বৃহস্পতিবার, ৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১১:৪৬ এম
ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক হামলার ফলে বেসামরিক হতাহতের ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। ইরানের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, মঙ্গলবার রাতে পরিচালিত মার্কিন হামলায় ১৮ জন নিহত এবং ১০৮ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে চারজন বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বলে ইরানি রেড ক্রিসেন্টের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
রেড ক্রিসেন্টের তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালির উপকূলের কাছে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলার ফলে চারজন নিহত এবং ৬৭ জন আহত হয়েছেন। নতুন করে সংঘাতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় পুরো অঞ্চলে উদ্বেগের মাত্রা বাড়ছে।
এদিকে, ইরান দাবি করেছে যে, বাহরাইন, জর্ডান, কুয়েত ও ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা হিসেবে চিহ্নিত বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে তারা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ভোরেও দেশের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছোড়া হয়। তবে, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেগুলো প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে।
জুলাইয়ে সংঘাতের পূর্ববর্তী দফা শেষ হওয়ার পর কয়েক সপ্তাহ ধরে বড় ধরনের সামরিক তৎপরতা অনেকটাই কমে গিয়েছিল। এই সময়ে শান্তি আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টা চললেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। এর মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আরও সামরিক শক্তি ব্যবহারের হুমকি দিয়েছেন। তবে, যুক্তরাষ্ট্রে এই যুদ্ধ ব্যাপক জনপ্রিয় নয়। সংঘাতের ফলে দেশটিতে পেট্রোল ও জ্বালানির দামও বৃদ্ধি পেয়েছে।
নভেম্বরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে, ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন শীর্ষ সহযোগী যুদ্ধের বিস্তার ঠেকাতে কাজ করছেন। চারজন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বরাত দিয়ে জানা গেছে, সম্ভাব্য নির্বাচনী ক্ষতি এড়াতে প্রশাসনের কর্মকর্তারা বিষয়টি নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। তবে, আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচন শেষ হওয়ার পর সামরিক অভিযান আরও জোরদারের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হতে পারে।
অন্যদিকে, ব্যাপক সামরিক ও অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতির মধ্যেও ইরান তাদের অবস্থান থেকে সরে আসেনি। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ইরানে বেসামরিক হতাহতের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলার খবরকে গুরুত্ব দিয়ে তিনি অবিলম্বে সামরিক অভিযান বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন বলে তার মুখপাত্র স্টেফান দুজারিক জানিয়েছেন।
দুজারিক বলেন, জাতিসংঘ মহাসচিব বেসামরিক মানুষের ওপর সব ধরনের হামলার নিন্দা করেছেন। আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুযায়ী সংঘাতে জড়িত সব পক্ষকে তাদের দায়িত্ব পালন করতে হবে। এর মধ্যে সামরিক ও বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে পার্থক্য বজায় রাখা, আনুপাতিকতা এবং সতর্কতার নীতিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
স্বাধীন ইরানি মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএনএ) জানিয়েছে, ৭ এপ্রিল পর্যন্ত ইরানে মোট ৩ হাজার ৬৩৬ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১ হাজার ৭০১ জন বেসামরিক নাগরিক। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, চলমান যুদ্ধে দেশটির ১৮ জন সামরিক সদস্য নিহত এবং ৭৫০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স এক ই-মেইলে জানিয়েছেন, ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো সম্পর্কে তারা অবগত। তবে, তিনি দাবি করেছেন, ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযানে মার্কিন সামরিক বাহিনী কখনো বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় না।
ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, একটি ভবনের পাশে ছড়িয়ে থাকা ধ্বংসাবশেষ এবং ভবনের ছাদে বড় একটি গর্ত রয়েছে। স্থিরচিত্রে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের কাছে রেড ক্রিসেন্টের পোশাক পরা কয়েকজনকে দেখা যায়। সেখানে বিদ্যুৎ বা যোগাযোগের একটি টাওয়ারও মাটিতে পড়ে থাকতে দেখা গেছে।
রয়টার্স স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে ঘটনাস্থলের অবস্থান যাচাই করেছে। ওই চিত্র অনুযায়ী, পড়ে থাকা টাওয়ারটি ক্ষতিগ্রস্ত ভবন থেকে ১৩৬ মিটার বা ১৪৯ গজ দূরে অবস্থিত।
বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলার এই ঘটনা ইরানের মিনাব শহরের একটি স্কুলে ভয়াবহ বিস্ফোরণের কথাও সামনে এনেছে। যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিন একটি মেয়েদের স্কুলে চালানো ওই হামলায় ১৬০ জন নিহত হন।
ইরানের পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করা, হামাস, হিজবুল্লাহ ও হুথিদের মতো বিদেশে সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি তেহরানের সমর্থন বন্ধ করা এবং ইরানিদের সরকার উৎখাতে উৎসাহিত করাকে যুদ্ধের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন ট্রাম্প।
অন্যদিকে, মার্কিন হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী তেলবাহী জাহাজগুলোকে ইরানের অনুমতি ছাড়া চলাচল করলে হুমকি দেওয়ার কথা জানিয়েছে। এর ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো।
সূত্র : রয়টার্স।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আজ বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩, ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮।
ঢাকা এবং এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ উল্লেখ করা হলো—
জোহরের নামাজের সময় শুরু হবে দুপুর ১২টা ১ মিনিটে।
আসরের নামাজের সময় শুরু হবে ৪টা ২৭ মিনিটে।
মাগরিবের নামাজ শুরু হবে ৬টা ১৮ মিনিটে।
এশার নামাজের সময় শুরু হবে ৭টা ৩৩ মিনিটে।
আগামীকাল ফজর শুরু ৪টা ২৭ মিনিটে
আজ ঢাকায় সূর্যাস্তের সময় ৬টা ১৯ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয়ের সময় ৫টা ৩৯ মিনিটে হবে।
সূত্র : ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বসুন্ধরা, ঢাকা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফরিদপুর ভাঙ্গা থানার এ. এস আলিম মাদ্রাসায় ০৩ ই সেপ্টেম্বর রোজ বৃহস্পতিবার ২০২৬ ইং বেলা ১০ ঘটিকায় অত্র মাদ্রাসার ভিতরেই অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন হযরত মাওলানা ইব্রাহিম মিয়া
আরো উপস্থিত ছিলেন অত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বনামধন্য শিক্ষক
জনাব আব্দুল হালিম সাহেব আরো উপস্থিত ছিলেন অত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সকল শিক্ষকবৃন্দ ও অভিভাবকবৃন্দ।
শিক্ষকবৃন্দরা কমল মতি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সামনে রেখেই কিভাবে সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে বছর শেষে পরীক্ষায় ভালোভাবে ফলাফল অর্জন করা যায়
ও সামনের জীবনগুলোকে কিভাবে সঠিকভাবে চালানো যায়
এ ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন।
বিশেষ করে অভিভাবকের উদ্দেশ্য করে বলেন আপনি আপনার সন্তানের প্রতি আরো বেশি নজর দারি করুন তারা কখন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আসে এবং কখন প্রতিষ্ঠান থেকে যায় এই ব্যাপারে খেয়াল রাখুন।
কখনো এমনও হয় যে আপনার সন্তান বাড়ি থেকে মাদ্রাসায় কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয় কিন্তু মাদ্রাসায় আসে না
তারা অন্য কোথাও ঘুরে বাড়িতে গিয়ে বলে আমরা মাদ্রাসা থেকে আসলাম অথচ তারা মাদ্রাসা আসে না বছর শেষে তারা ফলাফল খারাপ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকদের উপরে এই দায়ভার চাপিয়ে দেন আপনারা
অথচ এখানে কোন প্রতিষ্ঠান বা শিক্ষকদের গাফিলতি আছে বলে মনে হয়না।
সর্বশেষ শিক্ষকবৃন্দরা বলেছেন এখন থেকে যদি আমরা শিক্ষক বৃন্দ ও শিক্ষার্থী অভিভাবকরা মিলেমিশে মেহনত করতে থাকি
তাহলে বছর শেষে সুন্দর একটি ফলাফল আশা করা যাবে
এ কথার মধ্য দিয়েই অনুষ্ঠানের কার্যক্রম সমাপ্তি হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নেপালে আকস্মিক বন্যার কারণে দুটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বাংলাদেশের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। ২৬ আগস্টের ওই বন্যায় নেপালের বিভিন্ন অবকাঠামো ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।
এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য হলো, বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানি করা দুটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্রও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে নেপালের সংবাদমাধ্যম কাঠমাণ্ডু পোস্ট। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্ষা মৌসুমে নদীর পানির প্রবাহ বৃদ্ধি পেলে নেপালের জলবিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে উৎপাদনও বৃদ্ধি পায়। এই সময়, দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের পর অতিরিক্ত বিদ্যুৎ রপ্তানি করে নেপাল।
বাংলাদেশ সম্প্রতি ভারতীয় গ্রিড ব্যবহার করে নেপাল থেকে বিদ্যুৎ আমদানি শুরু করেছিল। তবে বন্যার কারণে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বর্তমানে সেই সরবরাহ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ রয়েছে।
ভোটেকোশি নদীতে আকস্মিক বন্যার ফলে বেশ কয়েকটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে নেপাল থেকে বিদ্যুৎ রপ্তানির পরিমাণও কমে গেছে।
শুষ্ক মৌসুমে, নেপাল গড়ে প্রায় এক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানি করে, কিন্তু বর্তমানে তা ৬৫০ মেগাওয়াটে নেমে এসেছে। কাঠমাণ্ডু পোস্টের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, শীতকালে নেপালে বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধি পায়। অতীতে এই সময় বিদ্যুৎ আমদানি করতে হতো। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ায়, নেপাল এখন আঞ্চলিক বিদ্যুৎ রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হচ্ছে।
বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানির অনুমোদন পাওয়া নেপালের দুটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্র হলো ২২ দশমিক ১ মেগাওয়াটের চিলমি হাইড্রোপাওয়ার প্রকল্প এবং ২৪ মেগাওয়াটের ত্রিশূলি হাইড্রোপাওয়ার প্রকল্প।
বন্যায় এই কেন্দ্র দুটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায়, গত সপ্তাহ থেকে সেগুলোতে বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্পূর্ণরূপে বন্ধ রয়েছে। কেন্দ্র দুটি ভারতের গ্রিড ব্যবহার করে মার্কিন ডলারে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানি শুরু করেছিল।
নেপাল বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দীর্ঘায়ু কুমার শ্রেষ্ঠ কাঠমাণ্ডু পোস্টকে জানিয়েছেন, বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী দুটি কেন্দ্রই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই কারণে বিকল্প কোনো প্রকল্প থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ পাঠানোর সুযোগ দিতে ভারতকে অনুরোধ করা হয়েছে।
বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ২২৫ জনে পৌঁছেছে। এর মধ্যে নেপালে এক হাজার ২০৪ জন এবং তিব্বতে ২১ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছে ৪ হাজার ৭৫৭ জন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ