বৃহস্পতিবার, ২ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৩:০২ পি.এম
গাজীপুরে লিথী গ্রুপের পাঁচটি ইউনিট একযোগে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।
এর ফলে এসব কারখানায় কর্মরত প্রায় আড়াই হাজার শ্রমিক হঠাৎ করেই কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। গ্যাস সংকট, ক্রয়াদেশ কমে যাওয়াসহ বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে কারখানাগুলো বন্ধ করা হয়েছে।
বুধবার (১ জুলাই) থেকে এই বন্ধ কার্যকর করা হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার (৩০ জুন) কর্তৃপক্ষ কারখানার প্রধান ফটকে বন্ধের নোটিশ টানিয়ে দেয়। কারখানাটি গাজীপুর সদর উপজেলার বাঘের বাজার এলাকায় অবস্থিত। বুধবার রাত পৌনে ৮টায় কারখানার পরিচালক মনিরুজ্জামান মুঠোফোনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
লিথী গ্রুপের বন্ধ হওয়া পাঁচটি ইউনিট হলো- অ্যাপারেল-২১ লি., ফমকম ফ্যাশন লি., ফমকম ডাইং লি., ফমকম প্রিন্টিং লি. এবং ফমকম নিটিং লি.. কারখানার পরিচালক জানান, ব্যাংক থেকে সময়মতো সহায়তা পাওয়া যাচ্ছে না। কারখানা বন্ধ হলেও শ্রমিকদের পাওনা বুঝিয়ে দেয়া হয়নি। তবে কারখানা সংশ্লিষ্ট সব বিভাগের কর্মকর্তা ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে সবার মতামত ও সমঝোতার ভিত্তিতেই তাদের পাওনা পরিশোধ করে দেয়া হবে বলে জানান তিনি।
কারখানা বন্ধের নোটিশে কর্তৃপক্ষ উল্লেখ করেছে, গ্যাস কানেকশন বন্ধ থাকা, ক্রয়াদেশ কমে যাওয়া, ভবিষ্যতে ক্রয়াদেশের পূর্বাভাস না থাকা, বিগত বছরগুলোতে বারবার অযৌক্তিক শ্রম আন্দোলন হওয়া, পণ্যের বিক্রয় মূল্য উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাওয়া এবং időমতো ব্যাংকিং সহায়তা না পাওয়া—এসব কারণে নিয়মিত কারখানা বিশাল লোকসানের সম্মুখীন হয়ে আসছে। বর্তমান মালিকের পক্ষে কারখানা পরিচালনা করার মতো আর্থিক সামর্থ্য না থাকার কারণে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই বুধবার (১ জুলাই) থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হলো।
নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়, ভবিষ্যতে কারখানা চালু এবং ব্যবসা পরিচালনার অনুকূল পরিবেশ তৈরি হলে পুরোনো দক্ষ কর্মীদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে। সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা ও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমঝোতার সিদ্ধান্ত মোতাবেক বেতন ও পাওনা পরিশোধ করা হবে।
বাংলাদেশ পোশাক শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আকাশ আহম্মেদ বলেন, ‘লিথী গ্রুপের সব কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করায় হাজার হাজার শ্রমিক-কর্মচারীর ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত হয়ে গেল। দেশের অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখতে পোশাক শিল্পের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতের সংকট কাটাতে দ্রুত স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন।’
এর আগে গত বুধবার (২৪ জুন) সকাল ১০টার দিকে লিথী গ্রুপের ফমকম ফ্যাশন লিমিটেড কারখানার শ্রমিকেরা বন্ধ কারখানা চালু ও বকেয়া বেতনের দাবিতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুর সদর উপজেলার বাঘের বাজার এলাকায় কারখানার পাশে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।
শ্রমিকেরা জানান, আর্থিক সংকটের কারণ দেখিয়ে গত ৭ জুন থেকে ফমকম ফ্যাশন লিমিটেড কারখানা কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ১৩ (১) ধারা অনুযায়ী বন্ধ ঘোষণা করে। এর আগে কারখানা কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের মে মাসের বেতন পরিশোধের জন্য ২৩ জুন তারিখ নির্ধারণ করেছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে তারা বকেয়া বেতন পরিশোধ করতে পারেনি। মানববন্ধনে অংশ নেয়া শ্রমিকরা অবিলম্বে বকেয়া বেতন পরিশোধ, কারখানা পুনরায় চালু এবং তাদের সব পাওনা বুঝিয়ে দেয়ার দাবি জানান।
তারা আরও জানান, দীর্ঘদিন কারখানা বন্ধ থাকায় চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন শ্রমিকরা। নিয়মিত আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে। বকেয়া বেতন না পাওয়ায় তাদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। সমস্যা সমাধানে মালিকপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।
গাজীপুর কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতরের উপ-মহাপরিদর্শক প্রকৌশলী এম. এম. মামুন-অর-রশিদ বলেন, ‘শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধের বিষয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে টঙ্গীতে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতরের কার্যালয়ে একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ওই বৈঠকে শ্রমিকদের সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযান চালিয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ গত ২৪ ঘণ্টায় ২ হাজার ১০৪টি মামলা করেছে।
আজ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ডিএমপির পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গতকাল বুধবার (১ জুলাই) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় চালিয়ে এসব মামলা করা হয়েছে।
ডিএমপির তথ্যমতে, ট্রাফিক-রমনা বিভাগে ৯১টি, লালবাগ বিভাগে ১৬০টি, মতিঝিল বিভাগে ২৮৪টি, ওয়ারী বিভাগে সর্বোচ্চ ৫৫২টি, তেজগাঁও বিভাগে ১৭৬টি, মিরপুর বিভাগে ২০২টি, উত্তরা বিভাগে ৪১৫টি এবং গুলশান বিভাগে ২২৪টি মামলা করা হয়েছে।
অভিযানে বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এর মধ্যে বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, সিএনজি অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মামলা করা হয়েছে।
রাজধানীতে ট্রাফিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ডিএমপি জানান, নিয়মিত এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আদালতে নিয়োগ সংক্রান্ত মামলার নিষ্পত্তি হওয়ার কারণে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩৬ হাজারের বেশি প্রধান শিক্ষককে পদোন্নতি দেওয়ার পাশাপাশি ৩৮ হাজারের বেশি শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার সক্ষমতা আমরা পেয়েছি, বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সচিবালয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের নিয়োগ সংক্রান্ত মামলার নিষ্পত্তি উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই তথ্য জানান।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘শুধু প্রাথমিক নয়, মাধ্যমিকেও শিক্ষক সংকট রয়েছে। আজকেই রিকুইজিশন তৈরি করতে সচিবকে নির্দেশ দিয়েছেন।’
তিনি জানান, দ্রুততম সময়ে সংশ্লিষ্ট সকল দফতরে নিয়োগ চালু করার জন্য মন্ত্রণালয় কাজ শুরু করবে।
তিনি আরও বলেন, ‘প্রাথমিক থেকেই আনন্দময় এবং নৈতিক শিক্ষাকে সমন্বয় করে নতুন কারিকুলামের ব্যাপারে কাজ করছে সরকার। সবসময় এসএসসির পরে এইচএসসিতে ড্রপআউট ঘটে। এটি সামাজিক ও পারিবারিক নানা কারণে হতে পারে। তবে হঠাৎ করে বড় ধরনের ড্রপআউট অবশ্যই ভেবে দেখার বিষয়। এটা নিশ্চিতভাবেই একটি খারাপ সূচক।’
এ সময় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা। ৩৬ হাজারের বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান শিক্ষক ছাড়া অচল ছিল। আমরা বড় জটিলতা থেকে বেরিয়ে আসতে পেরেছি।’
অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, ‘আদালতের রায়ে আইনি বাধা দূর হয়েছে। বিপুল সংখ্যক যে নিয়োগ আটকে ছিল, সেটিকে সরকারের সব মহল থেকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সমাধানের কাজ চলছে। দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা এই মুহূর্ত থেকেই দূর হয়ে গেছে। মন্ত্রণালয় আজ থেকেই কাজ শুরু করতে পারবে, কোনো আইনি জটিলতা থাকবে না।’
২০১৩ সালের এক বিধিমালায় বলা হয়েছিল, সদ্য জাতীয়করণকৃত শিক্ষকদের অবস্থান হবে সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত সর্বশেষ ব্যক্তির নিচে। একদল শিক্ষকের রিট আবেদনে বিধিমালার ওই ধারা অবৈধ ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। এর ফলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সাড়ে ৩২ হাজার প্রধান শিক্ষক নিয়োগ আটকে যায়।
রাষ্ট্রপক্ষের আপিল গ্রহণ করে হাইকোর্টের ওই রায় উল্টে দিয়েছে আপিল বিভাগ। যার ফলে ২০১৩ সালের বিধিমালার ওই ধারা বহাল থাকবে। সাড়ে ৩২ হাজার প্রধান শিক্ষক নিয়োগে আর আইনি কোনো বাধা নেই।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সরকার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ মনিরুল ইসলামকে বদলিপূর্বক প্রেষণে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মহাপরিচালক পদে পদায়ন করেছে।
বুধবার, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রেষণ-১ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ মনিরুল ইসলামকে তার বর্তমান কর্মস্থল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে বদলি করে প্রেষণে দুদক এর মহাপরিচালক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জারি করা প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ নূর-এ-আলম।
এই প্রজ্ঞাপনের অনুলিপি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাঠানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই) শিক্ষার্থীদের সময়মতো বিদ্যালয়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করার জন্য নির্দেশ দিয়েছে এবং ঝরে পড়া রোধে ছবি আঁকা, মাটির কাজ ও বিভিন্ন উপকরণ তৈরির মাধ্যমে ‘খেলার ছলে শেখা’ কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানিয়েছে।
সম্প্রতি, ডিপিই’র পলিসি অ্যান্ড অপারেশন বিভাগ এ-সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করেছে, যা শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতি সাধনের লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়, ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস (আনন্দময় শিক্ষা)’ কর্মসূচির আওতায় নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
এতে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমানে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) প্রণীত প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির চারু ও কারুকলা বিষয়ে শিক্ষক সহায়িকা রয়েছে। এই সহায়িকার আলোকে শ্রেণিভিত্তিক বিভিন্ন ছবি আঁকতে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে হবে।
পাশাপাশি, মাটি দিয়ে বিভিন্ন ধরনের উপকরণ তৈরি করাতে হবে এবং শিক্ষার্থীদের তৈরি শিল্পকর্ম শ্রেণিকক্ষে প্রদর্শনের ব্যবস্থাও করতে হবে, যাতে তারা উৎসাহিত ও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে।
এতে আরও বলা হয়, শ্রেণিকক্ষে আনন্দময় ও অংশগ্রহণমূলক পরিবেশে শিক্ষকরা এ কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। ফলে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়কে প্রিয় ও নিরাপদ স্থান হিসেবে অনুভব করবে। বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিত থাকার প্রতিও তাদের আগ্রহ বৃদ্ধি পাবে।
এ কার্যক্রম বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, বিভাগীয় উপ-পরিচালক, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রাথমিক স্তরে ঝরে পড়ার হার কমাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ