ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে আইনি সহায়তা পেলেন প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার কারাবন্দি


লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে আইনি সহায়তা পেলেন প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার কারাবন্দি

 জাতীয় আইনগত সহায়তা সংস্থা (লিগ্যাল এইড)-এর মাধ্যমে মোট ১ লাখ ৩৯ হাজার ৯৮৫ জন কারাবন্দিকে আইনি সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে সংস্থার ওয়েবসাইটে একটি প্রতিবেদনের মাধ্যমে। ২০০৯ সাল থেকে ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত লিগ্যাল এইডের কার্যক্রমের বিস্তারিত চিত্র এতে তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সময়ে সরকারি খরচের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের লিগ্যাল এইড অফিসের যোগসূত্রে ৩০ হাজার ৬৯৬ জন আইনি সহায়তা গ্রহণ করেছেন। দেশের ৬৪ জেলা থেকে লিগ্যাল এইড অফিসের মাধ্যমে মোট ১২ লাখ ২০ হাজার ৪৪ জন সহায়তা লাভ করেছেন। এছাড়া, ঢাকা ও চট্টগ্রাম শ্রমিক আইনি সহায়তা সেলের মাধ্যমে ৩০ হাজার ২২০ জনকে বিশেষ সেবা দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: প্রবাসী স্বামীর টাকায় পড়াশোনা করে সহকর্মীর সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগে শিক্ষিকা কারাগারে

সরকারি আইনি সহায়তার জাতীয় হেল্পলাইন কল সেন্টারের টোল-ফ্রি নম্বর (১৬৬৯৯)-এর মাধ্যমে ২ লাখ ৬ হাজার ৭০৩ জন সেবা পেয়েছেন। সর্বশেষ হিসাবে, সব মিলিয়ে লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে সরকারি খরচে আইনি সহায়তা পাওয়া উপকারভোগীর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪ লাখ ৮৭ হাজার ৬৬৩ জন।

‘আইনগত সহায়তা প্রদান আইন’-এর অধীনে জাতীয় আইনগত সহায়তা সংস্থা এই কার্যক্রম পরিচালনা করছে, যা আর্থিকভাবে অসচ্ছল ও অসহায় বিচারপ্রার্থীদের বিনা খরচে আইনি সহায়তা প্রদান করতে প্রণীত হয়েছে। সংস্থাটি আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের অধীন একটি সরকার নিয়ন্ত্রিত সেবা সংস্থা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে বিএনপির ১৭ বছরের আন্দোলন পূর্ণতা পেয়েছে: রিজভী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ১৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:১৫ পি.এম


জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে বিএনপির ১৭ বছরের আন্দোলন পূর্ণতা পেয়েছে: রিজভী

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এবং প্রধানমন্ত্রী এর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ১৭ বছর ধরে বিএনপি যে আন্দোলন করে আসছিল, জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে সেই আন্দোলন পূর্ণতা পেয়েছে।

তিনি রোববার (১৯ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনে বসে এ কথা বলেন।

রিজভী বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার প্রকৃত গণতন্ত্রের জন্য যে সংগ্রাম করেছেন, জুলাইয়ে সবার অংশগ্রহণের মাধ্যমে তা সফল হয়েছে।

তিনিও বলেছেন, জনগণ যেন স্বস্তি পায়, এই লক্ষ্যে কাজ করছে বিএনপি সরকার। হার্টের রিংয়ের উপর ভ্যাট বাতিল করা হয়েছে। এর ফলে দাম কমেছে। সরকার ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ করেছে।

এই বিএনপি নেতা জানান, জনগণের কাছে জবাবদিহিতার অংশ হিসেবে আয় ও ব্যয়ের হিসাব দিয়েছে বিএনপি।

স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় বা জোটবদ্ধভাবে প্রার্থী বাছাই করা হবে, সেটা এখনও ঠিক করা হয়নি বলেও তিনি জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গাজায় ইসরাইলি হামলায় তিন শিশুসহ নিহত ১১: স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:১৫ পি.এম


গাজায় ইসরাইলি হামলায় তিন শিশুসহ নিহত ১১: স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা

 গাজা উপত্যকায় শনিবার ইসরাইলি হামলায় তিন শিশুসহ অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ওই তিন শিশুর বাবা-মাও রয়েছেন। গাজার সিভিল ডিফেন্স ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে।

ইসরাইল ও ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও গাজায় সহিংসতা থেমে নেই। যুদ্ধের স্থায়ী অবসান ঘটাতে একটি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির প্রচেষ্টা এখনও থমকে আছে।

গাজা সিটি থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি খবরটি জানিয়েছে।

হামাস পরিচালিত উদ্ধার সংস্থা গাজার সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, গাজা সিটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে একটি আবাসিক অ্যাপার্টমেন্টে ইসরাইলি হামলায় একই পরিবারের পাঁচ সদস্য নিহত হন। নিহতদের মধ্যে তিন শিশু এবং তাদের বাবা-মা রয়েছেন।

সংস্থাটির মুখপাত্র মাহমুদ বাসসাল এএফপিকে বলেন, ‘পরিবারটির একমাত্র জীবিত সদস্য একটি শিশু। হামলার সময় সে বাড়ির ভেতরে ছিল না।’

গাজার আল-শিফা হাসপাতাল পাঁচটি মরদেহ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

ইসরাইলি সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র জানান যে, শনিবার গাজা সিটিতে হামাসের এক যোদ্ধাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, হামলার ফলাফল এখনও মূল্যায়ন করা হচ্ছে।

গাজার বাসিন্দা মুসা আল-আইমাউই বলেন, হামলার আগে कोई সতর্কবার্তা দেওয়া হয়নি। তিনি এএফপিকে জানিয়েছেন, হঠাৎ একটি ক্ষেপণাস্ত্র ভবনটিতে আঘাত হানে এবং কেউ কিছু জানত না। এসময় কোনো সতর্কবার্তা ছিল না।

তিনি আরও বলেন, ‘তারা কোনো পরোয়া না করেই হামলা চালিয়েছে। সেখানে বেসামরিক মানুষ, শিশু, নারী ও মেয়েরা ছিল।’

একই ভবনের বাসিন্দা মোহাম্মদ কালি জানিয়েছেন, তিনি ঘটনাস্থলে কয়েকজনকে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখেছেন। তিনি বলেন, মাটিতে মরদেহ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল, নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশু বয়স্কও ছিল।

ঘটনাস্থলের এএফপির ভিডিওতে দেখা যায়, ভবনটির সামনের অংশটির বড় অংশ ধসে গেছে এবং উদ্ধারকর্মীরা আহতদের সরিয়ে নিচ্ছেন।

এসময় উপস্থিত লোকজন ধ্বংসস্তূপে ছড়িয়ে থাকা কংক্রিটের টুকরা ও বাঁকানো লোহার মধ্যে উদ্ধারযোগ্য জিনিসপত্র খুঁজছিলেন।

সিভিল ডিফেন্স জানাচ্ছে, গাজা সিটির জেইতুন এলাকায় বেসামরিক লোকজনের একটি দলের ওপর ইসরাইলি বিমান হামলায় আরও তিনজন নিহত হয়েছেন।

আল-শিফা হাসপাতাল তিনটি মরদেহ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

কয়েক ঘণ্টা পর বাসসাল জানান, জেইতুন এলাকার পূর্বে বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয়স্থল একটি তাঁবুতে ইসরাইলি গোলাবর্ষণে এক নারী নিহত হয়েছেন।

গাজার আল-আহলি হাসপাতাল জানাচ্ছে, নিহত ওই নারীর মরদেহের পাশাপাশি কয়েকজন আহতকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। আহতদের মধ্যে তার মেয়েও রয়েছে।

বাসসাল বলেছেন, হামলার ওই এলাকায় আরও কয়েকজন আহত এবং তিনজন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানান, গাজার অন্য এলাকাগুলোতে ইসরাইলি হামলায় আরও দুইজন নিহত হয়েছেন।

এসব হামলার বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি ইসরাইলি সেনাবাহিনী।

যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে।

হামাস-নিয়ন্ত্রিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, শুক্রবারের হতাহতের আগে, গত অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে অন্তত ১ হাজার ১৪৪ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। জাতিসংঘ এ মন্ত্রণালয়ের তথ্যকে নির্ভরযোগ্য বলে মনে করে।

ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানাচ্ছে, একই সময়ে গাজায় পাঁচজন সেনাসদস্য এবং একজন বেসামরিক ঠিকাদার নিহত হয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ব্রিটিশ স্টিল রাষ্ট্রীয় মালিকানায় নেওয়ায় আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি জিংইয়ের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:১৭ পি.এম


ব্রিটিশ স্টিল রাষ্ট্রীয় মালিকানায় নেওয়ায় আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি জিংইয়ের

 ব্রিটিশ স্টিলকে রাষ্ট্রীয় মালিকানায় নেওয়ার পর চীনের জিংইয়ে স্টিল যুক্তরাজ্য সরকারের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে। একই সঙ্গে তারা এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে। ২০২০ সালে জিংইয়ে ব্রিটিশ স্টিল কিনেছিল। কিন্তু সংকটে পড়া এই প্রতিষ্ঠানে যুক্তরাজ্য সরকারের হস্তক্ষেপের ফলে গত বছর কোম্পানিটি এর নিয়ন্ত্রণ হারায়। বেইজিং থেকে এ খবর জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। উত্তর ইংল্যান্ডের স্কানথর্পের অবস্থিত ব্রিটেনের শেষ ইস্পাত কারখানাটি, যেখানে আকরিক থেকে সরাসরি ইস্পাত উৎপাদন করা সম্ভব, বন্ধ হওয়ার মুখে পড়ে। জিংইয়ে জানায়, কারখানাটি আর আর্থিকভাবে টেকসই নয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে যুক্তরাজ্য সরকার কারখানাটির নিয়ন্ত্রণ নেয়। পরে বৃহস্পতিবার সরকার ঘোষণা দেয় যে, ব্রিটিশ স্টিলকে পুরোপুরি রাষ্ট্রীয় মালিকানায় নেওয়া হয়েছে। তবে রোববার নিজেদের সরকারি উইচ্যাট অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক বিবৃতিতে জিংইয়ে এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তারা যুক্তরাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে ‘আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ বিধি লঙ্ঘন’ এবং ‘প্রকাশ্য ডাকাতির’ অভিযোগ তোলে। একই সঙ্গে তারা দাবি করে বিনিয়োগজনিত ক্ষতিপূরণ আদায় করবে। বিবৃতিতে কোম্পানিটি বলেছে, ‘জিংইয়ে তার সব আইনি অধিকার সংরক্ষণ করছে। আমরা আমাদের বৈধ অধিকার ও স্বার্থ দৃঢ়ভাবে রক্ষা করব এবং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত পূর্ণ ক্ষতিপূরণ আদায় করব।’ যুক্তরাজ্য সরকার বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, জিংইয়ের কাছ থেকে নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর যুক্তরাজ্যে ইস্পাত উৎপাদনের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত রাখতেই ব্রিটিশ স্টিলকে পুরোপুরি রাষ্ট্রীয় মালিকানায় নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ পদক্ষেপের বিরোধিতা করে। তারা অভিযোগ করেছে, ‘জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে’ যুক্তরাজ্য সরকার কোম্পানিটির নিয়ন্ত্রণ ‘জোরপূর্বক’ দখল করে নিয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
এনপিআরের বিশ্লেষণ

কেন ইরান যুদ্ধে জিততে পারছে না যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:২৪ পি.এম


কেন ইরান যুদ্ধে জিততে পারছে না যুক্তরাষ্ট্র

 

গত ২৫ বছরের মধ্যে ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্র তিনটি বড় সংঘাতে জড়িয়েছে—প্রথমে আফগানিস্তান, এরপর ইরাক এবং বর্তমানে ইরান। এই সব সংঘাত মধ্যপ্রাচ্য ও তার আশপাশের একই ভূরাজনৈতিক অঞ্চলের মধ্যে ঘটে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টরা বারবার বলেছে, তাদের বিপুল সামরিক শক্তি এসব যুদ্ধে দ্রুত বিজয় অর্জন করবে।

২০০১ সালে, প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের আমলে মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তালেবানকে ক্ষমতাচ্যুত করা সম্ভব হয়। এরপর ২০০৩ সালে ইরাকের প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনের সরকার উৎখাত করা যায়।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সময় ইসরাইলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার প্রারম্ভিক দিনেই ইরানের বেশ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক ও রাজনৈতিক নেতাকে হত্যা করা হয় এবং দেশজুড়ে ব্যাপক হামলা চালানো হয়।

কিন্তু দেখা গেছে, বিপুল সামরিক শক্তি কখনো রাজনৈতিক সাফল্যে রূপান্তরিত হয়নি এবং যুক্তরাষ্ট্র যে মৌলিক পরিবর্তন চেয়েছিল তা সম্ভব হয়নি।

বর্তমানে আফগানিস্তানে আবার তালেবান ক্ষমতায় এসেছে। দীর্ঘ ও রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ইরাকে কিছুটা স্থিতিশীলতা এলেও দেশটি এখনো নানা সংকটে ভুগছে। আর ইরানে ধর্মীয় নেতৃত্বাধীন সরকার এখনো বহাল রয়েছে; সংঘাতও সমাপ্ত হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের জন্য যুদ্ধ জয় এত কঠিন কেন, তা নিয়ে জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক বিশ্লেষক এবং অল দ্য প্রেসিডেন্টস ওয়ার্স গ্রন্থের লেখক পিটার বার্গেন বলেন, ‘যুদ্ধের শুরুতে ধ্বংসযজ্ঞ চালানো এবং শত্রুকে হত্যা করার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র সাধারণত সফল হয়। কিন্তু যুদ্ধের সমাপ্তি টানতে এবং যুদ্ধ-পরবর্তী শান্তি প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনায় যুক্তরাষ্ট্র ধারাবাহিকভাবে ব্যর্থ।’

তার মতে, ‘যুদ্ধের পর কী হবে—সেটি পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্র প্রায়শই করে না।’

লেবাননভিত্তিক মধ্যপ্রাচ্য বিশ্লেষক পল সালেমের মতে, যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক সমাধানের চেয়ে সামরিক শক্তি ব্যবহারের প্রেক্ষিতে অধিক নির্ভরশীল। তারা দ্রুত ও তুলনামূলকভাবে কম খরচে যুদ্ধ শেষ করতে চায়।

ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের এই বিশ্লেষক বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সাম্রাজ্যবাদী আকাঙ্ক্ষা আছে, কিন্তু সেটি বাস্তবায়নে তাদের আচরণ অনেকটা পর্যটকের মতো।’

তার মতে, এই বৈপরীত্য ইরাক ও আফগানিস্তান যুদ্ধকে প্রভাবিত করেছে এবং ইরানের ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে।

সালেম বলেন, ‘এই অঞ্চলের দেশগুলোতে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা বা শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেনি। তাই কেবল শীর্ষ নেতৃত্বকে সরিয়ে দিলেই সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে যাবে—এমন ধারণা বাস্তবসম্মত নয়।’

পিটার বার্গেনও একই ধরনের মত দিয়েছেন। তার ভাষায়, ‘যুক্তরাষ্ট্র একটি সাম্রাজ্য হতে চেয়েছে, কিন্তু প্রকৃত অর্থে সাম্রাজ্যের দায়িত্ব নিতে চায়নি।’

তিনি বলেন, ‘সাম্রাজ্য পরিচালনা করতে হলে স্থানীয় ভাষা শিখতে হয়, দীর্ঘ সময় সেখানে অবস্থান করতে হয়। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র তা করেনি। দীর্ঘমেয়াদে কোনো ভূখণ্ড ধরে রাখার জন্য যে ধরনের প্রস্তুতি ও প্রতিশ্রুতি দরকার, তা দেখাতে তারা বরাবরই অনিচ্ছুক।’

ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচনী প্রচারে ‘অন্তহীন যুদ্ধ’ থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে দূরে রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান করে তিনি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বীকে সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছেন।

তবে আগের যুদ্ধগুলোর তুলনায় স্থলবাহিনী না পাঠিয়ে তিনি বিমান হামলার ওপর নির্ভর করেছেন। তাই মার্কিন সেনাদের হতাহত সংখ্যা সীমিত রয়েছে।

অবসরপ্রাপ্ত মার্কিন সেনা লেফটেন্যান্ট জেনারেল ডগলাস লুট এই যুদ্ধের সমালোচক এবং স্থলবাহিনী পাঠানোর বিরোধী। তবে তিনি মনে করেন, স্থলবাহিনী ব্যবহার না করলে যুদ্ধের লক্ষ্যও সীমাবদ্ধ রাখতে হবে।

ট্রাম্প বিভিন্ন সময়ে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস, সরকার উৎখাত এবং দেশটির বিমান, নৌ ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করার কথা বলেছেন।

বুশ ও ওবামা প্রশাসনে ইরাক ও আফগানিস্তান যুদ্ধ সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করা লুট বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য, কৌশল ও সক্ষমতার মধ্যে বারবার অসামঞ্জস্য দেখা গেছে। আমরা কী পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে যাচ্ছি, সে সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণাও ছিল না।’

বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী সামরিক বাহিনী থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতারও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। নিজ ভূখণ্ডে যুদ্ধরত ছোট ও দুর্বল পক্ষগুলো নানা কৌশলে মার্কিন বাহিনীকে চাপে ফেলতে সক্ষম হয়েছে।

আফগানিস্তান ও ইরাকে বিদ্রোহীরা রাস্তার পাশে পেতে রাখা বোমা ও আত্মঘাতী হামলার মাধ্যমে মার্কিন বাহিনীকে দীর্ঘদিন বিপর্যস্ত রেখেছিল। আর ইরান স্বল্পমূল্যের ড্রোন ব্যবহার করছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রচলিত নৌবাহিনীর বড় অংশ ধ্বংস করলেও দেশটি কার্যকরভাবে হরমুজ প্রণালি অচল করে দিতে সক্ষম হয়েছে।

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক স্টিফেন ওয়াল্ট ফরেন পলিসি সাময়িকীতে লিখেছেন, ‘যারা এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বা যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের উন্নত সমন্বিত সামরিক অভিযানের প্রযুক্তিগত সক্ষমতায় মুগ্ধ, তারা উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হচ্ছেন যে আধুনিক যুদ্ধ ধীরে ধীরে স্থানীয় প্রতিরক্ষাকারীদের অনুকূলে ঝুঁকছে, এমনকি তারা আপাতদৃষ্টিতে অনেক দুর্বল হলেও।’

তিনি আরো লেখেন, ‘ইরাক ও আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র আকাশসীমার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ, তাৎক্ষণিক নজরদারি এবং বিপুল সমরাস্ত্রের অধিকারী ছিল। তবুও তারা প্রত্যাশিত রাজনৈতিক ফল অর্জন করতে পারেনি।’

সালেমের মতে, যুক্তরাষ্ট্র বারবার ভেবেছে যে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এসব অপেক্ষাকৃত দুর্বল প্রতিপক্ষকে পরাজিত করা সম্ভব হবে। তাই কূটনৈতিক সমাধানের পথকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।

তার ভাষায়, ‘পররাষ্ট্র দপ্তরের পরামর্শকে দুর্বল বা অকার্যকর বলে প্রায়ই উপেক্ষা করা হয়েছে। ইরান যুদ্ধেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। সেখানে কার্যত পররাষ্ট্র দপ্তরের কোনো উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নেই।’

মধ্যপ্রাচ্যের যে যুদ্ধকে সফল বলে মনে করা হয়, তার মধ্যে বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের একটি যুদ্ধ থেকে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা নেওয়া যায়—১৯৯১ সালের প্রথম উপসাগরীয় যুদ্ধ।

সেই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য ছিল সীমিত—কুয়েত দখলকারী ইরাকি বাহিনীকে সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া। প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ. ডব্লিউ. বুশ জাতিসংঘের সমর্থন আদায়ের পর একটি বৃহৎ আন্তর্জাতিক জোট গঠন করে সামরিক অভিযান শুরু করেন।

ডগলাস লুট বলেন, ‘আমার মতে, সেটিই ছিল শেষ যুদ্ধ যেখানে যুক্তরাষ্ট্র বাস্তবসম্মত লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল।’

ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান যুদ্ধের দ্রুত সমাপ্তি চান। তবে পল সালেম মনে করেন, এই সংঘাত যেভাবেই শেষ হোক না কেন, তা হবে শেষ অধ্যায় নয়। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র যখন ইচ্ছা তখনই ইরানের ওপর সামরিক হামলা চালানোর সক্ষমতা রাখে। অন্যদিকে, ইরানও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব রাখতে পারে এবং পরোক্ষভাবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের ওপর রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

সালেম বলেন, ‘আমার ধারণা, ভবিষ্যতেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সংঘাত হবে।’

তবে বর্তমান যুদ্ধ শেষ পর্যন্ত কীভাবে হবে, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও অজানা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%