১২:২৩ পি.এম
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জানিয়েছেন, বৈশ্বিক বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে, ঢাকা নির্ভরশীল গঠনমূলক সহযোগিতা করতে আগ্রহী।
শনিবার (১৩ জুন) রাজধানীর একটি হোটেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) কর্তৃক আয়োজিত ‘বাণিজ্য, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক কূটনীতিক কর্মপরিকল্পনা বিষয়ক সম্মেলন’ এবং ‘ঝুঁকি মোকাবেলায় স্থিতিশীলতার সদ্ব্যবহার’ শীর্ষক সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময়ে জ্বালানি সংকটকে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে একটি বড় বাধা বলেও মন্তব্য করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়াতে প্রথম গন্তব্য হতে চায়, যা বৈশ্বিক বিনিয়োগের জন্য একটি প্রতিযোগিতামূলক, নিরপেক্ষ এবং স্থিতিশীল পরিবেশের মাধ্যমে সম্ভব হবে।
আরও পড়ুন: দৌলতপুরে ১১ বস্তা সার আটক, দীপু ট্রেডার্সকে ২ লাখ টাকা জরিমানা
বৈশ্বিক ঝুঁকিগুলো সফলভাবে মোকাবেলা করতে অর্থনৈতিক কূটনীতির ওপর আস্থা রাখতে হবে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে শক্তিশালী অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার মাধ্যমে সরকারের লক্ষ্য বাংলাদেশের অর্থনীতিকে আরও স্থিতিশীল করা। দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করতে সরকার টেকসই, স্বচ্ছ এবং পূর্বাভাসযোগ্য নীতিগত পরিবেশ তৈরি করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ড. খলিলুর রহমান জানান, বর্তমানের বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতি ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার এই চ্যালেঞ্জিং সময়ে বাংলাদেশের বৈদেশিক নীতির মূল ভিত্তি হলো ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’। দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং সার্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার।
এসময় তিনি প্রথাগত খাতের বাইরে গিয়েই সরকার দেশের অর্থনীতিকে বহুমুখী করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-এআই, সৃজনশীল শিল্প এবং ক্রীড়া খাতের মতো উদীয়মান বৈশ্বিক ক্ষেত্রগুলোতে কার্যকর সরকারি নীতিমালা ও পৃষ্ঠপোষকতা বাড়িয়ে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে বিশ্বমঞ্চে সফলভাবে তুলে ধরতে হবে। ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ পররাষ্ট্র নীতির অধীনে জাতীয় উন্নয়ন কর্মসূচিকে সামনে রেখে সম্মেলনে বাংলাদেশের বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক কূটনীতির অগ্রাধিকারগুলো আলোচনা করা হবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই সম্মেলন গুরুত্বপূর্ণ অংশীদজনদের মধ্যে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধি নিয়ে অর্থবহ সংলাপ ও মতবিনিময়ের একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করবে। সম্মেলনে তিনটি বিষয়ভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ অধিবেশন (থিমেটিক প্লেনারি সেশন) অনুষ্ঠিত হবে।
আরও পড়ুন: দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় মাঠে সাড়ে ৩ হাজার কোস্ট গার্ড
প্রথম অধিবেশন ‘দ্য পলিসি কম্পাস’এ বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির নীতিগত দিক নিয়ে আলোচনা করা হবে। দ্বিতীয় অধিবেশন ‘ক্যাপিটাল ফর গ্রোথ’-এ বিনিয়োগ ও অর্থায়নের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হবে। তৃতীয় অধিবেশন ‘দ্য নিউ স্টেজ- এআই, ক্রিয়েটিভ ইকোনমি অ্যান্ড স্পোর্ট’-এ নতুন প্রবৃদ্ধির চালিকা শক্তি ও উদ্ভাবননির্ভর উন্নয়ন সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হবে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই সম্মেলনের লক্ষ্য হলো সরকারি সংস্থা, বেসরকারি খাত এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের মধ্যে সহযোগিতার শক্তি বাড়িয়ে বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক রূপান্তর ও টেকসই প্রবৃদ্ধির এজেন্ডাকে এগিয়ে নেয়া।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন