বুধবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:৫৬ এম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় মেট্রোরেলের লাইনের তারে কাপড় পড়ায় প্রায় ৪০ মিনিট বন্ধ থাকার পর স্বাভাবিক হয় মতিঝিল থেকে উত্তরা রুটে ট্রেন চলাচল। গতকাল মঙ্গলবার বিকেল ৪টা ৩৬ মিনিটের দিকে এ রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে কাপড়টি সরিয়ে লাইন ও যান্ত্রিক ব্যবস্থা পরীক্ষা শেষে বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
তবে এ সময় উত্তরা থেকে কারওয়ান বাজার পর্যন্ত মেট্রোরেল চলাচল চালু ছিল। এতে উত্তরা থেকে কারওয়ান বাজারগামী যাত্রীরা স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারলেও মতিঝিলমুখী যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েন। মেট্রোরেল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স) নজরুল ইসলাম বিষয়টি জানান। নজরুল ইসলাম জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় মেট্রোরেলের লাইনের তারে একটি কাপড় পড়ে যাওয়ার কারণে মতিঝিল থেকে উত্তরা রুটে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। কাপড়টি লাইন থেকে সরানোর পর লাইনের যান্ত্রিক বিষয়গুলো পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষা শেষে বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে উভয় দিকে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সেন্ট্রাল শরীয়াহ্ বোর্ড ফর ইসলামিক ব্যাংকস্ অব বাংলাদেশ-এর নির্বাহী কমিটির ৭৮তম সভায় বোর্ডের গঠনতন্ত্র সংশোধন, আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজন এবং গবেষণা কার্যক্রমকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গত সোমবার ঢাকার গুলশানে শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসির প্রধান কার্যালয়ের বোর্ডরুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। কমিটির চেয়ারম্যান এবং শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মোসলেহ উদ্দীন আহমেদের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন- সেন্ট্রাল শরীয়াহ্ বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন তালুকদার, ভাইস চেয়ারম্যান প্রিন্সিপাল ড. মোঃ আনোয়ার হোসাইন মোল্লা, আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রাফাত উল্লা খান, স্ট্যান্ডার্ড ইসলামী ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও রিয়াদ মাহমুদ চৌধুরী, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও (ভারপ্রাপ্ত) মো. আলতাফ হুসাইন, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবেদুর রহমান সিকদার, যমুনা ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মির্জা ইলিয়াছ উদ্দিন আহম্মেদ, এনসিসি ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম. শামসুল আরেফিন, প্রাইম ব্যাংক পিএলসির অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. নাজিম এ চৌধুরী এবং ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসির উপব্যবস্থাপনা পরিচালক কামাল হোসেন সরকার। কমিটির সদস্যসচিব ও বোর্ডের সেক্রেটারি জেনারেল (ভারপ্রাপ্ত) মুফতী মুহাম্মদ মুহিব্বুল্লাহিল বাকী আন-নাদাভী সভা পরিচালনা করেন।
সভায় বোর্ডের স্থায়ী কার্যালয় প্রতিষ্ঠা, গবেষণা জার্নালের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনসহ বিভিন্ন নীতি নির্ধারণী ও কৌশলগত বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানী ঢাকার ‘আলোক হেলথকেয়ার লিমিটেড’-এ একটি বিশেষ বৈজ্ঞানিক সেমিনার (CME) অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ ‘অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (AMR)’ মোকাবেলা এবং সঠিক রোগ নির্ণয়ের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করে। আলোক হেলথকেয়ারের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগ এবং ট্রেডসওয়ার্থ লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগে এ কর্মসূচিটি আয়োজন করা হয়।
সেমিনারটি সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে আলোক মাদার অ্যান্ড চাইল্ড কেয়ারের কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারের মূল বিষয় ছিল ‘‘Microbial Identification and AMR Detection: Improving Clinical Outcomes and Antimicrobial Use’’। মূল বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বায়োমেরিক্স (bioMérieux) ইন্ডিয়ার মেডিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড ট্রেনিং লিড জনাব হারশুল মিশ্র। তিনি তার উপস্থাপনায় উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে জীবাণু দ্রুত শনাক্তকরণ এবং নির্দিষ্ট রোগীর জন্য সঠিক অ্যান্টিবায়োটিক নির্বাচন করার পদ্ধতি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।
হারশুল মিশ্র বলেন, "ভুল অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োগ বন্ধ করতে এবং রোগীর দ্রুত আরোগ্য নিশ্চিত করতে নির্ভুল ডায়াগনস্টিক রিপোর্টের কোনো বিকল্প নেই।" সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরেণ্য মাইক্রোবায়োলজিস্ট প্রফেসর ড. মো. আবদুর রহমান এবং প্রফেসর ড. মো. হুমায়ুন কবির। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন আলোক হেলথকেয়ারের ডিরেক্টর (হসপিটাল সার্ভিসেস) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ডা. শেখ সালাহউদ্দিন।
বক্তারা সেমিনারে উল্লেখ করেন, বর্তমানে ঢালাওভাবে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের ফলে জীবাণুরা শক্তিশালী হয়ে উঠছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। চিকিৎসকদের সঠিক টেস্ট রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে প্রেসক্রিপশন করার আহ্বান জানানো হয় এই সংকট উত্তরণের জন্য। সঠিক পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায় কোন রোগীর জন্য কোন অ্যান্টিবায়োটিক কার্যকর হবে, যা ক্লিনিক্যাল চিকিৎসার মান বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
সেমিনারে বিভিন্ন বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এবং মাইক্রোবায়োলজিস্টরা অংশ নেন। প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে বক্তারা উপস্থিত চিকিৎসকদের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান দেন। সবশেষে, মূল বক্তাকে সম্মাননা স্মারক প্রদানের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গবেষণা ও প্রকাশনায় অনন্য অবদানের জন্য উত্তরা ইউনিভার্সিটির শিক্ষক ও গবেষকদের স্বীকৃতি ও সম্মাননা জানাতে বিশ্ববিদ্যালয়ে বার্ষিক গবেষণা ও প্রকাশনা পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান ২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসের মাল্টিপারপাস হলে এ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।
গবেষণা, উদ্ভাবন এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন একাডেমিক প্রকাশনার সংস্কৃতি আরও শক্তিশালী করার ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং (সিআরটি) অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে। ২০২৫ সালে ওয়েব অব সায়েন্স ও স্কোপাস-এ জায়গা করে নেয়া বেশ কয়েকটি গবেষণা প্রকাশনায় সম্মিলিত অবদানের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮২ জন শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীকে এ অনুষ্ঠানে সম্মাননা প্রদান করা হয়।
প্রকাশনা ও গবেষণার জন্য পুরস্কারপ্রাপ্তদের অর্থ দেওয়া হয়। পাশাপাশি তাদের একাডেমিক অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে দেওয়া হয় একটি করে সনদ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উত্তরা ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. ইয়াসমীন আরা লেখা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিজ্ঞানী ও আইসিসিডিআর,বি -এর সিনিয়র সায়েন্টিস্ট ড. ফিরদৌসী কাদরী।
সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইসিসিডিআর,বি -এর মানবসম্পদ উপদেষ্টা ড. মো. মোশাররফ হোসেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিআরটি-এর পরিচালক প্রফেসর ড. মো. সুলতানুল ইসলাম। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন উত্তরা ইউনিভার্সিটির কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর হাসপিয়া বশিরুল্লাহ, সিআরটি-এর সহযোগী পরিচালক ড. সালেহ আহমদ এবং সিআরটি-এর অন্যান্য নির্বাহী সদস্য। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৩০০ জন পূর্ণকালীন শিক্ষক অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে ২০২৫ সালে গবেষণা ও প্রকাশনায় অসামান্য সাফল্যের জন্য তিনটি পৃথক ক্যাটাগরিতে তিনজন গবেষককে বিশেষ পুরস্কার প্রদান করা হয়। বেস্ট হাই ইমপ্যাক্ট পাবলিকেশন অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন নূর আহাম্মদ, মোস্ট পাবলিশড পেপার অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন ড. মো. শফিউল আলম চৌধুরী এবং বেস্ট আর্লি ক্যারিয়ার রিসার্চার অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন মো. হানিফ মুন্সি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও অর্জন নিয়ে উপস্থাপনায় ড. সালেহ আহমদ উত্তরা ইউনিভার্সিটির গবেষণা ও প্রকাশনা কার্যক্রমের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি তুলে ধরেন। তিনি জানান, পূর্ববর্তী বছরগুলোর তুলনায় স্কোপাস-এ সূচিবদ্ধ গবেষণা প্রকাশনার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এ অগ্রগতি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা উৎপাদনশীলতা ও গবেষণার প্রভাব বৃদ্ধির প্রতি ক্রমবর্ধমান গুরুত্বের প্রতিফলন।
অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিজ্ঞানী ড. ফিরদৌসী কাদরী বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আরও বেশি নারী গবেষককে এগিয়ে আসার এবং অর্থবহ গবেষণায় যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান। বিশেষ করে জনস্বাস্থ্য ও জীব বিজ্ঞান বিষয়ে বিশ্বের খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমে গবেষণার সুযোগ আরও সম্প্রসারণের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
উপাচার্য তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘একাডেমিক, গবেষণা ও আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব চুক্তির মাধ্যমে উত্তরা ইউনিভার্সিটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গবেষণা সহযোগিতা আরও জোরদার করেছে। পাশাপাশি গবেষণা প্রকল্প, আন্তর্জাতিক ও জাতীয় সম্মেলনে অংশগ্রহণ এবং গবেষণা প্রকাশনায় সহায়তার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় গবেষকদের ধারাবাহিকভাবে সহযোগিতা করে যাচ্ছে। গবেষণা, উদ্ভাবন ও প্রকাশনা কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করতে বিশ্ববিদ্যালয় ভবিষ্যতে উল্লেখযোগ্যভাবে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং গবেষকদের সক্ষমতা উন্নয়ন কার্যক্রম জোরদার করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।’
অনুষ্ঠানের সভাপতি প্রফেসর ড. মো. সুলতানুল ইসলাম বলেন, ‘গবেষণাভিত্তিক একাডেমিক পরিবেশ গড়ে তোলা এবং শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীদের উচ্চমানসম্পন্ন ও প্রভাবশালী গবেষণায় উৎসাহিত করার বিষয়ে উত্তরা ইউনিভার্সিটি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’ তিনি বলেন, ‘মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় র্যাংকিংগুলোতে উত্তরা ইউনিভার্সিটির অবস্থান আরও এগিয়ে নিতে মানসম্মত ও গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার বিকল্প নেই।’ সফলভাবে অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগ ও কর্মকর্তাকে আন্তরিক সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ দেন এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ