ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

খামেনির ওপর হামলার সময় একই ভবনে ছিলেন, ভয়ংকর অভিজ্ঞতা জানালেন আরাঘচি


খামেনির ওপর হামলার সময় একই ভবনে ছিলেন, ভয়ংকর অভিজ্ঞতা জানালেন আরাঘচি

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, যে দিন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ওপর হামলা হয়, তিনি একই ভবনে উপস্থিত ছিলেন এবং অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান। লেবাননের টেলিভিশন চ্যানেল আল-মায়াদিনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানের এই কূটনীতিক এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানিয়েছেন।

আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ১৯৮৯ সাল থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইলের যৌথ বিমান হামলায় তিনি নিহত হন। আল-মায়াদিনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আরাঘচি প্রথমবারের মতো খামেনির শাহাদাতের ঘটনার মর্মান্তিক বিবরণ প্রকাশ করেছেন।

এ প্রসঙ্গে আরাঘচি বলেন, তিনি জেনেভায় অনুষ্ঠিত আলোচনার প্রতিবেদন জমা দিতে সেদিন সকাল ৯টার দিকে সুপ্রিম লিডারের কার্যালয়ে আসেন। তার উদ্দেশ্য ছিল খামেনিকে জানানো যে, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে যুদ্ধ অনিবার্য হয়ে উঠেছে।

আরও পড়ুন: ইশরাকের পিস্তল উঁচানো দৃশ্য ত্রাসের রাজত্বের প্রতীক: জামায়াত

আরাঘচির ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কার্যালয়ের একটি কক্ষে অপেক্ষা করছিলেন। এমন সময় ভবনটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। তবে সৌভাগ্যক্রমে, তিনি যে অংশে অবস্থান করছিলেন, সেটা হামলার ক্ষতি থেকে রক্ষা পায়।

তিনি বলেন, ‘ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে বের হয়ে আসার পর আমার মাথায় একটাই চিন্তা ছিল, সুপ্রিম লিডারকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে কি না, তিনি নিরাপদ আছেন কি না।’ আরাঘচি জানান, ভবন থেকে বেরিয়ে তিনি সরাসরি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চলে যান। সেখানেই তিনি জানতে পারেন যে, সুপ্রিম লিডার নিহত হয়েছেন।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, ঘটনার পরবর্তী ৪০ দিন তিনি নিজের বাসা কিংবা কোনো আত্মীয়ের বাড়িতে যাননি। ওই সময়ে তিনি পুরোটা সময় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অবস্থান করে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করেন এবং চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিজের দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখেন।

আরাঘচি বলেছেন, ইরানকে ঘিরে যে সংকটময় পরিস্থিতি ছিল, তা সত্ত্বেও সর্বোচ্চ নেতা নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন।

আরও পড়ুন: রাজনীতিকে সঠিক পথে পরিচালনায় সাংবাদিকদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ: সড়ক পরিবহণমন্ত্রীর মন্তব্য

সাংবাদিকরা আরাঘচির কাছে জানতে চান, খামেনিকে কি সত্যিই নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল যা তিনি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন? জবাবে আরাঘচি বলেন, খামেনি বলেছিলেন: ‘ইরানের প্রতিটি মানুষ যদি নিরাপদ আশ্রয় ও বাঙ্কারে যাওয়ার সুযোগ পায়, তবেই আমি নিরাপদ স্থানে যাব। যেহেতু বর্তমানে সেই সুযোগ সবার জন্য নেই, তাই আমিও জনগণের সঙ্গে মাটির ওপরই থাকব। আমার জনগণের ভাগ্যে যা ঘটবে, আমার ক্ষেত্রেও তাই ঘটবে।’

আরাঘচি বলেন, এই বক্তব্যই দেখিয়ে দেয় হৃদয় জয় করা একজন নেতার সঙ্গে কেবল রাষ্ট্র পরিচালনাকারী নেতার পার্থক্য। তার ভাষায়, ‘আমাদের নেতা মানুষের হৃদয় শাসন করতেন।’

সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা সরাসরি খামেনির কাছ থেকেই এসেছিল। তিনি বলেন, ‘বাস্তবে যুদ্ধসংক্রান্ত নির্দেশগুলো সরাসরি তার পক্ষ থেকেই দেওয়া হয়েছিল।’

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তাদের মিত্রদের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে আরাঘচি বলেন, ইরানের পাল্টা জবাব দেখে পুরো বিশ্বই বিস্মিত হয়েছিল।

আরও পড়ুন: ইরান যুদ্ধের পক্ষ, হুথিদের অস্ত্রদাতারা মধ্যস্থতাকারী হতে পারে না: ইয়েমেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

তার মতে, তেহরানের বিরুদ্ধে যে মাত্রার হামলা চালানো হয়েছিল, তাতে অনেকেই মনে করেছিলেন ইরান তাৎক্ষণিকভাবে জবাব দিতে সক্ষম হবে না। কিন্তু ইরান দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে সেই ধারণাকে ভুল প্রমাণ করে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বকেয়া পারিশ্রমিকের কারণে ম্যাচ বয়কট, অগ্রণী ব্যাংক পেল ওয়াকওভারে জয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শুক্রবার, ৫ই জুন, ২০২৬ ইং

০৩:০৬ পি.এম


বকেয়া পারিশ্রমিকের কারণে ম্যাচ বয়কট, অগ্রণী ব্যাংক পেল ওয়াকওভারে জয়

ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে (ডিপিএল) একটি অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটেছে ব্রাদার্স ইউনিয়নের কারণে। যদিও তাঁরা মাঠে উপস্থিত ছিলেন, তথাপি নির্ধারিত ম্যাচে অংশ নেননি দুই। এই অবস্থায় ম্যাচ কর্মকর্তারা নিয়ম অনুযায়ী প্রতিপক্ষ অগ্রণী ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবকে ওয়াকওভারে জয়ী ঘোষণা করেন।

শুক্রবারের (৫ জুন) অনুষ্ঠিত ম্যাচে ব্রাদার্স ইউনিয়নের খেলোয়াড়রা টসে অংশগ্রহণ করেননি এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দলীয় তালিকাও জমা দেননি। এর ফলে, লিগের নিয়ম অনুসারে ম্যাচটি অগ্রণী ব্যাংকের পক্ষে দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, খেলোয়াড়দের বকেয়া পারিশ্রমিক নিয়ে দীর্ঘদিনের অসন্তোষ থেকেই এই অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। ক্রিকেটারদের অভিযোগ, ক্লাব কর্তৃপক্ষ তাঁদের পাওনা অর্থ এখনও পরিশোধ করেনি। ম্যাচের দিন কিছু অর্থ দেয়ার প্রস্তাব এলেও, তাঁরা তা গ্রহণ করেননি। পরে সবাই মিলে ম্যাচ বর্জন করার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন। একই সাথে, তাঁরা সমস্যার সমাধানে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি তামিম ইকবালের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এই মৌসুমে ব্রাদার্স ইউনিয়নের পারফরম্যান্সও ভালো নয়। ১২ ম্যাচে তাদের রয়েছে মাত্র একটি জয় এবং তাঁরা পয়েন্ট তালিকার তলানিতে অবস্থান করছে। অন্যদিকে, কোনো লড়াই ছাড়াই পাওয়া এই জয়ে অগ্রণী ব্যাংক নিজেদের অবস্থানকে আরও শক্ত করেছে। ৯ ম্যাচে পাঁচ জয় ও ১০ পয়েন্ট নিয়ে দলটি বর্তমানে পঞ্চম স্থানে অবস্থান করছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঝড়ে পড়ে যাওয়ার পর ‌‌‘উঠে দাঁড়ানো’ সেই গাছ কেটে ফেললো প্রশাসন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৫ই জুন, ২০২৬ ইং

০৩:০৮ পি.এম


ঝড়ে পড়ে যাওয়ার পর ‌‌‘উঠে দাঁড়ানো’ সেই গাছ কেটে ফেললো প্রশাসন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় ঝড়ে উপড়ে পড়ার পর ফের সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে যাওয়া সেই আলোচিত গাছটি কেটে ফেলেছে উপজেলা প্রশাসন।

গাছটিকে ঘিরে কুসংস্কার এবং মাজার তৈরির চেষ্টা রুখতে শুক্রবার (৫ জুন) দুপুরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় এটি কেটে ফেলা হয়।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় এক মাস আগে আখাউড়া উপজেলার মোগড়া ইউনিয়নের বচিয়ারা গ্রামের মুন্সীবাড়ির একটি পুকুর পাড়ে গাছটি ঝড়ে উপড়ে পড়ে যায়। পড়ে থাকার পর গাছটির ডালপালা এবং ওপরের অনেক অংশ কেটে ফেলা হয়। গত এক সপ্তাহ আগে হঠাৎ করেই ডালপালাহীন ১৫ ফুটের অবশিষ্ট কাণ্ডটি আবার সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে যায়।

ঝড়ে পড়া গাছ নিজে নিজে দাঁড়িয়ে যাওয়ার এই ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়। বিষয়টি দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ভিড় করতে শুরু করে। একপর্যায়ে কিছু উৎসুক মানুষ গাছটির নিচের অংশ লাল কাপড় দিয়ে মুড়িয়ে দেয় এবং সেখানে মোমবাতি ও আগরবাতি জ্বালিয়ে মানত করা শুরু করে। এমনকি চারদিকে নিশানা টাঙিয়ে জায়গাটিকে মাজার সদৃশ রূপ দেয়ার চেষ্টা করা হয়।

গাছটি দাঁড়িয়ে যাওয়ার পর স্থানীয় সচেতন মহল ও সমাজকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কুসংস্কারের বিরুদ্ধে সরব হন। তারা জানান, এটি অলৌকিক কিছু নয়। গাছের ডালপালা ও ওপরের অংশ কেটে ফেলায় এর ভরকেন্দ্র বদলে যায়। ফলে ঝড়ের চাপ দূর হওয়ার পর উদ্ভিদের শিকড়ের টান, মাটির স্থিতিস্থাপকতা এবং গাছের অভ্যন্তরীণ রসের চাপের (হাইড্রোস্ট্যাটিক প্রেসার) কারণে কাণ্ডটি আবার সোজা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দ্রুত এটি সরিয়ে না নিলে এখানে ভন্ড মাজার তৈরি হতে পারে বলে তারা প্রশাসনকে অনুরোধ জানান।

বিষয়টি নজরে আসার পর আখাউড়া উপজেলা প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। শুক্রবার দুপুরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা গাছটি পুরোপুরি কেটে ফেলা হয়।

এ বিষয়ে আখাউড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কফিল উদ্দিন মাহমুদ বলেন, ‘গাছটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় হেলে ছিল। আমরা গাছের মালিকের সঙ্গে কথা বলেছি এবং তার অনুমতি নিয়েই পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় এটি কেটে ফেলা হয়েছে। মালিক জানিয়েছেন, গাছ বিক্রির টাকা কোনো মসজিদ বা মাদরাসায় অনুদান হিসেবে দিয়ে দেয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঝিনাইদহের এসপি মাহফুজ আফজালকে প্রত্যাহার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৫ই জুন, ২০২৬ ইং

০৩:০৯ পি.এম


ঝিনাইদহের এসপি মাহফুজ আফজালকে প্রত্যাহার

ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মাহফুজ আফজালকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এই বিষয়ে তাকে পুলিশ সদর দফতরে সংযুক্ত করার খবর শোনা গেছে।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির স্বাক্ষরিত এক আদেশের মাধ্যমে এই প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের কথা জানা যায়।

আইজিপির স্বাক্ষরিত আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এসপি মাহফুজ আফজাল জেলা পুলিশের কোনো জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার কাছে নিজ দায়িত্বভার অর্পণ করবেন। তাকে শুক্রবারের (৫ জুন) মধ্যে পুলিশ সদর দফতরে রিপোর্ট করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে, এই আদেশে তাকে হঠাৎ প্রত্যাহারের সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি।

মো. মাহফুজ আফজাল গত বছরের ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ঝিনাইদহের এসপি হিসেবে যোগদান করেছিলেন। তার দায়িত্ব পালনকালে জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কিছু চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে।

এতগুলোর মধ্যে দুটি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড, সামাজিক বিরোধের সঙ্গে সম্পর্কিত একাধিক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এবং এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার ঘটনার উল্লেখযোগ্য। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ তুলে গণপিটুনিতে একজনের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটে জেলায়।

এসব বিভিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে তার প্রত্যাহার হতে পারে বলে জেলার সচেতন মহলে গুঞ্জন রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রসুলুল্লাহ’ এর অর্থ এবং ব্যাখ্যা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ৫ই জুন, ২০২৬ ইং

০৩:১৩ পি.এম


‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রসুলুল্লাহ’ এর অর্থ এবং ব্যাখ্যা

লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রসুলুল্লাহ ইসলামের মৌলিক বিশ্বাস নির্দেশক একটি বাক্য। এই বাক্যের মাধ্যমেই ইসলামের প্রথম স্তম্ভ পূর্ণতা লাভ করে। ইসলামে এর গুরুত্ব ও মর্যাদা অত্যন্ত বেশি। মানুষের জীবনের সকল ক্ষেত্রেই এর প্রভাব, মর্যাদা ও ফজিলত উল্লেখযোগ্য।

لاَ اِلَهَ اِلاَّ اللهُ مُحَمَّدُ رَّسُوْ لُ الله উচ্চারণ: লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রসুলুল্লাহ। এর অর্থ হচ্ছে: আল্লাহ এক, এবং অন্য কোনো উপাস্য নেই। হজরত মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হলেন আল্লাহর প্রেরিত রসুল।

নবীজী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ঈমানের সত্তরের অধিক শাখা রয়েছে। এর মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ শাখা হলো ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’-এর প্রচার করা। (আবু দাউদ: ৪৬৭৬)

এ কারণে সমস্ত জিকিরের মধ্যে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ বলে গণ্য করা হয়। এক হাদিসে এসেছে,

أَفْضَلُ الذِّكْرِ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ অর্থ: জিকিরের মধ্যে শ্রেষ্ঠ জিকির হলো- লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ। (ইবনে মাজাহ: ৩৮০০)

অন্য একটি হাদিসে উল্লেখিত হয়েছে, মহান আল্লাহ হজরত মুসা (আ.) কে বলেন,

يَا مُوسَى لَوْ أَنَّ أَهْلَ السَّمَاوَاتِ السَّبْعِ وَالْأَرَضِينَ السَّবْعِ فِي كِفَّةٍ، وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ فِي كِفَّةٍ، مَالَتْ بِهِمْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ. أَخْرَجَه النَّسَائِيُّ بِسَنَدٍ صَحِيحٍ كما قال ابن حجر في فتح الباري। এর অর্থ হলো: হে মুসা! যদি সাত আসমান ও সাত্‌টি জমিন এবং এর মধ্যে যা কিছু আছে তা যদি এক পাল্লায় রাখা হয়, এবং অন্য পাল্লায় যদি শুধুমাত্র ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ রাখা হয়, তবে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’-এর পাল্লাই ভারী হবে। (সুনানে কুবরা নাসায়ি: ১০৬০২)

কালিমা একটি শপথবাক্য। এর মূল কথা হলো, আমি কেবল মহান আল্লাহকে ইবাদতের উপযুক্ত বলেই মনে করি, ইহকাল ও পরকালের সমস্ত বিষয় তার কুদরতে রয়েছে, এ বিষয়ে আমি বিশ্বাস স্থাপন করি। তাই আমি তারই বন্দেগি ও গোলামি করি। আমি তাকে ভালোবাসি, তার নির্দেশ অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করি এবং আমি হজরত মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মহান আল্লাহর প্রেরিত সত্য নবী হিসেবে স্বীকার করি। জীবনের সকল বিষয়ে আমি তার আনুগত্য করি এবং তার প্রদত্ত হেদায়েত অনুসরণ করি। এভাবে শপথ নেয়াকে ঈমান আনা, তাওহিদ ও রেসালাতের সাক্ষ্য দেয়ার কথা বলা হয়।

যার অন্তর থেকে কালিমার দুই অংশ তথা তাওহিদ ও রেসালাতকে স্বীকার করে এবং যার কর্মে এর বহিঃপ্রকাশ ঘটে, সে সত্যিই সৌভাগ্যবান এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে তাকে বড় সুসংবাদ দেয়া হয়েছে! নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

مَنْ شَهِدَ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللهِ، حَرَّمَ اللهُ عَلَيْهِ النَّارَ অর্থ: যে ব্যক্তি খাঁটি মনে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ মুহাম্মাদুর রসুলুল্লাহ’-এর সাক্ষ্য দেবে, মহান আল্লাহ তার উপর জাহান্নাম হারাম করে দেবেন। (মুসলিম: ৪৭)

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%