০৬:৩৫ পি.এম
কক্সবাজার জেলা জুড়ে টানা ভারী বৃষ্টিপাত এবং সম্ভাব্য দুর্যোগের মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। জেলার প্রতিটি উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), সহকারী কমিশনার (ভূমি), জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয়ে জোরদার করা হয়েছে দুর্যোগ মোকাবিলার কার্যক্রম। বিশেষত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসরত মানুষকে তাড়াতাড়ি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে সংশ্লিষ্টদের মাঠপর্যায়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করার জন্য কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৬ জুলাই) বিকেলে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি সভায় অতীতের এই তথ্যগুলো জানান জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান। সভায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, সংস্থা এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন এবং চলমান পরিস্থিতি মোকাবেলায় নিজেদের মতামত ও ধারণাগুলোকে তুলে ধরেন। পাশাপাশি জেলার অনেক উপজেলায় উপজেলা ও ইউনিয়ন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
জরুরি সভায় জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, 'কক্সবাজার জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ২৭৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে এবং আগামী তিন দিন আরও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এই পরিস্থিতি বিবেচনায় জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি সভা আয়োজন করা হয়েছে।'
আরও পড়ুন: প্রটোকল ভেঙে প্রধানমন্ত্রীকে জড়িয়ে ধরতে গিয়ে ওএসডি হয়েছেন রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার
তিনি আরও বলেন, 'জরুরি পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ ফায়ার সার্ভিসের সতর্কতা নম্বর সম্পর্কে জানলেও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে খুব শিগগির একটি কন্ট্রোল রুমের জরুরি নম্বর প্রকাশ করা হবে। এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় স্বেচ্ছাসেবকরা সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করেও শুকনো খাবার, পুষ্টিকর খাদ্য এবং প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী প্রস্তুত রাখা হয়েছে।'
জেলা প্রশাসক জানান, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একটি কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হচ্ছে। জেলার যেকোনো প্রান্ত থেকে জরুরি পরিস্থিতির খবর পাওয়া গেলে এই কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে দ্রুত সমন্বয় করে সর্বনিম্ন সময়ে প্রয়োজনীয় সাড়া দেওয়া হবে।
এ পর্যন্ত জেলায় কোথাও পানিবন্দি হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন, 'প্রশাসন সর্বদা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। তবে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসে আটজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া কক্সবাজার সদর পৌরসভায় একজনের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে।'
তিনি আরও বলেন, 'আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস পাওয়ার পর তিন দিন আগে থেকেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিংসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার জন্য নিয়মিত প্রচার ও অনুরোধ জানানো হচ্ছে।'
আরও পড়ুন: রাজশাহীতে বিপুল পরিমাণ তাজা ককটেল উদ্ধার
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন