ঢাকা বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

এবার নতুন এক দ্বীপে সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছে চীন


এবার নতুন এক দ্বীপে সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছে চীন

দক্ষিণ চীন সাগরের বিতর্কিত পারাসেল দ্বীপপুঞ্জের অ্যান্টেলোপ রিফের কাছে ইয়াগং দ্বীপে নতুন স্থাপনা নির্মাণের স্যাটেলাইট চিত্র পাওয়া গেছে। বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট সংস্থা ভ্যান্টরের ১৭ আগস্টের নতুন ছবি বিশ্লেষণ করে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, সেখানে নির্মিত অবকাঠামোগুলো সম্ভাব্য সামরিক রাডার বা আগাম সতর্কীকরণ কেন্দ্র হতে পারে। নির্মাণকাজের এই নতুন বিস্তার পারাসেল অববাহিকার সামগ্রিক স্থিতিশীলতা ও মানুষের স্বাভাবিক জীবনের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা।

স্যাটেলাইটের ছবিতে দেখা গেছে, অ্যান্টেলোপ রিফের প্রায় ১৪ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত ছোট আয়তনের ইয়াগং দ্বীপে মার্চ ও এপ্রিল মাসের দিকে এই নির্মাণকাজ শুরু হয়। সেখানে বেশ কয়েকটি নতুন অবকাঠামোর উপস্থিতি শনাক্ত করা গেছে।

ভ্যান্টরের এক মুখপাত্র জানান, ইয়াগং রিফে গড়ে তোলা কয়েকটি স্থাপনার বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে দক্ষিণ চীন সাগরের অন্যান্য সামরিক রাডার বা সতর্কীকরণ কেন্দ্রের মিল পাওয়া যায়। এগুলো অ্যান্টেলোপ রিফের মূল অবকাঠামোগুলোর সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আরও পড়ুন: ডিজেল নেই, বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনও নেই—ভারতের হাইড্রোজেন ট্রেনের কার্যপ্রণালী

ওপেন সোর্স গোয়েন্দা তথ্য পর্যবেক্ষক ড্যামিয়েন সাইমন এবং সিঙ্গাপুরভিত্তিক নিরাপত্তা গবেষক কলিন কোহও একই আশঙ্কার কথা জানান। কলিন কোহর মতে, ইয়াগংয়ে স্পষ্টত একটি স্বতন্ত্র রাডার স্টেশন নির্মাণের ইঙ্গিত মিলছে, যা পুরো জলসীমার নিয়ন্ত্রণে কৌশলগত ভূমিকা রাখবে।

এর আগে অ্যান্টেলোপ রিফে প্রায় ছয় কিলোমিটার দীর্ঘ একটি কৃত্রিম দ্বীপ গড়ে তোলে বেইজিং। সেখানকার সোজা ৩ কিলোমিটার উপকূলভাগ একটি রানওয়ে নির্মাণের দিকে ইঙ্গিত করে বলে মত বিশ্লেষকদের। আঞ্চলিক নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের অব্যাহত নির্মাণ পারাসেল অঞ্চলে চীনের সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়ে দিচ্ছে। যা অদূর ভবিষ্যতে তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে বড় কোনো সসংঘাত তৈরি হলে সামগ্রিক ভূরাজনীতিতে প্রভাব ফেলবে।

তবে চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি, এটি সামরিক কোনো উদ্যোগ নয়; বরং আবহাওয়া পূর্বাভাস, মৎস্যসম্পদ সুরক্ষা ও সামুদ্রিক গবেষণার মতো সম্পূর্ণ জনকল্যাণমুখী কাজে এই দ্বীপগুলো ব্যবহৃত হবে।

পারাসেল দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে বিতর্ক দীর্ঘদিনের। ১৯৭৪ সালে সাবেক দক্ষিণ ভিয়েতনামের নৌবাহিনীর হাত থেকে পারাসেল দ্বীপপুঞ্জ দখল করে নেয় চীন। তবে ভিয়েতনাম এখনো পুরো দ্বীপপুঞ্জ নিজেদের বলে দাবি করে আসছে। শুধু পারাসেল নয়, দক্ষিণ চীন সাগরের স্প্র্যাটলি দ্বীপপুঞ্জ ও এর আশপাশের জলসীমার দাবি নিয়ে ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া, তাইওয়ান ও ব্রুনাইয়ের মধ্যকার টানাপোড়েন পুরো অঞ্চলের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিকে দীর্ঘকাল ধরে অশান্ত করে রেখেছে।

আরও পড়ুন: ইরান যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানালেন ডেমোক্র্যাট নেতা শুমার

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চাঁপাইনবাবগঞ্জে পাটের আঁশ ছাড়িয়ে বাড়তি আয় করছেন নারীরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৫শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:৪৯ পি.এম


চাঁপাইনবাবগঞ্জে পাটের আঁশ ছাড়িয়ে বাড়তি আয় করছেন নারীরা

চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ২৫ আগস্ট, ২০২৬ : বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের নারীরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার লক্ষ্যে গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি পালন, চাকরি, কৃষি, উদ্যোক্তা এবং হস্তশিল্পসহ অনলাইনভিত্তিক ব্যবসা করছেন। এরই ধারাবাহিকতায় চাঁপাইনবাবগঞ্জে পাটের আঁশ ছাড়িয়ে বাড়তি আয় করছেন গ্রামের নিম্নবিত্ত পরিবারের নারীরা।

চলতি মৌসুমে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে পাটের অধিক ফলন ও দাম ভাল পাওয়ার কারণে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে।

জেলার বিভিন্ন উপজেলার মাঠ, বিল, নদী, খাল, ডোবা ও জলাশয়ে ভোর থেকে বিকেল পর্যন্ত পাটের আঁশ ছাড়াতে দেখা যাচ্ছে নারী-পুরুষকে। পরিবারভিত্তিকভাবে পাটের আঁশ ছাড়ানোর কাজে অংশ নেয়ায় গ্রামীণ জনপদে এখন কর্মব্যস্ততার অংশ দৃশ্যমান হয়ে উঠছে।

আজ মঙ্গলবার সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে পানিতে জাগ দেয়া পাট গাছের আঁশ ছাড়াতে দেখা গেছে কৃষক-কৃষানীদের। কেউ পানির মধ্যে দাঁড়িয়ে আঁশ ছাড়াচ্ছেন, আবার কেউ পাটের আঁশ ধুয়ে রোদে শুকানোর জন্য বাঁশের খুঁটিতে বিছিয়ে দিচ্ছেন। কৃষকদের সঙ্গে নারীরাও সমানতালে এ কাজে অংশ নিচ্ছেন। এবছর জেলায় প্রচুর পাট ফলনে এখন স্বস্তির নিঃশ্বাস নিচ্ছেন কৃষক-কৃষানীরা।

জেলার নিম্নবিত্ত পরিবারের গ্রামীণ নারীরা পাটের আঁশ ছাড়ানো, শুকানো কাজ করে বাড়তি আয় করছেন। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত আঁশ ছাড়িয়ে কেউ কেউ নগদ পারিশ্রমিক নিচ্ছেন, আবার কেউ কেউ পাটখড়ি (শুকনো পাট গাছ) নিয়ে বাজারে বিক্রি করছেন।

পাটের আঁশ ছাড়ানো কাজে নিয়োজিত একাধিক নারীর সাথে কথা বলে জানা যায়, তারা প্রতিদিন পাটের আঁশ ছাড়িয়ে দিয়ে ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা মূল্যের সমান পাটখড়ি পেয়ে থাকেন।

দুই দিন ধরে জেলার বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে জানা গেছে, পাটের আঁশ ছাড়ানোর বিনিময়ে নারীরা মজুরি হিসেবে নগদ টাকার পরিবর্তে পাটখড়ি পান। পরে এসব পাটখড়ি হাটে বা পাইকারের কাছে বিক্রি করেন তারা।

একাধিক নারী জানান, পাট ছাড়াতে কৃষক আলাদা কোনো মজুরি দেন না। জাগ দেয়া পাটগাছ থেকে পাটের আঁশ আলাদা করে দিয়ে তারা পাটখড়ি নিয়ে যান। নিজেদের বাড়িতে সেগুলো শুকিয়ে আশপাশের হাটে বা পাইকারের কাছে বিক্রি করেন।

গতকাল সোমবার ও আজ মঙ্গলবার জেলার সদর উপজেলার আলাতুলি, নারানপুর, রানিহাটি এবং শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁকা, দুর্লভপুর, উজিরপুর, মনাকশাসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, গ্রামের নিম্নবিত্ত পরিবারের বেশির ভাগ গৃহিণী দল বেঁধে খোলা জায়গায় বসে কৃষকের পাটগাছ থেকে আঁশ ছাড়ানোর কাজ করছেন।

সদর উপজেলার আলাতুলি ইউনিয়নের জাহানা বেগমের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, পাট মৌসুমে পাট ছাড়ানোর কাজ করে আমি প্রতিবছর ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা আয় করি।

শিবগঞ্জ উপজেলার দুর্লভপুর ইউনিয়নের আনোয়ারা বেগম (৫০) জানান, প্রতিবছর এ সময় এক মাস পাটের আঁশ ছাড়ানোর কাজে ব্যস্ততা সবচেয়ে বেশি থাকে।
তিনি জানান, আমি প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০ আঁটি পাট ছাড়াতে পারি। ২৫ থেকে ৩০ আঁটি পাটগাছ থেকে ২ মণ পাটখড়ি হয়। প্রতিমণ পাটখড়ি বাজারে ৫০০ টাকা দরে বিক্রি করি। কাজেই আমি প্রতিদিন ১ হাজার টাকা আয় করি।

পাঁকা ইউনিয়নের পাট চাষি আইনাল হক বাসসকে বলেন, প্রতিবছরের তুলনায় এবছর পাটের ফলন ও দাম ভাল। আমি এ বছর ৩ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছি। গত ৫ দিন থেকে ১০ থেকে ১২ জন নারী আমার জমির পাটের আঁশ ছাড়ানোর কাজ করছেন। তারা এ কাজ করে প্রতিদিন ১ হাজার টাকার সমমূল্যের পাটখড়ি পান।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. আতিকুল ইসলাম বাসসকে বলেন, জেলার গ্রামের নিম্নবিত্ত পরিবারের নারীরা পাট মৌসুমে পাটের আঁশ ছাড়ানোর কাজ করে অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। এ কাজ করে তারা আর্থিকভাবে সচ্ছল হচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, এ বছর আবহাওয়া পাট চাষের জন্য অনুকূলে ছিল। ফলে পাটের ফলনও ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দিয়েছেন, যাতে উন্নতমানের পাট উৎপাদন নিশ্চিত করা যায়।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী চলতি মৌসুমে জেলায় পাট আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২০৪০ হেক্টর। কিন্তু কৃষকদের আগ্রহে ২৭২৭ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাষ্ট্রপতির ঠাকুরগাঁও সফর স্থগিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৫শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:৫৬ পি.এম


রাষ্ট্রপতির ঠাকুরগাঁও সফর স্থগিত

রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর প্রথমবারের মতো নিজ জেলা ঠাকুরগাঁও যাওয়ার কথা ছিল মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের। তবে ৩০ ও ৩১ আগস্ট নির্ধারিত সেই সফর অনিবার্য কারণে স্থগিত করা হয়েছে। 

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক রফিকুল হক।

জেলা প্রশাসক জানান, রাষ্ট্রপতির ৩০ ও ৩১ আগস্ট ঠাকুরগাঁও সফরের পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি ছিল। তবে অনিবার্য কারণে সেটি আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। আগামী এক থেকে দুই দিনের মধ্যে নতুন সফরসূচি নির্ধারণ হতে পারে বলেও জানান তিনি।

রাষ্ট্রপতির সফরকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল। প্রশাসনিক নিরাপত্তা, আবাসন, যানবাহনসহ বিভিন্ন বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছিল।

গত সোমবার (২৪ আগস্ট) রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের আপন বিভাগের প্রটোকল শাখা থেকে ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো চিঠিতে জানানো হয়েছিল, রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ৩০ ও ৩১ আগস্ট ঠাকুরগাঁও জেলা সফর করবেন। সফর শেষে ৩১ আগস্ট তার ঢাকায় ফেরার কথা ছিল।

ওই চিঠিতে রাষ্ট্রপতি ও তার সফরসঙ্গীদের যাতায়াত, আবাসন ও যানবাহনসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয়া হয়। পাশাপাশি সফরের বিস্তারিত কর্মসূচি ও অনুমোদিত সফরসঙ্গীদের তালিকা পরবর্তী সময়ে পাঠানোর কথা জানানো হয়েছিল।

রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এটিই প্রথম সফর হওয়ার কথা ছিল। এ কারণে স্থানীয় মানুষের মধ্যে সফরটি ঘিরে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি দপ্তরও প্রস্তুতি নিচ্ছিল।

তবে শেষ পর্যন্ত অনিবার্য কারণে সফর স্থগিত হওয়ায় পূর্বনির্ধারিত সব প্রস্তুতি আপাতত থেমে গেছে। নতুন তারিখ ঘোষণা হলে আবারও প্রস্তুতি শুরু হবে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

খরা সহনশীলতা জোরদারে আঞ্চলিক সহযোগিতা, ন্যায্য পানি বণ্টন ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের আহ্বান পরিবেশ মন্ত্রীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৫শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:৫৬ পি.এম


খরা সহনশীলতা জোরদারে আঞ্চলিক সহযোগিতা, ন্যায্য পানি বণ্টন ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের আহ্বান পরিবেশ মন্ত্রীর

ঢাকা, ২৫ আগস্ট, ২০২৬ : খরা সহনশীলতা জোরদার করার জন্য আঞ্চলিক সহযোগিতা, ন্যায্য পানি বণ্টন ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।

আজ মঙ্গোলিয়ার উলানবাটরে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের মরুকরণ প্রতিরোধ কনভেনশন (ইউএনসিসিডি) -এর ১৭তম কনফারেন্স অব দ্য পার্টিজ (কপ ১৭)-এর ‘একসিলারেটিং ড্রট রিজাইলেন্স’ শীর্ষক মন্ত্রী পর্যায়ের সংলাপে তিনি এ আহ্বান জানান।

আজ ঢাকায় প্রাপ্ত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এছাড়া সভায় আবদুল আউয়াল মিন্টু খরা মোকাবেলায় কার্যকর আঞ্চলিক সহযোগিতা, ন্যায্য পানি বণ্টন, টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা এবং উন্নত প্রযুক্তি হস্তান্তরের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে খরা ও ভূমি অবক্ষয় পরস্পর সম্পর্কিত। দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে নিয়মিতভাবে খরা এবং ভূগর্ভস্থ পানির স্তর হ্রাস পাচ্ছে। অন্যদিকে উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততার অনুপ্রবেশ কৃষিজমি ও মিঠাপানির উৎসের ক্ষতি করছে। বন্যা ও নদীভাঙনের প্রভাব এ সংকটকে আরও জটিল করে তুলছে।

মন্ত্রী জানান, দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে প্রায় ৫ দশমিক ৪৬ মিলিয়ন হেক্টর জমি খরাপ্রবণ। সেখানে প্রায় ১৬ হাজার গভীর নলকূপের মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের ফলে অনেক এলাকায় পানির স্তর দ্রুত নিচে নেমে যাচ্ছে। এসব এলাকায় নতুন সেচ কার্যক্রম সীমিত করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ অ্যাগ্রো-মেটিওরোলজিক্যাল ইনফরমেশন সিস্টেমস (বিএএমআইএস)-এর মাধ্যমে খরার সূচক পর্যবেক্ষণ করে কৃষকদের এসএমএস, ভয়েস কল ও মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ফসলভিত্তিক পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, ন্যাশনাল গ্রিন মিশন-এর আওতায় সারাদেশে ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রকৃতিনির্ভর খরা মোকাবিলার অংশ হিসেবে আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল, নদী ও জলাশয় খনন ও পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে ভূপৃষ্ঠের পানির প্রাপ্যতা বাড়বে এবং ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমবে।

মন্ত্রী উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ এই অভিজ্ঞতা অন্যান্য পানিসংকটপ্রবণ দেশের কাজে লাগবে।

উপকূলীয় অঞ্চলের পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং শুষ্ক মৌসুমে নদীর প্রবাহ কমে যাওয়ার ফলে লবণাক্ত পানি কৃষিজমি ও খাবার পানির উৎসে প্রবেশ করছে, যা লাখো মানুষের জীবিকা হুমকির মুখে ফেলছে। এ সংকট মোকাবিলায় ন্যাশনাল গ্রিন মিশনের আওতায় উপকূলীয় ম্যানগ্রোভ বন সম্প্রসারণ কার্যক্রমও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

মন্ত্রী গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা অববাহিকায় কার্যকর পানি ব্যবস্থাপনা ও প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, শুষ্ক মৌসুমে পর্যাপ্ত পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করা ভূমি অবক্ষয় মোকাবিলারও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়।

তিনি খরা সহনশীলতা গড়ে তুলতে অববাহিকাভিত্তিক সহযোগিতা ও ন্যায্য পানি বণ্টনকে মূল স্তম্ভ হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানান।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা (ন্যাশনাল এডাপটেশন প্ল্যান) -এ ২০৫০ সাল পর্যন্ত খরা মোকাবিলার অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি ইন্টারন্যাশনাল ড্রট রিজাইলেন্স অবজারভেটরি চালুর উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং বাংলাদেশের বিএএমআইএস -এর তথ্য এ ব্যবস্থার সঙ্গে সংযুক্ত করার প্রস্তাব দেন।

একই সঙ্গে খরা ও লবণাক্ততা সহনশীল ফসলের জাত উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে প্রযুক্তি হস্তান্তর আরও জোরদারের আহ্বান জানান তিনি।

মন্ত্রী বাংলাদেশ খরা ও ভূমি অবক্ষয়ের তীব্র ঝুঁকির মুখোমুখি বলে উল্লেখ করেন এবং একটি আগাম প্রস্তুতিমূলক, পর্যাপ্ত অর্থায়নসমৃদ্ধ এবং কার্যকর আঞ্চলিক সহযোগিতাভিত্তিক আন্তর্জাতিক খরা সহনশীলতা কাঠামো গড়ে তুলতে ইউএনসিসিডি -এর সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি আহ্বান জানান।

সভায় বাংলাদেশ ছাড়াও বিভিন্ন দেশের মন্ত্রী, উপমন্ত্রী, প্রতিনিধি দলের প্রধানরা অংশ নেন।

এছাড়া এফএও, ইএসসিএপি, আইওএম, ইউনিসেফ, ইউএনডিআরআর, ইউএনডিপি, ইফাদ, এআইআইবি, আফ্রিকান ইউনিয়নসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সংস্থার প্রতিনিধিরাও পর্যবেক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার জবাবে যেভাবে প্রতিশোধ নিতে পারে ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৫শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:০২ পি.এম


মার্কিন নিষেধাজ্ঞার জবাবে যেভাবে প্রতিশোধ নিতে পারে ইরান

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রতিশোধ নিতে ইরান কীভাবে পদক্ষেপ নিতে পারে তা নিয়ে আলোচনা চলছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান যুদ্ধের পরিস্থিতি প্রায় ছয় মাস অতিক্রম করেছে। এই প্রেক্ষাপটে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে তাদের দাবি মেনে নিতে বাধ্য করার জন্য ইতিহাসের ‘সবচেয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা’ আরোপের হুমকি প্রদান করেছে।

 

এই পরিস্থিতি উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি করেছে। অর্থনৈতিক চাপের মোকাবেলা করার জন্য ইরান সম্ভাব্য কিছু পাল্টা পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা বার্তা সংস্থা রয়টার্সের মাধ্যমে জানা গেছে।

তেল রপ্তানিতে বাধা

অর্থনৈতিক যুদ্ধ চলতে থাকলে হরমুজ প্রণালি কিংবা পারস্য উপসাগরের অন্য কোনো রুট দিয়ে এক ফোঁটা তেলও রপ্তানি হতে দেওয়া হবে না বলে সতর্ক করেছেন ইরানের সাবেক রেভল্যুশনারি গার্ডস প্রধান (আইআরজিসি) ও দেশের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজাই।

কাতারভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আলজাজিরার একটি বিশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইরানি হামলা ও হুমকির কারণে ইতিমধ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

 

জাহাজে হামলার ঝুঁকি

উপসাগর থেকে বেরিয়ে আসা তেলবাহী ট্যাংকারে ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন বা দ্রুতগতির নৌযান দ্বারা হামলার সম্ভাবনা রয়েছে। গত ছয় মাসে এ ধরনের হামলা ও হুমকির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বারবার বৃদ্ধি পেয়েছে।

লোহিত সাগরে বাড়তি চাপ

এদিকে, লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করছে ইরানের মিত্র ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী। তারা সৌদি আরবের জাহাজ চলাচল অবরোধের হুমকিও দিয়েছে।

 

লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ প্রণালি বাব আল-মান্দাবে পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে এশিয়ামুখী তেল সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নতুন চাপের মুখে পড়তে পারে।

উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলা

যুক্তরাষ্ট্রকে সহযোগিতা করে ইরানের অর্থনীতিকে দুর্বল করার চেষ্টা করলে প্রতিবেশী দেশগুলোর বিরুদ্ধে ‘ভূমিকম্পের মতো’ জবাব দেওয়ার হুমকি দিয়েছে তেহরান।

যুদ্ধ চলাকালে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটির পাশাপাশি উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামোসহ বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও পানি স্থাপনায় হামলা

ইরান যদি তেল ও গ্যাস উৎপাদন স্থাপনা, বিদ্যুৎকেন্দ্র বা পানি বিশুদ্ধকরণ কারখানার মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা জোরদার করে, তাহলে জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।

বিশেষ করে পানি বিশুদ্ধকরণ (ডিস্যালিনেশন) ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য এটি বড় ঝুঁকি হয়ে উঠতে পারে।

সাইবার হামলা

পশ্চিমা দেশগুলো ইরানের প্রধান ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লার বাইরে থাকলেও সাইবার হামলা বা অন্যান্য পরোক্ষ উপায়ে চাপ সৃষ্টি করা হতে পারে। যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় হামলার জন্য ইরান-সংশ্লিষ্ট হ্যাকারদের দায়ী করেছে, যদিও তেহরান এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

এ ছাড়া পশ্চিমা নিরাপত্তা সংস্থাগুলো ইরানের বিরুদ্ধে স্থানীয় লোকজনকে ব্যবহার করে পশ্চিমা দেশগুলোতে হামলা বা হত্যাচেষ্টার অভিযোগও করেছে। তবে ইরান এসব অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে।

সামগ্রিকভাবে, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক চাপ বাড়লে ইরান সরাসরি সামরিক সংঘাতের পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি, জ্বালানি সরবরাহ, উপসাগরীয় অবকাঠামো ও সাইবার ক্ষেত্রকে পাল্টা চাপ সৃষ্টির প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারে।

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪২
মাগরিব ০৫:১৮
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%