ঢাকা সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মৃত সাংবাদিকদেরও ছাড়ছে না অপপ্রচার, বরিশালে ‘চাটুকার সাংবাদিক সিন্ডিকেট’ নিয়ে প্রশ্ন


মৃত সাংবাদিকদেরও ছাড়ছে না অপপ্রচার, বরিশালে ‘চাটুকার সাংবাদিক সিন্ডিকেট’ নিয়ে প্রশ্ন

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) ইতিহাসে দায়িত্ব পালন করা বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা তাঁদের দক্ষতা, প্রশাসনিক সক্ষমতা ও পেশাদার আচরণের কারণে নগরবাসীর কাছে আলাদা পরিচিতি পেয়েছেন। তাঁদের মধ্যে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিএমপি কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করা রুহুল আমিন এবং রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ২০২৬ সালে স্বল্প সময়ের জন্য দায়িত্ব পালন করা কমিশনার আশিক সাঈদের কর্মপদ্ধতিতে কিছুটা মিল ছিল বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

দুই কমিশনারের দায়িত্বকালে একদিকে সাধারণ পুলিশ সদস্যদের প্রতি মানবিক আচরণ ও কল্যাণমূলক দৃষ্টিভঙ্গি, অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর অবস্থান—দুটিই লক্ষ্য করা গেছে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি। কোনো কর্মকর্তা বা সদস্যের বিরুদ্ধে অনিয়ম কিংবা দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রেও তাঁরা কঠোর ছিলেন বলে জানা গেছে।

সাংবাদিকদের সঙ্গেও তাঁদের পেশাদার সম্পর্ক ছিল বলে জানান বরিশালের একাধিক সংবাদকর্মী। কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে সরাসরি কারও কথায় প্রভাবিত না হয়ে তথ্য-প্রমাণ যাচাইয়ের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতা ছিল বলে তাঁদের দাবি।

তবে এসব কর্মকর্তার বিদায়ের পর বরিশালের গণমাধ্যম অঙ্গনে সাংবাদিকদের একটি অংশের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, নতুন কোনো পুলিশ কমিশনার বরিশালে দায়িত্ব গ্রহণ করলেই একটি সুবিধাভোগী মহল নিজেদের প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতায় নামে। নিজেদের প্রভাবশালী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে তারা প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরির চেষ্টা করে এবং এর মাধ্যমে গণমাধ্যম অঙ্গনে এক ধরনের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক অভিযোগ হচ্ছে, নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য জীবিত সাংবাদিকদের পাশাপাশি মৃত সাংবাদিকদের বিরুদ্ধেও নানা ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এমনকি কোনো কোনো মৃত সাংবাদিকের নামেও মাদকসেবন কিংবা মাদক সংশ্লিষ্টতার মতো গুরুতর অভিযোগ ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর পর তাঁর বিরুদ্ধে যাচাই-বাছাই ছাড়া এমন অভিযোগ তোলা শুধু ওই ব্যক্তির পরিবারের জন্যই অপমানজনক নয়, এটি পুরো সাংবাদিক সমাজের মর্যাদাকেও প্রশ্নের মুখে ফেলে।

বরিশালের গণমাধ্যমকর্মীদের একটি অংশের অভিযোগ, একটি সুবিধাভোগী সাংবাদিক গোষ্ঠীর প্রধান মনোযোগ এখন পেশাদার সাংবাদিকতার পরিবর্তে প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি এবং বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা আদায়ের দিকে। এমনকি সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের ঠিকাদারি বা অন্যান্য ব্যবসায়িক সুবিধা আদায়ে সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

সমালোচকদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার পালাবদল হলেও সুবিধাভোগী এই মহলের অবস্থানে খুব একটা পরিবর্তন আসেনি। ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গঠনমূলক সমালোচনা, জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট অনুসন্ধানী প্রতিবেদন কিংবা দুর্নীতি-অনিয়মের নিরপেক্ষ সংবাদ প্রকাশের পরিবর্তে একটি অংশ প্রশাসনের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

অন্যদিকে বরিশালের গণমাধ্যমে বর্তমানে একদল তরুণ, মেধাবী ও উচ্চশিক্ষিত সংবাদকর্মী কাজ করছেন। অনেকেই নিজেদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক অর্থে পেশাগত দায়িত্ব পালন করছেন এবং কোনো ধরনের আর্থিক সুবিধার প্রত্যাশা ছাড়াই ঝুঁকি নিয়ে জনস্বার্থের সংবাদ সংগ্রহ করছেন। তাঁদের কাছে সাংবাদিকতা এখনো মানুষের কথা বলার এবং সমাজের অনিয়ম তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।

তবে তরুণ সাংবাদিকদের একটি অংশের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠিত কিছু সাংবাদিক নেতা তাঁদের পেশাগত বিকাশে নানাভাবে বাধা সৃষ্টি করছেন। তরুণরা নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে পারলে দীর্ঘদিন ধরে সুবিধা ভোগ করে আসা একটি মহলের প্রভাব কমে যেতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই তাদের নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সচেতন মহলের মতে, সাংবাদিকতা কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত প্রভাব বিস্তার কিংবা প্রশাসনিক সুবিধা আদায়ের মাধ্যম হতে পারে না। একইভাবে কারও বিরুদ্ধে মাদক, দুর্নীতি বা অন্য কোনো গুরুতর অভিযোগ থাকলে তা অবশ্যই তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে প্রকাশ করা উচিত। বিশেষ করে প্রয়াত সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ ছড়ানোর আগে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ ও সংশ্লিষ্ট পরিবারের বক্তব্য যাচাই করা জরুরি।

বরিশালের সাংবাদিক সমাজের একটি অংশ মনে করছে, ব্যক্তিস্বার্থ ও প্রশাসনিক সুবিধার ঊর্ধ্বে উঠে বস্তুনিষ্ঠ, অনুসন্ধানী ও জনস্বার্থভিত্তিক সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। একই সঙ্গে সাংবাদিকতার নামে অপপ্রচার, চরিত্রহনন ও প্রভাব বিস্তারের সংস্কৃতি বন্ধ করে পেশাদারিত্ব ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সৌদি আরবে কারখানায় আগুনে অন্তত ১৬ বাংলাদেশির মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ১০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:১৬ এম


সৌদি আরবে কারখানায় আগুনে অন্তত ১৬ বাংলাদেশির মৃত্যু

সৌদি আরবের রিয়াদে একটি সোফা কারখানায় আগুনে দগ্ধ হওয়ার পর অন্তত ১৬ বাংলাদেশির মৃত্যুর খবর জানিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়। এদের মধ্যে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার ১০ জনের মৃত্যুর খবর জানা গেছে। পাশের নাটোর জেলার নলডাঙ্গা উপজেলার আরও তিন বাসিন্দা নিহত হয়েছেন।

রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরের এই ঘটনায় ওই কারখানায় নিহতদের মধ্যে নাটোরের নলডাঙ্গার খাজুরা এলাকার তিন বাসিন্দারা থাকার তথ্য জানিয়েছেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান।

রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের বরাতে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় রাত দেড়টায় জানায়, ভয়াবহ এ অগ্নিকাণ্ডে ঘটনাস্থলে ১৬ জন মারা যাওয়ার তথ্য দিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকর্মীরা। আগুনে পুড়ে যাওয়ায় মৃতদেহ শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

এর আগে রাতে নিহতদের স্বজনদের বরাতে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, রোববার দুপুরের দিকে ওই সোফা কারখানায় আগুন লেগেছিল, এতে অন্তত ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। বাংলাদেশি ছাড়াও অন্য দেশের নাগরিক আছে কিনা সেটা অবশ্য স্বজনরা পরিস্কার করে বলতে পারেননি।

সৌদি দূতাবাসের কাউন্সেলর (শ্রম) মুহাম্মদ রেজায়ে রাব্বীর বরাতে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, সৌদির কারখানায় মৃতের প্রকৃত সংখ্যা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রকৃত সংখ্যা পাওয়া গেলে তা জানিয়ে দেওয়া হবে।

আত্রাই উপজেলা ইউএনও মো. মনিরুজ্জামান বলেন, রাত সাড়ে ১০টার দিকে সাতজনের মৃত্যুর বিষয়টি জানা ছিল। পরে ১০ জনের মৃত্যুর খবর পান। এখনো উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে। তবে এই মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, এখন পর্যন্ত ১০ জনের মৃত্যুর বিষয়টি জানা গেছে। ইউএনও খোঁজ নিতে বের হয়েছেন।

আত্রাইয়ের ইউএনও জানান, নিহতদের মধ্যে উপজেলার গন্ডগোহালী গ্রামের চারজন, বিষা গ্রামের দুজন এবং পারকাসুন্দা গ্রামের একজনের মৃত্যুর খবর প্রথমে পাওয়া যায়। পরে আরও মৃত্যুর খবর আসে।

আত্রাই উপজেলার নিহতরা হলেন- উপজেলার বিশা ইউনিয়নের বিশা গ্রামের সাগর (৩১) ও একই গ্রামের মজিদুল (৩৪), উদনপৈ গ্রামের ফরিদ শেখ (৩২), ডুবাই গ্রামের সুমন (৩৫) ও হাসিবুল হাসান (২৭), কালিকাপুর ইউনিয়নের গন্ডগোহালি গ্রামের মহুন প্রামাণিক (৪২), সুমন প্রামাণিক, রুবেল হোসেন (৩০), কলি প্রামাণিক (৩৫) এবং পারকাসুন্দা গ্রামের আবদুল জলিল (৩৮)।

অপরদিকে ওই সোফা কারখানায় লাগা আগুনে নিহতদের মধ্যে নাটোরের নলডাঙ্গার খাজুরা এলাকার তিন বাসিন্দার থাকার তথ্য দিয়েছেন খাজুরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. সোহরাব হোসেন। নিহতদের স্বজনদের বরাতে তিনি এ খবর জানিয়েছেন।

নিহতরা হলেন- নলডাঙ্গার খাজুরা শ্রীপুরপাড়া এলাকার গোলাম রাব্বানীর ছেলে সাব্বির হোসেন সোহাগ, দিঘীর পাড় এলাকার জাকের হোসেনের ছেলে শামীম হোসেন এবং মহিষডাঙ্গা এলাকার আসলাম আলীর ছেলে রবিউল আওয়াল হৃদয়।

প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের শোক

সৌদি আরবে সোফা কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার ৭ জন প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

এক শোক বার্তায় মন্ত্রী বলেছেন, সৌদি আরবে কর্মরত এই প্রবাসীদের এমন অকাল ও মর্মান্তিক মৃত্যু অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। দেশের অর্থনীতিতে তাদের অবদান অপরিসীম। তাদের এই আকস্মিক প্রয়াণে তিনি গভীর শোকাহত। নিহতদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি তিনি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন।

প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী আরও জানান, সৌদি আরবে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে দুর্ঘটনাস্থল ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। নিহত প্রবাসীদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা এবং তাদের পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সরকারি সহায়তা, ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৪ আর্থিক প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক নিয়োগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ১০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:২০ এম


৪ আর্থিক প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক নিয়োগ

দুর্বল ৪টি ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ বাতিল করে বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংক প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে।

প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে- আভিভা ফাইন্যান্স লিমিটেড, ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড, এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড।

কিন্তু আদালতে চলমান মামলার কারণে পিপলস লিজিং এই তালিকার বাইরে রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক জানায় যে, বড় অঙ্কের মূলধন ঘাটতি, উচ্চমাত্রার শ্রেণিকৃত ঋণ এবং বিনিয়োগ, তারল্য সংরক্ষণে ব্যর্থতা, আয়ক্ষমতার অবনতি এবং আমানতকারী ও পাওনাদারদের দায় পরিশোধে অক্ষমতা প্রভৃতি কারণে চারটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে অকার্যকর ঘোষণা করা হয়েছে।

আর্থিক খাতে সুশাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা, জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ, আমানতকারী ও অন্যান্য পাওনাদারের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং আর্থিক খাতের প্রতি জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে, ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬-এর আওতায় চারটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে অকার্যকর ঘোষণা করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

রেজল্যুশন কার্যক্রমের সুষ্ঠু, কার্যকর ও নির্বিঘ্ন বাস্তবায়ন এবং আমানতকারীসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনের স্বার্থ সংরক্ষণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুমিল্লায় নারী হত্যা: ডোবা থেকে উদ্ধার খণ্ডিত মরদেহের মাথা-পায়ের অংশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:২৩ এম


কুমিল্লায় নারী হত্যা: ডোবা থেকে উদ্ধার খণ্ডিত মরদেহের মাথা-পায়ের অংশ

কুমিল্লার দেবিদ্বারে ফরিদা ইয়াসমিন (৫০) নামে একজন নারীকে জবাই করে হত্যা করে পরে মরদেহকে টুকরা টুকরো করে ৯টি পলিথিনের ব্যাগে ভরে ফেলে রাখার এই ঘটনায় পুলিশ অবশেষে নিহতের মাথা ও পায়ের বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করেছে।

রোববার (৯ আগস্ট) বিকেলে ঘটনার প্রায় ২০ ঘণ্টা পর দেবিদ্বার পৌর এলাকার ছোট আলমপুরের একটি ডোবা থেকে এসব অংশ উদ্ধার করেছে দেবিদ্বার থানা পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ফরিদা ইয়াসমিন প্রায় ৩০ বছর ধরে দেবিদ্বার পৌরসভার ছোট আলমপুর পূর্বাশা আবাসিক এলাকায় স্বামী ও সন্তানদের নিয়ে বসবাস করতেন। তাঁর স্বামী মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়া চট্টগ্রামে জাহাজে চাকরি করেন। তাদের দুই মেয়ের মধ্যে বড় মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে এবং ছোট মেয়েটি, মরিয়ম আক্তার, মায়ের সঙ্গে থাকতেন।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাতের ঘটনা, যখন ছোট মেয়ে একদিনের জন্য স্বামীর বাড়িতে গিয়েছিল, সে সময় ফরিদা ইয়াসমিন একা ছিলেন। ১২ দিন আগে, লাইলী আক্তার ওই বাড়িতে একটি কক্ষ ভাড়া নেন এবং পরে বাড়ির মালিকের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক গড়ে তুলে লাইলী স্বর্ণালংকার ও টাকা-পয়সার অবস্থান জানার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার রাতে কোনো এক সময় ফরিদা ইয়াসমিনকে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। এরপর তাঁর শরীরকে টুকরা করা হয় এবং বিভিন্ন অংশ পলিথিনে মোড়ানো হয়ে বাড়ির পেছনে একটি গলিতে ফেলে রাখা হয়। ঘটনার খবর জানাজানি হলে লাইলী পালানোর চেষ্টা করেন, কিন্তু স্থানীয়রা তাঁকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়।

পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পলিথিনে মোড়ানো মরদেহের বিভিন্ন অংশের ৯টি ব্যাগ উদ্ধার করে, কিন্তু তখন নিহতের মাথা ও পায়ের অংশ পাওয়া যায়নি। রবিবারের সন্ধ্যায় ডোবা থেকে বাড়তি মাথা ও পায়ের বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের মতে, লাইলী আক্তার ২০২১ সালে দেবিদ্বারে পাঁচ বছরের শিশু ফাহিমা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। ওই ঘটনায় ফাহিমাকে গলা কেটে হত্যা করে মরদেহ খালে পুঁতে রাখার অভিযোগ উঠেছিল। র‌্যাব পরে অভিযান চালিয়ে ফাহিমার বাবা আমির হোসেন, তাঁর প্রেমিকা লাইলী আক্তারসহ আরও ৫ জনকে গ্রেফতার করে। পরে তাঁরা আদালতে হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন বলে পুলিশের দাবি। ওই মামলায় প্রায় সাড়ে চার বছর কারাভোগের পর কয়েক মাস আগে জামিনে মুক্তি পান লাইলী। তবে মামলাটির বিচার এখনো সম্পন্ন হয়নি।

দেবিদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন, লাইলী আক্তার ২০২১ সালের শিশু ফাহিমা হত্যাকাণ্ডের মামলার আসামি ছিলেন। তিনি কয়েক মাস আগে জামিনে মুক্তি পান। ধারণা করা হচ্ছে, বাড়ির মালিকের স্বর্ণালংকারের লোভে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।

এ হত্যার ঘটনার বিষয়ে নিহতের স্বামী মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়া বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। তিনি আরও জানান, আটক লাইলীকে জিজ্ঞাসাবাদে আরও কয়েকজনের নাম পাওয়া গেছে। তাঁদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে এবং হত্যার প্রকৃত কারণ এবং অন্য কেউ এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কি না, সেই বিষয়ে তদন্ত চলছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিদেশ ভ্রমণ প্যাকেজের মূল্য পরিশোধ করা যাবে বাংলাদেশি টাকায়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ১০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:২৬ এম


বিদেশ ভ্রমণ প্যাকেজের মূল্য পরিশোধ করা যাবে বাংলাদেশি টাকায়

বিদেশ ভ্রমণের প্যাকেজের মূল্য এখন থেকে বাংলাদেশি টাকায় পরিশোধ করার সুযোগ পাচ্ছেন ভ্রমণকারীরা। স্থানীয়ভাবে লাইসেন্সপ্রাপ্ত ট্যুর অপারেটরগুলোর বিদেশ ভ্রমণের প্যাকেজের মূল্য বাংলাদেশি টাকায় গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমতি প্রদান করেছে।

রোববার (১০ আগস্ট) তারিখে জারি করা এক নির্দেশনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ সুবিধার কথা ঘোষণা করেছে। এর ফলে বিদেশ ভ্রমণের প্যাকেজের আওতায় বিভিন্ন সেবার, যেমন হোটেল এবং যাতায়াতসহ, মূল্য টাকায় পরিশোধ করার সুযোগ থাকবে।

নতুন এই ব্যবস্থায় ট্যুর অপারেটররা ভ্রমণের জন্য আগ্রহী ব্যক্তিদের কাছ থেকে দেশে টাকায় প্যাকেজের মূল্য সংগ্রহ করতে পারবেন। এরপর তারা অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকের মাধ্যমে বিদেশে সংশ্লিষ্ট ট্যুর অপারেটর, হোটেল অথবা ডেস্টিনেশন ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিকে প্রয়োজনীয় বৈদেশিক মুদ্রা পাঠাতে পারবেন। এই প্রক্রিয়ায় গ্রাহকদের কাছ থেকে সংগৃহীত টাকার বিপরীতে প্রচলিত বিনিময় হারে বৈদেশিক মুদ্রা প্রেরণ করা হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এই সুবিধা প্রদান করার জন্য ট্যুর অপারেটরদের ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টোয়াব) সদস্য হতে হবে। একইসাথে তাদের বিদেশি ট্যুর অপারেটর, হোটেল বা ডেস্টিনেশন ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির সঙ্গে একটি সমঝোতা বা চুক্তি থাকতে হবে।

বিদেশি প্যাকেজের বিপরীতে এই ব্যবস্থার মাধ্যমে একজন ভ্রমণকারীর জন্য বছরে সর্বোচ্চ ৩ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত বৈদেশিক মুদ্রা পাঠানো যাবে। এই সীমা ভ্রমণের জন্য নির্ধারিত বার্ষিক বৈদেশিক মুদ্রার কোটার বাইরে প্রযোজ্য হবে। তবে এতে সভাপ্রাপক হিসেবে গ্রাহকের বাংলাদেশি টাকায় পরিশোধ করা প্যাকেজের মূল্য থাকতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, গ্রাহকের কাছ থেকে সংগৃহীত টাকা সত্যিকার অর্থেই বিদেশ ভ্রমণের সেবার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে কিনা, তা নিশ্চিত করতে হবে। এই জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংরক্ষণ করতে হবে। এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হবে বিদেশি সেবা প্রদানকারীর ইনভয়েস বা চুক্তিপত্র, বিস্তারিত ভ্রমণসূচি এবং ব্যয়ের হিসাব, ভ্রমণকারীদের পাসপোর্ট নম্বরসহ তালিকা, দেশীয় ও বিদেশি ট্যুর অপারেটরের মধ্যে চুক্তি এবং গ্রাহকের কাছ থেকে টাকায় অর্থ গ্রহণের প্রমাণ।

প্রত্যেক ভ্রমণকারীর পাসপোর্ট নম্বরের বিপরীতে লেনদেনের রেকর্ড সংরক্ষণ করা হবে ট্যুর অপারেটরদের জন্য। একইসঙ্গে একটি ক্যালেন্ডার বছরে প্রত্যেক ভ্রমণকারীর জন্য মোট কত বৈদেশিক মুদ্রা ছাড় করা হয়েছে, তার সমন্বিত হিসাব রাখতে হবে।

কোনো ভ্রমণকারীর কাছে জানা যাবে কিনা যে, তিনি অন্য কোনো ট্যুর অপারেটরের মাধ্যমে তার বার্ষিক বৈদেশিক মুদ্রার সীমা কোনো কারণে ইতোমধ্যে ব্যবহার করেছেন, সেই বিষয়টি সম্পর্কে তার কাছ থেকে ঘোষণাপত্রও নিতে হবে ট্যুর অপারেটরদের। ট্যুর অপারেটররা তাদের সেবা মূল্য বা কমিশন বাংলাদেশি টাকায় রাখতে পারবেন। তবে বিদেশি অংশীদারদের কাছে পাঠানোর অর্থের পরিমাণ হতে হবে প্রযোজ্য কর বাদ দেওয়ার পর প্রকৃত পাওনা অর্থের সমান।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানাচ্ছে, এই সুবিধা শুধুমাত্র প্রকৃত বিদেশ ভ্রমণসেবার জন্যই ব্যবহার করা হবে। অন্য কোনো উদ্দেশ্যে অর্থ স্থানান্তর, নিশ্চিত বুকিং বা চুক্তিগত দায়বদ্ধতা ছাড়া আগাম অর্থ পাঠানোর কার্যক্রম, কিংবা ভ্রমণ ব্যয়ের আড়ালে মূলধনী হিসাবের লেনদেন এই ব্যবস্থার আওতায় আসবে না।

বিদেশে অর্থ পাঠানোর আগে অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকগুলো সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যাচাই করবে এবং নিশ্চিত করবে লেনদেনটি প্রকৃত ও বৈধ কি না। অর্থ পাঠানোর পর সাত দিনের মধ্যে এসব রেমিট্যান্সের তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংককে জানাতে হবে। পরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তা যাচাই করবে।

বিদেশ ভ্রমণের প্যাকেজের বিপরীতে অর্থ পাঠানোর বিষয়ে গত ৭ মে জারি করা বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনসংক্রান্ত নির্দেশনায় এফইপিডি-তে থাকা বিধান সংশোধন করে নতুন নির্দেশনাটি জারি করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৭
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%