প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক হামলার ফলে বেসামরিক হতাহতের ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। ইরানের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, মঙ্গলবার রাতে পরিচালিত মার্কিন হামলায় ১৮ জন নিহত এবং ১০৮ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে চারজন বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বলে ইরানি রেড ক্রিসেন্টের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
রেড ক্রিসেন্টের তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালির উপকূলের কাছে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলার ফলে চারজন নিহত এবং ৬৭ জন আহত হয়েছেন। নতুন করে সংঘাতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় পুরো অঞ্চলে উদ্বেগের মাত্রা বাড়ছে।
এদিকে, ইরান দাবি করেছে যে, বাহরাইন, জর্ডান, কুয়েত ও ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা হিসেবে চিহ্নিত বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে তারা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ভোরেও দেশের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছোড়া হয়। তবে, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেগুলো প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে।
জুলাইয়ে সংঘাতের পূর্ববর্তী দফা শেষ হওয়ার পর কয়েক সপ্তাহ ধরে বড় ধরনের সামরিক তৎপরতা অনেকটাই কমে গিয়েছিল। এই সময়ে শান্তি আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টা চললেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। এর মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আরও সামরিক শক্তি ব্যবহারের হুমকি দিয়েছেন। তবে, যুক্তরাষ্ট্রে এই যুদ্ধ ব্যাপক জনপ্রিয় নয়। সংঘাতের ফলে দেশটিতে পেট্রোল ও জ্বালানির দামও বৃদ্ধি পেয়েছে।
নভেম্বরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে, ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন শীর্ষ সহযোগী যুদ্ধের বিস্তার ঠেকাতে কাজ করছেন। চারজন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বরাত দিয়ে জানা গেছে, সম্ভাব্য নির্বাচনী ক্ষতি এড়াতে প্রশাসনের কর্মকর্তারা বিষয়টি নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। তবে, আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচন শেষ হওয়ার পর সামরিক অভিযান আরও জোরদারের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হতে পারে।
অন্যদিকে, ব্যাপক সামরিক ও অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতির মধ্যেও ইরান তাদের অবস্থান থেকে সরে আসেনি। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ইরানে বেসামরিক হতাহতের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলার খবরকে গুরুত্ব দিয়ে তিনি অবিলম্বে সামরিক অভিযান বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন বলে তার মুখপাত্র স্টেফান দুজারিক জানিয়েছেন।
দুজারিক বলেন, জাতিসংঘ মহাসচিব বেসামরিক মানুষের ওপর সব ধরনের হামলার নিন্দা করেছেন। আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুযায়ী সংঘাতে জড়িত সব পক্ষকে তাদের দায়িত্ব পালন করতে হবে। এর মধ্যে সামরিক ও বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে পার্থক্য বজায় রাখা, আনুপাতিকতা এবং সতর্কতার নীতিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
স্বাধীন ইরানি মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএনএ) জানিয়েছে, ৭ এপ্রিল পর্যন্ত ইরানে মোট ৩ হাজার ৬৩৬ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১ হাজার ৭০১ জন বেসামরিক নাগরিক। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, চলমান যুদ্ধে দেশটির ১৮ জন সামরিক সদস্য নিহত এবং ৭৫০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স এক ই-মেইলে জানিয়েছেন, ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো সম্পর্কে তারা অবগত। তবে, তিনি দাবি করেছেন, ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযানে মার্কিন সামরিক বাহিনী কখনো বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় না।
ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, একটি ভবনের পাশে ছড়িয়ে থাকা ধ্বংসাবশেষ এবং ভবনের ছাদে বড় একটি গর্ত রয়েছে। স্থিরচিত্রে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের কাছে রেড ক্রিসেন্টের পোশাক পরা কয়েকজনকে দেখা যায়। সেখানে বিদ্যুৎ বা যোগাযোগের একটি টাওয়ারও মাটিতে পড়ে থাকতে দেখা গেছে।
রয়টার্স স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে ঘটনাস্থলের অবস্থান যাচাই করেছে। ওই চিত্র অনুযায়ী, পড়ে থাকা টাওয়ারটি ক্ষতিগ্রস্ত ভবন থেকে ১৩৬ মিটার বা ১৪৯ গজ দূরে অবস্থিত।
বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলার এই ঘটনা ইরানের মিনাব শহরের একটি স্কুলে ভয়াবহ বিস্ফোরণের কথাও সামনে এনেছে। যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিন একটি মেয়েদের স্কুলে চালানো ওই হামলায় ১৬০ জন নিহত হন।
ইরানের পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করা, হামাস, হিজবুল্লাহ ও হুথিদের মতো বিদেশে সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি তেহরানের সমর্থন বন্ধ করা এবং ইরানিদের সরকার উৎখাতে উৎসাহিত করাকে যুদ্ধের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন ট্রাম্প।
অন্যদিকে, মার্কিন হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী তেলবাহী জাহাজগুলোকে ইরানের অনুমতি ছাড়া চলাচল করলে হুমকি দেওয়ার কথা জানিয়েছে। এর ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো।
সূত্র : রয়টার্স।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন