ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মার্কিন-সৌদি হামলার অনুমোদন দেয়নি বলে ট্রাম্পের দাবি প্রত্যাখ্যান ইরাকের


মার্কিন-সৌদি হামলার অনুমোদন দেয়নি বলে ট্রাম্পের দাবি প্রত্যাখ্যান ইরাকের

ইরাক জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র এবং সৌদি আরবের সাম্প্রতিক যৌথ সামরিক অভিযানের বিষয়ে দেশটির কাছে কোনো পূর্বসূচনা ছিল না এবং বাগদাদ এই হামলার জন্য কোনো অনুমতি দেয়নি। ওই অভিযানে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেসের (পিএমএফ) অন্তত ২০ সদস্য নিহত হয়েছেন।

ইরাক সরকারের পক্ষ থেকে তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে যে, এই হামলার পর ইরাকের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ শিয়া আল-সুদানি সৌদি আরব সফর স্থগিত করেছেন। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার মারফতের মাধ্যমে এ পরিস্থিতির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। ইরাক সরকারের মুখপাত্র হায়দার আল-আবৌদি এ বিষয়ে বলেছেন যে, দেশের ভেতরে নির্দিষ্ট কোনো এলাকা বা গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে হামলার অনুমতি বাগদাদ দেয়নি।

তিনি আরো দাবি করেছেন, ইরাক সরকার এই সামরিক অভিযানের বিষয়ে আগে থেকে কিছুই জানত না। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরাকি নেতৃত্বের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে অভিযানটি পরিচালিত হয়েছে। তার এই বক্তব্যের পর, ইরাক আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করে।

আরও পড়ুন: ডিজেল রপ্তানি বাড়াতে চায় ভারত, শোধনাগারগুলো সক্ষমতা বাড়াচ্ছে

বাগদাদ বুধবার একটি বিবৃতিতে জানায়, ইরাকের ভূখণ্ডে পরিচালিত হামলার সঙ্গে তাদের কোনো সমন্বয় ছিল না এবং এ ধরনের সামরিক পদক্ষেপের অনুমোদনও দেওয়া হয়নি। সৌদি আরবের অভিযোগের পক্ষেও প্রমাণ চেয়েছে ইরাক।

সৌদি সরকারের দাবি, ইরাকে থাকা ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো দেশটির ওপর ড্রোন হামলা চালিয়েছে। সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সোমবার ও মঙ্গলবার ইরাকের ভেতর থেকে ছোড়া ড্রোন দিয়ে সৌদির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলি এবং রাজধানী রিয়াদকে লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা করা হয়েছে।

তবে ইরাক সরকার বলছে, সৌদির এসব অভিযোগের পক্ষে এখনো কোনো প্রমাণ বা নথি তাদের কাছে দেওয়া হয়নি। ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র সাবাহ আল-নুমান বলেছেন, এসব অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ করার মতো কোনো তথ্য এখনো কোনো পক্ষ সরবরাহ করেনি। তিনি আরো উল্লেখ করেন, ইরাক নিজের ভূখণ্ডের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

ইরাক তার মাটি ব্যবহার করে কোনো রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা সশস্ত্র গোষ্ঠীকে অন্য দেশের বিরুদ্ধে হামলা চালাতে দেবে না। একটানা বলা হয়েছে, ইরাক কোনো দেশের একতরফা সামরিক পদক্ষেপও মেনে নেবে না।

আরও পড়ুন: ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদন সময়সীমা ১ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়াল ইসি

আল-নুমান নির্দেশ করেছেন, ইরাকের ভেতর থেকে সরকারের অনুমতি ছাড়া কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা গ্রহণযোগ্য নয়, সেইসঙ্গে দেশের সীমান্তের বাইরে থেকে ইরাকের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করাও মেনে নেওয়া হবে না। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব এবং ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরাক ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান ধারণ করার চেষ্টা করছে। তবে দেশটির ভূখণ্ডে বিদেশি সামরিক অভিযান নতুন করে আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সেউতার ভিডিওকে সামনে রেখে ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির পক্ষে হোয়াইট হাউস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৩১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:০৩ পি.এম


সেউতার ভিডিওকে সামনে রেখে ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির পক্ষে হোয়াইট হাউস

মরক্কো থেকে সম্প্রতি অনেক অভিবাসী এসে জড়ো হওয়া স্প্যানিশ ছিটমহল সেউতারের একটি ভিডিও ফুটেজ দেখিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের শীর্ষ দুই কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার পুনরায় তাদের অভিবাসনবিরোধী রাজনৈতিক অবস্থানের কথা উল্লেখ করেছেন।

খবরটি বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

এএফপির সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, তারা সেউতায় দেখেছেন মরক্কোর উত্তর উপকূল থেকে সাঁতরে বহু নারী, পুরুষ ও শিশু শহরটিতে প্রবেশ করেতে। সেউতার প্রেসিডেন্ট হুয়ান ভিভাস বুধবার জানিয়েছেন, গত কিছু দিনের মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৫০০ অভিবাসী সেখানে প্রবেশ করেছেন। ২০২১ সালের পর এটিই সবচেয়ে বড় অভিবাসী প্রবেশের ঘটনা।

হোয়াইট হাউসের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলার এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী কঠোর নীতির অন্যতম প্রধান পরিকল্পনাকারী অভিবাসন-সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক মিডিয়ায় শেয়ার করেছেন। ভিডিওটি শেয়ার করে স্টিফেন মিলার ডেমোক্র্যাটিক পার্টির অভিবাসন নীতির সঙ্গে এর তুলনা করেছেন এবং সমালোচনা করেছেন।

ভিডিওটির সঙ্গে এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে স্টিফেন মিলার লিখেছেন, ‘অনুপ্রবেশকারীরা আপনার বাড়ি দখল করে নিলেও এবং তা তছনছ করলেও ডেমোক্র্যাটরা সেটি দেখে আনন্দিত হবে।’

হোয়াইট হাউসের যোগাযোগবিষয়ক পরিচালক স্টিভেন চিয়াংও ফক্স নিউজ-এর একটি প্রতিবেদন এক্স ম্যাসেজিং প্ল্যাটফর্মে শেয়ার করেছেন। সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘জো বাইডেনের শাসনামলে এমন পরিস্থিতিই দেখা গিয়েছিল। সৌভাগ্য যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নির্বাচিত হয়েছেন। তার নেতৃত্বে এমন ঘটনা আর ঘটবে না।’

অভিবাসনবিরোধী অবস্থানকে নির্বাচনী প্রচারের অন্যতম প্রধান ইস্যু হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয়বারের মতো হোয়াইট হাউসে আসেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বৈধ কাগজপত্রবিহীন লাখ লাখ অভিবাসীকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিতাড়িত করার কার্যক্রম জোরদার করেছেন।

তবে ট্রাম্প প্রশাসনের এই কঠোর অভিযান রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক বিতর্ক ও সমালোচনার সৃষ্টি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এর প্রভাব আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী (মিডটার্ম) নির্বাচনে পড়তে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা, দিনের তাপমাত্রা বাড়তে পারে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ৩১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:০৬ পি.এম


দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা, দিনের তাপমাত্রা বাড়তে পারে

রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম এবং সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায়, সেই সাথে রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারী ধরনের বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। দেশে কোথাও কোথাও মাঝারী ধরনের ভারী বর্ষণও হতে পারে।

একই সাথে সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

আজ সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘন্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আবহাওয়ার সিনপটিক অবস্থায় বলা হয়েছে, আজ পশ্চিম মধ্য ছত্তিশগড় এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি পশ্চিম দিকে অগ্রসর এবং নিম্নচাপে পরিণত হয়ে বিদর্ভ এবং তৎসংলগ্ন দক্ষিণ মধ্যপ্রদেশ এলাকায় অবস্থান করছে। এটি আরো পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ক্রমান্বয়ে দুর্বল হয়ে যেতে পারে। মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ রাজস্থান, মধ্য প্রদেশ, নিম্নচাপের কেন্দ্রস্থল, উড়িষ্যা, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের উপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারী অবস্থায় রয়েছে。

আজ সকালে ঢাকায় বাতাসের গতিবেগ ছিল দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৮ থেকে ১২ কি.মি.। এছাড়া আজ সকাল ৬টা’য় ঢাকায় বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৮৮ শতাংশ।

গতকাল দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল রংপুর বিভাগের সৈয়দপুরে ৩৪.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং আজ সকাল ৬টায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে সিলেটে ২৩.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

ঢাকায় আজ সূর্যাস্ত সন্ধ্যা ৬টা ৪৩ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় হবে ৫ টা ২৮ মিনিটে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাছ-মুরগি-ডিমের বাজারে দামের ঊর্ধ্বগতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৩১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:০৯ পি.এম


মাছ-মুরগি-ডিমের বাজারে দামের ঊর্ধ্বগতি

চলতি সপ্তাহে মাছ, ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের দাম আরও এক দফা বেড়ে গেছে। শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য জানা গেছে।

সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে প্রতি কেজি মাছের দাম ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে পাঙাশের কেজি ২০০ টাকা ছাড়িয়ে গেছে। তেলাপিয়া, রুই, কাতলা, মৃগেল ও পোয়া মাছের দাম কেজিতে ২০-৩০ টাকা বেড়েছে।

বাজারে মানভেদে প্রতি কেজি চিংড়ি ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা, পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, ওজন ভেদে রুই মাছ ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং টেংরা ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বাইম ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, চাষের কই ৩০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা এবং শোল মাছ ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আকারভেদে চাষের শিং মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকার মধ্যে।

মাছের পাশাপাশি ডিমের দামেও বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। গত সপ্তাহের তুলনায় ডজনে ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়ে বর্তমানে ফার্মের মুরগির ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৪৫ থেকে ১৫৫ টাকায়। গরুর মাংসের দাম স্থির থাকলেও তা বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা দরে। আর খাসির মাংস কিনতে গেলে কেজিতে গুনতে হচ্ছে ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা।

অন্যদিকে মুরগির বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার ১৯০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজার করতে আসা খন্দকার সাজ্জাদ হোসেন নামে এক ক্রেতা বলছেন, নিত্যপণ্যের দাম আগেই বেশি ছিল। এখন বৃষ্টি ও বন্যার কারণে প্রায় প্রতিটি পণ্যের দাম আরো বেড়ে গেছে। সীমিত আয়ে সংসার চালানো দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে।

খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাজারে নিয়মিত তদারকি জোরদার করা এবং সরবরাহব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে কার্যকর উদ্যোগ নিলে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফিলিস্তিনিদের দমনে কুমির, বুনো শূকর ও হিংস্র কুকুর ব্যবহারের অভিযোগ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৩১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:২০ পি.এম


ফিলিস্তিনিদের দমনে কুমির, বুনো শূকর ও হিংস্র কুকুর ব্যবহারের অভিযোগ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে

নতুন করে ফিলিস্তিনি বন্দিদের নিয়ন্ত্রণে নীল নদ অঞ্চলের হিংস্র কুমির ব্যবহারের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে ইসরায়েল। দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন গভিরের ঘোষণা ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের প্রাণীভিত্তিক সংঘাত (অ্যানিমেল ওয়ারফেয়ার) নতুন আলোচনায় নিয়ে এসেছে। দেশটির বৃহত্তম কারাগার 'কেতজিওত'-এর চারপাশে পরিখা খনন করে সেখানে কুমির ছাড়া দেওয়ার এই প্রক্রিয়া বাস্তবায়নে পরিবেশ মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে প্রজাতিটিকে কৃষিজ বন্যপ্রাণী হিসেবে নতুন শ্রেণিবিন্যাস করেছে। মূলত যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় অবস্থিত অভিবাসী আটক কেন্দ্রের অনুসরণে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এটি ফিলিস্তিনিদের ওপর একটি নতুন মনস্তাত্ত্বিক ও শারীরিক নিপীড়নের চক্রান্ত।

ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক দিক থেকে ফিলিস্তিনিদের ওপর আধিপত্য বিস্তারে বন্যপ্রাণী ও গবাদিপশুকে ব্যবহার করার কৌশল ইসরায়েলের জন্য নতুন কিছু নয়। জায়োনিস্ট আন্দোলনের সূচনা থেকেই ফিলিস্তিনের মূল অধিবাসীদের অবমাননা করতে তাদের প্রাণীর সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। সাবেক ইসরায়েলি নেতাদের কথার মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের উদ্দেশ্যে কুকুর, গিরগিটি, তেলাপোকা অথবা সাম্প্রতিক গাজায় গণহত্যার সময় মানব পশু অভিধার ব্যবহার সেই মানসিকতার প্রতিফলন। কিন্তু শুধু রূপক বা গালিগালাজে সীমাবদ্ধ না থেকে, ইসরায়েল বাস্তব জীবনে বিভিন্ন প্রাণীকে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে অস্ত্র হিসেবে প্রয়োগ করে আসছে।

ইসরায়েলের এই প্রাণীভিত্তিক নিপীড়নের ইতিহাস অনেক পুরনো। ব্রিটিশ আমলে ফিলিস্তিনি বিপ্লবীদের বিরুদ্ধে হিংস্র কুকুর হাজির করা হতো। ১৯৬৭ সালের পর বাইবেলে উল্লিখিত বিভিন্ন প্রাণীকে ফিলিস্তিনের প্রাকৃতিক পরিবেশে ফিরিয়ে আনার অজুহাত হিসেবে বেদুইনদের প্রথাগত চারণভূমি ও পানির উৎস থেকে বিতাড়িত করা হয়। অন্যদিকে, ফিলিস্তিনিদের মালিকানাধীন শতকরা গবাদিপশু ও উট জব্দ করে ভারী জরিমানা আরোপ করা হয়েছে। এমনকি তারা নিজেদের জাতীয় সাপ হিসেবে ফিলিস্তিনের নিজস্ব প্রজাতির বিষধর সাপকে নিবন্ধিত করার মতো ঘটনাও ঘটিয়েছে।

পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের জনজীবন ও কৃষিকাজ ধ্বংস করতে নিয়মিতভাবে বুনো শূকর মুক্ত করা হচ্ছে। দখলীকৃত পশ্চিম তীরের বিভিন্ন গ্রামে বন্দোবস্তকারী ও ইসরায়েলি বাহিনী ট্রাক থেকে শত শত হিংস্র বুনো শূকর ছেড়ে দেয়, যা শুধু ফিলাস্তিনিদের ফসল ধ্বংসই করেনা, বরং তাদের ওপর আক্রমণ চালানোও করে। গাজায় চলমান সামরিক অভিযানকালে প্রায় সব ধরনের গবাদিপশু ও গৃহপালিত প্রাণী ধ্বংস করা হয়েছে এবং বেঁচে থাকা গাধা ও ঘোড়াগুলোকে ছিনিয়ে নিয়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার শেষ সম্বলটুকু কেড়ে নেওয়া হয়েছে।

কারাগার ও আটক কেন্দ্রে ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক বন্দিদের ওপর ইউরোপ থেকে আমদানিকৃত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হিংস্র কুকুর লেলিয়ে দেওয়ার ঘটনা একটি নিয়মিত চিত্র। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর বিশেষ ক্যানাইন ইউনিট দীর্ঘ দিন ধরে অভিযান ও বন্দিশালায় সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত করতে এবং গুরুতর নির্যাতন চালানোর জন্য এই কুকুরগুলো ব্যবহার করে আসছে। অথচ এর বিপরীত, ২০০৩ সালে ইসরায়েলের সর্বোচ্চ আদালত হাঁস ও রাজহাঁসের ওপর নিষ্ঠুরতা রোধে বিশেষ আইন করলেও, ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক বন্দিদের ওপর জোরপূর্বক খাদ্য খাওয়ানো এবং অমানবিক নির্যাতনকে বৈধতা দেয়া হয়েছে।

বেন গভিরের সর্বশেষ সিদ্ধান্তটি মূলত ফিলিস্তিনিদের ভূখণ্ড, জীববৈচিত্র্য ও মানবিক মর্যাদা হরণের এক শতবর্ষী আগ্রাসনের নতুন সংযোজন। প্রাণীদের সুরক্ষার অসাধারণ অজুহাত দেখিয়ে ফিলিস্তিনের নিজস্ব পরিবেশ পুনর্গঠন করা হচ্ছে, অন্যদিকে সেই একই প্রাণীর কৃতিত্বে ফিলিস্তিনিদের নিশ্চিহ্ন ও নিপীড়ন করা হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%