ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

নয়াদিল্লিতে সম্মেলন: বিজিবি-বিএসএফের মধ্যে একমতের বিষয়াদি


নয়াদিল্লিতে সম্মেলন: বিজিবি-বিএসএফের মধ্যে একমতের বিষয়াদি

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মধ্যে ৫৭তম সীমান্ত সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই সম্মেলনে হত্যাকাণ্ড, পুশ ইন এবং ভারতীয় গণমাধ্যমের বিভ্রান্তিমূলক তথ্য সংক্রান্ত উদ্বেগসহ একাধিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

শুক্রবার (১২ জুন) বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলামের স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, নয়াদিল্লিতে সোমবার (৮ জুন) থেকে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) পর্যন্ত চার দিনের জন্য ৫৭তম বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের সীমান্ত সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্মেলনে বিজিবির ১৪ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন সংস্থাটির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী। বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলে বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দের পাশাপাশি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, ভূমি জরিপ অধিদফতর, যৌথ নদী কমিশন এবং অন্যান্য সংস্থার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের রাশিয়ায় পাচার, জাতিসংঘের প্রতিবেদনে ভয়ংকর তথ্য!

অন্যদিকে, ভারতের ১২ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন বিএসএফের মহাপরিচালক প্রবীণ কুমার।

সম্মেলনে গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহের মধ্যে ছিল:

সীমান্তে হত্যা ও সহিংসতা প্রতিরোধ। সম্মেলনের সময় বিজিবির মহাপরিচালক সীমান্তে বিএসএফ সদস্যদের দ্বারা প্রাণঘাতী ও অপ্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে নিরস্ত্র এবং নিরীহ বাংলাদেশি নাগরিকদের মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি মানবাধিকার লঙ্ঘনের উদাহরণ উল্লেখ করে সীমান্ত এলাকায় হত্যার সংখ্যাকে শূন্যে নামিয়ে আনার জন্য বিএসএফ মহাপরিচালককে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।

তিনি সীমান্তে শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং স্বাভাবিক অবস্থা নিশ্চিত করতে ধারাবাহিক প্রচেষ্টা এবং কঠোর জবাবদিহিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। উভয় পক্ষই অভিমত ব্যক্ত করেছে যে, এসব বিষয় আন্তরিক, সৎ ও সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে, প্রচলিত আইন অনুসরণ করে এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি দ্বারা পরিচালিত হয়ে সমাধান করা সম্ভব। উভয় পক্ষ সম্মত হয় সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, যৌথ টহল বৃদ্ধি, সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়ানো এবং অবৈধভাবে আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রম প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণের বিষয়ে, যাতে অনুপ্রবেশ, সীমান্ত হত্যা ও হামলার ঘটনা শূন্যে নামিয়ে আনা যায়। তারা আরও একমত হয়েছে যে, নিজেদের দেশের নাগরিকদের ওপর সংঘটিত হত্যা ও হামলার ঘটনাসমূহ তদন্ত করা হবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরও পড়ুন: কম্বোডিয়ার স্ক্যাম সেন্টারে মানবপাচার চক্রের ২ সদস্য গ্রেফতার

পুশ ইন ঘটনা। বিজিবির মহাপরিচালক রোহিঙ্গা বা মায়ানমারের নাগরিকদের বাংলাদেশে সাম্প্রতিক পুশ ইন ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন, যা সীমান্ত বিষয়ক যৌথ নির্দেশিকা, সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা, পূর্ববর্তী মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠকে গৃহীত পারস্পরিক সিদ্ধান্ত এবং বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় নীতি ও প্রটোকলের পরিপন্থী। তিনি বলেন, সীমান্তে এসব পুশ ইন হওয়া ব্যক্তিদের দুর্ভোগ অত্যন্ত ব্যাপক। অনেকেই চরম দুর্দশায় রয়েছেন।

বিজিবির মহাপরিচালক পুনর্ব্যক্ত করেন, যদি কোনো ব্যক্তিকে বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে যাচাইকৃত হয় তবে তাঁকে প্রচলিত দ্বিপক্ষীয় প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দ্রুত গ্রহণ করা হবে। একই সাথে বিএসএফ মহাপরিচালক বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সব অনিষ্পন্ন জাতীয়তা যাচাইকরণ বিষয়ে দ্রুত সম্পন্ন করার আহ্বান জানান। উভয় পক্ষ দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে গৃহীত পদ্ধতি ও বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় ব্যবস্থার ভিত্তিতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে সম্মত হয়। তারা পারস্পরিক আস্থা, সহযোগিতা এবং সুপ্রতিবেশীসুলভ সম্পর্কের চেতনায় এসব প্রক্রিয়ার কার্যকর বাস্তবায়নে তাদের অভিন্ন অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

সীমান্ত নিরাপত্তা, মাদক ও চোরাচালান। বিজিবির মহাপরিচালক ভারত থেকে বাংলাদেশে হেরোইন, ফেনসিডিল, ইয়াবা, গাঁজা এবং অন্যান্য নেশাজাতীয় দ্রব্যের চোরাচালান বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং মাদক বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির উল্লেখ করেন। তিনি সীমান্ত দিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ এবং অন্যান্য অবৈধ পণ্যের চোরাচালানের বিষয়টিও তুলে ধরেন। বিজিবির মহাপরিচালক মাদক পাচার রোধে উভয় দেশের মাদক নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক মহাপরিচালকদের নিয়মিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠক আয়োজনে প্রস্তাব দেন। বিএসএফ মহাপরিচালক জানান, ভারত সরকার মাদক, নেশাজাতীয় দ্রব্য এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে। উভয় পক্ষই মাদকবিরোধী কঠোর ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির প্রতি অঙ্গীকার ব্যক্ত করে। তারা গবাদিপশু চোরাচালান প্রতিরোধের বিষয়ে একমত হয়।

অবৈধ অভিবাসন, মানবপাচার ও রোহিঙ্গা বিষয়। বাংলাদেশি নাগরিকদের অবৈধ অভিবাসন এবং রোহিঙ্গা অবৈধ অভিবাসীদের ভারতে প্রবেশ নিয়ে বিএসএফ মহাপরিচালকের উদ্বেগের জবাবে বিজিবির মহাপরিচালক দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ রোহিঙ্গা বা মিয়ানমারের নাগরিকদের তার ভূখণ্ড ব্যবহার করে ভারতে অবৈধভাবে চলাচলের অনুমতি দেয় না। উভয় পক্ষই অবৈধ আন্তঃসীমান্ত চলাচল প্রতিরোধে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে সম্মত হয়।

আরও পড়ুন: আঘাত হানল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’, বাতাসের গতি পৌঁছাল ১৫০ কিলোমিটারে

সীমান্ত বেড়া ও অবকাঠামো। বিএসএফ মহাপরিচালকের সীমান্ত বেড়া এবং সিকিউরিটি রিলেটেড কাজ সম্পর্কে বিজিবির মহাপরিচালক বলেন, নির্মিত এআরএফ প্যাচগুলোতে কিছু বিচ্যুতি লক্ষ্য করা গেছে। মহাপরিচালক বললেন, আন্তর্জাতিক সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে ভারতের পক্ষ থেকে কোন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়া আবশ্যক।

জাল মুদ্রা ও স্বর্ণ চোরাচালান। বিএসএফ মহাপরিচালককে বিজিবির মহাপরিচালক জানান, জাল ভারতীয় মুদ্রা এবং স্বর্ণ চোরাচালান উভয় দেশের জন্য ক্ষতিকর। উভয় পক্ষই আন্তঃসীমান্ত অপরাধীদের তথ্য আদান-প্রদান জোরদার করতে এবং এ ধরনের অপরাধে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে সম্মত হয়।

পার্বত্য অঞ্চলের বিচ্ছিন্নতাবাদী ও সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর কার্যক্রম। বিজিবি মহাপরিচালক ভারতের মিজোরাম রাজ্যে বিচ্ছিন্নতাবাদী ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বিএসএফ মহাপরিচালক জানান, ভারত সরকার জাতীয়তা নির্বিশেষে সকল সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে 'জিরো টলারেন্স' নীতি অনুসরণ করে।

সীমান্ত নির্ধারণ ও সীমান্ত পিলার। বিজিবির মহাপরিচালক বলেন, মুহুরী চর এলাকায় স্থায়ী সীমান্ত পিলার নির্মাণের বিষয়টি উত্থাপন করেছেন।

আরও পড়ুন: ইসরাইল নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, সরকার গঠনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অধরাই

সীমান্তবর্তী নদীর পানি ব্যবহার ও তীর সংরক্ষণ। বিজিবির মহাপরিচালক জানান, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পানি উত্তোলনের বিষয়গুলো যৌথ মনিটরিং টিমের মাধ্যমে সমাধান করা উচিত।

অননুমোদিত নির্মাণ ও সীমান্ত অবকাঠামো সংক্রান্ত বিধি-নিষেধ। বিএসএফ মহাপরিচালক জানান, বিদ্যুতের কাজ সীমান্তবর্তী ভারতীয় জনগণের নাগরিক সুবিধার জন্য করা হয়।

গণমাধ্যম প্রতিবেদন ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য সংশ্লিষ্ট উদ্বেগ। বিজিবির মহাপরিচালক বাংলাদেশ ও ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়াবলীর কিছু নির্দিষ্ট গণমাধ্যমে বিভ্রান্তিমূলক তথ্যের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।\n

সম্মেলনের শেষের দিকে উভয় মহাপরিচালক বাংলাদেশ–ভারত সীমান্তে শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং নিরাপত্তা বজায় রাখতে যৌথভাবে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

আরও পড়ুন: ইসরায়েলে পার্লামেন্ট নির্বাচনের ভোট গণনা চলছে, লিকুদ পার্টি এগিয়ে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাসিকে ওয়ার্ডভিত্তিক সেবা জোরদারের নির্দেশনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৫ই জুন, ২০২৬ ইং

০৫:৩৯ পি.এম


রাসিকে ওয়ার্ডভিত্তিক সেবা জোরদারের নির্দেশনা

রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন-এর ওয়ার্ড সচিব এসোসিয়েশনের আয়োজনে রবিবার রাতে নগরীর একটি রেস্তোরাঁর কনফারেন্স কক্ষে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোঃ মাহফুজুর রহমান রিটন।

সভায় রাসিক প্রশাসক ওয়ার্ড পর্যায়ে নাগরিক সেবা আরও জোরদারভাবে প্রদান, সেবার মান বৃদ্ধি, জনগণের দোরগোড়ায় কার্যকর সেবা পৌঁছে দেওয়া এবং জনসেবায় দায়িত্বশীলতা ও সমন্বয় বৃদ্ধির বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা প্রদান করেন। একই সঙ্গে প্রতিটি ওয়ার্ডে বৃক্ষরোপণের আহবান জানান রাসিক প্রশাসক।

মতবিনিময় সভায় রাসিক ওয়ার্ড সচিব এসোসিয়েশনের সভাপতিঃ মোঃ আহাদ আলী, সাধারণ সম্পাদক মোঃ জুবায়ের হোসেনসহ রাসিকের ৩০টি ওয়ার্ডের সচিববৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সভায় অংশগ্রহণকারী ওয়ার্ড সচিববৃন্দ নাগরিক সেবা কার্যক্রম আরও গতিশীল ও কার্যকর করতে বিভিন্ন মতামত তুলে ধরেন। এ সময় রাসিক প্রশাসক নগরবাসীর প্রত্যাশা পূরণে আন্তরিকতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করে তিনি বলেন, সমাজ ও প্রতিষ্ঠান থেকে সব ধরনের দুর্নীতি সমূলে উৎখাত করা হবে। অতীতে কারা কী ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতি করেছে, তার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ জানাতে তিনি সাধারণ মানুষ ও সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান।

এর আগে আনুষ্ঠানিকভাবে নথিতে স্বাক্ষর করে নিজের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন আবুল কালাম আজাদ সুইট। দায়িত্ব গ্রহণ উপলক্ষে আয়োজিত দোয়া ও মোনাজাত শেষে তিনি উপস্থিত অতিথি এবং অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ফুলেল শুভেচ্ছা গ্রহণ করেন। পরে তিনি আরডিএ অফিস চত্বরে একটি গাছের চারা রোপণ করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কলাপাড়ায় এক অটোচালককে অপহরণ করে ৫ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় ৩ অপহরণকারী গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কলাপাড়া(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি

সোমবার, ১৫ই জুন, ২০২৬ ইং

০৫:৩৯ পি.এম


কলাপাড়ায় এক অটোচালককে অপহরণ করে ৫ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় ৩ অপহরণকারী গ্রেপ্তার
 
পটুয়াখালীর কলাপাড়ার মহিপুরে এক অটোভ্যান চালককে অপহরণ করে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অপহৃত যুবককে উদ্ধারসহ তার ব্যবহৃত অটোভ্যান ও দুটি মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়েছে।
 
সোমবার সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এজাহার সূত্রে মহিপুরের ধুলাসার ইউনিয়নের তারিকাটা এলাকার বাসিন্দা মো. হাসানের ছেলে মো. রাফি খান (১৯) পেশায় একজন ব্যাটারিচালিত অটোভ্যান চালক। গত ১৩ জুন অভিযুক্তরা রাফির অটোভ্যান ভাড়া নিয়ে কুয়াকাটার বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরা করে এবং পরদিন আবার ঘুরবে বলে তার মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে। পরদিন ১৪ জুন সকালে অভিযুক্তরা রাফিকে কলাপাড়ার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের হাজিপুর ব্রিজ এলাকার আবুল কাশেম জামে মসজিদের সামনে আসতে বলে। সেখানে পৌঁছানোর পর তাকে জোরপূর্বক অপহরণ করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়। পরে অপহরণকারীরা রাফির পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। ছেলেকে জীবিত ফেরত পাওয়ার আশায় রাফির বাবা মো. হাসান প্রথমে ৫০ হাজার টাকা প্রদান করেন। এসময় অভিযুক্তরা বাকি টাকা না দিলে রাফিকে হত্যা করার হুমকি দেয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
 
খবর পেয়ে কলাপাড়া থানা পুলিশ রাতে অভিযান  চালিয়ে বাসস্ট্যান্ড এলাকার একটি স্থান থেকে অভিযুক্ত মো. জাহিদ প্যাদা ও মো. ইমরান গাজীকে গ্রেপ্তার করে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চাকামইয়া ইউনিয়নের নিশানবাড়িয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে অপহৃত রাফি খান, তার অটোভ্যান ও দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয় এবং অপর অভিযুক্ত মো. কোয়েল গাজীকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
 
উদ্ধারের পর রাফি খান জানান, তাকে মারধর করে আটকে রাখা হয়েছিল এবং মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে নির্যাতন করা হয়। আহত রাফি খানকে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
 
এ ঘটনায় মো. হাসান বাদী হয়ে কলাপাড়া থানায় অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন।
 
কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।     
 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভৈরবের গৌরিপুর নৌকাঘাটে যাত্রী ছাউনি নির্মাণের উদ্যোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শাহিন আলম, ভৈরব কিশোরগঞ্জ

সোমবার, ১৫ই জুন, ২০২৬ ইং

০৫:৪২ পি.এম


ভৈরবের গৌরিপুর নৌকাঘাটে যাত্রী ছাউনি নির্মাণের উদ্যোগ

কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ নদীপথ যোগাযোগ কেন্দ্র গৌরিপুর নৌকাঘাটে যাত্রীসেবার মানোন্নয়নে যাত্রী ছাউনি নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। এ লক্ষ্যে মঙ্গলবার সরেজমিনে নৌকাঘাট এলাকা পরিদর্শন করেন ভৈরব পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কে এম মামুনুর রশীদ।
পরিদর্শনকালে ইউএনও নৌকাঘাটের সার্বিক অবস্থা, যাত্রীদের চলাচলের সুবিধা-অসুবিধা এবং যাত্রী ছাউনি নির্মাণের সম্ভাব্য স্থান পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় তিনি স্থানীয় বাসিন্দা ও নৌপথ ব্যবহারকারীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের মতামত ও প্রত্যাশার বিষয়গুলোও শোনেন।
স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল গৌরিপুর নৌকাঘাটে একটি আধুনিক যাত্রী ছাউনি নির্মাণের। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যাত্রী এই নৌপথ ব্যবহার করলেও বৃষ্টি ও তীব্র রোদে অপেক্ষমাণ যাত্রীদের জন্য পর্যাপ্ত আশ্রয়ের ব্যবস্থা না থাকায় তাদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। যাত্রী ছাউনি নির্মিত হলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি অনেকাংশে কমে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন ভৈরব উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম, ভৈরব পৌরসভার সচিব ফারুক আহমেদসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা। তারা যাত্রীসেবার উন্নয়নে এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানান।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, যাত্রীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাতায়াত নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন বিভিন্ন জনবান্ধব অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। গৌরিপুর নৌকাঘাটে যাত্রী ছাউনি নির্মাণের উদ্যোগও সেই ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ।
এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে নৌপথ ব্যবহারকারী হাজারো মানুষের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হিসেবে কাজ করবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিবাহবার্ষিকীতে যমজ সন্তানদের প্রথমবার প্রকাশ্যে আনলেন রাম চরণ!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৫ই জুন, ২০২৬ ইং

০৫:৪৪ পি.এম


বিবাহবার্ষিকীতে যমজ সন্তানদের প্রথমবার প্রকাশ্যে আনলেন রাম চরণ!

সম্প্রতি মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র ‘পেডি’র সাফল্যের আনন্দের মধ্যে জীবনের আরেকটি বিশেষ মুহূর্ত উদযাপন করলেন তেলুগু সুপারস্টার রাম চরণ ও তাঁর স্ত্রী উপাসনা কোনিডেলা। ১৪ জুন তারা তাদের ১৪তম বিবাহবার্ষিকী উপলক্ষে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে আনলেন সদ্যোজাত যমজ সন্তানের ঝলক।

চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি দ্বিতীয়বারের মতো বাবা-মা হন এই তারকা দম্পতি। সে সময় তাদের ঘর আলো করে যায় এক পুত্র ও এক কন্যাসন্তান। এই পরিবারের নতুন অতিথিদের আগমনের সুখবর প্রথম জানিয়েছিলেন রাম চরণের বাবা ও কিংবদন্তি অভিনেতা চিরঞ্জীবী।

বিবাহবার্ষিকীর বিশেষ দিনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি আবেগঘন ছবি শেয়ার করেন রাম চরণ ও উপাসনা। ছবি তে তিন সন্তানের ছোট্ট ছোট্ট হাত একসঙ্গে দেখা যায়। মূলত এর মধ্য দিয়েই প্রথমবার প্রকাশ্যে আসে যমজ সন্তান শিব রাম ও অনবিরার ঝলক। একই ছবিতে দেখা যায় বড় মেয়ে ক্লারা কোনিডেলার হাতও।Ram Charan and Upasana share first glimpse of their newborn twins

ছবির ক্যাপশনে উপাসনা লিখেছেন, ‘আমার মন সত্যিই ভরে গেছে।’

এই পোস্টটি প্রকাশের পর শুভেচ্ছা ও ভালোবাসায় ভরে ওঠে মন্তব্যের ঘর। অভিনেত্রী কাজল আগরওয়াল, হুমা কুরেশিসহ বিনোদন অঙ্গনের অনেক তারকাই এই দম্পতিকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। ভক্তরাও নবজাতকদের জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন।

দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব থেকে প্রেম, এরপর ২০১১ সালের ডিসেম্বরে বাগদান এবং ২০১২ সালের জুনে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হন রাম চরণ ও উপাসনা। এর পর থেকে তারা দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্র অঙ্গনের অন্যতম জনপ্রিয় দম্পতি হিসেবে পরিচিত।

রাম চরণের ও উপাসনার বড় মেয়ে ক্লারা কোনিডেলার জন্ম ২০২৩ সালের জুন মাসে হয়। এরপর ২০২৬ সালের শুরুতে যমজ সন্তানের জন্ম দেওয়ার মাধ্যমে তাদের পরিবারে সদস্যসংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় পাঁচজনে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%