প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রসুলুল্লাহ ইসলামের মৌলিক বিশ্বাস নির্দেশক একটি বাক্য। এই বাক্যের মাধ্যমেই ইসলামের প্রথম স্তম্ভ পূর্ণতা লাভ করে। ইসলামে এর গুরুত্ব ও মর্যাদা অত্যন্ত বেশি। মানুষের জীবনের সকল ক্ষেত্রেই এর প্রভাব, মর্যাদা ও ফজিলত উল্লেখযোগ্য।
لاَ اِلَهَ اِلاَّ اللهُ مُحَمَّدُ رَّسُوْ لُ الله উচ্চারণ: লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রসুলুল্লাহ। এর অর্থ হচ্ছে: আল্লাহ এক, এবং অন্য কোনো উপাস্য নেই। হজরত মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হলেন আল্লাহর প্রেরিত রসুল।
নবীজী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ঈমানের সত্তরের অধিক শাখা রয়েছে। এর মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ শাখা হলো ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’-এর প্রচার করা। (আবু দাউদ: ৪৬৭৬)
এ কারণে সমস্ত জিকিরের মধ্যে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ বলে গণ্য করা হয়। এক হাদিসে এসেছে,
أَفْضَلُ الذِّكْرِ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ অর্থ: জিকিরের মধ্যে শ্রেষ্ঠ জিকির হলো- লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ। (ইবনে মাজাহ: ৩৮০০)
অন্য একটি হাদিসে উল্লেখিত হয়েছে, মহান আল্লাহ হজরত মুসা (আ.) কে বলেন,
يَا مُوسَى لَوْ أَنَّ أَهْلَ السَّمَاوَاتِ السَّبْعِ وَالْأَرَضِينَ السَّবْعِ فِي كِفَّةٍ، وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ فِي كِفَّةٍ، مَالَتْ بِهِمْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ. أَخْرَجَه النَّسَائِيُّ بِسَنَدٍ صَحِيحٍ كما قال ابن حجر في فتح الباري। এর অর্থ হলো: হে মুসা! যদি সাত আসমান ও সাত্টি জমিন এবং এর মধ্যে যা কিছু আছে তা যদি এক পাল্লায় রাখা হয়, এবং অন্য পাল্লায় যদি শুধুমাত্র ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ রাখা হয়, তবে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’-এর পাল্লাই ভারী হবে। (সুনানে কুবরা নাসায়ি: ১০৬০২)
কালিমা একটি শপথবাক্য। এর মূল কথা হলো, আমি কেবল মহান আল্লাহকে ইবাদতের উপযুক্ত বলেই মনে করি, ইহকাল ও পরকালের সমস্ত বিষয় তার কুদরতে রয়েছে, এ বিষয়ে আমি বিশ্বাস স্থাপন করি। তাই আমি তারই বন্দেগি ও গোলামি করি। আমি তাকে ভালোবাসি, তার নির্দেশ অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করি এবং আমি হজরত মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মহান আল্লাহর প্রেরিত সত্য নবী হিসেবে স্বীকার করি। জীবনের সকল বিষয়ে আমি তার আনুগত্য করি এবং তার প্রদত্ত হেদায়েত অনুসরণ করি। এভাবে শপথ নেয়াকে ঈমান আনা, তাওহিদ ও রেসালাতের সাক্ষ্য দেয়ার কথা বলা হয়।
যার অন্তর থেকে কালিমার দুই অংশ তথা তাওহিদ ও রেসালাতকে স্বীকার করে এবং যার কর্মে এর বহিঃপ্রকাশ ঘটে, সে সত্যিই সৌভাগ্যবান এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে তাকে বড় সুসংবাদ দেয়া হয়েছে! নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
مَنْ شَهِدَ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللهِ، حَرَّمَ اللهُ عَلَيْهِ النَّارَ অর্থ: যে ব্যক্তি খাঁটি মনে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ মুহাম্মাদুর রসুলুল্লাহ’-এর সাক্ষ্য দেবে, মহান আল্লাহ তার উপর জাহান্নাম হারাম করে দেবেন। (মুসলিম: ৪৭)
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন