০১:৪৯ এম
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত দ্রুত শেষ করার পথ খুঁজছেন।
এ বিষয়ে তিনি না হলেও আপাতত ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনো চুক্তি না করার মাঝেও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করাকেই বড় সাফল্য হিসেবে দেখছেন। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর বরাত দিয়ে ফার্স্টপোস্ট জানিয়েছে, ট্রাম্প তার ঘনিষ্ঠ কয়েকজন কর্মকর্তাকে জানিয়েছেন, যদি ইরান হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেয়, তবে পারমাণবিক চুক্তি ছাড়াই তিনি সংঘাত শেষ করার ঘোষণা দিতে পারেন।
তবে, এ পথে বাধার কথা আত্মস্থ করতে হচ্ছে। হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে ইরান বেশ কিছু কঠোর শর্ত দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র কতটা রাজি হবে সেসব শর্ত মানতে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
আরও পড়ুন: রোববার রাতে পাকিস্তান-আফগানিস্তানে ৫.২ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হল হরমুজ প্রণালী। এই পথে বিপুল পরিমাণ তেল পরিবহন করা হয়ে থাকে। সংঘাতের কারণে প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম ও সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
ইরান দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে, অঞ্চল থেকে মার্কিন সেনা সরিয়ে নিতে হবে এবং ইরানের ওপর আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে।
এছাড়া বিদেশে জব্দ থাকা ইরানের সম্পদ ছাড়তে, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ দাবি করতে এবং মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে তেহরান।
তেহরান আরও বলেছে, তাদের বিরুদ্ধে মার্কিন হুমকি ও সামরিক অভিযান বন্ধ করতে হবে। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীর বিরুদ্ধেও যুক্তরাষ্ট্রকে অভিযান বন্ধ করতে হবে।
আরও পড়ুন: সৌদিতে নিরাপত্তাঝুঁকি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ, মার্কিন নাগরিকদের দেশ ছাড়ার নির্দেশ
এই শর্তগুলির কারণে দুই দেশের মধ্যে দ্রুত সমঝোতায় পৌঁছানো কঠিন হতে পারে বলেই ধারণা করছে অনেকেই।
এদিকে, ইরানের সঙ্গে সংঘাতের সময়ের সঙ্গে ট্রাম্পের ঘরে-বাইরে চাপ বাড়ছে। সামনে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন রয়েছে। যুদ্ধের ফলে জ্বালানির দামও বেড়ে গেছে।
ফলে দ্রুত কোনো অর্জন দেখিয়ে নিজের অবস্থান শক্ত করতে ট্রাম্পের আগ্রহ তৈরি হচ্ছে— এমনটাই মনে করা হচ্ছে।
সম্প্রতি ট্রাম্প দাবি করেছেন, তিনি ইরানের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় সামরিক হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। যদিও মিত্রদের পরামর্শে তিনি শেষ পর্যন্ত সেই হামলা থেকে সরে আসেন।
আরও পড়ুন: হুথিদের হামলার হুমকির মধ্যেই রিয়াদ বিমানবন্দর পুনরায় চালু করল সৌদি আরব
এর আগে ট্রাম্প কয়েকবার ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা হতে পারে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো চুক্তি হয়নি।
গত ৭ আগস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প এমন একটি প্রতিবেদন শেয়ার করেছেন, যার শিরোনাম ছিল— ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান যুদ্ধে জয়ী হয়েছেন’।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিরোধ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের দীর্ঘদিনের উত্তেজনার অন্যতম কারণ। ট্রাম্প প্রশাসনের প্রধান দাবি ছিল, ইরান যেন কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জন করতে না পারে।
কিন্তু পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। এজন্য এখন ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করাকেই বেশি গুরুত্ব দিতে পারেন।
আরও পড়ুন: ইরানের বাধা সত্ত্বেও হরমুজে জাহাজ চলাচল নিরাপদ, মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি
দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প মনে করছেন, ইরানের গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর তেহরানের পক্ষে দ্রুত সেই কর্মসূচি পুনর্গঠন করা কঠিন হবে।
তার ধারণা, ইরান আবার পারমাণবিক স্থাপনা তৈরির চেষ্টা করলে মার্কিন গোয়েন্দারা তা শনাক্ত করতে পারবে। প্রয়োজনে সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার সক্ষমতাও যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে।
এই খবর থেকেই পারমাণবিক চুক্তির বদলে হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল নিশ্চিত করাকে অগ্রাধিকার দিতে পারেন ট্রাম্প।
তবে সমঝোতার পথে সবচেয়ে বড় বাধা হতে পারে ইরানের আর্থিক দাবি।
আরও পড়ুন: ফ্রান্সে শ্রমিক অসন্তোষ, ৫ নভেম্বর ধর্মঘটের ডাক দিল একাধিক সংগঠন
তেহরান যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ হিসেবে বিপুল অর্থ এবং বিদেশে আটকে থাকা ইরানের সম্পদ ফেরত চাচ্ছে। কিন্তু ট্রাম্প এর আগে বলেছেন, মার্কিন করদাতাদের অর্থ ইরানকে দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই।
তবে মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, সমঝোতায় পৌঁছাতে হলে ওয়াশিংটনকে ইরানের কিছু জব্দ সম্পদ ছাড়তে হতে পারে। তবে এর সঙ্গে শর্ত যোগ থাকতে পারে।
এ ছাড়া ইরানকে আবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেল রপ্তানির সুযোগ দেওয়া হবে কি না, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ হতে যাচ্ছে।
এর আগে একটি অন্তর্বর্তী সমঝোতার সময় ইরানের তেল রপ্তানিতে কিছুটা ছাড় দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। পরে হরমুজ প্রণালিতে হামলার ঘটনায় সেই সমঝোতা ভেঙে যায় এবং ইরানের তেল রপ্তানির ওপর আবারও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
আরও পড়ুন: মালয়েশিয়ায় কর্মরত ৫ বাংলাদেশি সাংবাদিক ক্যান্টন ফেয়ারে অংশ নিতে চীন যাচ্ছেন
হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া, মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করা, নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া, ইরানের জব্দ সম্পদ ফেরত এবং যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ— এসব দাবির সমাধানই এখন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতার পথে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন