ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল অবহেলিত, চর উন্নয়ন বোর্ড গঠনের দাবি


বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল অবহেলিত, চর উন্নয়ন বোর্ড গঠনের দাবি

মহান সুযোগ থাকা সত্ত্বেও স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকে দেশের বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলগুলি পরিকল্পনার বাইরে থাকছে। এই ৩৬ লাখ একর চরভূমিতে কৃষি, মৎস্য এবং প্রাণিসম্পদ খাত থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা দেশের অর্থনীতিতে যোগ করা সম্ভব হতে পারে। এজন্য সচেতন নাগরিকরা জনপ্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে চর উন্নয়ন বোর্ড বা কর্তৃপক্ষ গঠনের মাধ্যমে বর্তমান সরকারের পরিকল্পনাতে চরাঞ্চলকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

তারা এ বিষয়ে উল্লেখ করেন, চর উন্নয়ন বোর্ড বা কর্তৃপক্ষ গঠন করা উচিত পার্বত্য ও হাওড়াঞ্চলের মতো, যা সময়ের দাবি হয়ে উঠছে।

চারপাশে থৈ থৈ পানি রয়েছে এবং মাঝখানে জেগে থাকা বালুচরগুলো এমন, যেখানে বর্ষার সময় বন্যার জলে ভাসতে হয়। গ্রীষ্মের সময় খরার সঙ্গে লড়াই করতে হয় এবং ভাঙনের কারণে সব কিছু হারানোর কষ্ট সহ্য করতে হয় চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের। ইউপি সদস্য মহির উদ্দিন বলেন, চরাঞ্চলের বাসিন্দারা খরা, বন্যা এবং নদীভাঙনের সঙ্গে সবসময় লড়াই করেন।

আরও পড়ুন: তারেক রহমান: জামায়াত-এনসিপি আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান সহ্য করতে পারছে না

গাইবান্ধার দুর্গম গুপ্তমণি চরের এই দৃশ্য কেবল এখানে সীমাবদ্ধ নয়, বরং দেশের ৩২টি জেলায় ১০০টি উপজেলার চরাঞ্চলেও এটি দেখা যায়। এখানে প্রায় ১৫ লাখ পরিবারে ৬০ লাখ মানুষ বসবাস করছে। নদীভাঙনের কারণে সর্বহারা হওয়া এই মানুষগুলোর টিকে থাকার সংগ্রাম চিরন্তন। যোগাযোগ ব্যবস্থা অপ্রতুল এবং শিক্ষায় তারা পিছিয়ে রয়েছে। চিকিৎসার অভাবও তাদের দুশ্চিন্তার একটি বড় কারণ। মানসম্মত শিক্ষা এবং কর্মসংস্থানের অভাবে চরাঞ্চলের মানুষ বারবার পিছিয়ে পড়ছে।

তবে এই চরাঞ্চলগুলিতে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। পল্লী উন্নয়ন একাডেমির তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রায় ৩৬ লাখ একর চরভূমির মধ্যে প্রায় ১০ লাখ একর জমি চাষের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। মাত্র ভুট্টা চাষের মাধ্যমে ১৪ হাজার কোটি টাকা এবং মরিচ, পাট, বাদাম ও অন্যান্য ফসল চাষ করে চরাঞ্চল থেকে বছরে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকার ফসল পাওয়া সম্ভব। এখানে প্রচুর চারণভূমি রয়েছে এবং প্রায় সব পরিবারে ৪ থেকে ৫টি গবাদিপশু রয়েছে। চরবাসীরা দিনরাত শ্রম দিয়ে উর্বর পলি মাটিতে সোনা রাঙা ফসল ফলিয়ে থাকে।

অর্থনীতিবিদ ও ক্ষেত্রবিশেষজ্ঞরা মনে করেন, যদি চরাঞ্চলের বিপুল কৃষি, মৎস্য এবং প্রাণিসম্পদ খাতকে সঠিকভাবে কাজে লাগানো যায়, তবে দেশের অর্থনীতির চেহারা সম্পূর্ণভাবে পরিবর্তিত হতে পারে। এর জন্য প্রয়োজন একটি সুস্পষ্ট ‘মাস্টারপ্ল্যান’ এবং ‘চর উন্নয়ন বোর্ড’ গঠন করা। এটি করা হলে চরাঞ্চলের মানুষের দরিদ্রতা অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে দাবি করেন বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন একাডেমি-আরডিএ’র চর ডেভলপমেন্ট রিসার্স সেন্টারের উপ পরিচালক কৃষিবিদ মোজাহারুল হক।

তিনি আরো বলেন, বিপুল অর্থনৈতিক সম্ভাবনার থাকা সত্ত্বেও স্বাধীনতার পর থেকে দেশের বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল মূল পরিকল্পনার বাইরে রয়ে গেছে। ফলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাবে প্রায় ৬০ লাখ চরবাসী পিছিয়ে পড়ছে। চরম অবহেলা এবং লাঞ্ছনা-বঞ্চনার শিকার এসব মানুষ দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে আছে।

আরও পড়ুন: আদাবরে যুবদল নেতাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম

সাংস্কৃতিক কর্মী মানিক বাহার বলেন, ‘স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত কোনো সরকারই চরের এই বিশাল জনগোষ্ঠীর জন্য স্থায়ী বা কার্যকর কোনো মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেনি।’

প্রবীণ সাংস্কৃতিককর্মী ও রাজনীতিক শাজাহান খান আবু মন্তব্য করেন, অতীতে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন বোর্ড গঠিত হলেও, বর্তমানে তার কার্যকারিতা নেই। কেউই চরাঞ্চলের দিকে নজর দিচ্ছেন না। চরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, উৎপাদিত কৃষি পণ্যের বাজারজাতকরণের ব্যবস্থা, এবং তাদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্য পরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

গাইবান্ধা জেলা পরিষদের প্রশাসক ডা. সৈয়দ মইনুল হাসান সাদিক বলেন, পার্বত্য এবং হাওড়াঞ্চলের জন্য আলাদা কর্তৃপক্ষ রয়েছে। কিন্তু চরাঞ্চলের জন্য কোনো কিছুই নেই। তাই চরাঞ্চলকে উন্নয়ন পরিকল্পনার আওতায় আনার জন্য সরকারের উচিত চর উন্নয়ন বোর্ড বা কর্তৃপক্ষ গঠন করা। তা হলেই চরাঞ্চলের কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ থেকে দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করা সম্ভব।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের মোট জনসংখ্যার ২৪.৩ শতাংশ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করছে, কিন্তু চরাঞ্চলের অতি-দারিদ্র্যের হার ১২.৯ শতাংশে রয়েছে। গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক মাসুদুর রহমান মোল্লা জানিয়েছেন, সরকার চরাঞ্চলের উন্নয়নের জন্য কিছু নতুন পরিকল্পনা গঠন করেছে।

আরও পড়ুন: নিম্নতম মজুরি বোর্ড অচিরেই গঠন হবে: শ্রমমন্ত্রী

তিনি বলেন, সম্প্রতি ডিসি সম্মেলনে সরকারের পক্ষ থেকে উত্তরাঞ্চলের উন্নয়ন নিয়ে বিভিন্ন পরিকল্পনা উঠে এসেছে, যেখানে চরাঞ্চলও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বিশেষ করে প্রাণিসম্পদ এবং মৎস্য খাতের উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে কাজ চলছে। অন্যদিকে গাইবান্ধা সদর-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল করিম আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, 'তিস্তা মহাপরিকল্পনা' চূড়ান্ত বাস্তবায়িত হলে চরাঞ্চলের সমস্যাগুলোর স্থায়ী সমাধান সম্ভব হবে।

সচেতন নাগরিকরা মন্তব্য করেন, তিস্তা বা ব্রহ্মপুত্রের চরগুলোকে অভিশাপের পরিবর্তে আশীর্বাদে রূপান্তরিত করার জন্য সঠিক উদ্যোগ গ্রহণ করা দরকার। এর মাধ্যমে চরাঞ্চলকে দেশের একটি প্রধান অর্থনৈতিক চালিকাশক্তিতে রূপান্তরিত করা যাবে। ৬০ লাখ মানুষের ভাগ্য উন্নয়ন এবং টেকসই বাংলাদেশ গড়তে চরাঞ্চলকে মূলধারার পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করা এখন সময়ের দাবি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পুশইনের প্রতিবাদে বেনাপোল সীমান্তে যাচ্ছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২ই জুন, ২০২৬ ইং

০৮:৪২ পি.এম


পুশইনের প্রতিবাদে বেনাপোল সীমান্তে যাচ্ছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

বেনাপোল সীমান্তে ভারত থেকে জোরপূর্বক পুশইনের প্রতিবাদ জানাতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এলাকায় সফরে যাচ্ছেন। বুধবার তার এই সফর নির্ধারিত।

আজ মঙ্গলবার এনসিপির পক্ষ থেকে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সফরের পরিকল্পনায় বুধবার সকাল সাড়ে ১১টায় বেনাপোল সীমান্তে যাওয়ার কথা রয়েছে, এরপর সকাল পৌনে ১২টায় সাদিপুর সীমান্ত পরিদর্শন করবেন এবং দুপুর ১টায় বেনাপোলের পর্যটন হোটেল লবিতে তিনি একটি প্রেস ব্রিফিংয়ে অংশগ্রহণ করবেন।

এনসিপি জানিয়েছে যে, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সফরের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে সীমান্তের নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব ও স্থানীয় বাস্তবতা পর্যবেক্ষণ করা। তার আগের সফর ছিল গত ২২ মে ঝিনাইদহ সীমান্তের দিকে, যেখানে হামলার শিকার হয়েছিলেন তিনি। পৌর কালেক্টর জামে মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করার পরপরই ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা পুলিশের উপস্থিতিতে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেছিলেন তিনি। এর আগে, লালমনিরহাট সীমান্তে বাংলাদেশি হত্যার প্রতিবাদ জানাতে হাতীবান্ধায় যান নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাদকসহ চাঁপাইনবাবগঞ্জে এক পরিবারের তিনজন আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২ই জুন, ২০২৬ ইং

০৮:৪৩ পি.এম


মাদকসহ চাঁপাইনবাবগঞ্জে এক পরিবারের তিনজন আটক

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলায় ১ কেজি গাঁজা ও ২৪ দশমিক ৫ গ্রাম হেরোইনসহ মা, ছেলে এবং পুত্রবধূকে আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)।

মঙ্গলবার (২ জুন) সকালে ৭টা ১০ মিনিট থেকে ৮টা পর্যন্ত উপজেলার গোহালবাড়ী ইউনিয়নের সুরানপুর গ্রামে একটি বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে তাদের আটক করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন- সুরানপুর গ্রামের বাসিন্দা তাজেনুর বেগম (৫৩), তার ছেলে সাবিরুল ইসলাম (৩১) এবং পুত্রবধূ ববিতা খাতুন (২৫)।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কার্যালয় সূত্রে জানানো হয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সুরানপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করা হয়। পরে আটককৃতদের দেহ তল্লাশি করা হলে তাদের কাছ থেকে ১ কেজি গাঁজা এবং ২৪ দশমিক ৫ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়।

অধিদপ্তর জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মামুনুর রশীদ বাদী হয়ে ভোলাহাট থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়েরের কার্যক্রম সম্পন্ন করছেন।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের মতে, মাদকের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার রোধে সরকারের ঘোষিত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আওতায় দেশে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় সংঘর্ষ-ভাঙচুরের ঘটনায় মামলা, গ্রেফতার ৭

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২ই জুন, ২০২৬ ইং

০৮:৪৫ পি.এম


মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় সংঘর্ষ-ভাঙচুরের ঘটনায় মামলা, গ্রেফতার ৭

মুন্সীগঞ্জ জেলার গজারিয়া উপজেলার চর বলাকী গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় পুলিশ ৭ জনকে গ্রেফতার করেছে।

মঙ্গলবার (২ জুন) সকালে, ভুক্তভোগী তোফাজ্জল হোসেন বাদী হয়ে গজারিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার প্রেক্ষিতে, একদিনের মধ্যে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা হলেন— চর বলাকী গ্রামের মৃত আবুল হাসেমের ছেলে গিয়াস উদ্দিন (৬৫), মৃত ফজলুল করিমের ছেলে আনোয়ার হোসেন প্রধান (৫০), মাহফুজ প্রধানের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম (৩২), শুক্কুর আলীর ছেলে জান্নাত (৩১) এবং টান বলাকী গ্রামের হাজী মাহফুজ মেম্বারের দুই ছেলে মাসুম (৪৫), মনজুর আলম (৪৪) ও কেরামত আলী মাস্টারের ছেলে মাজহারুল (৫৫)।

গজারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হাসান আলী জানান, হোসেন্দী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ও রাজধানীর সানারপাড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত অন্যদেরও শনাক্ত করা হচ্ছে এবং তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার (১ জুন) দুপুরে, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের মাঝে দফায় দফায় পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষ ঘটে। এই ঘটনায় একটি স্থানীয় বিএনপি কার্যালয়সহ বেশ কয়েকটি বসতঘরে ভাঙচুর চালানো হয়। এতে অন্তত তিনজন আহত হন, গুরুতর আহতদের মধ্যে সুমন ও জিকু ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

যদিও সংঘর্ষের বিষয়ে স্থানীয়ভাবে রাজনৈতিক বিরোধের অভিযোগ করা হচ্ছে, তবে পুলিশ এটিকে গোষ্ঠীগত বিরোধ হিসেবে উল্লেখ করছে। মুন্সীগঞ্জ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইমরান আহম্মেদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের বলেন, প্রাথমিকভাবে এটি গোষ্ঠীগত বিরোধ বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে।

উল্লেখ্য, একই এলাকায় এর আগেও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে একাধিকবার সংঘর্ষ সংঘটিত হয়েছে, যেখানে ১৯ জন আহত হওয়ার রেকর্ড রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চট্টগ্রামে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলকে কেন্দ্র করে ৭০ জন আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২ই জুন, ২০২৬ ইং

০৮:৪৬ পি.এম


চট্টগ্রামে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলকে কেন্দ্র করে ৭০ জন আটক

চট্টগ্রাম নগরীতে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলের পর সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে ৭০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশ পৃথক অভিযান চালিয়ে নগরীর পাঁচলাইশ, খুলশী, কোতোয়ালি ও বায়েজিদ থানার বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করেছে।

মঙ্গলবার (২ জুন) সন্ধ্যায় বিষয়টি কালের কণ্ঠকে নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) জনসংযোগ বিভাগের সহকারী কমিশনার আমিনুর রশিদ। তিনি বলেন, ‘সোমবারের মিছিলের পর নগরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৭০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।’

এর আগে, গতকাল সোমবার সকাল ১১টার দিকে সিএমপি দামপাড়াস্থ সদর দপ্তরের কয়েকশ গজ দূরে জিইসি এলাকায় ছাত্রলীগের ওমরগনি এমইএস কলেজ শাখার ব্যানারে একটি ঝটিকা মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি অল্প সময়ের মধ্যেই শেষ হয়ে যায়। পরে এর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

ভিডিওতে দেখা যায়, মিছিল শেষে অংশগ্রহণকারীদের কেউ কেউ জামা খুলে এবং কেউ কেউ পোশাক পরিবর্তন করে স্থান ত্যাগ করছে।

এ ঘটনার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতারা সিএমপিতে শুদ্ধি অভিযান পরিচালনার আহ্বান জানান। তাদের দাবি, ছাত্রলীগ এতদিন সাগর পাড়ের মতো নির্জন জায়গায় মিছিল করলেও পুলিশের অসতর্কতার সুযোগে এবার তারা জিইসির মতো ব্যস্ততম জায়গায় মিছিল করেছে।

এ ঘটনায় সিএমপি কমিশনার ভিডিও ফুটেজ দেখে মিছিলকারীদের শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে অভিযান চালিয়ে মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের একটি বড় অংশকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%