ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

১১ জুন বাজেট পেশ, ১৫ জুন সম্পূরক বাজেট পাস: চিফ হুইপ


১১ জুন বাজেট পেশ, ১৫ জুন সম্পূরক বাজেট পাস: চিফ হুইপ

চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি জানিয়েছেন যে, আগামী ১১ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট পেশ করা হবে এবং ১৫ জুন বিকেলে সম্পূরক বাজেট পাস হবে।

শনিবার সন্ধ্যায় সংসদীয় দলের সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি আরো বলেন, ১৬ জুন থেকে বাজেট আলোচনা শুরু হবে। সেদিন থেকে সংসদ অধিবেশন সকাল-বিকাল চলতে পারে। ৩০ জুনের মধ্যে বাজেট পাস করতেই হবে, এরপর রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের জন্য পাঠানো হবে। বাজেটের গেজেট রাত ১২টার আগেই প্রকাশ করতে হবে।

নুরুল ইসলাম মনি বলেন, ৩০ লাখ কোটি টাকা ঘাটতি নিয়ে এ সরকার যাত্রা শুরু করেছে। তবে সরকারের আন্তরিকতা এবং চুরি না করার কারণে দেশে একটি স্বাভাবিক পরিস্থিতি বজায় আছে। সভায় চুরি-দুর্নীতি বন্ধের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে, জানান তিনি।

আরও পড়ুন: কক্সবাজারের টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে নিহত মুক্তার দাফন সম্পন্ন

চিফ হুইপ আরো জানান, সংসদীয় দলের সভায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাজের অগ্রগতি ও গত ১২০ দিনে সরকারের কার্যক্রম তুলে ধরা হয়েছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী এমন শিক্ষাব্যবস্থা চালুর নির্দেশনা দিয়েছেন, যা শিক্ষার্থীদের বাস্তবমুখী দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করবে এবং প্রকৃত অর্থে শিক্ষিত করে তুলবে। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মিড-ডে মিল চালুর নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও চিফ হুইপ বলেন, দেশে চাঁদাবাজি ও মাদকের কোনো স্থান হবে না। যে বা যারা এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দলের লোক হলেও কোনোরকম ছাড় দেওয়া হবে না। প্রধানমন্ত্রীও এ বিষয়ে একমত।

তিনি জানান, জুয়া বন্ধসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কার্যক্রম নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি নির্বাচনী এলাকায় সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন।

সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে নুরুল ইসলাম মনি বলেন, সংবিধান যুগোপযোগী করে মানুষের চাহিদা পূরণের জন্য সংশোধন প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে একটি কমিটি গঠনের চেষ্টা চলছে, বিরোধী দলও এতে অংশ নেবে বলেও তিনি বিশ্বাস করেন।

আরও পড়ুন: দেশে ধারাবাহিকভাবে বেড়েই চলেছে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা

মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংসদীয় পদ্ধতির সরকারে মন্ত্রীরা নানা কারণে পদত্যাগ করতে পারেন। দীপেন দেওয়ান স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছেন, জানান তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
পুরানা পল্টনে অধ্যক্ষ ইউনুস আহমদ

সীমান্ত সমস্যা সমাধানে সরকারকে দ্রুত উদ্যোগ নিতে হবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৬ই জুন, ২০২৬ ইং

১০:১৭ পি.এম


সীমান্ত সমস্যা সমাধানে সরকারকে দ্রুত উদ্যোগ নিতে হবে

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা ইউনুস আহমদ বলেছেন, বাংলাদেশ সীমান্তে ভারতীয়দের সাম্প্রতিক কার্যক্রম উদ্বেগজনক। তিনি মনে করেন, সীমান্ত সমস্যা সমাধানে সরকারকে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বিষয়টি উত্থাপন করা প্রয়োজন।

শনিবার ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনী ও যৌথ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেছেন। পুরানা পল্টনের আইএবি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন ইসলামী আন্দোলন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ও দলের সহকারী মহাসচিব মাওলানা আহমদ আব্দুল কাউয়ুম।

অধ্যক্ষ ইউনুস আহমদ আরও বলেন, ভারত সীমান্তে বহু মানুষকে জড়ো করছে। তারা অনেককে বাংলাদেশে পুশইন করার চেষ্টা করছে। আমাদের সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও সীমান্তবর্তী মানুষ এই কার্যক্রম প্রতিরোধের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু তিনি বলেন, যে শুধু সীমান্তে প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে তা স্থায়ী সমাধান আনবে না।

তিনি আরও জানান, সরকারকে এমন নীতিগত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে, যাতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তাদের নাগরিকদের বাংলাদেশি পরিচয়ে বাংলাদেশে পাঠানোর অপচেষ্টা থেকে বিরত থাকতে বাধ্য হয়। আটকে দেওয়া প্রয়োজন। সীমান্ত পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত কূটনৈতিক উদ্যোগ নিতে হবে এবং প্রয়োজন হলে আন্তর্জাতিক মহলেও বিষয়টি আলোচনা করতে হবে।

বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে অধ্যক্ষ ইউনুস আহমদ বলেন, বিদ্যুৎ খাতে নীতিগত দুর্বলতার দায় এখন জনগণকে বহন করতে হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে ক্যাপাসিটি চার্জের নামে রাষ্ট্রের বিপুল অর্থ লুটপাট করা হয়েছে। বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয়ের একটি বড় অংশ এই ক্যাপাসিটি চার্জের কারণেই বেড়ে গেছে।

তিনি উল্লেখ করেন, “ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের দায়ভার জনগণের ওপর চাপিয়ে সরকার পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম সমন্বয় করেছে। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছি।”

অধ্যক্ষ ইউনুস আহমদ সরকারের প্রতি দাবি জানিয়ে বলেন, “ফ্যাসিস্ট আমলে বিদ্যুৎ খাতে করা সব চুক্তি অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের সুবিধাভোগী কোম্পানিগুলোকে আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। কারণ এটি কোনো ব্যবসা ছিল না, বরং ছিল রাষ্ট্রীয় লুটপাট। এর দায় জনগণের ওপর চাপানো যাবে না।”

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সংসদ সদস্যদের জনগণের কাছে সরকারি সেবার সুফল পৌঁছানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ৬ই জুন, ২০২৬ ইং

১০:১৯ পি.এম


সংসদ সদস্যদের জনগণের কাছে সরকারি সেবার সুফল পৌঁছানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার জন্য মাঠপর্যায়ে নজরদারি অধিকতর জোরদার করা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সংস্কার অব্যাহত রাখা, যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়ন করা, বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি বজায় রাখা এবং সময়ের প্রয়োজনে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি জানিয়েছেন।

তিনি জানান, সরকারি দলের বৈঠকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের জনগণের কাছে সরকারি সেবার সুফল পৌঁছে দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন।

শনিবার (৫ জুন) সংসদ ভবনে সরকারি দলের বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। বৈঠকে শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, স্বাস্থ‌্য, যোগাযোগ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, আইন এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম তুলে ধরেন স্ব স্ব মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীরা। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাদের প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা দেন।

তিনি আরও বলেন, বৈঠকে সাতজন মন্ত্রী নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম, সমস্যা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন। শিক্ষা খাতে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে পাঠ্যক্রমকে যুগোপযোগী ও হালনাগাদ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে মিড-ডে মিল কার্যক্রম আরও বিস্তৃত ও মানসম্মত করার বিষয়েও আলোচনা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে উঠে তরুণদের কর্মসংস্থানের উপযোগী করে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন।

স্বাস্থ্য খাত নিয়ে আলোচনায় ডেঙ্গুসহ মৌসুমি রোগ মোকাবিলায় সরকারের প্রস্তুতির বিষয়টি গুরুত্ব পায়। চিফ হুইপ বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু করেছে এবং হাম ও ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। হাসপাতাল অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং নতুন হাসপাতাল স্থাপনের কাজও এরই মধ্যে এগিয়ে চলছে। স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে সরকার ধারাবাহিকভাবে পদক্ষেপ নিচ্ছে বলেও তিনি জানান।

যোগাযোগ খাত নিয়ে তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সড়ক, সেতু ও অবকাঠামো উন্নয়নের একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। ঢাকা-সিলেটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের উন্নয়নকাজ চলছে। পরিবহন টার্মিনাল, পানি উন্নয়ন এবং বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পদ্মা ব্যারেজ বাস্তবায়িত হলে কৃষি উৎপাদন ও সেচ ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলেও উল্লেক করেন।

বিদ্যুতের মূল্য সমন্বয় প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, অধিকাংশ গ্রাহকের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না করেই সীমিত পরিসরে মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট, ডলারের মূল্যবৃদ্ধি এবং আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কারণে উৎপাদন খরচ বাড়িয়েছে। এর পরেও সরকার ১ লাখ কোটি টাকার বিপুল ভর্তুকি দিয়ে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ কমানোর চেষ্টা করছে।

তিনি আরও জানান, বিদ‌্যুতের দাম বাড়ানো হলেও ৬৬ শতাংশ গ্রাহকের জন্য দাম বাড়েনি। যারা ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ‌্যুৎ ব্যবহার করেন, তাদের বাড়বে না।

আইন ও বিচার ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিচারপ্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করতে সরকার কাজ করছে। শিশু নির্যাতনসহ গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও জনগণের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। রামিসা হত‌্যাকাণ্ডটি প্রধানমন্ত্রীর কাছে খুবই স্পর্শকাতর বিষয়। এটি দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি হচ্ছে। রোববার মামলাটির রায় ঘোষণা করা হবে বলেও তিনি জানান। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম তুলে ধরে চিফ হুইপ বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দৃঢ়ভাবে বলেছেন, দেশে চাঁদাবাজ ও মাদক কারবারিদের কোনো জায়গা নেই। মাদক ও অপরাধের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং অপরাধ দমনে চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে।

চিফ হুইপ আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকায় সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প ও সেবার বাস্তব অবস্থা তদারকির নির্দেশ দিয়েছেন। কোথাও স্কুলে শিক্ষক অনুপस्थित থাকলে, হাসপাতালে সেবা ব্যাহত হলে বা সরকারি প্রকল্পের বাস্তবায়নে গাফিলতি থাকলে তা দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে এনে সমাধানের উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য শুধুমাত্র প্রকল্প গ্রহণ নয়, বরং জনগণ যাতে প্রকল্পের বাস্তব সুফল পায় তা নিশ্চিত করা।

আসন্ন বাজেট অধিবেশন প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, দেশের আর্থিক বাস্তবতা ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সরকার অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষায় কাজ করছে।

সংবিধান সংশোধন নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সময়ের প্রয়োজন অনুযায়ী সংবিধান সংশোধন করা হয় এবং বাংলাদেশেও অতীতে একাধিকবার তা হয়েছে। সংবিধানের মৌলিক কাঠামো ও মৌলিক অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো আইন টেকসই হতে পারে না। প্রয়োজনীয় সংশোধন ও সময়োপযোগী পরিবর্তনের জন্য সংসদীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

বিরোধী দলের অংশগ্রহণের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে চিফ হুইপ বলেন, জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে আলোচনা ও ঐকমত্যের ভিত্তিতেই এগিয়ে যাওয়া উচিত। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে, সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ায় সব পক্ষ গঠনমূলক ভূমিকা রাখবে।

মন্ত্রীদের কার্যক্রম নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর মূল্যায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিয়মিতভাবে প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের কাজ পর্যালোচনা করেন এবং কোথাও ত্রুটি বা দুর্বলতা থাকলে তা সংশোধনের নির্দেশ দেন। প্রশাসনের কার্যক্রম আরও জনমুখী ও কার্যকর করে জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

চিফ হুইপ আরও জানান, দেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতের সক্ষমতা বাড়াতে চীনের সহযোগিতায় নতুন হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে পাঁচটি হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে অন্তত একটি হাসপাতালের কাজ এগিয়ে গেছে এবং আরও কয়েকটি হাসপাতাল স্থাপনের বিষয়ে আলোচনা চলছে।

তিনি বলেন, এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা দেশের আরও বেশি মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। এরমধ‌্যে সর্বনিম্ন একটি হাসপাতাল নারী ও শিশুদের জন্য করার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

খরা-বন্যা-সংঘাতে ঘরছাড়া সোমালিয়ার লাখো মানুষ, তীব্র খাদ্যসংকট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৬ই জুন, ২০২৬ ইং

১০:২১ পি.এম


খরা-বন্যা-সংঘাতে ঘরছাড়া সোমালিয়ার লাখো মানুষ, তীব্র খাদ্যসংকট

সোমালিয়ায় খরা, আকস্মিক বন্যা, সংঘাত এবং আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ার ফলে একটি ভয়াবহ মানবিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে দেশটির ৬৫ লাখের অধিক মানুষ তীব্র খাদ্যসংকটের মুখোমুখি। এই সংখ্যা মোট জনগণের প্রায় এক- তৃতীয়াংশ। বিভিন্ন পরিবার জীবন রক্ষায় ঘরবাড়ি ছেড়ে রাজধানী মোগাদিশুর আশ্রয় শিবিরে চলে এলেও সেখানে তারা ক্ষুধা ও দারিদ্র্যের চক্র থেকে মুক্তি পেতে পারছে না।

দেশটির মধ্যাঞ্চলের বুরহাকাবা এলাকার বাসিন্দা জয়নাব ইব্রাহিম টানা তিন বছর ধরে খরার ছবিতে রয়েছেন। বৃষ্টি না হওয়ায় জমি শুকিয়ে যাচ্ছে, ফলে ফসল নষ্ট হচ্ছে এবং পানি ফুরিয়ে যাচ্ছে। তার গ্রামে মহামারির মতো ক্ষুধা ও রোগের বিস্তার ঘটেছে। এতে তার ১০ সন্তানের মধ্যে চারজন মারা যায়। তিনি বলছেন, "জীবন বাঁচাতে আমরা সবরকম চেষ্টা করেছি—শুকনো ঘাস বিক্রি করেছি, মাটি খুঁড়ে পানি তুলেছি। কিন্তু কিছুই অবশিষ্ট ছিল না।" একপর্যায়ে শিশাদের বাঁচাতে তাকে পালাতে হয়েছে। বর্তমানে মোগাদিশুর কাহদা এলাকার একটি শিবিরে তিনি ছয় সন্তানের সঙ্গে একটি ছোট্ট অস্থায়ী ঘরে বসবাস করছেন।

৭৭ বছর বয়সী আদান রোবেলও এমন পরিস্থিতির শিকার। দীর্ঘ খরায় তার জমির ফসল নষ্ট হয়ে যায়। এরপর গত মাসে প্রবল বৃষ্টির ফলে আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হলে তার গ্রাম ভেসে যায়। এ সময় এলাকাজুড়ে সরকারি বাহিনী ও আল-শাবাবের মধ্যে যুদ্ধ চলছিল এবং মাথার ওপরে ড্রোন ঘুরছিল।

তিনি বলেছেন, "সবকিছু হারিয়ে খাবার ও পরিষ্কার পানি না থাকা, আর চারদিক থেকে যুদ্ধের আসন্ন ভয়—এই পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়ংকর।" নিরাপত্তাহীনতা ও সাহায্যের অভাবে তাকেও গ্রাম ছেড়ে পালাতে বাধ্য হতে হয়। বর্তমানে মোগাদিশুর ১০ লাখেরও বেশি বাস্তুচ্যুত মানুষ অস্বাস্থ্যকর ও ভিড়-ভিড়ি পরিবেশে অবস্থান করছে। সেখানে পানি, চিকিৎসা এবং স্বাস্থ্যসেবার যথেষ্ট সুযোগ নেই।

সবচেয়ে বিরূপ পরিস্থিতিতে রয়েছে শিশুসমূহ। সর্বশেষ তথ্যে জানা যায়, পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রায় ১৯ লাখ শিশু তীব্র অপুষ্টিতে ভুগছে। অর্থের অভাবে প্রায় ৫০০ পুষ্টিকেন্দ্র বন্ধ হয়েছে। এর ফলে অনেক শিশু চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারছে না। আন্তর্জাতিক রেড ক্রস জানায়, গত তিন মাসে কিসমায়ো হাসপাতালে একটি বিশেষ বিভাগে ৭০০-এর বেশি শিশুকে ভর্তি করা হয়েছে, যার মধ্যে ১০ জন মারা গেছে।

এই সংকট আরও ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে কারণ আন্তর্জাতিক সহায়তা কাটছাঁট করা হয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের ফলে হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতা সৃষ্টি হওয়ায় জ্বালানি, খাদ্য এবং পরিবহন খরচ বেড়ে গেছে। এর ফলে পরিস্থিতি আরো কঠিন হয়ে পড়ছে।

জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা প্রধান টম ফ্লেচার সম্প্রতি বলেন, "জলবায়ু সংকট, সংঘাত আর বন্যা-খরা একত্রে পরিস্থিতিকে ভয়াবহ করে তুলেছে।" অর্থের অভাবে সাহায্য সংস্থাগুলোও কার্যকরভাবে কাজ করতে পারছে না। সুতরাং সোমালিয়া এখন গভীর এক সংকটে রয়েছে, যেখানে মানুষ বেঁচে থাকার জন্য প্রতিদিন সংগ্রাম করছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অবশেষে বাংলাদেশে দল পাঠাচ্ছে ভারত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শনিবার, ৬ই জুন, ২০২৬ ইং

১০:২২ পি.এম


অবশেষে বাংলাদেশে দল পাঠাচ্ছে ভারত

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। এই অবস্থার ফলস্বরূপ, বাংলাদেশিদের ভিসা বাতিল করার সঙ্গে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে দেশটি। এমনকি, আইসিসির নির্ধারিত সিরিজ এবং সাফ টুর্নামেন্টে অংশ নিতে বাংলাদেশে দল পাঠানোর বিষয়েও তারা অস্বীকৃতি জানায়।

যাহোক, গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর পরিস্থিতি বদলে গেছে। বাংলাদেশে দল পাঠাচ্ছে ভারত সরকার। ঢাকায় আগামী ১০ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া আন্তর্জাতিক হ্যান্ডবল টুর্নামেন্টে অংশ নিতে যাচ্ছে ভারত।

এটি আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ভারতের কোনো দল এই প্রথম বাংলাদেশ সফরে আসছে। পল্টনের শহীদ ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী জাতীয় হ্যান্ডবল স্টেডিয়ামে শুরু হবে পাঁচদিন ব্যাপী বয়সভিত্তিক পুরুষ আইএইচএফ (আন্তর্জাতিক হ্যান্ডবল ফেডারেশন) ট্রফি-২০২৬।

এদিকে, এর আগে ২০২৫ সালে বাংলাদেশ দলের বিপক্ষে তিনটি ওয়ানডে এবং তিনটি টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে আসার জন্য কোহলি-রোহিতদের প্রস্তুতি ছিল। তবে সরকারের কাছ থেকে অনুমতি না পাওয়ায়, এই সিরিজটি স্থগিত রাখার জন্য ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) আবেদনের মাধ্যমে জানিয়ে দেয়।

কিন্তু জাতীয় নির্বাচনের পরপরই ভারত এই সিরিজ খেলতে আগ্রহ প্রকাশ করে। নতুন সূচি অনুযায়ী, চলতি বছরের আগস্টে ঢাকা সফরে আসার পরিকল্পনা রয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট দলের।

বিসিবির প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২৮ আগস্ট ভারতীয় দল বাংলাদেশে প্রবেশ করবে। আর ওয়ানডে ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে ১, ৩ ও ৬ সেপ্টেম্বর। পরে ৯, ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে টি-টোয়েন্টি সিরিজ।

ক্রিকেটের দ্বিপাক্ষিক সিরিজের পাশাপাশি ফুটবলেও ভারত একগুয়েমি প্রদর্শন করেছে। গত বছর জুলাইয়ে ঢাকায় অনূর্ধ্ব-২০ নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু হয়েছিল, কিন্তু প্রতিবেশী দেশটি সেই টুর্নামেন্টে অংশ নিতে দল পাঠায়নি।

তবে এবারে স্বস্থির খবর হলো, ভারত হ্যান্ডবল দলকে বাংলাদেশে পাঠাচ্ছে। এ ছাড়া, নেপাল, ইয়েমেন, মালদ্বীপ, আফগানিস্তান ও বাংলাদেশের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হবে এই বয়স ভিত্তিক আন্তর্জাতিক হ্যান্ডবল টুর্নামেন্ট।

অনূর্ধ্ব-২০ বিভাগে, দলগুলোকে দুই গ্রুপে ভাগ করে খেলা হবে। ‘এ’ গ্রুপে থাকবে ভারত, নেপাল ও ইয়েমেন, এবং ‘বি’ গ্রুপে থাকবে মালদ্বীপ, আফগানিস্তান ও স্বাগতিক বাংলাদেশ। দুই গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন এবং রানার্স আপ দলগুলো নিয়ে হবে সেমিফাইনাল ম্যাচ। ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ১৪ জুন।

অনূর্ধ্ব-১৮ বিভাগের ম্যাচগুলো রাউন্ড রবিন লিগ পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হবে। সর্বাধিক পয়েন্ট অর্জনকারী দলটি চ্যাম্পিয়নের গৌরব অর্জন করবে।

বিশ্বজুড়ে হ্যান্ডবলের মানোন্নয়ন এবং তরুণ খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার সুযোগ সৃষ্টি করতে, আন্তর্জাতিক হ্যান্ডবল ফেডারেশন এশিয়া মহাদেশকে কয়েকটি ভৌগোলিক জোনে ভাগ করেছে।

আন্তর্জাতিক হ্যান্ডবল ফেডারেশনের নিয়ম অনুযায়ী, দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া নিয়ে গঠিত হয়েছে এশিয়ান জোন-২। এই জোনের অধীন বিভিন্ন টুর্নামেন্টের মধ্যে এবারের বয়স ভিত্তিক আইএইচএফ ট্রফিও অন্তর্ভুক্ত। এই জোনে চ্যাম্পিয়ন হওয়া দলটি পরবর্তীতে পুরো এশিয়া মহাদেশের মূল পর্বের কন্টিনেন্টাল ফেসে খেলার সুযোগ লাভ করবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%