ঢাকা সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত দ্রুত শেষ করার পথ খুঁজছেন


যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত দ্রুত শেষ করার পথ খুঁজছেন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত দ্রুত শেষ করার পথ খুঁজছেন।

এ বিষয়ে তিনি না হলেও আপাতত ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনো চুক্তি না করার মাঝেও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করাকেই বড় সাফল্য হিসেবে দেখছেন। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর বরাত দিয়ে ফার্স্টপোস্ট জানিয়েছে, ট্রাম্প তার ঘনিষ্ঠ কয়েকজন কর্মকর্তাকে জানিয়েছেন, যদি ইরান হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেয়, তবে পারমাণবিক চুক্তি ছাড়াই তিনি সংঘাত শেষ করার ঘোষণা দিতে পারেন।

তবে, এ পথে বাধার কথা আত্মস্থ করতে হচ্ছে। হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে ইরান বেশ কিছু কঠোর শর্ত দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র কতটা রাজি হবে সেসব শর্ত মানতে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

আরও পড়ুন: রোববার রাতে পাকিস্তান-আফগানিস্তানে ৫.২ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হল হরমুজ প্রণালী। এই পথে বিপুল পরিমাণ তেল পরিবহন করা হয়ে থাকে। সংঘাতের কারণে প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম ও সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

ইরান দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে, অঞ্চল থেকে মার্কিন সেনা সরিয়ে নিতে হবে এবং ইরানের ওপর আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে।

এছাড়া বিদেশে জব্দ থাকা ইরানের সম্পদ ছাড়তে, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ দাবি করতে এবং মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে তেহরান।

তেহরান আরও বলেছে, তাদের বিরুদ্ধে মার্কিন হুমকি ও সামরিক অভিযান বন্ধ করতে হবে। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীর বিরুদ্ধেও যুক্তরাষ্ট্রকে অভিযান বন্ধ করতে হবে।

আরও পড়ুন: সৌদিতে নিরাপত্তাঝুঁকি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ, মার্কিন নাগরিকদের দেশ ছাড়ার নির্দেশ

এই শর্তগুলির কারণে দুই দেশের মধ্যে দ্রুত সমঝোতায় পৌঁছানো কঠিন হতে পারে বলেই ধারণা করছে অনেকেই।

এদিকে, ইরানের সঙ্গে সংঘাতের সময়ের সঙ্গে ট্রাম্পের ঘরে-বাইরে চাপ বাড়ছে। সামনে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন রয়েছে। যুদ্ধের ফলে জ্বালানির দামও বেড়ে গেছে।

ফলে দ্রুত কোনো অর্জন দেখিয়ে নিজের অবস্থান শক্ত করতে ট্রাম্পের আগ্রহ তৈরি হচ্ছে— এমনটাই মনে করা হচ্ছে।

সম্প্রতি ট্রাম্প দাবি করেছেন, তিনি ইরানের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় সামরিক হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। যদিও মিত্রদের পরামর্শে তিনি শেষ পর্যন্ত সেই হামলা থেকে সরে আসেন।

আরও পড়ুন: হুথিদের হামলার হুমকির মধ্যেই রিয়াদ বিমানবন্দর পুনরায় চালু করল সৌদি আরব

এর আগে ট্রাম্প কয়েকবার ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা হতে পারে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো চুক্তি হয়নি।

গত ৭ আগস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প এমন একটি প্রতিবেদন শেয়ার করেছেন, যার শিরোনাম ছিল— ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান যুদ্ধে জয়ী হয়েছেন’।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিরোধ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের দীর্ঘদিনের উত্তেজনার অন্যতম কারণ। ট্রাম্প প্রশাসনের প্রধান দাবি ছিল, ইরান যেন কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জন করতে না পারে।

কিন্তু পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। এজন্য এখন ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করাকেই বেশি গুরুত্ব দিতে পারেন।

আরও পড়ুন: ইরানের বাধা সত্ত্বেও হরমুজে জাহাজ চলাচল নিরাপদ, মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি

দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প মনে করছেন, ইরানের গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর তেহরানের পক্ষে দ্রুত সেই কর্মসূচি পুনর্গঠন করা কঠিন হবে।

তার ধারণা, ইরান আবার পারমাণবিক স্থাপনা তৈরির চেষ্টা করলে মার্কিন গোয়েন্দারা তা শনাক্ত করতে পারবে। প্রয়োজনে সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার সক্ষমতাও যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে।

এই খবর থেকেই পারমাণবিক চুক্তির বদলে হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল নিশ্চিত করাকে অগ্রাধিকার দিতে পারেন ট্রাম্প।

তবে সমঝোতার পথে সবচেয়ে বড় বাধা হতে পারে ইরানের আর্থিক দাবি।

আরও পড়ুন: ফ্রান্সে শ্রমিক অসন্তোষ, ৫ নভেম্বর ধর্মঘটের ডাক দিল একাধিক সংগঠন

তেহরান যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ হিসেবে বিপুল অর্থ এবং বিদেশে আটকে থাকা ইরানের সম্পদ ফেরত চাচ্ছে। কিন্তু ট্রাম্প এর আগে বলেছেন, মার্কিন করদাতাদের অর্থ ইরানকে দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই।

তবে মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, সমঝোতায় পৌঁছাতে হলে ওয়াশিংটনকে ইরানের কিছু জব্দ সম্পদ ছাড়তে হতে পারে। তবে এর সঙ্গে শর্ত যোগ থাকতে পারে।

এ ছাড়া ইরানকে আবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেল রপ্তানির সুযোগ দেওয়া হবে কি না, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ হতে যাচ্ছে।

এর আগে একটি অন্তর্বর্তী সমঝোতার সময় ইরানের তেল রপ্তানিতে কিছুটা ছাড় দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। পরে হরমুজ প্রণালিতে হামলার ঘটনায় সেই সমঝোতা ভেঙে যায় এবং ইরানের তেল রপ্তানির ওপর আবারও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

আরও পড়ুন: মালয়েশিয়ায় কর্মরত ৫ বাংলাদেশি সাংবাদিক ক্যান্টন ফেয়ারে অংশ নিতে চীন যাচ্ছেন

হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া, মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করা, নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া, ইরানের জব্দ সম্পদ ফেরত এবং যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ— এসব দাবির সমাধানই এখন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতার পথে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরানের নতুন নিরাপত্তাপ্রধান মহসেন রেজাই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ১০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০১:৫৫ এম


ইরানের নতুন নিরাপত্তাপ্রধান মহসেন রেজাই

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার ফলে গত মার্চ মাসে নিহত হন ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব আলী লারিজানি। তার আকস্মিক মৃত্যুর পর, মোহাম্মদ বাকের জোলকাদর কিছুদিন ধরে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। তবে অবশেষে সেই পদে স্থায়ীভাবে নিয়োগ পেলেন ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের সাবেক প্রধান মহসেন রেজাই।

ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি তাকে দেশের শীর্ষ এই নিরাপত্তা পদে নিজের ব্যক্তিগত প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ করেছেন। অন্যদিকে, সদ্য সাবেক সচিব মোহাম্মদ বাকের জোলকাদরকে সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি তার রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে নতুন করে নিয়োগ দিয়েছেন।

নতুন নিরাপত্তাপ্রধান মহসেন রেজাই দীর্ঘ সময় ধরে ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক স্তরে কাজ করে আসছেন। বর্তমানে, তিনি ‘এক্সপেডিয়েন্সি ডিসার্নমেন্ট কাউন্সিল’-এর একজন সক্রিয় সদস্য হিসেবে নিযুক্ত রয়েছেন। এই বিশেষ কাউন্সিলটি মূলত দেশের পার্লামেন্ট এবং ‘গার্জিয়ান কাউন্সিল’-এর মধ্যে যেকোনো মতবিরোধ অত্যন্ত সাবলীলভাবে মীমাংসা করে থাকে। উল্লেখ্য, গার্জিয়ান কাউন্সিল একটি স্বতন্ত্র পর্ষদ, যারা মূলত সরকারি পদে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের যোগ্যতা যাচাই-বাছাই করে।

সামরিক অঙ্গনে সদ্য নিযুক্ত মহসেন রেজাইয়ের রয়েছে এক দীর্ঘ ও সমৃদ্ধ অতীত। ১৯৮০-এর দশকে সংঘটিত রক্তক্ষয়ী ইরান-ইরাক যুদ্ধে তিনি একজন সাহসী সামরিক কমান্ডার হিসেবে বীরত্বের সঙ্গে নিজ দেশের হয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। ইরানের সাধারণ মানুষের কাছে এই ঐতিহাসিক যুদ্ধটি ‘পবিত্র প্রতিরক্ষা’ বা ‘স্যাক্রেড ডিফেন্স’ নামে ব্যাপকভাবে পরিচিত।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরানের সঙ্গে দরকষাকষি দাবার চালের মতো: ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ১০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০১:৫৭ এম


ইরানের সঙ্গে দরকষাকষি দাবার চালের মতো: ট্রাম্প

বিশ্বরাজনীতির ময়দানে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সম্পর্ককে ঠিক ‘দাবার চালের’ সঙ্গে তুলনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওমানের মধ্যস্থতায় হরমুজ প্রণালি নিয়ে চুক্তিতে তেহরান রাজি না হলেও তিনি এখনই কোনো সামরিক হুমকি দিচ্ছেন না; বরং অর্থনৈতিক চাপ বাড়িয়ে দেশটিকে পুরোপুরি কাবু করার কৌশল নিয়েই ধীরলয়ে এগোচ্ছে ওয়াশিংটন।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে তিনি তার এই নতুন রাজনৈতিক কৌশলের কথা তুলে ধরেন। ট্রাম্প জানিয়েছেন, শনিবার ইরান নতুন শর্ত জুড়লেও যুক্তরাষ্ট্র আপাতত সামরিক পথে হাঁটছে না। বরং মার্কিন নৌ-অবরোধের কারণে ইরান এখন চরম দুর্দশার মধ্যে পড়েছে। প্রবল মূল্যস্ফীতি এবং তীব্র অর্থকষ্টে ধুঁকতে থাকা সে দেশের ওপর ওয়াশিংটন প্রত্যক্ষভাবে কেবল তীক্ষ্ণ নজর রাখছে।

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, আমরা তাদের সঙ্গে কেবল আংশিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। পরিস্থিতি আসলে এমনিতেই ঠিক হয়ে যাবে, কারণ সব সময়ই এমনটা ঘটে থাকে। পুরো বিষয়টি আসলে অনেকটা দাবা খেলার আদলেই চলছে।

একদিকে নৌ-অবরোধের জেরে ইরানের অর্থনীতি যখন খাদের কিনারে গিয়ে পৌঁছেছে, তখন বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমে ব্যারেলপ্রতি ৭৫ ডলারে নেমে আসায় মার্কিন ভোক্তারা বেশ স্বস্তিতে রয়েছেন। ট্রাম্প এ বিষয়টিকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি বড় সুবিধা হিসেবেই দেখছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মৃত সাংবাদিকদেরও ছাড়ছে না অপপ্রচার, বরিশালে ‘চাটুকার সাংবাদিক সিন্ডিকেট’ নিয়ে প্রশ্ন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল

সোমবার, ১০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:১৬ এম


মৃত সাংবাদিকদেরও ছাড়ছে না অপপ্রচার, বরিশালে ‘চাটুকার সাংবাদিক সিন্ডিকেট’ নিয়ে প্রশ্ন

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) ইতিহাসে দায়িত্ব পালন করা বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা তাঁদের দক্ষতা, প্রশাসনিক সক্ষমতা ও পেশাদার আচরণের কারণে নগরবাসীর কাছে আলাদা পরিচিতি পেয়েছেন। তাঁদের মধ্যে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিএমপি কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করা রুহুল আমিন এবং রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ২০২৬ সালে স্বল্প সময়ের জন্য দায়িত্ব পালন করা কমিশনার আশিক সাঈদের কর্মপদ্ধতিতে কিছুটা মিল ছিল বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

দুই কমিশনারের দায়িত্বকালে একদিকে সাধারণ পুলিশ সদস্যদের প্রতি মানবিক আচরণ ও কল্যাণমূলক দৃষ্টিভঙ্গি, অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর অবস্থান—দুটিই লক্ষ্য করা গেছে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি। কোনো কর্মকর্তা বা সদস্যের বিরুদ্ধে অনিয়ম কিংবা দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রেও তাঁরা কঠোর ছিলেন বলে জানা গেছে।

সাংবাদিকদের সঙ্গেও তাঁদের পেশাদার সম্পর্ক ছিল বলে জানান বরিশালের একাধিক সংবাদকর্মী। কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে সরাসরি কারও কথায় প্রভাবিত না হয়ে তথ্য-প্রমাণ যাচাইয়ের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতা ছিল বলে তাঁদের দাবি।

তবে এসব কর্মকর্তার বিদায়ের পর বরিশালের গণমাধ্যম অঙ্গনে সাংবাদিকদের একটি অংশের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, নতুন কোনো পুলিশ কমিশনার বরিশালে দায়িত্ব গ্রহণ করলেই একটি সুবিধাভোগী মহল নিজেদের প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতায় নামে। নিজেদের প্রভাবশালী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে তারা প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরির চেষ্টা করে এবং এর মাধ্যমে গণমাধ্যম অঙ্গনে এক ধরনের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক অভিযোগ হচ্ছে, নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য জীবিত সাংবাদিকদের পাশাপাশি মৃত সাংবাদিকদের বিরুদ্ধেও নানা ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এমনকি কোনো কোনো মৃত সাংবাদিকের নামেও মাদকসেবন কিংবা মাদক সংশ্লিষ্টতার মতো গুরুতর অভিযোগ ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর পর তাঁর বিরুদ্ধে যাচাই-বাছাই ছাড়া এমন অভিযোগ তোলা শুধু ওই ব্যক্তির পরিবারের জন্যই অপমানজনক নয়, এটি পুরো সাংবাদিক সমাজের মর্যাদাকেও প্রশ্নের মুখে ফেলে।

বরিশালের গণমাধ্যমকর্মীদের একটি অংশের অভিযোগ, একটি সুবিধাভোগী সাংবাদিক গোষ্ঠীর প্রধান মনোযোগ এখন পেশাদার সাংবাদিকতার পরিবর্তে প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি এবং বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা আদায়ের দিকে। এমনকি সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের ঠিকাদারি বা অন্যান্য ব্যবসায়িক সুবিধা আদায়ে সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

সমালোচকদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার পালাবদল হলেও সুবিধাভোগী এই মহলের অবস্থানে খুব একটা পরিবর্তন আসেনি। ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গঠনমূলক সমালোচনা, জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট অনুসন্ধানী প্রতিবেদন কিংবা দুর্নীতি-অনিয়মের নিরপেক্ষ সংবাদ প্রকাশের পরিবর্তে একটি অংশ প্রশাসনের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

অন্যদিকে বরিশালের গণমাধ্যমে বর্তমানে একদল তরুণ, মেধাবী ও উচ্চশিক্ষিত সংবাদকর্মী কাজ করছেন। অনেকেই নিজেদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক অর্থে পেশাগত দায়িত্ব পালন করছেন এবং কোনো ধরনের আর্থিক সুবিধার প্রত্যাশা ছাড়াই ঝুঁকি নিয়ে জনস্বার্থের সংবাদ সংগ্রহ করছেন। তাঁদের কাছে সাংবাদিকতা এখনো মানুষের কথা বলার এবং সমাজের অনিয়ম তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।

তবে তরুণ সাংবাদিকদের একটি অংশের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠিত কিছু সাংবাদিক নেতা তাঁদের পেশাগত বিকাশে নানাভাবে বাধা সৃষ্টি করছেন। তরুণরা নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে পারলে দীর্ঘদিন ধরে সুবিধা ভোগ করে আসা একটি মহলের প্রভাব কমে যেতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই তাদের নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সচেতন মহলের মতে, সাংবাদিকতা কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত প্রভাব বিস্তার কিংবা প্রশাসনিক সুবিধা আদায়ের মাধ্যম হতে পারে না। একইভাবে কারও বিরুদ্ধে মাদক, দুর্নীতি বা অন্য কোনো গুরুতর অভিযোগ থাকলে তা অবশ্যই তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে প্রকাশ করা উচিত। বিশেষ করে প্রয়াত সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ ছড়ানোর আগে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ ও সংশ্লিষ্ট পরিবারের বক্তব্য যাচাই করা জরুরি।

বরিশালের সাংবাদিক সমাজের একটি অংশ মনে করছে, ব্যক্তিস্বার্থ ও প্রশাসনিক সুবিধার ঊর্ধ্বে উঠে বস্তুনিষ্ঠ, অনুসন্ধানী ও জনস্বার্থভিত্তিক সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। একই সঙ্গে সাংবাদিকতার নামে অপপ্রচার, চরিত্রহনন ও প্রভাব বিস্তারের সংস্কৃতি বন্ধ করে পেশাদারিত্ব ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সৌদি আরবে কারখানায় আগুনে অন্তত ১৬ বাংলাদেশির মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ১০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:১৬ এম


সৌদি আরবে কারখানায় আগুনে অন্তত ১৬ বাংলাদেশির মৃত্যু

সৌদি আরবের রিয়াদে একটি সোফা কারখানায় আগুনে দগ্ধ হওয়ার পর অন্তত ১৬ বাংলাদেশির মৃত্যুর খবর জানিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়। এদের মধ্যে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার ১০ জনের মৃত্যুর খবর জানা গেছে। পাশের নাটোর জেলার নলডাঙ্গা উপজেলার আরও তিন বাসিন্দা নিহত হয়েছেন।

রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরের এই ঘটনায় ওই কারখানায় নিহতদের মধ্যে নাটোরের নলডাঙ্গার খাজুরা এলাকার তিন বাসিন্দারা থাকার তথ্য জানিয়েছেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান।

রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের বরাতে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় রাত দেড়টায় জানায়, ভয়াবহ এ অগ্নিকাণ্ডে ঘটনাস্থলে ১৬ জন মারা যাওয়ার তথ্য দিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকর্মীরা। আগুনে পুড়ে যাওয়ায় মৃতদেহ শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

এর আগে রাতে নিহতদের স্বজনদের বরাতে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, রোববার দুপুরের দিকে ওই সোফা কারখানায় আগুন লেগেছিল, এতে অন্তত ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। বাংলাদেশি ছাড়াও অন্য দেশের নাগরিক আছে কিনা সেটা অবশ্য স্বজনরা পরিস্কার করে বলতে পারেননি।

সৌদি দূতাবাসের কাউন্সেলর (শ্রম) মুহাম্মদ রেজায়ে রাব্বীর বরাতে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, সৌদির কারখানায় মৃতের প্রকৃত সংখ্যা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রকৃত সংখ্যা পাওয়া গেলে তা জানিয়ে দেওয়া হবে।

আত্রাই উপজেলা ইউএনও মো. মনিরুজ্জামান বলেন, রাত সাড়ে ১০টার দিকে সাতজনের মৃত্যুর বিষয়টি জানা ছিল। পরে ১০ জনের মৃত্যুর খবর পান। এখনো উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে। তবে এই মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, এখন পর্যন্ত ১০ জনের মৃত্যুর বিষয়টি জানা গেছে। ইউএনও খোঁজ নিতে বের হয়েছেন।

আত্রাইয়ের ইউএনও জানান, নিহতদের মধ্যে উপজেলার গন্ডগোহালী গ্রামের চারজন, বিষা গ্রামের দুজন এবং পারকাসুন্দা গ্রামের একজনের মৃত্যুর খবর প্রথমে পাওয়া যায়। পরে আরও মৃত্যুর খবর আসে।

আত্রাই উপজেলার নিহতরা হলেন- উপজেলার বিশা ইউনিয়নের বিশা গ্রামের সাগর (৩১) ও একই গ্রামের মজিদুল (৩৪), উদনপৈ গ্রামের ফরিদ শেখ (৩২), ডুবাই গ্রামের সুমন (৩৫) ও হাসিবুল হাসান (২৭), কালিকাপুর ইউনিয়নের গন্ডগোহালি গ্রামের মহুন প্রামাণিক (৪২), সুমন প্রামাণিক, রুবেল হোসেন (৩০), কলি প্রামাণিক (৩৫) এবং পারকাসুন্দা গ্রামের আবদুল জলিল (৩৮)।

অপরদিকে ওই সোফা কারখানায় লাগা আগুনে নিহতদের মধ্যে নাটোরের নলডাঙ্গার খাজুরা এলাকার তিন বাসিন্দার থাকার তথ্য দিয়েছেন খাজুরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. সোহরাব হোসেন। নিহতদের স্বজনদের বরাতে তিনি এ খবর জানিয়েছেন।

নিহতরা হলেন- নলডাঙ্গার খাজুরা শ্রীপুরপাড়া এলাকার গোলাম রাব্বানীর ছেলে সাব্বির হোসেন সোহাগ, দিঘীর পাড় এলাকার জাকের হোসেনের ছেলে শামীম হোসেন এবং মহিষডাঙ্গা এলাকার আসলাম আলীর ছেলে রবিউল আওয়াল হৃদয়।

প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের শোক

সৌদি আরবে সোফা কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার ৭ জন প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

এক শোক বার্তায় মন্ত্রী বলেছেন, সৌদি আরবে কর্মরত এই প্রবাসীদের এমন অকাল ও মর্মান্তিক মৃত্যু অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। দেশের অর্থনীতিতে তাদের অবদান অপরিসীম। তাদের এই আকস্মিক প্রয়াণে তিনি গভীর শোকাহত। নিহতদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি তিনি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন।

প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী আরও জানান, সৌদি আরবে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে দুর্ঘটনাস্থল ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। নিহত প্রবাসীদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা এবং তাদের পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সরকারি সহায়তা, ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৭
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%