ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বাজেটে বড় আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেছে, বাস্তবায়ন হবে চ্যালেঞ্জ: সিপিডি


বাজেটে বড় আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেছে, বাস্তবায়ন হবে চ্যালেঞ্জ: সিপিডি

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বড় আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেছে বলেই মনে হচ্ছে। তবে এ বাজেটের বাস্তবায়ন হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ, এমন মন্তব্য করেছে গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। সংস্থাটি একথা জানিয়ে বলছে, প্রশাসনের আধুনিকায়ন, অটোমেশন ও কাঠামোগত সংস্কার যদি না করা হয়, তাহলে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা কঠিন হবে।

শুক্রবার (১২ জুন) সিপিডি আয়োজিত ‘২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পরবর্তী প্রতিক্রিয়া’ শীর্ষক সভায় এসব কথা বলেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন।

তিনি আরও বলেন, উন্নয়ন বাজেটে থোক বরাদ্দ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়েছে। কিন্তু ব্যয়ের ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া সম্ভব হবে না। একইসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণ বাড়লে, তখন বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ কমে যেতে পারে।

আরও পড়ুন: সরকার বিরোধীদলকে সম্মান দিতে ব্যর্থ: জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল

বিদেশি ঋণের প্রসঙ্গ তুলে ধরে ড. ফাহমিদা খাতুন জানান, যদি স্বচ্ছতা ও সুশাসনের সঙ্গে বিদেশি ঋণ ব্যবহার করা না হয়, তবে ভবিষ্যতে ঋণ পরিশোধের চাপ আরও বাড়বে।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে তিনি বলেন, আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনতে খাদ্য ও জ্বালানির সরবরাহ বাড়ানোর পাশাপাশি দক্ষ ও বাস্তবসম্মত মুদ্রানীতি গ্রহণ করতে হবে। এ লক্ষ্য অর্জনের জন্য সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি কিছু দিন অব্যাহত রাখতে হবে, এমন ধারণা তিনি পোষণ করেন।

তিনি আরও বর্ণনা করেন, সরকারি ব্যয়ের মাধ্যমেই উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি না পেলে মূল্যস্ফীতি কমানোর লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে না। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধিকে তিনি ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও, কৃষি খাতে বরাদ্দ কমে যাওয়াকে উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেন।

নিম্নআয়ের মানুষের ওপর করের চাপ বাড়ছে বলেও জানান সিপিডির নির্বাহী পরিচালক। তার মতে, বর্তমান উচ্চ মূল্যস্ফীতির প্রেক্ষাপটে করমুক্ত আয়সীমা আরও বাড়ানোর সুযোগ ছিল।

আরও পড়ুন: নাটোরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে ৫ শরীয়তপুরের ব্যবসায়ী নিহত

বাজেটে করের ক্ষেত্রে ব্যাপক ছাড় দেয়া হয়েছে জানানোর পাশাপাশি তিনি বলেন, দেশীয় শিল্পের জন্য কর রেয়াত ও আমদানি পর্যায়ে কর সুবিধা দেয়া হয়েছে। উৎপাদন বাড়িয়ে কর্মসংস্থান তৈরির উদ্যোগ রয়েছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মির্জা ফখরুল বলেছেন, উত্থাপিত বাজেট সম্পূর্ণ ‘ক্রিয়েটিভ’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১২ই জুন, ২০২৬ ইং

১২:০২ পি.এম


মির্জা ফখরুল বলেছেন, উত্থাপিত বাজেট সম্পূর্ণ ‘ক্রিয়েটিভ’

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব, ২০২৬- ২৭ সালের প্রস্তাবিত বাজেটকে উৎপাদন, বিনিয়োগ ও ব্যবসা বান্ধব একটি ‘ক্রিয়েটিভ’ বাজেট হিসেবে অভিহিত করেছেন।তিনি বলেন, “সব শ্রেণির মানুষের কল্যাণের কথা চিন্তা করে এই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে” এবং এটি একটি ক্রিয়েটিভ বাজেট।

বৃহস্পতিবার রাতে সংসদ ভবনের নিজের চেম্বারে বাজেটের ওপর প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বিএনপির মহাসচিব এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, এ বাজেট মূলত উৎপাদন বান্ধব, বিনিয়োগবান্ধব এবং ব্যবসাবান্ধব। “এ বাজেটে যে ছাড়গুলো দেওয়া হয়েছে, যে রেয়াত দেওয়া হয়েছে, আমরা এর আগে এত বড় ছাড় দেখতে পাইনি।” শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন খাতে বরাদ্দের দিক তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব জানান, এর ফলে অর্থনীতি অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে সচল হবে এবং তারা আশা করছেন যে, “খুব দ্রুত বাংলাদেশের অর্থনীতি আবার ঘুরে দাঁড়াবে।”

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সাহেব অর্থ মন্ত্রণালয়ের সকলের সহযোগিতা নিয়ে এই বাজেট প্রণয়ন করেছেন। সংসদ অধিবেশন বসে বিকেল তিনটায়, স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে। অর্থমন্ত্রী এই অধিবেশনে স্পিকারের অনুমতি নিয়ে ২০২৬-২৭ অর্থ বছরের বাজেট উপস্থাপন করেন। স্পিকার রবিবার বিকাল তিনটা পর্যন্ত সংসদ অধিবেশন মুলতবি ঘোষণা করেন।

মির্জা ফখরুল দীর্ঘ ১৭ বছরের ফ্যাসিস্ট শাসনে দেশের অর্থনীতির ভঙ্গুর অবস্থার কথা তুলে ধরে বলেন, “ফ্যাসিস্ট সরকারের পরে মাঝখানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তারা ঠিক সেভাবে দেশকে একটা ট্র্যাকের মধ্যে ফিরিয়ে আনতে ব্যর্থ হয়েছে।” এর ফলে একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি, অগোছালো প্রশাসন এবং অর্থনীতির চরম দুরবস্থার মধ্যে বিএনপি সরকার গঠন করেছে এবং দায়িত্ব এসে পড়েছে বিএনপি সরকারের উপরে।

তিনি বলেন, সেই ধারাবাহিকতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বাজেট পেশ করেছেন। এই বাজেটে প্রতিফলিত হয়েছে দেশের অর্থনীতিকে পুনরায় গঠনে সরকার কতটা আন্তরিক। একই সঙ্গে সরকার অর্থনীতিতে গতি ফিরিয়ে আনতে চায়।

এ বাজেটের সবচেয়ে বড় দিক হচ্ছে, “সম্পূর্ণ একটা ক্রিয়েটিভ বাজেট বলব আমি এটাকে।” এর মধ্যে কতগুলো পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে, যে পদক্ষেপগুলো আমরা কেউ চিন্তাও করতে পারি না।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, “এখানে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হয়েছে, এটা একটা বিশাল ব্যাপার।” এতে আগামী অর্থবছরে প্রায় ৪১ লাখ পরিবার প্রধান মহিলাদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়া হবে। সেখানে ফ্যামিলি কার্ডে খরচ হবে ১ লাখ তিনশ’ ৩৮ কোটি টাকা। এই বরাদ্দ এই অর্থবছরে। পরে সেটা বাড়তে থাকবে।

“একইভাবে কৃষক কার্ড করা হয়েছে, প্রতি কৃষক পাবেন আড়াই হাজার টাকা করে।” মসজিদ ও অন্যান্য উপাসনালয়ে প্রতিমাসে সম্মানী প্রদান করা হবে, খাল- খননের মধ্য দিয়ে কৃষিতে সেচের ব্যবস্থা, পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা, মৎস্য চাষ এই ধরনের উদ্যোগগুলোকে উৎসাহিত করা হয়েছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, “সবচেয়ে বড় আমার কাছে যে জিনিসটা সেটা হলো, দেশীয় উৎপাদনের ক্ষেত্রে যারা বিভিন্ন খাতে উৎপাদন করতে যাবেন, বিনিয়োগ করতে যাবেন তাদেরকে যে প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে এটা আগে কখনো দেওয়া হয়নি।” “সমস্ত কর রেয়াত দেওয়া হয়েছে এবং অন্য সব রকমের সুবিধা প্রদান করা হয়েছে। যেখানে যেগুলো আমাদের দেশীয় উৎপাদন হয়, সেগুলোকে প্রটেকশন দেওয়ার জন্য বিদেশ থেকে আমদানি করার ব্যাপারে কর আরোপ করা হয়েছে অর্থাৎ প্রটেকশন পুরোপুরিভাবে দেওয়া হয়েছে।”

কৃষির ক্ষেত্রেও সেটা করা হয়েছে এবং আমাদের ক্রিয়েটিভ ইকোনমি যেটাকে বলছে এটা অত্যন্ত নতুন ধরনের একটা চিন্তাভাবনা। স্পোর্টস ইকোনমিতে জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের মাসিক সম্মানী প্রদান করা হচ্ছে, নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস আয়োজন করা হবে এবং ইন্টার স্কুল খেলা আবার চালু করা হচ্ছে।

“একই সঙ্গে ১২ থেকে ১৪ বছরের ক্রীড়া শিক্ষার্থীদেরকে বৃত্তি প্রদান করা হবে। ৬৪ জেলায় ৬৪ ভিলেজ প্রতিষ্ঠা করা হবে।” এগুলো সম্পূর্ণ নতুন চিন্তা এবং সংস্কৃতির ক্ষেত্রে সংস্কৃতিকে পুরোপুরি একটা ইকোনমির মধ্যে নিয়ে আসার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। “একটি গ্রাম একটি পণ্য” উদ্যোগের আওতায় মৃৎশিল্প, বুনন শিল্প শীতল পাটি সৎরঞ্জিসহ সব ধরনের ক্রিয়েটিভ পণ্য চিহ্নিত করে সেগুলোকে বাজারজাতকরণের ব্যবস্থা করা হবে।

মির্জা ফখরুল বলেন, “লোক সংস্কৃতি, হস্তশিল্পের আন্তর্জাতিক বাজার প্রসারের চেষ্টা করা হবে।” রাজধানীর পূর্বাঞ্চলে ১৬০ একর জায়গার উপর বিশ্বমানের ‘ক্রিয়েটিভ হাব’ স্থাপন করা হবে। এটি সম্পূর্ণ নতুন ধরনের চিন্তাভাবনা এবং এসব জিনিস আমাদের অর্থনীতিকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাবে।

এসএসই খাতের বিকাশে শর্তে ঋণ বিতরণ, প্রবাসী কার্ড প্রদান, হাইটেক পার্ক প্রভৃতি খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, গ্রামীণ সড়ক সংরক্ষণে নারীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, “এভাবে প্রতিটি ক্ষেত্রে দেখবেন যে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং আপনার বিনিয়োগ বৃদ্ধির ব্যাপারটা এখানে প্রধান হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ করতে আইনের সংস্কার ও সহজীকরণের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এর ফলে যারা বিদেশ থেকে বিনিয়োগ করতে আসবেন তারাও উপকৃত হবেন। যারা দেশে বিনিয়োগ করবেন তারা উপকৃত হবেন।”

শিক্ষাখাতে জিডিপির ২ শতাংশ বৃদ্ধি, স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির ১ দশমিক ১ এ উন্নীত করার এই দুই খাতে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে বলে মনে করেন মির্জা ফখরুল। বাজেটে মূল্যস্ফীতি রোধে ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “উৎপাদন বৃদ্ধি পেলে মূল্যস্ফীতি এমনিতেই কমে আসবে।”

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্টকে এবার ৩০ বছরের কারাদণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১২ই জুন, ২০২৬ ইং

১২:০৫ পি.এম


দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্টকে এবার ৩০ বছরের কারাদণ্ড

উত্তর কোরিয়ায় ড্রোন অভিযানের নির্দেশ দিয়ে উত্তেজনা বাড়ানোর অভিযোগে দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন সিউলের একটি আদালত।

শুক্রবার (১২ জুন) আদালত ইউন সুক ইওলকে এই দণ্ডাদেশ দেন।

আদালতের রায়ে বলা হয়, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সামরিক আইন জারি করার জন্য অনুকূল পরিস্থিতি তৈরির উদ্দেশ্যে ইউন সুক ইওল আন্তঃকোরীয় উত্তেজনা বাড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন। আর এই লক্ষ্যেই তিনি ওই সময়ে উত্তর কোরিয়ায় ড্রোন অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদ সংস্থা ইয়োনহাপের প্রতিবেদনে দেখা যায়, আদালত মনে করেন যে নিরাপত্তার উদ্বেগ বৃদ্ধি এবং সামরিক আইন জারির যৌক্তিকতা প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে এসব ড্রোন অভিযান পরিচালিত হয়েছিল।

প্রসিকিউটররা অভিযোগপত্রে বলেন, ইউন সুক ইওল উত্তর কোরিয়াকে উসকানি দিতে এবং পিয়ংইয়ংয়ের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়াকে কাজে লাগিয়ে দেশে সামরিক আইন জারির পক্ষে যুক্তি শক্তিশালী করার জন্য ড্রোন অভিযানের অনুমোদন দিয়েছিলেন।

এরআগে, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ব্যর্থ সামরিক আইন জারির প্রচেষ্টার মাধ্যমে বিদ্রোহে নেতৃত্ব দেওয়ার দায়ে ইউনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। তার ঘোষিত সেই সামরিক আইন কয়েক ঘণ্টার মধ্যে জাতীয় পরিষদের ভোটে বাতিল হয়ে যায়।

সামরিক আইন জারির চেষ্টা, তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ এবং ২০২৩ সালে এক মেরিন কর্মকর্তার মৃত্যুর মতো ঘটনা নিয়ে বর্তমানে মোট আটটি মামলায় ফেঁসে আছেন দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জেন্ডার-সংবেদনশীল পুলিশি পরিষেবা জোরদারে রংপুরে বিপিডব্লিউএনের কর্মশালা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১২ই জুন, ২০২৬ ইং

১২:১৪ পি.এম


জেন্ডার-সংবেদনশীল পুলিশি পরিষেবা জোরদারে রংপুরে বিপিডব্লিউএনের কর্মশালা

জেন্ডার-সংবেদনশীল পুলিশি ব্যবস্থা ও সহায়তা পরিষেবা জোরদারে বাংলাদেশ পুলিশ উইমেন নেটওয়ার্ক (বিপিডব্লিউএন) এক কর্মশালার আয়োজন করেছে।

দেশব্যাপী চলমান কর্মসূচীর অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার রংপুরে এই কনসাল্টেশন কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়।

জেলা পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারে ‘বিপিডব্লিউএন কৌশলগত পরিকল্পনা ২০২৪-২০২৭ বাস্তবায়ন’-এর আওতায় এ আয়োজন করা হয়।

দিনব্যাপী কর্মশালায় রংপুর বিভাগ ও রেঞ্জের ৭৮ জন পুলিশ কর্মকর্তা এবং ঊর্ধ্বতন নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।

কর্মশালায় বিপিডব্লিউএন ও এর কৌশলগত পরিকল্পনার (২০২৪-২০২৭) সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করেন ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (এমটি এবং কর্মশালা) এবং বিপিডব্লিউএন’-এর সহ সভাপতি শামসুন্নাহার।

কর্মক্ষেত্রে জেন্ডার রেসপনসিভ পুলিশিং ও যৌন হয়রানি প্রতিরোধ বিষয়ে সেশন পরিচালনা করেন ইউএন-এর উইমেন প্রতিনিধি সাদিয়া তাসনীম।

প্রযুক্তিনির্ভর জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা (টিএফজিবিভি) ও ডিজিটাল নিরাপত্তা বিষয়ে সেশন পরিচালনা করেন ঢাকাস্থ পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ইউএন অপারেশনস) ফাতেমা-তুজ-জোহরা।

পুলিশ সদস্যদের মানসিক চাপ ব্যবস্থাপনা ও মানসিক সুস্থতা নিয়ে সেশন পরিচালনা করেন পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফরিদা পারভীন।

তারা বিপিডব্লিউএন কৌশলগত পরিকল্পনার মূল ক্ষেত্রগুলো, কর্মজীবনের ভারসাম্য বজায় রাখার উপায়, ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং প্রযুক্তি-সহায়তায় জেন্ডার-ভিত্তিক সহিংসতা মোকাবিলার উপায় নিয়ে বিষয়ভিত্তিক আলোচনা করেন।

ইউএন উইমেন প্রতিনিধি সাদিয়া তাসনীম কর্মশালায় জেন্ডার-সংবেদনশীল পুলিশি কার্যক্রম এবং কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি প্রতিরোধের পদক্ষেপগুলো তুলে ধরেন।

কর্মশালায় রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আমিনুল ইসলাম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

তিনি বলেন, দক্ষতা, যোগ্যতা ও আত্মবিশ্বাসের মাধ্যমে নারী পুলিশ সদস্যদের নিজেদের এমনভাবে প্রস্তুত করতে হবে যাতে তারা যথাযথ দায়িত্ব পালন ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পারেন।

তিনি আরও বলেন, কর্মক্ষেত্রে নারী পুলিশ সদস্যরা একই প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন এবং একই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। তাই দায়িত্ব পালনে তাদের সক্ষমতা প্রমাণের জন্য প্রয়োজন কেবল সাহস ও আত্মবিশ্বাস।

তিনি তার বক্তব্যে পুরুষের পাশাপাশি  নারীদের পরস্পরের প্রতি সহানুভূতিশীল থাকার পরামর্শ দেন।

এসময় তিনি কর্মক্ষেত্রে নারীবান্ধব পরিবেশ তৈরির ক্ষেত্রে পুরুষ সহকর্মীদের উৎসাহিত করেন।

কর্মশালায় গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার আবদুল মাবুদ।

তিনি তার বক্তব্যে নারীদের উপযোগী কর্মপরিবেশ নিশ্চিতের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

বিপিডব্লিউএন-এর সহসভাপতি শামসুন্নাহার বলেন, ‘বিপিডব্লিউএন আন্তর্জাতিক সর্বোত্তম অনুশীলনের আলোকে নারী পুলিশ সদস্যদের জন্য নিরাপদ ও সহায়ক কর্মপরিবেশ নিশ্চিতকরণে এবং তাদের কার্যকর অংশগ্রহণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করছে।’

তিনি আরও বলেন, উক্ত উদ্দেশ্যে নারী সদস্যদের দক্ষতা, নেতৃত্ব ও পেশাগত সক্ষমতা উন্নয়নে তারা একটি নেটওয়ার্ক হিসেবে সম্মিলিতভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

ইউএন উইমেন এবং বিপিডব্লিউএন নারী পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা তৈরি এবং পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে যৌথভাবে কাজ করে আসছে। যার মধ্যে বাংলাদেশে নারী ও মেয়েদের জন্য জেন্ডার-সংবেদনশীল পুলিশিং এবং ভুক্তভোগী-কেন্দ্রিক জেন্ডার-ভিত্তিক সহিংসতা (জিবিভি) সেবা শক্তিশালীকরণ অন্তর্ভুক্ত।

ইউএন উইমেন প্রতিনিধি সাদিয়া তাসনীম বলেন, আমাদের নিজেদের অবচেতন মনে কাজ করা বৈষম্যমূলক মনোভাব দূর করা এবং সারভাইভার-কেন্দ্রিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা নারীদের জন্য উপযুক্ত কর্মপরিবেশ নিশ্চিতে সহায়ক।

তিনি আরও বলেন, বিপিডব্লিউএন-এর লক্ষ্য ও করণীয় সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা অর্জন এবং নিজেদের ও সেবাগ্রহীতা জনগোষ্ঠীর কল্যাণে কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করার জন্য এ ধরণের মতবিনিময় কর্মশালা চমৎকার মাধ্যম।

কর্মশালায় উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তারা জেন্ডার-রেসপনসিভ পুলিশিং, যৌন হয়রানি, সাইবার নিরাপত্তা, মানসিক স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া, এবং প্রতিকারের বিষয়গুলো নিয়ে মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন।

উল্লেখ্য, ইউএন উইমেন দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ পুলিশ ও বিপিডব্লিউএন-এর সঙ্গে কাজ করছে।

বর্তমানে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে ইউএন উইমেনের বাংলাদেশে চলমান ‘এন্ডিং সেক্সুয়াল অ্যান্ড জেন্ডার-বেসড ভায়োলেন্স ইন পাবলিক স্পেসেস, ওয়ার্কপ্লেসেস অ্যান্ড ইন টারশিয়ারি এডুকেশনাল ইনস্টিটিউশনস ইন বাংলাদেশ (ইএসজিবিভি)’ প্রকল্পে বাংলাদেশ পুলিশ ও বিপিডব্লিউএন অন্যতম প্রধান অংশীদার হিসেবে যুক্ত রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চার বছরে তাপপ্রবাহে ইউরোপে ২ লাখেরও বেশি মৃত্যু, সতর্কতা দিয়েছে ডব্লিউএইচও

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১২ই জুন, ২০২৬ ইং

১২:১৬ পি.এম


চার বছরে তাপপ্রবাহে ইউরোপে ২ লাখেরও বেশি মৃত্যু, সতর্কতা দিয়েছে ডব্লিউএইচও

গত চার বছরে ইউরোপজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহে ২ লাখেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে। সংস্থাটির মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এখন তাপপ্রবাহ দ্রুত একটি বড় জনস্বাস্থ্য সংকটে পরিণত হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বার্লিনে প্রকাশিত ‘তাপ-স্বাস্থ্য কর্মপরিকল্পনা নির্দেশিকা’-এ ডব্লিউএইচওর আঞ্চলিক পরিচালক ড. হান্স ক্লুগে বলেন, এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় এখনই সমন্বিত ও শক্তিশালী নীতিগত পদক্ষেপ প্রয়োজন। না হলে তাপজনিত মৃত্যু আরও বাড়তে পারে।

ডব্লিউএইচওর নতুন নির্দেশিকায় সরকারগুলোর জন্য বেশ কিছু সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে তাপপ্রবাহের আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা তৈরি করা, শহরগুলোতে শীতলীকরণ কেন্দ্র স্থাপন করা, নগর এলাকায় গাছের সংখ্যা ও সবুজায়ন বৃদ্ধি করা এবং বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।

সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, ব্যক্তিগত পর্যায়ের সচেতনতা- যেমন পর্যাপ্ত পানি পান করা, ছায়ায় থাকা বা রোদ এড়িয়ে চলা গুরুত্বপূর্ণ। তবে একা এই পদক্ষেপগুলো যথেষ্ট নয়। এই সংকট মোকাবিলায় রাষ্ট্রীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে বড় ধরনের কাঠামোগত উদ্যোগ প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউরোপ বর্তমানে বিশ্বের অন্যান্য মহাদেশের তুলনায় দ্রুত উষ্ণ হয়ে উঠছে। এর ফলে বয়স্ক মানুষ এবং আগে থেকেই স্বাস্থ্য সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। ডব্লিউএইচও এই পরিস্থিতিকে দীর্ঘমেয়াদে আরও ভয়াবহ জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির ইঙ্গিত হিসেবে দেখছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%