০৩:১১ এম
চিকিৎসা পেশা ছেড়ে জুলাই বিপ্লবের শহীদি রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে রাজনীতিতে এলেও সংরক্ষিত সংসদ সদস্য হিসেবে এলাকার উন্নয়নে কাজ করার পরিধি ও বরাদ্দে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঁঠালিয়া) আসনের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা আলম মিতু। তবে সরকারের পক্ষ থেকে পাওয়া সীমিত বরাদ্দের শতভাগ সততার সঙ্গে বণ্টন করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এই কেন্দ্রীয় নেত্রী।
সম্প্রতি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে সংসদ সদস্য হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতা, সীমাবদ্ধতা ও নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত নিয়ে এক সাহসী আত্মোপলব্ধি প্রকাশ করেছেন তিনি।
সংরক্ষিত আসনের সীমাবদ্ধতা ও সরাসরি নির্বাচনের স্বপ্ন; ডা. মাহমুদা মিতু লেখেন, “নির্বাচনের আগে রুমিন আপা খুব ছোট দৈর্ঘ্যের একটি রাস্তার ছবি দিয়েছিলেন। সংরক্ষিত এমপিদের মর্যাদা সমান হলেও কাজের পরিধি যে কতটা সীমিত, সেই বিষয়টি তখন আমাকে চিন্তিত করেছিল। মনে হয়েছিল, ৫ বছরে যদি একটি ইটের রাস্তা করার মতোই কাজ থাকে, তাহলে মানুষের জন্য বড় পরিসরে কাজ করব কীভাবে?” এমপিদের মূল দায়িত্ব আইন প্রণয়ন হলেও এলাকার উন্নয়নে সরাসরি ভূমিকা রাখার সুযোগ থাকে উল্লেখ করে তিনি জানান, মাঠের মানুষের কাছাকাছি থাকার তাগিদ থেকেই তিনি সরাসরি (ডিরেক্ট) নির্বাচনের স্বপ্ন দেখেছিলেন। তবে আল্লাহর পরিকল্পনাকে সর্বশ্রেষ্ঠ মেনে নিয়ে তিনি সংরক্ষিত আসনেই জনগণের সেবায় নিয়োজিত আছেন।
আরও পড়ুন: রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন মাভাবিপ্রবি উপাচার্য
বঞ্চনার অভিযোগ ও সুষম বণ্টনের অঙ্গীকার; বিরোধী দলের সংরক্ষিত সংসদ সদস্য হওয়ায় সরকার তাকে এবং তার এলাকার মানুষকে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত করছে বলে অভিযোগ তোলেন ডা. মিতু। তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে খুবই সামান্য কাবিখা ও কাবিটা আমার এলাকায় দেওয়া হয়েছে, যা আমি দুই উপজেলায় ভাগ করে দিয়েছি। পরিমাণটা খুবই সামান্য। কিন্তু এই সামান্য বরাদ্দের এক পয়সাও এদিক-সেদিক হবে না, ইন শা আল্লাহ। এলাকার সবচেয়ে খারাপ রাস্তাগুলো তিনি নিজে সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন এবং পর্যায়ক্রমে সেগুলোর টেকসই সংস্কার করার আশ্বাস দেন।
দলমতের ঊর্ধ্বে ‘নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত; রাজনৈতিক সংস্কৃতির গুণগত পরিবর্তনের ডাক দিয়ে ডা. মিতু ঘোষণা করেন, “আমার এলাকার কোনো বিএনপি কর্মী বা সমর্থকও যদি বরাদ্দের প্রকৃত হকদার হন, আমি তাকে বঞ্চিত করব না, ইন শা আল্লাহ। এটাই আমাদের নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত। পবিত্র কুরআনের সূরা আন-নিসার একটি আয়াত উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, রাজনীতি হলো মানুষের হক নিশ্চিত করা। বণ্টনের ক্ষেত্রে স্বজনপ্রীতি, কারও প্রাপ্য আটকে রাখা বা দুর্বলের হক কেটে নেওয়াকে তিনি তীব্রভাবে প্রত্যাখ্যান করেন।
উন্নয়নে রাজনৈতিক সংস্কৃতির বড় মনের অভাব; নিজের নির্বাচনি এলাকাটিকে দেশের অন্যতম অনুন্নত অঞ্চল হিসেবে উল্লেখ করে এই চিকিৎসক-রাজনীতিবিদ আক্ষেপ প্রকাশ করেন যে, সব এমপি যদি দলমত নির্বিশেষে সমন্বয় করে কাজ করতে পারতেন, তবে এলাকার চেহারা বদলে দেওয়া যেত। তবে তার জন্য রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার বাইরে গিয়ে যে ‘মন বড় করার’ প্রয়োজন, সেই পরিপক্ব রাজনৈতিক সংস্কৃতি এখনো দেশে তৈরি হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
পরিশেষে ডা. মিতু স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমি নিজে অন্যায় করব না, কিন্তু কেউ অন্যায় করলে সহজে ছেড়েও দেব না। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও ভুলত্রুটি শুধরে নিয়ে এলাকার রাস্তাঘাট ও মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে তিনি কাজ করে যাবেন বলে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন ।
আরও পড়ুন: বিয়ের ১৫ দিনের মাথায় সড়কে প্রাণ গেল ইতালি প্রবাসী তানভীরের
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন