বৃহস্পতিবার, ২ই জুলাই, ২০২৬ ইং
১০:৪৫ পি.এম
দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতি এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণ অতিক্রম করছে। একসময়ের একমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থা দ্রুত বহুমেরুকেন্দ্রিক বাস্তবতার দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এই পরিবর্তনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ভারত মহাসাগর ও বঙ্গোপসাগর, আর সেই কারণেই বাংলাদেশ আজ আর কেবল একটি ভৌগোলিক রাষ্ট্র নয়; বরং বৈশ্বিক কৌশলগত প্রতিযোগিতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রবিন্দু।
দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে এমন একটি ধারণা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা হয়েছে যে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত প্রতিবেশী একটি বৃহৎ শক্তির নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির সীমারেখার মধ্যেই আবদ্ধ থাকবে। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতা সেই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। একটি স্বাধীন রাষ্ট্র তার নিজস্ব জাতীয় স্বার্থ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবে—এটাই আন্তর্জাতিক সম্পর্কের স্বীকৃত নীতি।
বাংলাদেশের বর্তমান পররাষ্ট্রনীতি সেই বাস্তবতাকেই নতুনভাবে তুলে ধরছে। চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক, অবকাঠামোগত, প্রযুক্তিগত ও কৌশলগত সহযোগিতা সম্প্রসারণের উদ্যোগ হোক কিংবা অন্যান্য বৈশ্বিক শক্তির সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার প্রচেষ্টা—এসবই বাংলাদেশের স্বাধীন কূটনৈতিক পরিসরকে আরও বিস্তৃত করার ইঙ্গিত বহন করে। এ ধরনের উদ্যোগকে কোনো একটি দেশের বিরুদ্ধে অবস্থান হিসেবে নয়, বরং জাতীয় স্বার্থকেন্দ্রিক কৌশলগত বৈচিত্র্য হিসেবে দেখা অধিকতর বাস্তবসম্মত।
বাংলাদেশের এই পরিবর্তিত অবস্থান স্বাভাবিকভাবেই দক্ষিণ এশিয়ার প্রচলিত ক্ষমতার সমীকরণে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। ভারতের নীতিনির্ধারণী মহল ও দেশটির গণমাধ্যমের একটি অংশে বাংলাদেশকে ঘিরে যে উদ্বেগ, সংশয়, গাত্রদাহ শুরু হয়েছে এবং ধারাবাহিক আলোচনা ও সমালোচনা ঝড় দেখা যাচ্ছে, তা এই পরিবর্তিত ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতারই প্রতিফলন- কারণ তারা দীর্ঘদিনের জমিদার কর্তৃক প্রজা শাসনের মত অধিকার হারিয়ে ফেলছে। কারণ, যে বাংলাদেশকে তারা দীর্ঘদিন অনেকেই নিজেদের প্রভাব বলয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে কল্পনা করত, সেই বাংলাদেশ এখন নিজের জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বহুমাত্রিক কূটনৈতিক পথ অনুসরণ করছে।
এখানেই নতুন বাস্তবতার সবচেয়ে বড় বার্তা নিহিত রয়েছে। সার্বভৌম রাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত আর কারও অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকবে না। বাংলাদেশের উন্নয়ন, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, সামুদ্রিক সম্পদ, বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা কিংবা বৈদেশিক সম্পর্ক—সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দু হবে বাংলাদেশের নিজস্ব জাতীয় স্বার্থ।
বঙ্গোপসাগর আজ শুধু একটি সমুদ্র নয়; এটি আগামী কয়েক দশকের বৈশ্বিক অর্থনীতি, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং সামুদ্রিক বাণিজ্যের অন্যতম কৌশলগত কেন্দ্র। ফলে এই অঞ্চলকে ঘিরে প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হবে। কিন্তু সেই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ যদি বিচক্ষণ কূটনীতি, অর্থনৈতিক সক্ষমতা এবং ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি বজায় রাখতে পারে, তবে অন্যের কৌশলগত দাবার গুটিতে পরিণত না হয়ে নিজেই হবে একটি গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়।
দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে একটি বিষয় এখন ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে—বাংলাদেশকে আগের ছকে ফেলে বিচার করার সময় শেষ। আধিপত্যের মানসিকতা দিয়ে প্রতিবেশীকে পরিচালনার যুগও দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। সম্মান, পারস্পরিক স্বার্থ, সমতা এবং সার্বভৌম সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই ভবিষ্যতের সম্পর্ক গড়ে উঠবে। যে রাষ্ট্র এই বাস্তবতা যত দ্রুত উপলব্ধি করবে, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও সহযোগিতার জন্য তার অবস্থান ততই শক্তিশালী হবে।
আন্তর্জাতিক রাজনীতির নির্মম সত্য হলো—স্থায়ী বন্ধু বা স্থায়ী প্রতিপক্ষ নয়, স্থায়ী হয় কেবল জাতীয় স্বার্থ। বাংলাদেশ যদি সেই নীতিতে অবিচল থাকে, তবে পরিবর্তিত বিশ্বব্যবস্থায় শুধু দক্ষিণ এশিয়ার নয়, সমগ্র ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের অন্যতম কৌশলগত শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার সুযোগ তার সামনে উন্মুক্ত থাকবে। এরূপ বিচক্ষণ কূটনৈতিক ধারা অব্যাহত রাখলে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায ভূ রাজনৈতিকভাবে দ্রুতই কৌশলগত আঞ্চলিক শক্তিতে পরিণত হবে এমন কথা বলা মনে হয় অমূলক হবে না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরাইলে হামাসের নেতৃত্বে সংগঠিত হওয়া হামলার ঘটনায় একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ইসরাইলের বেশিরভাগ নাগরিক। এক জরিপ প্রচার করে এমন তথ্য প্রকাশ পেয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে সম্পন্ন জনমত জরিপে দেখা গেছে, প্রতি চার জন ইসরাইলির মধ্যে তিন জন চাইছেন হামাসের হামলার ‘স্বাধীন’ তদন্ত হোক। এর কারণ হলো, ইসরাইলিদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ রয়েছে যে, একই ধরনের ঘটনা আবারও ঘটতে পারে। সেটা গাজা থেকে হতে পারে, অথবা অন্য কোনো এলাকা থেকেও হতে পারে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরাইলে হামাসের নেতৃত্বে হামলার ঘটনা ঘটে। হামলার পর ইসরাইল ফিলিস্তিনের গাজায় সামরিক অভিযান শুরু করে। এই অভিযান ফলে গাজা উপত্যকা কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে এবং পরিণত হয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের একটিতে।
হামাসের হামলার ঘটনা সম্পর্কে কিছু নিরাপত্তা সংস্থাগুলো আলাদাভাবে তদন্ত করেছে, তবে সাধারণ মানুষ চাইছে স্পষ্ট জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা হোক। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বারবার এই ধরনের তদন্তকে আটকে দিয়েছেন।
কেন জাতীয় তদন্ত চাওয়া হচ্ছে? কারণ নেতানিয়াহু বলছেন, যেকোনো তদন্তই ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ হবে। দীর্ঘদিন ধরে নেতানিয়াহু বলেন আসছেন যে, বিচার বিভাগ তার বিরুদ্ধে। তাই এমন জাতীয় তদন্তের ফল তার জন্য ভালো কিছু হবে না।
তিনি আরও যুক্তি তুলে ধরেছেন যে, অক্টোবর ৭-এর ঘটনার তদন্ত শুধুমাত্র এই অঞ্চলে চলমান যুদ্ধগুলো শেষ হওয়ার পরই করা উচিত। বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, নেতানিয়াহু একের পর এক যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন।
নেতানিয়াহুর সকল বিরোধী এই মুহূর্তকে কাজে লাগিয়ে তার বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলার প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন এবং নিজেদের ভোট বাড়ানোর লক্ষ্যে জাতীয় তদন্তের দাবি জানিয়ে যাচ্ছেন।
এদিকে, গাজার যুদ্ধ আজ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ১০০০তম দিনে প্রবেশ করেছে। গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও ইসরাইলি হামলাগুলি বন্ধ হচ্ছে না। প্রায় প্রতিদিনই হামলা চালাচ্ছে ইসরাইলি বাহিনী, যার ফলে হতাহতের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে।
গাজার সরকারি ও স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্যানুযায়ী, এই যুদ্ধের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত গাজায় অন্তত ৭৩ হাজার ৬৬ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও ১ লাখ ৭৩ হাজার ৫১৪ জন।
গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, ইসরাইলি হামলায় উপত্যকার ৯০ শতাংশের বেশি অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে। স্থল অভিযান, সামরিক অভিযান এবং জোরপূর্বক সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশনার মাধ্যমে গাজার প্রায় ৮০ শতাংশ ভূখণ্ড বর্তমানে ইসরাইলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
গত বুধবার (১ জুলাই) ইসরাইলের জ্বালানিমন্ত্রী এলি কোহেন বলেন, ইসরাইল বর্তমানে গাজার প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে এবং এই নিয়ন্ত্রণ ‘১০০ শতাংশে’ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
এই মন্তব্যের পর হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম আরব লীগের জরুরি সম্মেলন আহ্বানের দাবি জানান। তার মতে, ইসরাইলের সম্প্রসারণবাদী নীতি শুধুমাত্র ফিলিস্তিনিদের জন্য নয়, বিশেষ করে মিশরসহ অন্যান্য আরব দেশের জন্যও হুমকি।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাতের পর উত্তেজনা প্রশমন এবং আলোচনা অগ্রসর করতে কাতারের রাজধানী দোহায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান মধ্যে আরেকদফা পরোক্ষ আলোচনা শেষ হয়েছে, এমনটাই জানিয়েছেন মধ্যস্থতাকারীরা।
গত জুন মাসে, কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটন এবং তেহরান একটি সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) সম্মত হয়েছিল। এই সমঝোতার মধ্যে ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলার ফলে শুরু হওয়া যুদ্ধ স্থগিত রাখার জন্য ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি, অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার এবং স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য আলোচনা শুরু করার একটি রূপরেখা অন্তর্ভুক্ত ছিল।
১৪ দফার এই সমঝোতায় হরমুজ প্রণালীর ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা, ইরানের পুনর্গঠন তহবিল এবং দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ সহ বিভিন্ন ইস্যুতে চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য একটি সময়সূচী নির্ধারণ করা হয়েছে।
দোহার সর্বশেষ আলোচনা প্রসঙ্গে জানা গেছে:
কী বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে
দোহা থেকে এএফপি জানায়, বুধবার দোহায় অনুষ্ঠিত পরোক্ষ আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং মধ্যস্থতাকারী কাতার ও পাকিস্তান কূটনৈতিক অগ্রগতির ইঙ্গিত দিয়েছেন।
কাতার এবং পাকিস্তান এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘বুধবার দোহায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলাদা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং এতে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে।’
ইরানের প্রতিনিধি দলের প্রধান উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি জানিয়েছেন, সমঝোতা স্মারকের সম্ভাব্য লঙ্ঘনের অভিযোগ নথিভুক্ত এবং পর্যালোচনার জন্য বৃহস্পতিবারের মধ্যে একটি যোগাযোগব্যবস্থা চালুর বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়েছে।
তিনি আরও জানিয়েছেন, ইরানের জব্দকৃত সম্পদও আলোচনায় বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে। তেহরান এসব সম্পদ মুক্ত করার দাবি তুলেছে যেকোনো চূড়ান্ত সমঝোতার অংশ হিসেবে।
গারিবাবাদি বলেন, প্রাথমিকভাবে ৬০০ কোটি মার্কিন ডলারের একটি অংশ কীভাবে ব্যবহার করা হবে সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে এবং ইরানের প্রয়োজনীয় পণ্য ক্রয় ও সরবরাহে সম্মতি দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, বুধবার এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠার আগে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেছেন, ‘যেভাবে সবকিছু চলছে, ইরানের পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের বিষয়টি ভালোভাবে এগোচ্ছে।’
আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র, নাম প্রকাশ না করে, এএফপিকে জানিয়েছে, দোহার এই বৈঠকে মূলত হরমুজ প্রণালীর ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনার আলোচনা করা হয়েছে। পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে পরে আলোচনায় আরো বিস্তারিত আলোচনা হবে।
এরপর কী
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা এবং দাফনের পর যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের পরবর্তী পরোক্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
৮৬ বছর বয়সী আলি খামেনি যুদ্ধের প্রথম দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে তাঁর আবাসস্থলে নিহত হন। এরপর দ্রুত তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হয়।
শনিবার তেহরানে কেন্দ্রীয় প্রার্থনা ও রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানস্থলে তাঁর রাষ্ট্রীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।
কাতার এবং পাকিস্তান জানিয়েছে, ‘শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব’ পরবর্তী বৈঠকের সময় নির্ধারণে উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছে।
আগামী ৯ জুলাই তাঁর জন্মস্থান উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদের ইমাম রেজার মাজারে তাঁকে দাফন করা হবে।
মাঠের পরিস্থিতি
জুনে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্বাক্ষরের পরেও উপসাগরীয় অঞ্চলে দুই পক্ষের মধ্যে বিচ্ছিন্নভাবে হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে।
হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার প্রয়াসকে কেন্দ্র করে কয়েক দফা উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
সর্বশেষ গত সপ্তাহান্তে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, ‘বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের বিরুদ্ধে ইরানের ধারাবাহিক আগ্রাসনের’ জবাবে তারা ইরানের ১০টি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।
জবাবে ইরান কুয়েত এবং বাহরাইনে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতে হামলার দাবি করেছে। কুয়েত এবং বাহরাইন উভয়েই এই হামলার নিন্দা করেছে।
তবে কাতারে আলোচনা শুরুর আগের কয়েক দিন উভয় পক্ষের সামরিক তৎপরতা তুলনামূলকভাবে কমে গেছে।
অন্যদিকে, লেবানন সীমান্তে ইসরাইল এবং হিজবুল্লাহর মধ্যে সংঘর্ষও অনেকটা কমেছে। তবে বুধবার সন্ধ্যায় দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় নাবাতিয়াহ শহরে একটি হামলার খবর দিয়েছে লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা। এতে হতাহতের কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
লেবানন এখনো অপেক্ষা করছে তথাকথিত ‘পাইলট জোন’ থেকে ইসরাইলি বাহিনীর প্রত্যাহারের জন্য। দুই দেশের মধ্যে হওয়া কাঠামোগত চুক্তি অনুযায়ী এসব এলাকায় পরে লেবাননের সেনাবাহিনী মোতায়েন হওয়ার কথা রয়েছে।
তেহরান বরাবরই বলছে, যেকোনো চূড়ান্ত সমঝোতার অংশ হিসেবে লেবানন ফ্রন্টের সংঘাতেরও অবসান এবং দক্ষিণ লেবাননের দখলকৃত এলাকা থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার নিশ্চিত করতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম বন্দর পেপারলেস হওয়ার পথে একটি ধাপ এগিয়ে গেছে। আনুষ্ঠানিকভাবে চট্টগ্রাম বন্দর সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় টার্মিনাল অপারেটিং সিস্টেমের সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে পণ্য খালাসের জন্য প্রয়োজনীয় ডেলিভারি ডকুমেন্টেশন প্রক্রিয়ার সব ধরনের ম্যানুয়াল বা কাগজ ভিত্তিক কাজ বাদ দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে শুরু করে চূড়ান্ত গেট আউট পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সম্পন্ন হবে।
চট্টগ্রাম বন্দর ২০১১ সাল থেকে ভেসেল মুভমেন্ট ও বন্দরের ভেতরে কনটেইনার মুভমেন্ট কার্যক্রম টার্মিনাল অপারেটিং সিস্টেমের মাধ্যমে পরিচালনা করে আসছে, তবে পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়করণ না থাকায় পরিপূর্ণ ব্যবহার কঠিন ছিল। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. নাসির উদ্দিন জানান, পূর্বে কেবল ইলেকট্রনিক ডেলিভারি অর্ডার (ইডিইউ) আবেদন এবং ইডিইউ জেনারেশন এই দুটি ধাপ অনলাইনে সম্পন্ন করা হত, আর বাকী সব কার্যক্রম ম্যানুয়ালি করতে হতো। তবে এখন থেকে অনলাইন ডেলিভারি ডকুমেন্টেশন প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ সম্পূর্ণভাবে ডিজিটাল টার্মিনাল অপারেটিং সিস্টেমের মধ্যে পরিচালিত হবে।
তিনি আরও জানান, আপগ্রেডেড সিস্টেমের মৌলিক বৈশিষ্ট্য হলো সিস্টেমের প্রতিটি ধাপ সম্পূর্ণ পর্যায়ক্রমিকভাবে হবে। কোনো গ্রাহক বা সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের একটি ধাপ বাদ দিয়ে বা স্কিপ করে পরের ধাপে যাওয়ার সুযোগ থাকবে না। পূর্ববর্তী ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন ও যাচাই হওয়ার পরেই পরবর্তী ধাপটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সিস্টেম দ্বারা আনলক হবে। নিরাপত্তা ও আইনি কমপ্লায়েন্সকে জোরদার করার জন্য বন্দরের টার্মিনাল অপারেটিং সিস্টেমকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেমের সাথে রিয়্যাল-টাইমে যুক্ত করা হয়েছে। পুরো প্রক্রিয়া চলাকালীন কাস্টমস কর্তৃপক্ষ যদি কোনো কনটেইনার বা মালামাল ব্লক বা হোল্ড করতে চায়, তবে সেই তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে রিয়্যাল-টাইমে পোর্টের টার্মিনাল অপারেটিং সিস্টেমে চলে আসবে।
ডেটা আসার সাথে সাথেই সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে ওই ফাইলের পরবর্তী সব প্রসেস লক করে দেবে, এবং কাস্টমসের চূড়ান্ত ক্লিয়ারেন্স না পাওয়া পর্যন্ত প্রক্রিয়াটি সেখানেই থমকে থাকবে। এই স্বয়ংক্রিয় রূপান্তরের ফলে সামুদ্রিক বাণিজ্য ইকোসিস্টেমে ব্যাপক ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। পুরো প্রক্রিয়াটি অনলাইনে সম্পন্ন হওয়ায় চট্টগ্রাম বন্দর সম্পূর্ণ 'পেপারলেস পোর্ট' হওয়ার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল; যার ফলে দাপ্তরিক কাজের প্রচুর কাগজ ও প্রিন্টিং সংক্রান্ত খরচ সাশ্রয় হবে এবং পরিবেশগত স্থায়িত্ব নিশ্চিত হবে।
তিনি বলেন, ডেস্কে ডেস্কে সশরীরে যাওয়ার ঝামেলা দূর হয়ে যাওয়ায় এখন ডকুমেন্টেশনের কাজ দ্রুততার সাথে সম্পন্ন হবে, যা সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, ব্যবসায়ী এবং চট্টগ্রাম বন্দরসহ সংশ্লিষ্ট সবার মূল্যবান সময়ের সাশ্রয় করবে। প্রতিটি ধাপ ডিজিটাল সিস্টেমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যাচাই হওয়ার ফলে সব ধরনের জাল-জালিয়াতি, ভুয়া নথিপত্র ব্যবহার এবং প্রশাসনিক অনিয়ম পুরোপুরি রোধ করা সম্ভব হবে।
বন্দরের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. নাসির উদ্দিন জানান, প্রতিটি স্টেপ অনলাইনে হওয়ার ফলে ব্যবহারকারীরা যেকোনো সময় এবং যেকোনো স্থান থেকে তাদের নিজস্ব প্যানেলে লগ ইন করে তাদের নথিপত্র বা ফাইলটি কখন কোন পর্যায়ে আছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানতে সক্ষম হবেন। এই ডিজিটাল রূপান্তর চট্টগ্রাম বন্দরের জন্য একটি যুগান্তকারী সাফল্য, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের একটি আধুনিক, স্বচ্ছ ও দক্ষ প্রবেশদ্বার হিসেবে এর অবস্থানকে আরো শক্তিশালী করবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চাঁদপুর জেলা পুলিশের উদ্যোগে বুধবার (০১ জুলাই) বিকালে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই সভাটি চাঁদপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে সভাপতিত্ব করেন চাঁদপুর জেলার পুলিশ সুপার মোঃ মিজানুর রহমান।
সভায় পুলিশ সুপার বিভিন্ন অপরাধ দমনমূলক কার্যক্রমের উপর আলোকপাত করেন। তিনি মাদক, কিশোর গ্যাং, এবং সামাজিক অবক্ষয়ের মতো বিষয়গুলোতে আলোচনা করেন এবং জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় গৃহীত কার্যক্রমের বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন। পাশাপাশি, সাংবাদিকদের সাথে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং পুলিশ ও সাংবাদিকদের পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়েও মত বিনিময় হয়। তিনি সাংবাদিকদের অনুরোধ করেন, যেন তারা বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার মাধ্যমে জনসচেতনতা তৈরি করেন। এসময়, জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সবসময় সঠিক তথ্য প্রদানের জন্য সহযোগিতারও আশ্বাস দেন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মোঃ লুৎফর রহমান, সহকারী পুলিশ সুপার (শিক্ষানবিশ) মাহির আসেফ এবং সহকারী পুলিশ সুপার (শিক্ষানবিশ) মিয়াজী আলিফ ইমরানসহ চাঁদপুর জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ। এছাড়াও, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দও সভায় অংশ নেন। চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী এবং সাধারণ সম্পাদক এমএ লতিফসহ অন্যান্যরা বক্তব্য রাখেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ