০৪:১৯ পি.এম
সাংবাদিকদের সুরক্ষা না থাকলে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সংকুচিত হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী।
আজ শনিবার (২৯ আগস্ট) কক্সবাজার প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজারের বার্ষিক সাধারণ সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
আরও পড়ুন: (ছবি আছে) জিয়ানগরে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার দাবিতে মানববন্ধন
সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজারের সভাপতি নুরুল ইসলাম হেলালীর সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য দেন বিএফইউজের সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন, কক্সবাজার প্রেস ক্লাবের সভাপতি মাহবুবর রহমান, কক্সবাজার প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এস এম আমিনুল হক চৌধুরী, কক্সবাজার প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মমতাজ উদ্দিন বাহারি, সহসভাপতি কামাল হোসেন আজাদ, যুগ্ম সম্পাদক ইকরাম চৌধুরী টিপু, সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজারের সহসভাপতি মাহবুবুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক এস এম জাফর।
বিএফইউজের মহাসচিব বলেন, স্বাধীন ও মুক্ত সাংবাদিকতা করতে না পারলে দেশ ও গণতন্ত্রের উন্নয়ন সম্ভব নয়। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রকে সাংবাদিক সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। সাংবাদিকদের সুরক্ষা না থাকলে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সংকুচিত হবে।
তিনি গণমাধ্যমের সুরক্ষার পাশাপাশি নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় সাংবাদিকদের মধ্যে ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
আরও পড়ুন: রাঙামাটিতে স্কুলছাত্র নিখোঁজ, থানায় জিডি করলেন বাবা
কাদের গনি চৌধুরী বলেন, সাংবাদিকরা অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছেন। তবে চ্যালেঞ্জ শেষ হয়নি। দেশে সাংবাদিকতার পরিবেশ নানা কারণে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে।
রাজনৈতিক প্রভাব, প্রাতিষ্ঠানিক চাপ ও পেশাগত অনিরাপত্তা—সব মিলিয়ে অনেক সাংবাদিক স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছেন না।
তিনি বলেন, সাংবাদিকদের ওপর অযাচিত হস্তক্ষেপ যেমন গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করে, তেমনি অপসাংবাদিকতা ও পেশাগত দক্ষতার অভাবও বড় সমস্যা। একই সঙ্গে গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকেও কখনো কখনো এমন চাপ তৈরি হয়, যা সাংবাদিকদের নৈতিক অবস্থান থেকে বিচ্যুত করতে পারে।
আরও পড়ুন: তিন প্রতিবন্ধীকে নিয়ে অসহায় ফয়সালের পরিবার, এক আয়ে চলে আটজনের সংসার
বিএফইউজের মহাসচিব বলেন, দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা নিশ্চিত করতে হলে শুধু নিরাপত্তাই নয়, সাংবাদিকদের ন্যায্য বেতন, কর্মপরিবেশ ও পেশাগত মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে। অধিকাংশ গণমাধ্যম ওয়েজবোর্ড মেনে বেতন দেয় না।
অনেক গণমাধ্যমে সাংবাদিকদের বেতন দেন মালিকের ড্রাইভারের বেতনের চেয়েও কম। এসব বন্ধ করতে হবে।
তিনি বলেন, “আমরা সরকারকে বলেছি ‘নো ওয়েজবোর্ড, নো মিডিয়া’ নীতি কার্যকর করতে। এটা করা গেলে গণমাধ্যমের ভেতরের অনেক নৈরাজ্য দূর করা সম্ভব হবে।”
আরও পড়ুন: মানিকগঞ্জে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত, আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
কাদের গনি চৌধুরী বলেন, সাংবাদিকতা নিছক চাকরি নয়। দেশে গণতন্ত্র, মানুষের অধিকার, সব ধর্ম-বর্ণ-গোষ্ঠীর অধিকার রক্ষা এবং বৈষম্য দূর করায় সাংবাদিকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। গণমাধ্যমের যদি উচ্চকণ্ঠ না থাকে, তাহলে সমাজে অনেক ধরনের অপরাধ ছড়িয়ে পড়ে।
তিনি বলেন, সাংবাদিকতা স্বাধীন ও শক্তিশালী না হলে গণতন্ত্র ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা যায় না। বাংলাদেশের সংবিধানে স্বাধীন বিচার বিভাগের পাশাপাশি স্বাধীন গণমাধ্যমকে আলাদা করে সুরক্ষা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকরা প্রতিনিয়ত মামলা, নির্যাতন ও হেনস্তার শিকার হচ্ছেন।
সরকারের উদ্দেশে এ সাংবাদিক নেতা বলেন, স্বাধীন সাংবাদিকতা হচ্ছে একমাত্র প্রতিষ্ঠান, যারা সরকারকে সত্য কথা বলবে। মিডিয়া যা বলছে তা যাচাইয়েরও সরকারের সুযোগ আছে।
কাদের গনি চৌধুরী বলেন, সাংবাদিকদের জাতির বিবেক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। জাতির বিবেক যদি সাংবাদিক হন, আর সেই বিবেকের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র যদি হয় কলম, তাহলে সেই কলম থামিয়ে দেওয়া মানে শুধু একজন সাংবাদিকের কণ্ঠ রোধ করা নয়—এটি সত্য প্রকাশের পথকে সংকুচিত করে।
আরও পড়ুন: গাজীপুরে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে গার্মেন্টস শ্রমিক কার্তিক নিহত
তিনি বলেন, সাংবাদিকের ওপর আঘাত মানে বিবেকের ওপর আঘাত। একজন সাংবাদিক যখন দুর্নীতি, অনিয়ম, সন্ত্রাস, অব্যবস্থাপনা কিংবা মানুষের ওপর অন্যায়ের ঘটনা তুলে ধরেন, তখন তিনি সমাজের বৃহত্তর স্বার্থে কাজ করেন। তার প্রতিবেদনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সমস্যার বিষয়ে জানতে পারে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ পায়। কিন্তু সত্য প্রকাশের কারণে যদি কোনো সাংবাদিক হামলা, হুমকি বা হয়রানির শিকার হন, তাহলে এর প্রভাব শুধু তার ওপরই পড়ে না। এতে অন্য সাংবাদিকদের মধ্যেও ভয় তৈরি হয়।
এ সাংবাদিক নেতা বলেন, সাংবাদিকের হাতে থাকা কলম কোনো ধ্বংসের অস্ত্র নয়। এটি মানুষের কথা বলার, সত্য তুলে ধরার এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার মাধ্যম।
তিনি বলেন, সাংবাদিকের কলম মানুষের কষ্টের কথা বলে। এই কলম অন্যায় ও অনিয়মের বিরুদ্ধে জনমত তৈরি করে। এই কলম মানবিক বাংলাদেশের কথা বলে। এই কলম থামানো যাবে না। এতে রাষ্ট্র ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই সাংবাদিকের কলমকে ভয় না পেয়ে তাকে লিখতে দেওয়া, ক্ষমতাবানদের প্রশ্ন করতে দেওয়া এবং ক্ষমতাবানদের প্রশ্নের জবাব দিতে বাধ্য করা রাষ্ট্রের জন্য কল্যাণের।
তিনি আরো বলেন, ভুলে গেলে চলবে না একটি জাতির উন্নয়ন শুধু অর্থনৈতিক অগ্রগতি বা অবকাঠামোর ওপর নির্ভর করে না। একটি জাতির প্রকৃত শক্তি তার ন্যায়বোধ, মানবিকতা, জবাবদিহি ও সত্য বলার সাহসের মধ্যে নিহিত। সাংবাদিকরা যদি নিরাপদে কাজ করতে না পারেন, যদি সত্য প্রকাশ করতে গিয়ে হামলার শিকার হন, যদি প্রশ্ন করার কারণে হুমকি পান—তাহলে সমাজে ভয় ও নীরবতার সংস্কৃতি তৈরি হয়।
আরও পড়ুন: রংপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কায় তিনজন নিহত
বিএফইউজের মহাসচিব বলেন, যখন জাতির বিবেক নীরব হয়ে যায়, তখন অন্যায়কে অন্যায় বলার মানুষও কমে যায়। তাই সাংবাদিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। সাংবাদিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা শুধু সাংবাদিকদের স্বার্থ নয়; এটি সাধারণ মানুষের জানার অধিকার রক্ষারও অংশ। কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তার সমাধান হতে হবে আইন ও নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। হামলা, ভয়ভীতি বা চাপ প্রয়োগ করে কোনো সমস্যার সমাধান করা যায় না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন