.এম
রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে ককটেল ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ।শুক্রবার সকালে, বালিয়াকান্দি উপজেলার নারুয়া ইউনিয়নের বড়ঘিকমলা ফুটবল মাঠ সংলগ্ন আতাউর রহমান ডালিমের দোকানের সিড়ির উপর থেকে এই অস্ত্রগুলি উদ্ধার করে পুলিশ।
আতাউর রহমান ডালিম বলেন, বৃহস্পতিবার রাত ২ টার দিকে ১০-১২ জনের মুখোশধারীরা পাশের বাড়ীর একটি ছেলের মোবাইল কেড়ে নিয়ে যায়। পরে আমাকে ডেকে তুললে আমি লোকজন নিয়ে খোঁজাখুজি করতে থাকি। কিন্তু কাউকে পাইনি। সিসি ক্যামেরায় তাদের চলে যেতে দেখা যায়। শুক্রবার সকালে আমার দোকানের সিড়ির উপর ৫ টি ককটেল ও বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র পাওয়া যায়। বিষয়টি পুলিশ প্রশাসনকে অবগত করা হয় এবং পুলিশ এসে এই অস্ত্রগুলি উদ্ধার করে।
বালিয়াকান্দি থানার এসআই আলী আকবর বলেন, ৫ টি ককটেল ও বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র পাওয়া গেছে। বোম ডিস্পোজাল ইউনিটকে খবর দেওয়া হয়েছে। তারা এসে এই অস্ত্রগুলি নিষ্কিয় করবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সরকারি দলের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন যে তারা সংস্কার নয়, বরং সংবিধান সংশোধন করতে চায়।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকালে প্রফেসর এমাজউদ্দিন আহমেদের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে একটি স্মরণসভায় তিনি এই কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল উল্লেখ করেন, ‘আজকে গোটা বিশ্বে তাকালে দেখা যায় কোথাও শান্তি নেই। আমরা উদার গণতান্ত্রিক দেশ গড়ার স্বপ্ন দেখি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বাবার মতো দেশ গড়ার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।’
জুলাই সনদ নিয়ে তিনি জানান, ‘সনদে আমরা একসঙ্গে স্বাক্ষর করেছি। গণভোটের একটি অংশ আমাদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়নি। উচ্চ কক্ষের বিষয়ে আমরা কখনোই একমত হইনি। প্রত্যেকটি দল তাদের ম্যানিফেস্ট অনুযায়ী কাজ করবে, এমন কথা বলা হয়েছে। এখন সম্পূর্ণভাবে ভুল ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে।’
মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি, ‘সংস্কার এ দেশে বিএনপি এনেছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান আমরা এই সংসদে পাস করেছি। এখন যারা বিরোধী দলে রয়েছেন, অনেকে মুখরোচক কথা বলে জনগণকে উত্তেজিত করার চেষ্টা করছে।’
তিনি সংবিধান সংশোধন নিয়ে মন্তব্য করেন, ‘আমরা সংবিধান সংশোধন করতে চাই, কখনোই সংস্কারের কথা বলিনি। বিভ্রান্তির কোনো অবকাশ নেই বলে মনে করি।’
বিরোধী দলের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘বিরোধী দল শুধুমাত্র ক্ষমতা যাওয়ার জন্য জুলাইকে ব্যবহার করতে চায়। বিএনপি জুলাইকে কারও হাতিয়ার হতে দেবে না।’
মির্জা ফখরুল আরও জানান, ‘বিএনপির ৬০ হাজার পক্ষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা হয়েছে, প্রায় ১৭০০ নেতাকর্মী গুম হয়েছে, কয়েক হাজার নেতাকর্মী ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে হত্যার শিকার হয়েছে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পিরোজপুরের মঠবাড়ীয়া উপজেলার ৯ নং সাপলেজা ইউনিয়নে অতিবৃষ্টি, ভারী বর্ষণ এবং জলোচ্ছ্বাসের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত ৫০০ অসহায় ও হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে চাল বিতরণ করা হয়েছে।
গত ১৫ জুলাই (বুধবার), সাপলেজা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম উপস্থিত থেকে জনপ্রতি ১০ কেজি করে এই চাল বিতরণ করেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে বরাদ্দকৃত চাল এবং পিরোজপুর-৩ (মঠবাড়ীয়া) আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব রুহুল আমীন দুলালের বিশেষ প্রচেষ্টায় এই চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়।
জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় সাপলেজা ইউনিয়নে একই দিনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বৃক্ষ রোপণও করা হয়েছে। সাপলেজা কুটির বাড়ীতে নারিকেল চারা এবং বিভিন্ন ফলজ বৃক্ষ রোপণ করা হয়। ইউনিয়ন প্রশাসক শফিকুল ইসলাম এবং ৪ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য দেলোয়ার হোসেন মোল্লা যৌথভাবে নিজ হাতে এই চারা গাছগুলো রোপণ করেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের কথায়, বর্তমান প্রশাসকের সৎ, মহান এবং উন্নয়নমূলক উদ্যোগের কারণে সাপলেজা ইউনিয়নে ইদানিং দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে। বিগত ৪০ বছরের অনিয়ম, দুর্নীতি এবং কায়েমি স্বার্থান্বেষী মহলের লুটপাটের অবসান ঘটিয়ে এখন এলাকার উন্নয়নের হাওয়া লেগেছে। আগামীতে প্রশাসকের হাত ধরে আরও বড় বড় উন্নয়নমূলক কাজ সম্পন্ন হবে বলে সাপলেজাবাসী আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
প্রতিবেদকের মন্তব্য: সাপলেজার সার্বিক উন্নয়নের এই জোয়ারে এলাকার একটি স্থানীয় মাদ্রাসার সংস্কার এবং বেহাল রাস্তাটির সংস্কার অতীব জরুরি হয়ে পড়েছে। স্থানীয় জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এই রাস্তা ও মাদ্রাসার দিকে সু নজর দেওয়া উচিত—এটাই এলাকাবাসীর প্রত্যাশা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুড়িগ্রামে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এর পৃথক অভিযানে তিন চোরা কারবারিকে আটক করা হয়েছে।
এ সময় ভারতীয় গাঁজা, ইয়াবা ট্যাবলেট এবং বিভিন্ন ধরনের চোরাচালানি পণ্য জব্দ হয়েছে।
জব্দ করা মালামালের মূল্য প্রায় ৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) কুড়িগ্রাম ব্যাটালিয়ন (২২ বিজিবি) থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় কুড়িগ্রাম ব্যাটালিয়নের অধীন সোনাহাট ও ধলডাঙ্গা বিওপির টহল দল দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তিন চোরা কারবারিকে আটক করেছে।
এ সময় তাদের কাছ থেকে ভারতীয় গাঁজা ও ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়।
এছাড়া ব্যাটালিয়নের অধীন অন্যান্য বিওপির সদস্যরা বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ভারতীয় জিরা, গবাদিপশু এবং বিভিন্ন ধরনের অবৈধ চোরাচালানি পণ্য জব্দ করেছেন।
জব্দ করা সব পণ্যের মোট সিজার মূল্য ৬ লাখ ৭৯ হাজার ৪৫০ টাকা।
কুড়িগ্রাম ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মাহবুব-উল-হক বলেছেন, দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ দমনে বিজিবির ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে কুড়িগ্রাম ব্যাটালিয়নের সদস্যরা সর্বোচ্চ নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পণ্যবাহী জাহাজের নাবিকদের তীরে পৌঁছে দেওয়ার আড়ালে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় চোরাই তেলের কারবার রমরমা চলছে। এই জ্বালানি তেল অবৈধভাবে সংগ্রহের উদ্দেশ্যে একাধিক শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। শুধু এতটুকুই নয়, তেল ক্রয়ের বিনিময়ে জাহাজের মাদকাসক্ত ক্রুদের হাতে ইয়াবাসহ নানান ধরনের মাদকের ছোট-বড় চালান তুলে দেওয়া হচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, চোরাই তেলের কারবার পরিচালনার জন্য এই চক্রটি সরকারি সম্পত্তি দখল করে একাধিক অবৈধ স্থাপনা গড়ে তুলেছে। দীর্ঘদিন ধরে চলছে এই অবৈধ কর্মকাণ্ড, কিন্তু স্থানীয়দের কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেন না। এমনকি ঐ নির্দিষ্ট এলাকার সাংবাদিকদের প্রবেশেও রয়েছে সিন্ডিকেটের অলিখিত নিষেধাজ্ঞা।
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ধানখালীতে নির্মিত পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের কয়লা নিয়ে আসে একাধিক লাইটার জাহাজ। পায়রা সমুদ্রবন্দরের আওতাধীন এসব জাহাজ প্রায় প্রতিদিন নির্দিষ্ট জেটি দিয়ে পণ্য খালাস করে। আর এই পণ্য খালাসের আড়ালে চোরাই তেল ও মাদকের বাণিজ্য সম্পন্ন হচ্ছে, যা দীর্ঘ এক মাস ধরে অনুসন্ধানকালে উঠে এসেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ডেভিড (ছদ্মনাম) জানান, স্থলপথে গড়ে ওঠা এই শক্তিশালী সিন্ডিকেটের সদস্যরা অভিনব কায়দায় তৈরি ছোট ফাইবার বোটে করে জাহাজের নাবিকদের তীরে পারাপার করে। মূলত এই পারাপারের আড়ালেই চলে মূল চোরাচালান। এসব ফাইবার বোটে বিশেষ পদ্ধতির মাধ্যমে তেল মজুতের জন্য আলাদা গোপন কক্ষ বা চেম্বার তৈরি করা হয়েছে।
এর মাধ্যমে জাহাজ থেকে অত্যন্ত দ্রুত সময়ে কয়েক হাজার লিটার তেল অপসারণ করে তীরে নিয়ে আসা হয়। এরপর বোট থেকে সেই তেল ব্যারেলে ভর্তি করে বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়।
দরের হিসাব অনুযায়ী, জাহাজ থেকে প্রতি লিটার তেল মাত্র ৭০-৮০ টাকা দরে কিনে নেয় কারবারিরা। পরবর্তীতে তা স্থানীয় সিন্ডিকেটের কাছে ১০০ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে।
এই চক্রের সাথে জড়িত কালু মিয়া (ছদ্মনাম) নামের একজন জানান, জাহাজে কর্মরত মাদকাসক্ত অনেক ক্রুকে শুধু টাকা দিয়ে খুশি করা যায় না। তাদেরকে ইয়াবা বা অন্য মাদক সরবরাহ না করলে তারা তেল বিক্রি করতে রাজি হয় না। এর ফলে অসাধু নাবিকদের মাদক সরবরাহ করে তাদেরকে খুশি রাখতে পারলেই বিপুল পরিমাণ চোরাই তেল পাওয়া যায়।
তিনি আরও জানান, স্থলপথে পুলিশি ঝামেলা এড়াতে মাঝেমধ্যে আটক হওয়া তেলের চালানের বিপরীতে নকল কাগজপত্র দেখিয়ে তা ছাড়িয়ে আনা হয়। এছাড়া ঝামেলা এড়াতে সম্প্রতি ক্ষমতাসীন দলের এক নেতার মাধ্যমে থানা পুলিশের সাথে মাসিক চুক্তির (মাসোহারা) ব্যবস্থাও করা হয়েছে বলে জানাচ্ছেন তিনি। খাস জমিতে অবৈধ স্থাপনা তৈরির পাশাপাশি পুরো চক্রের পেছনে রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সরাসরি মদদ রয়েছে।
ক্যাপ্টেন শরীফ (হারবার মাস্টার, পায়রা সমুদ্রবন্দর): "এটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর একটি বিষয়। পায়রা বন্দর সীমানায় এমন অবৈধ কর্মকাণ্ড রোধে কোস্টগার্ডের টহল ও তৎপরতা আরও জোরদার করা হবে। এর পাশাপাশি বন্দর কর্তৃপক্ষকেও বিষয়টি গুরুত্বের সাথে অবহিত করা হচ্ছে।"
মো. আরিফুজ্জামান (উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, কলাপাড়া): "সরকারি জমিতে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের বিষয়টি খোঁজ নিয়ে খতিয়ে দেখা হবে। সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অতিদ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
নজরুল ইসলাম (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা - ওসি, কলাপাড়া থানা): "থানা পুলিশের বিরুদ্ধে মাসোহারার যে অভিযোগ করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য। এসব বিষয় মূলত নৌ-পুলিশ এবং কোস্টগার্ডের আওতাধীন। কলাপাড়া থানা পুলিশ পূর্বে কিছু তেল আটক করেছিল, তবে মালিকপক্ষ পরবর্তীতে সেগুলোর বৈধ কাগজপত্র দেখানোর পর তা ছেড়ে দেওয়া হয়।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ