ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

নারী কেলেঙ্কারি ও ব্যাংক কর্মকর্তা অপহরণের অভিযোগে বহিষ্কৃত এনসিপি নেতা


নারী কেলেঙ্কারি ও ব্যাংক কর্মকর্তা অপহরণের অভিযোগে বহিষ্কৃত এনসিপি নেতা

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় এবং কৃষি ব্যাংক কর্মকর্তা অপহরণ ও নির্যাতনের অভিযোগে এনসিপির বগুড়া জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত ইমরানকে সাময়িকভাবেই দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। পাশাপাশি, তার বিরুদ্ধে কেন চূড়ান্ত সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সেই বিষয়ে দুই কার্যদিবসের মধ্যে উত্তর চেয়েছে দলটির কেন্দ্রীয় কমিটি।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) এনসিপির কেন্দ্রীয় দপ্তর সেল থেকে এই নোটিশটি জারি করা হয়।

এনসিপির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্য সচিব আখতার হোসেনের নির্দেশে এই নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। নোটিশে বলা হয়েছে, শওকত ইমরানের বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলন, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং সংগঠনের আদর্শ পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে তাকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দিয়ে উত্তরাঞ্চলের কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের কাছে তথ্য-প্রমাণসহ লিখিত ব্যাখ্যা জমা দিতে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন: ইনানীতে ৪২ ঘণ্টা ধরে জ্বলছে আগুন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি

এ বিষয়ে এনসিপি বগুড়া জেলা মিডিয়া সেলের সদস্য সচিব রিগান হোসেন জানান, দলের নীতি অনুযায়ী কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তা স্বচ্ছতার ভিত্তিতে যাচাই করা হয়। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে এবং তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনার কাজ চলছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অভিযুক্ত শওকত ইমরানের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় এ বিষয়ে তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

ঘটনার সূত্রপাত হয় গত সোমবার (৩ আগস্ট)। ওইদিন শওকত ইমরানের একটি ২৭ সেকেন্ডের আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ উঠেছে, ভিডিওতে তাকে এক নারীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় দেখা যাচ্ছে। তবে ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার আগেই তার বিরুদ্ধে আরও একটি গুরুতর অভিযোগ ওঠে। গত শনিবার (১ আগস্ট) ইসলামী ব্যাংক নওগাঁ শাখার কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলামকে বগুড়া শহরের ফ্লাইওভার এলাকা থেকে জোরপূর্বক মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে শওকত ইমরানের বিরুদ্ধে। এসব ঘটনার কারণে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ায় কেন্দ্রীয় কমিটি তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নিয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ট্রাওরের জনপ্রিয়তার আড়ালে যা ঘটছে বুরকিনা ফাসোয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:৪২ এম


ট্রাওরের জনপ্রিয়তার আড়ালে যা ঘটছে বুরকিনা ফাসোয়

মাত্র ৩৮ বছর বয়সে ২০২২ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে বুরকিনা ফাসোর ক্ষমতায় আসেন ক্যাপ্টেন ইব্রাহিম ট্রাওরে। পশ্চিমা প্রভাব এবং সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে তিনি আফ্রিকার অন্যতম আলোচিত ও জনপ্রিয় নেতা হয়ে উঠেছেন। তবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তার জনপ্রিয়তা বেড়ে গেলেও, দেশের ভেতরে নিরাপত্তা, অর্থনীতি ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা নিয়ে তার সরকার ভয়াবহ চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি রয়েছে।

আল জাজিরার একটি বিশ্লেষণী প্রতিবেদনে ট্রাওরের জনপ্রিয়তার কারণ এবং তার সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরা হয়েছে।

ক্ষমতায় আসার পর ট্রাওরে ফরাসি সেনাদের দেশ ছাড়তে বাধ্য করেছেন এবং পশ্চিমা সামরিক অংশীদারিত্ব থেকে সরে এসে রাশিয়ার সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করেছেন। এছাড়া, তিনি বুরুকিনা ফাসোর বিপ্লবী নেতা টমাস সংকারার আদর্শকে সামনে এনে জাতীয়তাবাদী ভাবধারাকে নতুনভাবে তুলে ধরেছেন। স্থানীয় কৃষি উৎপাদন ও জাতীয় সম্পদের ওপর রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ জোরদারের উদ্যোগও তার জনপ্রিয়তা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে।

তবে দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক অবস্থায় রয়েছে। আল-কায়েদা ও আইএস-সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, এখনো ২০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত এবং বিপুলসংখ্যক মানুষ মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল।

রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও ট্রাওরের সরকার সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছে। গত এপ্রিলে তিনি জনগণকে গণতন্ত্রের কথা ভুলে যেতে আহ্বান জানান। তার সরকার রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যক্রম সীমিত করেছে। এছাড়া সুশীল সমাজ, সাংবাদিক ও ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর অভিযোগ উঠেছে।

ধর্মীয় ক্ষেত্রেও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। নতুন ধর্মীয় স্বাধীনতা আইনের আওতায় কয়েকজন প্রভাবশালী সুন্নি আলেমকে গ্রেপ্তার এবং ধর্মীয় কার্যক্রমে নজরদারি বৃদ্ধির ঘটনা তার সমর্থনের ওপরও প্রভাব ফেলেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, আফ্রিকার সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে ট্রাওরে শক্তিশালী অবস্থান নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের বার্তা দিতে সক্ষম হয়েছেন। কিন্তু প্রতীকী এই সাফল্য সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক সংকটের সমাধান করতে পারেনি।

ওয়াগাদুগুর একজন তরুণ নেতা রয়টার্সকে বলেন, একজন আফ্রিকান নেতাকে পশ্চিমা শক্তির সামনে দৃঢ় অবস্থান নিতে দেখে গর্ব অনুভূতি হয়েছে। তবে রাজনৈতিক গর্ব দিয়ে মানুষ যে জীবন যাপন করে না, সেটিও মনে রাখতে হবে। দেশের সাধারণ মানুষ এখন নিরাপত্তা এবং ন্যায়বিচারও চায়।

বিশ্লেষকদের অভিমত, ইব্রাহিম ট্রাওরে সার্বভৌমত্বের বার্তাকে শক্তিশালী রাজনৈতিক হাতিয়ারে পরিণত করতে সক্ষম হয়েছেন। কিন্তু সামরিক শাসনের মাধ্যমে তিনি বুরকিনা ফাসোয় দীর্ঘমেয়াদি শান্তি এবং স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে পারবেন কি না, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যাদের মেম্বার হওয়ারও যোগ্যতা নেই, তারা উপদেষ্টা হয়েছিল : আন্দালিব রহমান পার্থ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:৪৪ এম


যাদের মেম্বার হওয়ারও যোগ্যতা নেই, তারা উপদেষ্টা হয়েছিল : আন্দালিব রহমান পার্থ

‘যাদের কমিশনার-মেম্বার হওয়ার যোগ্যতা ছিল না, তারাই জুলাই বিক্রি করে উপদেষ্টা হয়েছিল’ এসব কথা বলেছেন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান এবং সংসদ সদস্য আন্দালিব রহমান পার্থ।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাজধানীতে বিএনপি আয়োজিত ‘গণতন্ত্র আদায়ে ১৭ বছরের অনিবার্য সংগ্রাম ও রক্তঝরা জুলাই জাগরণ’ শীর্ষক এক আলোচনাসভায় তিনি এই মন্তব্য করেন।

বিরোধী দলকে সমালোচনা করে আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, ‘উনারাদের তো জুলাই বিক্রি করতে হবে। কারণ জুলাই ছাড়া আমরা এখানে যারা আছি, আমাদের সবাইকে চেনা যায়। কিন্তু জুলাই ছাড়া তো তাদের কোনো পরিচয় নেই। এখানে যারা আছেন, তাদের কোনো না কোনো রাজনৈতিক পরিচয় রয়েছে। কিন্তু জুলাই ছাড়া তো তাদেরকে বাংলাদেশে কেউ চেনে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘ক্রিকেট খেলার একটি উদাহরণ আমি পার্লামেন্টে উল্লেখ করেছিলাম যে ছয় বলে হয়তো ১২ রান তারা করেছে, কিন্তু বাকি ৩০০ রান তো আমরা করেছি। সুতরাং জুলাই বিষয়টি তারা বিক্রি করবে। তারা এই আন্দোলনকে ছোট করে দেখানোর জন্য জুলাই বিক্রি করে।’

আওয়ামী লীগের কথা সামনে রেখে তিনি উল্লেখ করেন, ‘জামায়াত ইসলামি বা অন্যদের কথা বলতে বলতে আমরা যেন আসল ভিলেনকে ভুলে না যাই- সেই ভিলেন হলো, যারা বাংলাদেশের সিস্টেমকে করাপ্টেড করেছে, যারা ১৭ বছর আমাদের ঘুমাতে দেয়নি এবং যাদের অত্যাচারের ফলস্বরূপ জুলাই এসেছে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দিনমজুরকে আটকে চাঁদা দাবি ও নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেফতার ৭

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:৪৯ এম


দিনমজুরকে আটকে চাঁদা দাবি ও নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেফতার ৭

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ছাত্রদলের সাবেক এক নেতাসহ সাতজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ, অভিযোগ তাদের বিরুদ্ধে দিনমজুরকে তুলে নিয়ে আটকে রেখে মারধর ও চাঁদা দাবি করার।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরের সময়ে সিআইখোলা মোড়ের একটি দোকান থেকে তাদের আটক করা হয়।

বিকেলে, ভুক্তভোগী দিনমজুর রফিকুল ইসলাম (২৫) মামলা দায়ের করেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানায়, আটকে রেখে মারধর ও চাঁদা দাবির অভিযোগে আটককৃতদের আসামি করে। জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপারেশন) তারেক আল মেহেদী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গ্রেফতারকৃত আসামিদের মধ্যে রয়েছেন- সিআইখোলা এলাকার বাসিন্দা জাকির হোসেনের ছেলে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা ছাত্রদলের সাবেক সহসাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম জিহাদ (২৬), তার অনুসারী একই এলাকার রমজান আলী (২৩), মো. আল আমিন (২২), গোলাম কিবরিয়া জয় (২১), রবিউল ইসলাম (২৪), মো. জাহাঙ্গীর (২৩), মো. আরমান (২২) এবং মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে বাদী রফিকুল ইসলাম উল্লেখ করেন, তিনি নেত্রকোনা জেলায় থাকেন কিন্তু কাজের সুবাদে সিদ্ধিরগঞ্জ পুল এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন। গত সোমবার (৩ আগস্ট) রাত সাড়ে দশটার দিকে, কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে সিআইখোলা বউ বাজার এলাকা থেকে অভিযুক্তরা তাকে ডেকে নিয়ে যান। এরপর তাকে সেখানকার একটি দোকান ঘরে নিয়ে আটকে রেখে মুক্তিপণ বাবদ দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। রফিকুল চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে রাতভর আটকে রেখে মারধর ও শারীরিক নির্যাতন করা হয়, এ বিষয়ে তিনি অভিযোগ করেছেন।

এক পর্যায়ে অপহরণকারীরা তার পকেটে থাকা ৫ হাজার ৩৬০ টাকা ছিনিয়ে নেয়। পাশাপাশি দাবি করা দুই লাখ টাকা না দিলে তাকে হত্যা করে মরদেহ গুম করে নদীতে ভাসিয়ে দেয়ার হুমকি দেন, মামলায় রফিকুল এ বিষয়গুলি উল্লেখ করেছেন।

ভুক্তভোগী রফিকুল আরও অভিযোগ করেছেন, অভিযুক্তরা অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তার পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে টাকা এনে দিতে বললে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকাল আটটায় তিনি তার চাচা মো. হাদিস মিয়াকে মুঠোফোনে কল করেন এবং বিষয়টি জানান।

পরে চাচা হাদিস মিয়া বিষয়টি সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশকে জানালে, দুপুর দুইটার দিকে থানা পুলিশ ওই দোকান ঘরে অভিযান চালিয়ে ভুক্তভোগী রফিকুলকে উদ্ধার করে এবং সাতজনকে আটক করে। তবে এ ঘটনায় জড়িত অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজন ব্যক্তি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়, তাদেরও অজ্ঞাতনামা হিসেবে মামলায় আসামি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপারেশন) তারেক আল মেহেদী বলেন, চাঁদার দাবিতে নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের করা এই মামলায় গ্রেফতারকৃত ৭ জন আসামিকে সন্ধ্যায় আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পালিয়ে যাওয়া অজ্ঞাত তিন আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা ঘটনায় নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা ও অপরাধ স্বীকার করেছেন। তারা সংঘবদ্ধ অপহরণকারী চক্রের সদস্য এবং সহজ সরল মানুষকে কৌশলে ডেকে এনে আটকে রেখে মুক্তিপণ আদায় করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। উদ্ধারের পর ভুক্তভোগী রফিকুল ইসলামকে থানা পুলিশের সহায়তায় স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেয়া হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আজ জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:৫৩ এম


আজ জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস

আজ বুধবার জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সারা দেশে সাধারণ ছুটির ঘোষণা রয়েছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট এই দিন ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের কারণে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। দিবসটি উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থানে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শেষ পর্যন্ত বৈষম্যবিরোধী নতুন একটি বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশায় এক ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানে পরিণত হয়। দীর্ঘ এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলতে থাকা আন্দোলনের চূড়ান্ত পরিণতি ঘটে আজকের দিনে, অর্থাৎ ৫ আগস্ট।

সেদিন ছাত্র-জনতার প্রবল গণ-আন্দোলনের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যান।

এই ত্যাগ ও সংগ্রামের দিনটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক নতুন অধ্যায় হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।

অভ্যুত্থানের পূর্বে ৩ আগস্ট আন্দোলনকারীরা আনুষ্ঠানিকভাবে ‘একদফা’ দাবি ঘোষণা করেন। এরপর থেকেই দেশের বিভিন্ন জায়গায় লাখো মানুষ শেখ হাসিনার পতনের দাবিতে রাজপথে নামতে শুরু করেন।

বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ, গুলিবর্ষণ এবং সহিংসতার ঘটনা উন্মোচিত হয়।

৫ আগস্ট ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি ঘোষণা হলে কারফিউ উপেক্ষা করে ভোর থেকেই দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন। কেউ বাসে, কেউ মোটরসাইকেলে, আবার অনেকে মাইলের পর মাইল হেঁটে রাজধানীতে প্রবেশ করতে থাকেন। দুপুর বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে রাজধানীর প্রধান সড়কগুলো জনসমুদ্রে পরিণত হয়ে ওঠে। একদফার স্লোগানে মুখরিত হয়ে রাজপথ ধরে আন্দোলনকারীরা গণভবনের দিকে অগ্রসর হতে শুরু করেন।

এ সময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে দেশত্যাগ করেন। এর মধ্য দিয়ে প্রায় ১৫ বছরের শাস্তির অবসান ঘটে। পরে সরকার ৫ আগস্টকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেয় ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস’ হিসেবে। সাধারণভাবে ঐ তারিখ ৫ আগস্ট হলেও অভ্যুত্থানকারীরা মাসটিকে ৩৬ জুলাই পর্যন্ত বিবেচনা করেন যতক্ষণ না রক্তস্রোত বন্ধ হচ্ছে।

আন্দोलনের সূত্রপাত ঘটে ২০২৪ সালের ৫ জুন। ঐ দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থী সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে কর্মসূচি শুরু করেন। ১ জুলাই থেকে আন্দোলন আরও বিস্তৃত হয়। আন্দোলনকারীরা নির্বাহী বিভাগের মাধ্যমে কোটা সংস্কারের দাবি তুললেও সরকার বিষয়টিকে আদালতের অধীন বলে উল্লেখ করে।

১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও ১৬ জুলাই রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ গুলিবিদ্ধ হওয়ার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে আন্দোলন নতুন গতি পায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা হিসেবে সরকার বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করে এবং পরে ইন্টারনেট সেবা বন্ধের মতো পদক্ষেপ গ্রহণ করে। তবে এসব উদ্যোগ আন্দোলন থামাতে সক্ষম হয়নি; বরং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে তা গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয়।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সারা দেশে দেড় হাজারের বেশি মানুষ শহীদ হন এবং প্রায় ৩০ হাজার মানুষ আহত হন। আহতদের একটি বড় অংশ চোখে গুরুতর আঘাত পান এবং অনেকেই স্থায়ীভাবে দৃষ্টিশক্তি হারানোর সম্মুখীন হন। এই রক্তক্ষয়ী আন্দোলন বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম বৃহত্তম গণআন্দোলন বলা হয়।

শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর দায়িত্ব গ্রহণ করে অন্তর্বর্তী সরকার। শান্তিতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস সরকারপ্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি হিসেবে প্রথমে নাহিদ ইসলাম ও আসিফ মাহমুদ এবং পরে মাহফুজ আলম উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। রাষ্ট্রীয় সংস্কার, বিচারপ্রক্রিয়া ও নির্বাচন আয়োজনের নানা উদ্যোগ গ্রহণের পর প্রায় দেড় বছর দায়িত্ব পালন শেষে ২০২৬ সালে राष्ट्रीय নির্বাচন আয়োজন করে অন্তর্বর্তী সরকার। ঐ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যা গরিষ্ঠতা অর্জন করে বিএনপি সরকার গঠন করে এবং বর্তমানে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে।

জাতীয় কর্মসূচি অনুযায়ী ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস’ উদযাপনের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। সকালে দেশের ৬৪ জেলায় জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরের প্রধান সড়ক ও সড়কদ্বীপগুলো জাতীয় পতাকাসহ ব্যানার, ফেস্টুন ও রঙিন নিশানে সাজানো যাবে।

এদিন সকালে ৯ টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করবেন। বেলা ১১ টায় রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও আলোচনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকতে যাচ্ছেন।

আরো আয়োজন হিসেবে, এই উপলক্ষে বিএনপি গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর খামারবাড়ি কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এক বিশেষ আলোচনা সভার আয়োজন করে।

জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দল আজ সকালে সাড়ে ১০টায় গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে গণসমাবেশ করবে।

এছাড়া গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট, সিপিবি, বাসদ, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স, গণফোরামসহ বিভিন্ন দল ও সংগঠন দিনব্যাপী নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%