০৩:০৮ এম
হরমুজ প্রণালী, যা বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান পথ, আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি ইরান ঘোষণা করেছে যে, দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের অব্যাহত সামরিক অভিযান এবং যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের প্রতিবাদে তারা পুনরায় এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি বন্ধ করে দিয়েছে।
তেহরানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, যতক্ষণ পর্যন্ত ইসরায়েল লেবানন থেকে তাদের সৈন্য প্রত্যাহার না করছে এবং ইরানের জব্দকৃত সম্পদ মুক্তি দেওয়া না হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী সাধারণ নৌ-চলাচলের জন্য বন্ধ থাকবে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) ঘনিষ্ঠ সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, তেহরান এই পদক্ষেপটিকে একটি ‘সতর্কবার্তাসূচক প্রথম ধাপ’ হিসেবে দেখছে। তাদের মতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা চুক্তির শর্তাবলী ভঙ্গ করে ইসরায়েল লেবাননে আক্রমণ অব্যাহত রেখেছে, যা আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতাকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। ইরানের সামরিক কমান্ড সতর্ক করে বলেছে, এই জলপথের নিরাপত্তার খাতিরে কোনো জাহাজ যেন আপাতত এই এলাকা দিয়ে যাতায়াত না করে।
আরও পড়ুন: ভারতীয় গোয়েন্দার সঙ্গে গোলাম পরওয়ারের গোপন বৈঠক, রাশেদের দাবি
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের মধ্যে একটি প্রাথমিক সমঝোতা স্বাক্ষরের পর গত কয়েক দিনে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু হয়েছিল। সেই চুক্তির আওতায় ইরানের বন্দরগুলোতে থাকা মার্কিন অবরোধ শিথিল করার কথাও ছিল। কিন্তু নতুন করে যুদ্ধ পরিস্থিতির অবনতি ঘটায় সেই সমঝোতার ভবিষ্যৎ এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
এদিকে সুইজারল্যান্ডের বারজেনস্টকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের কথা রয়েছে, যেখানে উভয় দেশের প্রতিনিধিরা চুক্তির শর্তাবলী নিয়ে আলোচনা করবেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচির নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল ইতিমধ্যে সুইজারল্যান্ডের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। তবে তেহরান আগেই জানিয়ে দিয়েছে, লেবাননে ইসরায়েলি আগ্রাসন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত কোনো অর্থপূর্ণ আলোচনায় বসা তাদের পক্ষে কঠিন।
অন্যদিকে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল সচল রাখতে তারা এখনো তৎপর রয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, ইরানের এই একতরফা ঘোষণা সত্ত্বেও বেশ কিছু বাণিজ্যিক জাহাজ ইতিমধ্যে সফলভাবে প্রণালী পার হয়েছে। হোয়াইট হাউস থেকেও আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে যে, কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে এই সংকট নিরসন সম্ভব হবে এবং যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা যাবে।
আরও পড়ুন: ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ সাবেক মিস সুইজারল্যান্ডের
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন