০২:৩৫ পি.এম
পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার ১৪ নং মধ্য সোনাকুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি একই বিদ্যালয়ের এক নারী শিক্ষককে অশালীন আচরণ, মানসিক হয়রানি ও নিরাপত্তাহীনতায় রাখার অভিযোগ করেছেন। ভুক্তভোগী সহকারী শিক্ষক ফেরদৌস আক্তার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। উল্লেখ্য, অভিযোগের অনুলিপি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বরিশাল বিভাগীয় উপ-পরিচালক (প্রাথমিক শিক্ষা) এবং কাউখালী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগে ফেরদৌস আক্তার জানান, তিনি ২০১২ সালের ২১ এপ্রিল থেকে বিদ্যালয়টিতে কর্মরত রয়েছেন। অভিযোগ তাঁর দাবি, সহকারী শিক্ষক মিলন কৃষ্ণ পাল দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে অশালীন মন্তব্য ও অসৌজন্যমূলক আচরণ করে আসছেন। বিদ্যালয়ে একমাত্র নারী শিক্ষক হিসেবে প্রতিনিয়ত আতঙ্ক এবং নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, বিদ্যালয় চলাকালে অভিযুক্ত শিক্ষক উচ্চস্বরে মোবাইলে ভিডিও চালান। এছাড়া, যখন তিনি কমনরুমে নামাজ আদায় করতে যান, তখন সেখানে অবস্থান করেন, যা তাকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলে। এমন আচরণের কারণে বিদ্যালয়ের পূর্ববর্তী কয়েকজন নারী শিক্ষকও অন্যত্র বদলি নিতে বাধ্য হয়েছেন বলে অভিযোগের দাবি করা হয়েছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সহকারী শিক্ষক মিলন কৃষ্ণ পাল জানান, “আমি সম্পূর্ণ নির্দোষ। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। সুষ্ঠু তদন্ত হলে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।” বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শ্যামল চন্দ্র মন্তব্য করেন, “সহকারী শিক্ষক ফেরদৌস আক্তার বিষয়টি আমাকে একাধিকবার জানিয়েছেন। আমি শিক্ষক মিলন কৃষ্ণ পালকে কয়েকবার সতর্ক ও সংশোধনের জন্য বলেছি। এখন বিষয়টি আমার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।” কাউখালী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ অহিদুর রহমান জানান, “অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোল্লা বখতিয়ার রহমান বলেন, “লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে অভিযোগের সত্যাতা পাওয়া গেলে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন