০২:২১ পি.এম
বলিউডের গ্যাংস্টার ড্রামা ও অ্যাকশন থ্রিলার চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য পরিচিত প্রখ্যাত পরিচালক সঞ্জয় গুপ্ত মুম্বাইয়ের নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। মৃত্যুর সময় তার বয়স ছিল ৫৭ বছর।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত রাতে বাথরুমে পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাত পান এই নির্মাতা। বিষয়টি প্রথমে কেউ টের না পেলেও পরদিন ভোরে তার মৃত্যুর খবর প্রকাশ পায়। খবর পেয়ে ভারসোভা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে একটি অপমৃত্যুর মামলা (অ্যাকসিডেন্টাল ডেথ রিপোর্ট) দায়ের করেছে এবং মৃত্যুর সঠিক কারণ খতিয়ে দেখছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এখন পর্যন্ত এই মৃত্যুর পেছনে কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র বা নাশকতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পারিবারিক সূত্র ছাড়াও তার দীর্ঘদিনের সহকর্মী ও নির্মাতা মিলাপ জাভেরি মৃত্যুর এই খবরটি নিশ্চিত করেছেন। নির্মাতা অশোক পণ্ডিত সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্টের মাধ্যমে এই আকস্মিক মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
আরও পড়ুন: স্পটিফাইয়ের সেরা ৫০ গানে পাকিস্তানের ‘আলফাজ’ ৩৯ নম্বরে
ব্যক্তিগত জীবনে সঞ্জয় গুপ্ত অনু লেখির সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের মধ্যে একবার বিচ্ছেদ ঘটলেও পরবর্তীতে তারা আবার পুনর্মিলিত হন। উল্লেখ্য, সঞ্জয় গুপ্ত তার ২৫ বছরের কর্মজীবনকে ‘সাফল্য ও ব্যর্থতার মিশেল’ বলে বর্ণনা করেছেন। পেছনের দিনগুলোর দিকে তাকিয়ে তিনি একাধিকবার বলেছেন, জীবনের কঠিন সময়গুলোকে পেছনে ফেলে ক্যারিয়ার ঘুরে দাঁড়াতে পেরে তিনি খুশি।
১৯৯৪ সালে ‘আতিশ: ফিল দ্য ফায়ার’ সিনেমার মাধ্যমে পরিচালক হিসেবে তার অভিষেক ঘটে। এরপর ২০০২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ব্লকবাস্টার হিট ছবি ‘কাঁটে’ তার ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। অমিতাভ বচ্চন, সঞ্জয় দত্ত, সুনীল শেঠি, লাকি আলী এবং মহেশ মাঞ্জরেকারের মতো তারকাখচিত এই সিনেমাটি তাকে গ্যাংস্টার-থ্রিলার ধারার নির্মাতা হিসেবে শক্ত অবস্থান এনে দেয়।
‘কাঁটে’ সিনেমার পর বেশ কিছু সময় দারুণ কাটলেও পরবর্তীতে সঞ্জয় দত্তের সঙ্গে মনমালিন্যের কারণে প্রায় চার বছর কাজহীন সময় পার করতে হয় তাকে। সঞ্জয় গুপ্ত এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, অভিনেতা সঞ্জয় দত্তের সঙ্গে তার সম্পর্ক খারাপ হওয়ার পর বলিউডের প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ তার সঙ্গে কাজ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল।
সেসময় তিনি এতটাই ভেঙে পড়েছিলেন যে চলচ্চিত্র নির্মাণ ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবছিলেন। মানসিক অবসাদ দূর করতে তিনি খান্দালার একটি হোটেলে সপ্তাহে চার দিন চাকরিও শুরু করেছিলেন, কারণ তার মনে হয়েছিল সিনেমা জগতে তার আর কাজের সুযোগ নেই।
আরও পড়ুন: নিউইয়র্কের আয়নামহলে লাল পোশাকে প্রভার ঝলক
তবে তার জীবনের মোড় ঘুরে যায় যখন তার ঘরে পুত্রসন্তান জন্ম নেয়। সেই মুহূর্তটি স্মরণ করে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি যখন তাকে কোলে নিয়ে ভাবছিলাম—আমি ওর জন্য কী রেখে যাব? আমি তো ১৫ বছর বয়স থেকে কাজ শুরু করেছি এবং ২২ বছর বয়সে প্রথম ছবি বানিয়েছি, তাহলে এখন ৪০ বছর বয়সে এসে আমি কেন হাল ছেড়ে দেব?’
এরপর তিনি প্রযোজক একতা কাপুরের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং ‘শুটআউট অ্যাট ওয়াডালা’ সিনেমার সিক্যুয়েল তৈরির প্রস্তাব দেন। পরবর্তীতে ২০১৩ সালে ‘শুটআউট অ্যাট ওয়াডালা’ দিয়ে দুর্দান্ত কামব্যাক করেন সঞ্জয় গুপ্ত।
এরপর ২০১৫ সালে ‘জাজবা’ এবং ২০১৭ সালে হৃতিক রোশনকে নিয়ে ‘কাবিল’ সিনেমা উপহার দেন। পরবর্তীতে ‘মুম্বাই সাগা’, ‘বিসফট’ এবং ‘দ্য মিরান্ডা ব্রাদার্স’-এর মতো প্রোজেক্টেও কাজ করেছেন তিনি। তার এই আকস্মিক প্রয়াণে পুরো বলিউড অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
আরও পড়ুন: শৌচাগারে পড়ে ছিল বলিউড পরিচালক সঞ্জয় গুপ্তের নিথর দেহ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন