ঢাকা রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কুয়েতের আকাশসীমা সাময়িক বন্ধ ঘোষণা


কুয়েতের আকাশসীমা সাময়িক বন্ধ ঘোষণা

কুয়েত সাময়িকভাবে তাদের আকাশসীমা বন্ধ ঘোষণা করেছে।

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় সতর্কতার অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) ভোরে আকাশসীমা বন্ধ করার এই পদক্ষেপ কার্যকর হয়।

গালফ নিউজের একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

আরও পড়ুন: এইচএসসি পরীক্ষার ফল ২৯ অক্টোবর প্রকাশিত হবে

কুয়েতের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (ডিজিসিএ) জানিয়েছে, বিমান চলাচল ও যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ৫০ মিনিট থেকে আকাশসীমা বন্ধ রয়েছে। একইসঙ্গে কুয়েতগামী বিভিন্ন ফ্লাইটকে বিকল্প বিমানবন্দরে অবতরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গণমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কুয়েত সরকার তাদের দেশের ওপর ‘ইরানি আগ্রাসন’ চালানোর দাবি জানানোর পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

এই পরিস্থিতির কারণে অঞ্চলের বেসামরিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

ডিজিসিএ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এবং সম্ভাব্য হুমকি দূর হলে আকাশসীমা পুনরায় খুলে দেওয়া হবে এবং স্বাভাবিক ফ্লাইট চলাচল শুরু করা হবে।

আরও পড়ুন: বায়তুল মোকাররমে মিছিলের প্রস্তুতিকালে ১৯ নেতা গ্রেফতার

কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, পূর্বনির্ধারিত চুক্তি এবং নিয়মতান্ত্রিক পরিচালনা পদ্ধতি মেনেই ফ্লাইটগুলোকে অন্য রুটে ডাইভার্ট (দিক পরিবর্তন) করা হচ্ছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যাত্রী ও বিমান সংস্থাগুলোকে ডিজিসিএ-এর পক্ষ থেকে দেয়া অফিসিয়াল আপডেট অনুসরণ করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে এবং বিমান ভ্রমণ সংক্রান্ত সব ধরনের নির্দেশনা ও গাইডলাইন মেনে চলার আহ্বান করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ইরানের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন দফা হামলার জবাবে ওই অঞ্চলে মোতায়েন করা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে তেহরানের পাল্টা হামলার পর উপসাগরীয় অঞ্চলে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এরই ধারাবাহিকতায় কুয়েত তাদের আকাশসীমা বন্ধের এই জরুরি সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আরও পড়ুন: কপ৩১ সম্মেলনে বাংলাদেশের শক্তিশালী অবস্থানের আহ্বান শামা ওবায়েদের

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নোয়াখালীতে ১১ মামলার আসামি বুলেট ফারুক গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ ইং

১০:৩৯ এম


নোয়াখালীতে ১১ মামলার আসামি বুলেট ফারুক গ্রেপ্তার

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ-সেনবাগ উপজেলায় ৯ হাজার ৩১০ পিস ইয়াবাসহ একজন শীর্ষ মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় তার কাছ থেকে নগদ ১ lakh ৩০ হাজার টাকা, একটি রয়েল এনফিল্ড মোটরসাইকেল এবং দুটি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়।

বুধবার সন্ধ্যায়, বেগমগঞ্জ উপজেলার জমিদারহাট পূর্ব বাজার এলাকার ফেনী-চৌমুহনী মহাসড়কে ডিএনসি-র‍্যাবের যৌথ অভিযানের মাধ্যমে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত বুলেট ফারুক (৪৪) হচ্ছে রসুলপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত আব্দুল খালেকের ছেলে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, নোয়াখালীর তালিকাভুক্ত শীর্ষ মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এর ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে জমিদারহাট পূর্ব বাজারের ফেনী থেকে চৌমুহনী মহাসড়ক থেকে বুলেট ফারুককে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরে তার কোমর থেকে ৫ হাজার ৩১০ পিস ও মোটরসাইকেলের টুলবক্স থেকে আরো ৪ হাজার পিসসহ মোট ৯ হাজার ৩১০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা, একটি রয়েল এনফিল্ড মোটরসাইকেল ও দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।

সূত্রে আরও জানানো হয়েছে, বুলেট ফারুক নোয়াখালীর সেনবাগ, বেগমগঞ্জ ও ফেনীর দাগনভূঞা এলাকার শীর্ষ মাদক কারবারি হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে নোয়াখালীর সেনবাগ ও বেগমগঞ্জ, চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড ও সিএমপির ডবলমুরিং এবং ফেনীর দাগনভূঞা থানায় অস্ত্র মামলাসহ মোট ১১টি মাদক মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি জানিয়েছেন, নিজস্ব মোটরসাইকেল ব্যবহার করে প্রতি সপ্তাহে ২-৩ বার চট্টগ্রাম থেকে ইয়াবা এনে নোয়াখালীতে পৌঁছে দিতেন তিনি। বেগমগঞ্জ এলাকার লতিফপুর, হাজীপুর, রসুলপুর, জমিদারহাট, সেনবাগ উপজেলার সেবারহাট, ছবির মুন্সিরহাট, কাবিলপুর এবং দাগনভূঞা উপজেলায় ইয়াবা সরবরাহ করতেন। নোয়াখালীতে তার অধীনে ৩টি খুচরা সিন্ডিকেট রয়েছে বলেও জানা গেছে।

এর আগে, ২০২৫ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর ডিএনসির নোয়াখালী জেলা কার্যালয় ফেনীর দাগনভূঞা এলাকা থেকে তাকে ১১ হাজার পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে তিনি ওই বছরের ডিসেম্বর মাসে জামিনে মুক্ত হয়ে পুনরায় মাদক কারবারিতে জড়িয়ে পড়েন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, নোয়াখালী জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক সুব্রত সরকার শুভ জানানো হয়েছে, এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। জেলার তালিকাভুক্ত শীর্ষ মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং মাদক নির্মূলে ডিএনসি কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া টি-টোয়েন্টি সিরিজ বাতিল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ ইং

১০:৪১ এম


বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া টি-টোয়েন্টি সিরিজ বাতিল

বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া টি-টোয়েন্টি সিরিজ বাতিল হয়েছে। ক্রীড়া ডেস্কের খবর অনুসারে, ১১ জুন, ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত এই খবরের মধ্যে বলা হয়েছে যে, ২০২৭ নারী চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সূচি পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশ নারী দলের অস্ট্রেলিয়া সফরে প্রভাব পড়েছে। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ) পূর্বনির্ধারিত তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ বাতিল করেছে। তবে ওয়ানডে সিরিজ অপরিবর্তিত আছে।

বাংলাদেশ নারী দলের অস্ট্রেলিয়া সফরে আগামী অক্টোবরে তিনটি ওয়ানডে এবং তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলার কথা ছিল। তবে নতুন সূচি অনুযায়ী শুধু ওয়ানডে সিরিজ অনুষ্ঠিত হবে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) সম্প্রতি ২০২৭ নারী চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সময়সূচি জুন-জুলাই থেকে পরিবর্তন করে ফেব্রুয়ারিতে নিয়ে এসেছে। এই টুর্নামেন্ট শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত হবে এবং নতুন সময়সূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে অস্ট্রেলিয়া তাদের আন্তর্জাতিক সূচিতে পরিবর্তন এনেছে।

বাংলাদেশের বিপক্ষে নির্ধারিত টি-টোয়েন্টি সিরিজের জায়গায় অস্ট্রেলিয়া অক্টোবরে নিউজিল্যান্ড নারী দলের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ আয়োজন করবে। পরে মার্চে নিউজিল্যান্ড আবার ওয়ানডে সিরিজ খেলতে অস্ট্রেলিয়ায় ফিরে আসবে। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার সূচি ও ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান পিটার রোচ জানিয়েছেন, চ্যাম্পিয়নস ট্রফির নতুন সূচির পর দলে এবং দর্শকদের জন্য সর্বোত্তম সমাধান বের করতেই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের সহযোগিতার প্রশংসাও করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আরও কমলো ‍রুপার দাম, ভরি কত?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ ইং

১০:৪৪ এম


আরও কমলো ‍রুপার দাম, ভরি কত?

দেশের বাজারে স্বর্ণের সঙ্গে রুপার দাম এক দফা কমানো হয়েছে। এবার ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৫৮ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ৮৪১ টাকা।

বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। নতুন এই দাম আজ সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি রুপার (পিওর সিলভার) মূল্য কমেছে। এই কারণে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রুপার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন দাম অনুযায়ী, প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের রুপার দাম ৪ হাজার ৮৪১ টাকা হবে। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৬০৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ৯৬৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ২ হাজার ৯৭৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর আগে, গত ১০ জুন রুপার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। সে সময় ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৮৯৯ টাকা ছিল, যা ৩৫০ টাকা কমানো হয়েছিল।

এছাড়াও ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৬৬৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ২৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৩৩ টাকা নির্ধারিত হয়েছিল। এই দামও কার্যকর হয়েছিল সেদিন সকাল ১০টা থেকেই।

চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ৪৪ দফা রুপার দাম সমন্বয় করা হয়েছে। যেখানে ২২ দফা দাম বাড়ানো হয়েছে এবং বাকি ২২ দফায় দাম কমানো হয়েছে। ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ১৩ বার রুপার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল, এসময় ১০ বার দাম বেড়েছিল এবং মাত্র ৩ বার কমেছিল।

এদিকে, বাজুস ভরিতে ৪ হাজার ৪৩২ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ১৮ হাজার ৩৫০ টাকা নির্ধারণ করেছে। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৮ হাজার ৪৩৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৭৮ হাজার ৬৯২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৪৫ হাজার ৫০৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ৭৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। যেখানে দাম ৩৭ দফা বাড়ানো হয়েছে এবং ৩৬ দফা কমানো হয়েছে। গত ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল, যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল এবং কমানো হয়েছিল ২৯ বার।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

উপকূলে মাছ চাষে বড় ধস, পুঁজি হারিয়ে দিশেহারা ১৪ হাজার চাষি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ ইং

১০:৪৬ এম


উপকূলে মাছ চাষে বড় ধস, পুঁজি হারিয়ে দিশেহারা ১৪ হাজার চাষি

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মোংলা উপকূলীয় অঞ্চলে মাছ চাষে বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে।

চৈত্র-বৈশাখে টানা অনাবৃষ্টির কারণে, তীব্র তাপদাহ ও ঘেরের পানিতে মাত্রাতিরিক্ত লবণ ছড়িয়ে পড়ায় মাছে ক্ষত দেখা দিচ্ছে।

প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার বাগদা চিংড়িসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ মারা ভেসে উঠছে।

আর এনজিও কিংবা ব্যাংক থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে প্রায় ১৪ হাজার চাষি পুঁজি হারিয়ে নিঃস্ব হওয়ার পথে রয়েছেন।

মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, অপরিকল্পিত চাষের কারণে প্রতিবছর এমন ঘটনা ঘটে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ভৌগলিক কারণে মোংলা উপজেলার মাটি ও পানি অতিরিক্ত লবণাক্ত।

ফলে এখানে ধान কিংবা অন্য কোনো কৃষিজ ফসল বুনতে পারে না।

জীবনের তাগিদে এই উপজেলার মানুষের একমাত্র ভরসা হচ্ছে মৎস্য চাষ।

স্থানীয় মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মোংলা উপজেলার প্রায় ২০ হাজার হেক্টর জমিতে মোট ১৩ হাজার ৭৬৮ চাষি বোদ্ধা, গলদা ও অন্যান্য প্রজাতির মাছ চাষ করে।

এর মধ্যে বাগদা চাষি ৬ হাজার ৭০ জন, গলদা চাষি এক হাজার ৮৫০ জন, সরকারি ক্লাস্টার চাষি ১০০ জন এবং ছোট পুকুর ও সাদা মাছ চাষির সংখ্যা ৫ হাজার ৭৪৮ জন।

মাঠ পর্যায়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত কয়েক মাস ধরে পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় ঘেরের পানির গভীরতা মারাত্মকভাবে কমে গেছে।

দুপুরের তীব্র রোদে ঘেরের পানি অতিরিক্ত গরম হয়ে বিষাক্ত গ্যাস তৈরি হচ্ছে।

ভুক্তভোগী মৎস্য চাষিরা জানিয়েছেন, ব্যাংক এবং বিভিন্ন এনজিও থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে তারা ঘেরে পোনা ছেড়েছিলেন।

কিন্তু অনাবৃষ্টি এবং গরমে পানি শুকিয়ে মাছ লাল হয়ে মারা ভেসে উঠছে।

ধারদেনা শোধ ও পরিবারের ভরণপোষণ চালানো তাদের জন্য অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে এই উপজেলায় পাঁচ হাজার ৬২১ মেট্রিক টন বাগদা ও গলদা এবং সাত হাজার ৮৮৫ মেট্রিক টন সাদা মাছ উৎপাদন হয়েছিল।

তবে তীব্র তাপদাহের কারণে এবারের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন।

মৎস্য সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, প্রতিকূল আবহাওয়ার ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে চলতি অর্থ বছরে মোংলায় মাছের সামগ্রিক উৎপাদন গত বছরের তুলনায় অন্তত তিন ভাগের এক ভাগ কমে যেতে পারে।

যা স্থানীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধস ডেকে আনবে।

এই চরম বিপর্যয় থেকে উপকূলের প্রধান অর্থনৈতিক খাতটিকে রক্ষা করতে এবং দেনার দায়ে জর্জরিত প্রান্তিক মৎস্য চাষিদের টিকিয়ে রাখতে সরকারি সহায়তার জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

মোংলায় চিংড়ি ঘের মালিকরা বলছেন, 'আমরা একবারে সর্বস্বান্ত হয়ে গেছি।'

এইবারের মতো এত গরম আর কোনো বছর দেখিনি।

চৈত্র-বৈশাখ পার হয়ে গেল, কিন্তু গরম কমার কোনো লক্ষণ নেই।

ঘেরের পানি রোদের তাপে পুরোপুরি ফুটন্ত গরম পানির মতো হয়ে যাচ্ছে।

ঘেরে নদীর পানি ঠিকমতো তুলতে পারিনি, তাছাড়া পানির গভীরতা কম হওয়ায় রোদ সরাসরি তলানিতে গিয়ে লাগছে।

তারা আরও জানালেন, গত কয়েকদিন ধরে দুপুরের পর ঘেরের পানি বিষিয়ে লালচে হয়ে যাচ্ছে।

প্রতিদিন সকালে এসে দেখা যাচ্ছে হাজার হাজার বাগদা এবং গলদা চিংড়ি মারা পানির উপরে ভেসে উঠছে।

ধার-দেনা ও ব্যাংক লোন নিয়ে আমরা এইবার ঘেরে পোনা ছাড়ছিলাম, আশা ছিল মাছ বেঁচে আগের সব ঋণ শোধ করব।

কিন্তু সামনে সব শেষ হয়ে যাচ্ছে।

তাপদাহ, পানিতে লবণ ও ভাইরাসের আক্রমণ—সব মিলিয়ে মাছের এই মড়ক ঠেকানোর কোনো উপায় পাচ্ছি না।

পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে, এখন পরিবার নিয়ে কীভাবে বাঁচব, তা ভাবতে গিয়ে রাতে ঘুম আসে না।

সরকারি কোনো বড় সহায়তা বা প্রণোদনা পেলে আমাদের মতো ছোট ঘের মালিকদের না খেয়ে রাস্তায় বসার ছাড়া আর কোনো পথ থাকবে না।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, মোংলা তথা উপকূলীয় অঞ্চলে চিংড়ি চাষ আমাদের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।

কিন্তু এখানকার অধিকাংশ চাষি এখনও সনাতন ও অপরিকল্পিত পদ্ধতিতে চিংড়ি চাষ করছেন।

অনেকেই ঘেরে কোনো ধরনের সম্পূরক খাবার না দিয়ে কেবল প্রাকৃতিক খাবারের ওপর নির্ভর করে মাছ ছেড়ে রাখেন।

খাবারবিহীন এই চাষ পদ্ধতি চিংড়ির রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা একদম কমাতে পারে।

যার ফলে জলবায়ুর সামান্য পরিবর্তনেও ঘেরে মড়ক দেখা দেয়।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আরও জানান, আমরা চাষিদের বারবার অনুরোধ করছি—আপনারা এই সনাতন ও ঝুঁকিপূর্ণ পদ্ধতি পরিহার করুন।

ঘেরের গভীরতা কমপক্ষে ৩ থেকে ৪ ফুট করুন, সঠিক নিয়মে সুষম ও মানসম্মত মৎস্য খাদ্য প্রয়োগ করুন।

পোনা ছাড়ার আগে অবশ্যই পিসিআর ল্যাব টেস্টের মাধ্যমে ভাইরাসমুক্ত পোনা নিশ্চিত করতে পারলে ঘেরে মাছ চাষ করে লাভবান হওয়া সম্ভব।

তিনি বলেন, 'আমরা নিয়মিত চাষিদের কারিগরি প্রশিক্ষণ ও আধুনিক চাষের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি।'

চাষিরা সচেতন না হলে এবং অপরিকল্পিত চাষ বন্ধ না করলে জলবায়ু পরিবর্তনের এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে চিংড়ি শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখা কঠিন হবে।

আমাদের মাঠ পর্যায়ের পরিদর্শনে দেখা গেছে, অপরিকল্পিতভাবে ঘেরের আয়তন বিশাল করা হলেও, সেগুলোর পানির গভীরতা মাত্র এক থেকে ১.৫ ফুট।

তীব্র তাপদাহে এই অল্প পানি দ্রুত ফুটন্ত গরম হয়ে যায় এবং অক্সিজেন সংকটে মাছ মারা যায়।

অনেক চাষি বেশি লাভের আশায় শতাংশ প্রতি নির্ধারিত ঘনত্বের চেয়ে অতিরিক্ত পোনা ছাড়েন, যা এই বিপর্যয়কে আরও বাড়িয়ে তোলে।

চলতি অর্থ বছরে মোংলায় ১৩ হাজার ৭৬৮ জন মৎস্য চাষির মধ্যে মাত্র ৬০ জনকে সরকারিভাবে মাছ চাষের ওপর প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৬
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%