ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ফেনীতে দেশীয় মাছ বিলুপ্তির পথে, সংরক্ষণের দাবি জোরদার


ফেনীতে দেশীয় মাছ বিলুপ্তির পথে, সংরক্ষণের দাবি জোরদার

 

"মাছে-ভাতে বাঙালি"—এই চিরন্তন প্রবাদটি যেন ধীরে ধীরে ফেনীর মানুষের জীবন থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তন, নদী-নালার নাব্যতা সংকট এবং মানবসৃষ্ট নানা কারণে ফেনীর মুহুরী, কহুয়া, সিলোনীয়া, কাটাখালী ও ছোট ফেনী নদীসহ বিভিন্ন খাল-বিল ও উন্মুক্ত জলাশয় থেকে দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ দেশীয় প্রজাতির মাছ।

একসময় স্থানীয় বাজারে সহজলভ্য এসব মাছ এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে। তাদের জায়গা দখল করেছে পাঙ্গাস, তেলাপিয়া, হাইব্রিড কই ও কার্পজাতীয় মাছ।

আরও পড়ুন: নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য স্বজনদের দীর্ঘ অপেক্ষা

সরেজমিনে ফেনীর বড় বাজার, রেলগেট বাজার, মহিপাল কাঁচাবাজার, পাঁচগাছিয়া, কুঠিরহাট, সিলোনীয়া, সোনাগাজী ও দাগনভূঞা বাজারসহ জেলার বিভিন্ন মৎস্য আড়ত ঘুরে দেখা যায়, বাজারজুড়ে রয়েছে চাষের মাছের আধিপত্য। অথচ এক দশক আগেও স্থানীয় নদী ও বিলের মাছের প্রাচুর্য ছিল।

বর্তমানে মাঝে মধ্যে টাকি, পুঁটি, বেতরঙ্গি, মাগুর, ট্যাংরা, শিং, তিতপুঁটি ও শোল মাছ পাওয়া গেলেও সেগুলোর দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে।

স্থানীয় জেলেরা জানান, আগে নদীতে জাল ফেললেই ঝাঁকে ঝাঁকে মাছ মিলত। এখন সারাদিন জাল ফেলেও অনেক সময় খালি হাতে ফিরতে হয়। ফলে সোনাগাজী ও সদর উপজেলার লেমুয়া-ফরহাদনগর এলাকার অনেক জেলে পরিবার আদি পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন।

দাগনভূঞা উপজেলার জেলে মোহাম্মদ আবদুল্লাহ বলেন, "ছোটবেলা থেকেই নদীতে মাছ ধরে বড় হয়েছি। ছোট ফেনী নদীই ছিল আমাদের জীবিকার ভরসা। নৌকা ছিল, জাল ছিল, লোকবল ছিল। কিন্তু এখন নদীতে মাছ নেই বললেই চলে। তাই আমাদের অনেকেই এ পেশা ছেড়ে দিয়েছেন। আমি কিন্তু এখন সিএনজি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছি।"

আরও পড়ুন: মুন্সীগঞ্জ ডিসি অফিসে সোলার প্যানেলে উৎপাদন হবে ৮০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ

মৎস্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ফেনীর জলাশয় থেকে অন্তত ৩০ থেকে ৪০ প্রজাতির দেশীয় মাছ বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো খলিশা, পুঁটি, মাইট্টা, ট্যাংরা, পাবদা, কাজলী, বাতাসি, চান্দা, বাইম, আইড়, বোয়াল, চিতল, ফলি, গজার, মাগুর, শিং ও শোল।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন নদী ও খাল পুনঃখনন না হওয়ায় পলি জমে মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ক্ষেত্র নষ্ট হয়ে গেছে। শুকনো মৌসুমে পানির স্বল্পতায় মাছ ডিম ছাড়ার উপযুক্ত পরিবেশ পায় না। অন্যদিকে প্রজনন মৌসুমে এক শ্রেণির অসাধু ব্যক্তি নিষিদ্ধ 'চায়না দুয়ারি' ও 'কারেন্ট জাল' ব্যবহার করে মা মাছ ও রেণুপোনা নির্বিচারে নিধন করছে।

এ ছাড়া কৃষিজমিতে ব্যবহৃত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক বৃষ্টির পানির সঙ্গে জলাশয়ে মিশে পানিদূষণ বাড়াচ্ছে। অপরিকল্পিত আবাসন ও সড়ক নির্মাণের কারণে নদীর সঙ্গে সংযুক্ত অনেক খাল বন্ধ হয়ে গেছে। নাব্যতা হ্রাস, বর্জ্য ফেলা এবং পানিদূষণের কারণেও মাছের প্রজনন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

নদীতে মাছের সংকট সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেছে সোনাগাজী উপজেলার উপকূলীয় জেলেদের ওপর। স্থানীয়রা জানান, নদী ভরাট হয়ে যাওয়া এবং অবৈধ জালের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় ছোট জাল দিয়ে আর মাছ পাওয়া যায় না। দাদনের টাকা ও ঋণের চাপ সামলাতে না পেরে অনেকেই রিকশা চালানো বা দিনমজুরির মতো পেশা বেছে নিচ্ছেন।

আরও পড়ুন: শীতের আগমনে গফরগাঁওয়ে প্রস্তুতির ধুম, বাজারে শীতকালীন পণ্য আসছে

সোনাগাজী উপজেলার চর দরবেশ ইউনিয়নের চর সাহাভিকারী গ্রামের বাসিন্দা নিজাম উদ্দিন কাজী বলেন, "মুছাপুর সুইচগেট ভেঙে যাওয়ার পর নদীতে লোনা পানি প্রবেশ করছে। ফলে মিঠাপানির মাছ প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গেছে। আগের মতো বিলেও দেশীয় মাছ পাওয়া যায় না। বাধ্য হয়ে তেলাপিয়া ও পাঙ্গাস কিনে খেতে হচ্ছে। সরকার দেশীয় মাছ রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নিক।"

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাকসুদুল হাসান বলেন, "নানা কারণে দেশীয় মাছ বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। মা মাছ রক্ষায় সরকারি আইন অনুযায়ী চায়না দুয়ারি ও কারেন্ট জালের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। সরকার দেশীয় মাছ সংরক্ষণে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। তবে শুধু সরকারি উদ্যোগ নয়, এ বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানোও জরুরি।"

বিশেষজ্ঞদের মতে, ফেনীর দেশীয় মাছের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে হলে জেলার প্রধান নদী ও সংযোগ খাল জরুরি ভিত্তিতে পুনঃখনন করতে হবে। প্রজনন মৌসুমে, বিশেষ করে মে থেকে জুলাই পর্যন্ত, মাছ ধরা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করে অভয়াশ্রম গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার বন্ধে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা এবং সরকারি হ্যাচারিতে দেশীয় মাছের কৃত্রিম প্রজনন ও পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচি আরও জোরদার করতে হবে।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আগামী প্রজন্মের কাছে দেশীয় প্রজাতির এসব মাছ শুধু বইয়ের পাতার ছবিতেই সীমাবদ্ধ থাকবে।

আরও পড়ুন: আলীকদমে পিকআপ উল্টে নিহত ১, আহত ৩

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হৃদরোগে আক্রান্ত ব্রাজিল সমর্থক হাসপাতালে ভর্তি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:৩২ পি.এম


হৃদরোগে আক্রান্ত ব্রাজিল সমর্থক হাসপাতালে ভর্তি

হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ব্রাজিলের সমর্থক আলমগীর হোসেন (৩৫)।

আঞ্চলিক প্রতিনিধি কুড়িগ্রাম থেকে জানান যায়, গত ০৬ জুলাই, ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত এই ঘটনায় তিনি দল ব্রাজিলের বিদায়ের হতাশা সহ্য করতে না পেরে হৃদরোগে আক্রান্ত হন। বর্তমানে তিনি চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন, তবে আশঙ্কামুক্ত বলে জানা গেছে।

আলমগীর কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়নের সরকারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। খবর নিয়ে জানা গিয়েছে, রবিবার গভীর রাতে তিনি বন্ধু ও এলাকার অন্যান্য ব্রাজিল সমর্থকদের সঙ্গে ব্রাজিল ও নরওয়ের মধ্যকার বিশ্বকাপ ম্যাচটি দেখছিলেন। ম্যাচের শুরু থেকেই তাঁর দারুণ উৎসাহ ছিল। কিন্তু ব্রাজিল পিছিয়ে পড়ার পর থেকেই আলমগীর উদ্বিগ্ন হয়ে যান।

খেলা শেষ হওয়ার সাথে সাথে যখন দলের বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়, তখন তিনি প্রবল মানসিক আঘাত পান। কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি দেহে তীব্র ব্যথা, অস্বস্তি ও শ্বাসকষ্ট অনুভব করে মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন। পরে তাঁর স্বজন ও স্থানীয়রা তাঁকে জরুরি ভিত্তিতে কুড়িগ্রাম ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান।

সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে বিষয়ক কার্ডিওলজি বিভাগে ভর্তি করে পর্যবেক্ষণে রেখেছেন।

আলমগীরের পরিবারের সদস্যরা জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ব্রাজিল ফুটবল দলের সমর্থক। বিশ্বকাপ এলেই বন্ধুদের সঙ্গে খেলা দেখতেন এবং দলের জয়-পরাজয়কে তিনি আবেগের সঙ্গে গ্রহণ করতেন। এবারের ব্রাজিলের বিদায়ে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন।

কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা. নিসর্গ মেরাজ চৌধুরী বলেছেন, অতিরিক্ত আবেগ, মানসিক চাপ বা হঠাৎ তীব্র উত্তেজনা হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। বিশেষ করে যাদের আগে থেকেই হৃদরোগ বা উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা রয়েছে। খেলাধুলা বিনোদনের বিষয় হলেও তা নিয়ে অতিরিক্ত মানসিক চাপ নেওয়া উচিত নয়।

ডা. নিসর্গ মেরাজ চৌধুরী আরো বলেন, "আলমগীর হোসেন বর্তমানে শঙ্কামুক্ত রয়েছেন। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং সম্পূর্ণ সুস্থতা নিশ্চিত করতে তাঁকে আরো কয়েক দিন পর্যবেক্ষণে রাখা হবে।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এলডিসি উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অর্থনীতি-বান্ধব রাজনীতি প্রয়োজন : তথ্যমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:৩২ পি.এম


এলডিসি উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অর্থনীতি-বান্ধব রাজনীতি প্রয়োজন : তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, যদি দেশের রাজনীতিকে অর্থনীতি-বান্ধব কাঠামোর মধ্যে আনা না যায়, তাহলে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার সাথে সাথে বাণিজ্যের উন্নয়ন সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞ আলোচনা শেষ পর্যন্ত কেবল তাত্ত্বিক তর্কে সীমাবদ্ধ থাকবে। যেকোনো তাত্ত্বিক আলোচনা জনগণের কল্যাণে রূপান্তর করতে হলে একটি রাজনৈতিক শক্তির কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।

আজ রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে 'রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্ট’ (র‌্যাপিড) আয়োজিত ‘এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন অ্যান্ড ট্রেড কমপিটিটিভনেস’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এলডিসি উত্তরণের পর দেশের সামনে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে যে চ্যালেঞ্জগুলো আসবে, সেগুলো কমবে না বরং এরা বাড়বে। সরকার ইতোমধ্যেই জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট কমিটির কাছে এই উত্তরণের সময়সীমা ২০২৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত পিছিয়ে নেওয়ার যে অনুরোধ জানিয়েছে, তার মূল লক্ষ্য হলো এই বর্ধিত সময়কে নিজেদের প্রস্তুতি ও সক্ষমতা বাড়ানোর কাজে ব্যবহার করা।’

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার অর্থনীতি-বান্ধব রাজনীতিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। যুক্তরাজ্য বা অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশে আমাদের বাণিজ্য চ্যালেঞ্জ হয়তো কম, কিন্তু অন্যান্য রফতানি গন্তব্যে আমাদের বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এই বর্ধিত তিন বছরের মধ্যে আমাদের নীতি সংস্কার, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসন এবং রফতানি প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধিতে একটি সমন্বিত রোডম্যাপ বা পথনকশা তৈরি করতে হবে।’

জহির উদ্দিন স্বপন আরো বলেন, জাতিসংঘের পক্ষ থেকে প্রস্তুতকৃত স্মুথ ট্রানজিশন স্ট্র্যাটেজির ১৫৭টি পদক্ষেপের মধ্যে আমাদের অভ্যন্তরীণ প্রেক্ষাপটে কতটুকু বাস্তবায়ন করা সম্ভব এবং রফতানি সক্ষমতা বাড়াতে দেশের মানবসম্পদকে কীভাবে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে দক্ষ করে আন্তর্জাতিক বাজারে পাঠানো যায়, তা নিয়ে কাজ করতে হবে।

জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান ও শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত গণতান্ত্রিক পরিবেশের কথা স্মরণ করে এ সময়ে মন্ত্রী বলেন, একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত এই সরকারের মূল লক্ষ্য জনগণের কল্যাণে রাজনীতির অবকাঠামোগত সংস্কার ও মেরামত করা।

র‌্যাপিডের এই কর্মশালার গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ ও মতামতসমূহ সরকারের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দেন তথ্যমন্ত্রী।

র‌্যাপিডের চেয়ারম্যান ড. এম এ রাজ্জাকের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি ছিলেন ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) সভাপতি দৌলত আক্তার মালা এবং র‌্যাপিডের নির্বাহী পরিচালক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এম আবু ইউসুফ।

কর্মশালায় বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক ও অর্থনীতি বিশ্লেষকরা অংশগ্রহণ করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ব্যর্থ প্রেমের কষ্টে ১৫ বছর জঙ্গলে একাকী জীবন, নিজের হাতে গড়েছেন ছোট্ট এক রাজ্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মো : সুমন হাসান বাপ্পি, স্টাফ রিপোর্টার

সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:৩৪ পি.এম


ব্যর্থ প্রেমের কষ্টে ১৫ বছর জঙ্গলে একাকী জীবন, নিজের হাতে গড়েছেন ছোট্ট এক রাজ্য
 
 
ব্যর্থ প্রেমের কষ্টে ১৫ বছর জঙ্গলে একাকী জীবন, নিজের হাতে গড়েছেন ছোট্ট এক রাজ্য
১৫ বছর ধরে জঙ্গলে একাকী বসবাস করছেন পলাশ বড়াল (৩৯)।
 
প্রেমে ব্যর্থ হয়ে কেউ নতুন করে জীবন শুরু করেন, আবার কেউ বেছে নেন নিভৃত কোনো পথ। তবে ঝালকাঠির এক যুবকের জীবনগল্প যেন ব্যতিক্রমী। তরুণ বয়সে ভালোবাসার মানুষের কাছ থেকে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর গত ১৫ বছর ধরে জঙ্গলে একাকী বসবাস করছেন তিনি। মানুষের কোলাহল থেকে দূরে, গাছগাছালিতে ঘেরা নির্জন পরিবেশে নিজের হাতে গড়ে তুলেছেন কাদামাটির একটি ঘর, কেটেছেন একটি ছোট পুকুর এবং তৈরি করেছেন নিজের ছোট্ট এক জগৎ।
 
ঝালকাঠি সদর উপজেলার শ্রীমন্তকাঠি গ্রামের বাসিন্দা পলাশ বড়াল (৩৯) বর্তমানে এলাকায় এক পরিচিত মুখ। স্থানীয়দের কাছে তিনি দীর্ঘদিন ধরে জঙ্গলে একাকী বসবাসকারী মানুষ হিসেবেই পরিচিত।
 
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঘন সবুজে ঘেরা একটি নির্জন স্থানে কাদামাটি দিয়ে তৈরি ছোট্ট একটি ঘরে বসবাস করছেন পলাশ। ঘরের চারপাশে রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা। পাশেই রয়েছে তার খনন করা একটি ছোট পুকুর। সেখানেই কাটছে তার দিন-রাত।
 
স্থানীয়রা জানান, তরুণ বয়সে পাশের গ্রামের এক কিশোরীর প্রতি ভালো লাগা তৈরি হয়েছিল পলাশের। একপর্যায়ে তিনি ওই কিশোরীকে নিজের মনের কথা জানান এবং প্রেমের প্রস্তাব দেন। কিন্তু কিশোরী তার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। সেই ঘটনার পর থেকেই পলাশ মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং ধীরে ধীরে মানুষের সাথে মেলামেশা কমিয়ে দেন। একসময় তিনি পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকেও নিজেকে গুটিয়ে নিয়ে জঙ্গলে বসবাস শুরু করেন।
 
গ্রামের কয়েকজন প্রবীণ ব্যক্তি জানান, পলাশকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় চেষ্টা করা হয়েছে। একপর্যায়ে পারিবারিকভাবে তার বিয়ের ব্যবস্থাও করা হয়। ধারণা করা হয়েছিল, সংসার জীবন শুরু করলে তিনি হয়তো আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবেন। কিন্তু জঙ্গলে বসবাস এবং একাকী জীবনযাপনের কারণে বিয়ের মাত্র এক বছরের মধ্যেই স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে যান। এরপর থেকে আরও বেশি নিভৃতচারী হয়ে ওঠেন তিনি।
 
স্থানীয় বাসিন্দা অরুন ও শহিদ বলেন, ‘আমরা ছোটবেলা থেকেই পলাশকে চিনি। অনেকবার তাকে বাড়িতে ফিরে যেতে বলা হয়েছে। পরিবারের সদস্যরাও অনেক চেষ্টা করেছেন, কিন্তু সে জঙ্গল ছেড়ে অন্য কোথাও থাকতে রাজি হয়নি।’ আরেক বাসিন্দা উৎপল বলেন, ‘সে কারও কোনো ক্ষতি করে না। নিজের মতো করে থাকে। এলাকার মানুষ তার জন্য সহানুভূতি বোধ করে।’
 
তবে নিজের বর্তমান অবস্থার জন্য কাউকে দায়ী করেন না পলাশ বড়াল। তিনি বলেন, ‘আমি কাউকে দোষ দেই না। সবই আমার ভাগ্যের লেখা। মানুষের প্রতি আমার কোনো রাগ বা ক্ষোভ নেই। এখানেই আমি শান্তি পাই, তাই এখানেই থাকি।’
 
বর্তমানে ৩৯ বছর বয়সী পলাশ বড়াল তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে তৃতীয়। এলাকাবাসীর ভাষ্য, তিনি মানসিকভাবে কিছুটা ভারসাম্যহীন হলেও কখনো কারও সাথে খারাপ আচরণ করেন না। তার ব্যতিক্রমী জীবনযাপন দেখতে ও তার গল্প শুনতে প্রায়ই বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ সেখানে ভিড় করেন। একটি প্রত্যাখ্যাত প্রেম যে একজন মানুষের জীবনকে সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে, পলাশ বড়ালের জীবন যেন তারই এক নীরব উদাহরণ।
 
 
 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মা-মেয়ে ধর্ষণ মামলায় ২ জনের যাবজ্জীবন, একজনের ১০ বছরের কারাদণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:৩৪ পি.এম


মা-মেয়ে ধর্ষণ মামলায় ২ জনের যাবজ্জীবন, একজনের ১০ বছরের কারাদণ্ড

 

ফেনীর দাগনভূঞায় মা-মেয়েকে ধর্ষণের ঘটনায় আদালত ২ জনের জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ১ জনের জন্য ১০ বছরের কারাদণ্ড ঘোষণা করেছেন। রবিবার (৫ জুলাই) বিকালে মামলার যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করার পর ফেনী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এএনএম মোর্শেদ খান এ রায় দেন।

দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন- দাগনভূঞা উপজেলার জায়লস্কর ইউনিয়নের বারাহীগুনী গ্রামের মনু কাজী বাড়ির জয়নাল আবেদীনের ছেলে সাইফুল ইসলাম, একই বাড়ির মৃত মাহমুদ আলীর ছেলে আজাদ এবং একই এলাকার জেলে বাড়ির প্রভাত কুমার দাসের ছেলে নিপু কুমার দাস। রায় ঘোষণার সময় আসামি আজাদ এবং নিপু দাস কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।

জানা গেছে, দাগনভূঞা উপজেলার জায়লস্কর ইউনিয়নের দক্ষিণ বারাহীগুনী গ্রামের নদীর পাড়ে জেলে বাড়িতে ২০১৮ সালের ৮ আগস্ট রাতে ওই বাড়িতে ঢুকে সাইফুল ইসলাম এক প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণ করে, কয়েকজন সহযোগী নিয়ে।

ধর্ষণের ঘটনার সময় বাঁধা দেওয়ায় সেই ভুক্তভোগীর মাকে বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে এসে ব্রিজের ওপর আজাদ ও নিপু ধর্ষণ করেন। ঘটনাটি গণমাধ্যমে প্রচারিত হওয়ার পর ১১ আগস্ট দাগনভূঞা থানায় প্রবাসীর স্ত্রী ৩ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে, দাগনভূঞা থানার এসআই আবদুর রহীম ২০১৯ সালের ২০ জানুয়ারি মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেন।

ফেনী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট সাহাব উদ্দিন আহমেদ কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন, এ মামলায় আদালতে সাত জনের সাক্ষী গ্রহণ করা হয়।

চলতি বছরের ২৪ মার্চ উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে রবিবার রায় ঘোষণা করেন। ঘটনার সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ার কারণে আদালত আসামি সাইফুল ইসলাম ও নিপুকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ১ লাখ টাকা করে জরিমানা দিয়েছেন। অন্যদিকে, আজাদকে ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%