০৯:২৪ পি.এম
সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, মনে রাখতে হবে যে, যারা পালিয়ে গেছে, তারা বসে নেই। তাদের সাঙ্গপাঙ্গরাও আমাদের আশপাশের এলাকায় আছে। তবে, তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কোনো অবস্থাতেই স্বৈরাচারের পুনরুত্থানের সুযোগ নেই।
রোববার (২৬ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহিদদের স্মরণে জাতীয়তাবাদী টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (জেটেব) আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
মন্ত্রী আরো বলেন, জনগণের অধিকার নিয়ে কেউ যেন ছিনিমিনি খেলতে না পারে, সেই দিকে লক্ষ্য রাখার দায়িত্ব সকলের। যারা ষড়যন্ত্র করে ২০০৯ সালের মতো ক্ষমতায় চলে যেতে চেয়েছিলেন, তাদেরও বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে অনেক কষ্ট হচ্ছে। কারণ, জনগণ তাদের সকল ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে দিয়েছে।
আরও পড়ুন: কুমিল্লা সীমান্তে মাদকের অভয়ারণ্য, মূল হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী এবং বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।
ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, এখন আমাদের চিন্তা করার সময় এসেছে। কেউ কেউ ভেতর থেকে এবং কেউ কেউ বাইরে থেকে বিভিন্ন রকমের বক্তব্য দিচ্ছেন, হুংকার দিচ্ছেন। বিভিন্ন ধরনের ষড়যন্ত্রের কথাও সরকারি ও বেসরকারি পত্রিকায় শোনার সুযোগ মিলছে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের মনে রাখতে হবে, বিগত ১৯ বছরের গণতন্ত্রহীন অবস্থার পর ১২ ফেব্রুয়ারি একটি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেই নির্বাচনে মানুষ দীর্ঘদিন পর ভোট দিয়েছে। ২০০৮ সালে মানুষ নিশ্চিন্ত হয়ে ভোট দিতে পারেনি। সেবার মানুষ প্রকৃত ভোটের প্রতিফলন দেখতে পাননি। এবারের নির্বাচনেই প্রথমবারের মতো জনগণের ভোট এবং জনগণের অংশগ্রহণে ভোট হয়েছে। মানুষ নিশ্চিন্ত ও নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছে।
মন্ত্রী বলেছেন, যখনই গণতন্ত্র বাধাগ্রস্ত হয়েছে বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং দেশের সুস্থতা ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে, তখন বিএনপি জনগণের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে।
আরও পড়ুন: জুলাই একদিনে সংঘটিত হয়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ
তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, ১৯৭১ সালের মার্চে যখন অনেকেই পালিয়ে গিয়েছিলেন এবং আত্মসমর্পণ করেছিলেন, তখন চট্টগ্রাম থেকে অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের মেজর জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা এবং বিদ্রোহের সূচনা করেছিলেন। তিনি অস্ত্র হাতে রণাঙ্গনে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। এ সময় দেশের পরিস্থিতি অন্ধকারের দিকে যাচ্ছিল; কিন্তু তখন জিয়াউর রহমান অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন।
তিনি উল্লেখ করেন, সেই সময় কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা আমরা কানে শুনেছি। কিন্তু আজ সেই ইতিহাস মুছে ফেলার চেষ্টা চলছে।
তিনি আরও বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর যখন আবার বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার চেষ্টার মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতা বিপন্ন হওয়ার উপক্রম হয়েছিল, তখন সিপাহি ও জনতা আস্থা রেখেছিল সেই মানুষটির ওপর, যিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন।
মন্ত্রী বলেন, তখন বিএনপি নামক কোনো দল ছিল না; কিন্তু জনগণ ও সিপাহি-জনতার আস্থা ছিল মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের প্রতি। বন্দিদশা থেকে তাকে মুক্ত করে দিয়ে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।
আরও পড়ুন: ঢাকায় ২৪ ঘণ্টার অভিযানে পুলিশের হাতে ৪৮৪ গ্রেপ্তার
তিনি বলেন, বিএনপি দলগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, কিন্তু কখনো ক্ষমতার উপর অর্পিত দায়িত্ব আঁকড়ে ধরে রাখার চেষ্টা করেনি। বিএনপির মধ্যে কখনো স্বৈরাচারী মানসিকতা ছিল না, বরং জনমতের প্রতি এক গভীর শ্রদ্ধা ছিল।
তিনি মনে করিয়ে দেন, জনগণের পাশে না থাকলে এবং জনগণের ভালোবাসা অর্জন করতে না পারলে, যত শক্তিশালী প্রশাসন বা বাহিনী থাকুক না কেন, সব কিছু ভেঙে পড়ে। জনগণের ভালোবাসা ছাড়া ক্ষমতায় থাকা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে এবং জীবন রক্ষাও দুরূহ হয়ে যায়।
সভাটি জেটেব কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মো. ফখরুল আলমের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার এ বি এম রুহুল আমীন আকন্দের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে সংগঠনটির নেতাকর্মী এবং জুলাই শহিদ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: লক্ষ্মীপুরে একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগে ৫ নির্বাহী প্রকৌশলীর বিদায়
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন