০৪:৩১ পি.এম
সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত এবং আশ্বাসের পর শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকরা।
রবিবার রাজধানীর শাহবাগ থানার সামনের সড়কে কয়েক ঘণ্টা অবস্থান কর্মসূচি পালনের পর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নতুন বিজ্ঞপ্তি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে তারা এ সিদ্ধান্ত নেন।
এর আগে, আগস্টের মধ্যেই যোগদান ও পদায়নের দাবিতে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকরা সকাল থেকে জাতীয় জাদুঘরের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। আন্দোলনের কারণে শাহবাগ থানার সামনে পুলিশের ব্যারিকেড এবং একটি জলকামান মোতায়েন করা হয়। এতে শাহবাগ থেকে টিএসসি অভিমুখের ডান পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
আরও পড়ুন: তালা ভেঙে বাসায় ঢুকে ৮ লাখ টাকা, ২ ভরি সোনা ও মূল্যবান সামগ্রী চুরি: ডেমরায় চাঞ্চল্য
আন্দোলনকারীদের দাবি ছিল যে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থী ফল প্রকাশের ১৭৫ দিন পরে বাকি আছে, কিন্তু তারা এখনও যোগদান করতে পারেননি। নিয়োগের সব ধাপ শেষ হলেও তারা দীর্ঘ অনিশ্চয়তায় রয়েছেন বলে অভিযোগ করেন।
দুপুরের দিকে আন্দোলনের মধ্যেই প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় নতুন বিজ্ঞপ্তি জারি করে। বিদ্যালয়-২ শাখার উপসচিব রাজীব কুমার সরকারের সাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আগে নির্ধারিত ২৯ অক্টোবরের পরিবর্তে আগামী ১ অক্টোবর চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত ১৪ হাজার ৩৮৪ জনসহকারী শিক্ষক সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগদান করবেন। এরপর ২ অক্টোবর তাদের পদায়ন করা হবে এবং যথাসময়ে নিয়োগপত্র পাঠানো হবে। পরে তাদের পেশাগত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর আন্দোলনকারীরা জানান, সরকারের এই সিদ্ধান্তে তারা ইতিবাচক সাড়া দিচ্ছেন। প্রজ্ঞাপন জারি এবং তা ওয়েবসাইটে প্রকাশের পর তারা আন্দোলন প্রত্যাহার করবেন।
এর আগে, শনিবার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক জরুরি ভার্চুয়াল সভা শেষে সচিব মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছিলেন, তদন্ত এবং প্রক্রিয়াগত দীর্ঘসূত্রতার কারণে নিয়োগে বিলম্ব হয়েছে। তিনি জানিয়েছিলেন যে, ২৯ অক্টোবর চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত সহকারী শিক্ষকদের যোগদান করানো হবে। তবে পরদিন সরকারের নতুন সিদ্ধান্তে যোগদানের তারিখ এক মাসের বেশি এগিয়ে আনা হয়।
আরও পড়ুন: ঢামেকে ভুয়া চিকিৎসক মো. রাকিব আটক, থানায় হস্তান্তর
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি পার্বত্য তিন জেলা ছাড়া দেশের ৬১ জেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত (এমসিকিউ) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উত্তীর্ণ ৬৯ হাজার ২৬৫ জনকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য ডাকা হয়। পরে গত ৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এতে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীকে সহকারী শিক্ষক পদে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত করা হয়, কিন্তু এতদিন তারা যোগদান করতে পারেননি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন