প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা নতুন একটি রূপ নিয়ে বর্তমান। শুক্রবার, জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) একটি বিশেষ স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম সামা টিভি অনলাইনে প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, আইআরজিসির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তাদের সশস্ত্র বাহিনী মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। একইসাথে, কৌশলগত দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে চলাচলরত তিনটি তেলবাহী ট্যাংকার আটকে দেওয়ার দাবি তারা করেছে, যেটি আগাম সতর্কবার্তা উপেক্ষা করার ফলাফল।
অন্যদিকে, জর্ডানের সশস্ত্র বাহিনী জানায়, ইরান থেকে ছোড়া পাঁচটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে ভূপাতিত করেছে। বুধবার (২৯ জুলাই) ভোরে এসব ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করা হয়েছে বলেও জানা গেছে, তবে সেগুলোর নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু কিংবা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ হয়নি।
ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের যৌথ বিমান হামলার কয়েক ঘণ্টা পরই এই সামরিক প্রতিক্রিয়া এসেছে তেহরানের।
হুমকি নিরসনের জন্য ওয়াশিংটন ও রিয়াদ জানায়, পূর্ব ইরাকে ইরান ঘনিষ্ঠ গোষ্ঠীগুলোর ব্যবহৃত একাধিক গোপন আস্তানায় অভিযান পরিচালিত হয়েছে। তাদের দাবি, এসব স্থানে সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোয় ড্রোন হামলা চালানোর প্রস্তুতি ছিল।
সৌদি আরব জানায়, তাদের পূর্বাঞ্চলীয় তেল স্থাপনা লক্ষ্য করে আসা বেশ কিছু ড্রোন তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দ্বারা ধ্বংস করা হয়েছে। এসব হামলার জন্য তারা ইরাকভিত্তিক ইরান সমর্থিত মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এবং সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, অঞ্চলে নতুন করে হামলা প্রতিহত করতে এবং স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এই সীমিত সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে।
ইরাকের আধা-সামরিক বাহিনী পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস (পিএমএফ) যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের এই যৌথ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তারা একে ইরাকের সার্বভৌমত্বের চরম লঙ্ঘন এবং নতুন করে যুদ্ধ উসকে দেওয়ার পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছে।
পিএমএফের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই হামলায় তাদের বেশ কয়েকটি প্রধান কার্যালয় ধ্বংস হয়েছে এবং এতে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
যদিও ইরান সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় হামলার সঙ্গে কোনো ধরনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তেহরানের পক্ষ থেকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, আঞ্চলিক পরিস্থিতির জন্য ভিত্তিহীনভাবে ইরানকে দায়ী করা গেলে তা হবে একটি বৃহৎ 'ভুল হিসাব' এবং এর ফলস্বরূপ পুরো অঞ্চলের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন