০৯:৩৩ এম
বিশ্বকাপের শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন পূরণ হয়নি আর্জেন্টিনার। ২০২৬ বিশ্বকাপ শেষ করে তারা ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে গেছে। টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুযোগ হাতছাড়া হলেও, লিওনেল স্কালোনির দল সামনে তাকানোর জন্য খুব বেশি সময় পাচ্ছে না। কারণ বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হচ্ছে নতুন আন্তর্জাতিক চক্র। এবার অপেক্ষা করছে প্রীতি ম্যাচ, বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব, কোপা আমেরিকা এবং অনিশ্চয়তায় থাকা ফিনালিসিমা।
বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা ইতোমধ্যেই ২০২৬ থেকে ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত নতুন আন্তর্জাতিক সূচি প্রকাশ করেছে। সেই অনুযায়ী, আগামী ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত প্রথম আন্তর্জাতিক বিরতি অনুষ্ঠিত হবে। ওই সময়ে আর্জেন্টিনা দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে, যদিও প্রতিপক্ষ, ভেন্যু কিংবা ম্যাচের দিনক্ষণ এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
এরপর ৯ থেকে ১৭ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে বছরের শেষ আন্তর্জাতিক বিরতি। সেখানেও আর্জেন্টিনার কোনো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ নেই। নতুন দল গঠন, তরুণদের সুযোগ দেওয়া এবং ভবিষ্যতের পরিকল্পনা সাজাতে এই সময়টিকে কাজে লাগাতে চান স্কালোনির কোচিং স্টাফ।
আরও পড়ুন: ঢামেকে অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘটে মরদেহ পরিবহনে বিপাকে স্বজনরা, রোগীরাও ভোগান্তিতে
আর্জেন্টিনা ২০৩০ বিশ্বকাপেও খেলবে, যা বিশেষ একটি আসর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশ্বকাপের শতবর্ষ উপলক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচ আয়োজন করবে আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে ও প্যারাগুয়ে। এই তিন দেশ সরাসরি মূল পর্বে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে।
তবে, সরাসরি বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত হলেও, বাছাইপর্ব থেকে অব্যাহতি মিলছে না। প্যারাগুয়ে ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি রবার্ট হ্যারিসন জানিয়েছেন, তিন দেশই দক্ষিণ আমেরিকার বাছাইপর্বে অংশ নেবে। যদিও কনমেবল আনুষ্ঠানিকভাবে সূচি প্রকাশ করেনি, তবে ২০২৭ সালের মার্চ থেকে বাছাইপর্ব শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আগের মতো লিগ পদ্ধতিতেই ম্যাচগুলো আয়োজন করা হবে।
বিশ্বকাপের পর আর্জেন্টিনার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হবে ২০২৮ সালের কোপা আমেরিকা। আসরটি কোথায় অনুষ্ঠিত হবে, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি, তবে আবারও যুক্তরাষ্ট্রে টুর্নামেন্ট আয়োজনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে।
এই টুর্নামেন্ট আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। কারণ এটি হতে পারে লিওনেল মেসি ছাড়া তাদের প্রথম কোপা আমেরিকা। ২০০৪ সালের পর এটি প্রথমবারের মতো হতে যাচ্ছে। ফলে নতুন প্রজন্মের ফুটবলারদের নিয়ে দল গঠনের কাজ আরও জোরালোভাবে শুরু করতে হবে স্কালোনিকে।
আরও পড়ুন: কেপটাউনে অস্ট্রেলিয়ার দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন, দক্ষিণ আফ্রিকা ৩২৯ রানে গুটিয়ে
কোপা আমেরিকা চ্যাম্পিয়ন এবং ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নদের মধ্যে অনুষ্ঠিত হওয়া ফিনালিসিমা নিয়েও এখনো অনিশ্চয়তা কাটেনি। চলতি বছর কাতারের লুসাইল স্টেডিয়ামে স্পেন ও আর্জেন্টিনার ম্যাচ হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে নিরাপত্তাজনিত শঙ্কায় ম্যাচটি স্থগিত করা হয়েছে।
পরে দুই দেশের ফুটবল ফেডারেশনের মধ্যে নতুন তারিখ ও ভেন্যু নিয়ে সমঝোতা হয়নি। ফলে ম্যাচটি আর আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। এখন ২০২৮ সালের কোপা আমেরিকার আগেই ফিনালিসিমা আয়োজন করা সম্ভব হবে কি না, সেটিই বড় প্রশ্ন।
বিশ্বকাপে রানার্সআপ হলেও আর্জেন্টিনার সামনে নতুন করে দল গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে। কয়েকজন অভিজ্ঞ ফুটবলারের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা, নতুন মুখদের জায়গা করে দেওয়া এবং ২০২৮ কোপা আমেরিকা ও ২০৩০ বিশ্বকাপের পরিকল্পনা সাজানোই হবে স্কালোনির সবচেয়ে বড় কাজ।
বিশ্বকাপের মঞ্চে শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন ভেঙে গেলেও, আর্জেন্টিনার আন্তর্জাতিক ফুটবল যাত্রা থেমে নেই। বরং নতুন লক্ষ্য, নতুন পরিকল্পনা এবং নতুন প্রজন্মকে নিয়ে আরেকটি অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে আলবিসেলেস্তেদের।
আরও পড়ুন: তারেক রহমান: জামায়াত-এনসিপি আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান সহ্য করতে পারছে না
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন