ঢাকা শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

স্পেনে এক বছরে দুই ট্রেন দুর্ঘটনা, বেঁচে ফেরা যাত্রীদের নিরাপত্তা বাড়ানোর দাবি


স্পেনে এক বছরে দুই ট্রেন দুর্ঘটনা, বেঁচে ফেরা যাত্রীদের নিরাপত্তা বাড়ানোর দাবি

স্পেনে এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে দুটি মারাত্মক ট্রেন দুর্ঘটনায় ১১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর আগে ২০১৩ সালে দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় ৮০ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন। একের পর এক দুর্ঘটনার পর রেলপথের নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণে অধিক বিনিয়োগের দাবি জানিয়েছেন দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে ফেরা যাত্রী ও বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, নতুন রেললাইন নির্মাণের পাশাপাশি পুরোনো লাইন ও সংকেতব্যবস্থার রক্ষণাবেক্ষণে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

বুধবার মধ্য স্পেনের টলেডোর কাছে উর্দা শহরের পাশে দুটি ট্রেনের সংঘর্ষে অন্তত ৬৯ জন নিহত হন। এর মাত্র ১০ মাস আগে, গত জানুয়ারিতে দক্ষিণ স্পেনের কর্দোবার কাছে আদামুজ এলাকায় একই রেলপথে দুটি ট্রেনের সংঘর্ষে ৪৬ জন প্রাণ হারান। ১৩ বছর আগে, ২০১৩ সালে উত্তর-পশ্চিম স্পেনের সান্তিয়াগো দে কম্পোস্তেলার কাছে আংরোইসে দ্রুতগতির একটি ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে ৮০ জন নিহত হয়েছিলেন। সেটিই স্পেনের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাণঘাতী রেল দুর্ঘটনা।

আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশটির তিনটি মারাত্মক রেল দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে ফেরা যাত্রীরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে এমন প্রাণহানি প্রতিরোধে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

আরও পড়ুন: চলতি অর্থবছরে ভারতের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়ল

২০১৩ সালের আংরোইস দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যাওয়া ক্রিস্টোবাল গনজালেজ বলেন, ‘আমি বেঁচে গেছি, কিন্তু এত বছর পরও সেই মানসিক ক্ষত রয়ে গেছে। আমাদের আরো দুর্ঘটনা বন্ধ করতে হবে।’

গনজালেজের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লেগেছিল। তার মতে, ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার গতিতে চলার কথা ছিল ট্রেনটির, কিন্তু সেটি ঘণ্টায় ২০০ কিলোমিটার গতিতে চলতে গিয়ে লাইনচ্যুত হয়। দুর্ঘটনায় ৮০ জন প্রাণ হারান।

আলজাজিরাকে গনজালেজ বলেন, ‘এখন আমরা আংরোইস, আদামুজ ও উর্দায় তিনটি ভয়াবহ দুর্ঘটনা দেখলাম। ব্যবস্থা না নিলে এমন দুর্ঘটনা ঘটতেই থাকবে।’

তিনি বলেন, আংরোইসে চালক অতিরিক্ত গতিতে ট্রেন চালাচ্ছিলেন। আদামুজ দুর্ঘটনার তদন্তে রেললাইনে ত্রুটি পাওয়া গেছে। উর্দার দুর্ঘটনার পেছনে মানুষের ভুল এবং নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার সমস্যার ভূমিকা থাকতে পারে। নিরাপত্তায় আরো বিনিয়োগ করে এসব দুর্ঘটনা বন্ধ করতে হবে।

আরও পড়ুন: ‘বাবাকে হত্যা করতে চাইছে’ : ইমরান খানের ছেলের সতর্কবার্তা

আংরোইস দুর্ঘটনার সময় গনজালেজ এক বন্ধুর সঙ্গে সান্তিয়াগো দে কম্পোস্তেলা যাচ্ছিলেন। তিনি ট্রেনটির সামনের বগিতে ছিলেন। দুর্ঘটনার সময় ট্রেনটি লাইন থেকে ছিটকে গিয়ে একটি ঢালে আছড়ে পড়ে। অন্য যাত্রীদের শেষ মুহূর্তে সাহায্য করার চেষ্টা করতে গিয়ে তিনি ট্রেনের ভেতরেই ছিলেন।

সেই দিনের ঘটনা নিয়ে এখনো কথা বলতে কষ্ট হয় তার। মানসিক আঘাতজনিত সমস্যায় ভুগছেন তিনি। গনজালেজ বলেন, ‘যা ঘটেছিল, তা নিজের মধ্যেই রেখে দেব। এ বিষয়ে কথা বলা খুব কঠিন। বলতে চাইলেও পারব কি না জানি না। ঘটনাটি কল্পনারও বাইরে।’

‘বিশ্বাস করতে পারছি না, আবারও এমন ঘটনা ঘটল’

চলতি বছরের জানুয়ারিতে আদামুজ দুর্ঘটনার সময় রেনফে পরিচালিত ট্রেনটির যাত্রী ছিলেন সান্তিয়াগো রোসেন্দো। দুর্ঘটনার ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ট্রেনের যাত্রীদের মধ্যে তখন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল।

আরও পড়ুন: দিল্লির রেসকোর্স মসজিদে নামাজ বন্ধ করল সরকার

আলজাজিরাকে তিনি বলেন, ‘প্রথমে হঠাৎ করেই ট্রেনটি থেমে যায়। এরপর প্রচণ্ড শব্দে সংঘর্ষ হয়। ট্রেনটি এদিক-ওদিক দুলতে থাকে। একপর্যায়ে কাত হয়ে পড়ে। চারদিকে তখন ঘুটঘুটে অন্ধকার।’

রোসেন্দো জানান, দুর্ঘটনার পর ট্রেন থেকে নেমে প্রথমেই তিনি একটি লাশ দেখতে পান। ওই রাতে তিনি একাই মাদ্রিদ থেকে দক্ষিণ স্পেনের হুয়েলভা যাচ্ছিলেন।

তিনি বলেন, ‘একই রেলপথে আবারও এমন ঘটনা ঘটেছে, এটা আমি বিশ্বাস করতে পারছি না। আমাদের কিছু একটা করতেই হবে।’

আদামুজ দুর্ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে বলা হয়েছে, রেললাইনের একটি অংশ ভেঙে যাওয়ায় একটি ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা আরেকটি ট্রেনের সামনে চলে আসে। ফলে দুটি ট্রেনের সংঘর্ষ ঘটে।

আরও পড়ুন: নেতানিয়াহু হেরে গিয়ে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করতে চান, দাবি বিরোধীদের

চলতি বছরের এসব দুর্ঘটনার পর বিশেষজ্ঞরা রেলপথের রক্ষণাবেক্ষণে আরও বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন।

ইউরোপীয় কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত স্পেন প্রতিবছর উচ্চগতির রেলপথে গড়ে প্রায় ১৬৭ কোটি ডলার ব্যয় করেছে। একই ধরনের রেল নেটওয়ার্ক থাকা ইউরোপের অন্যান্য দেশের তুলনায় এই ব্যয় বেশি। তবে এই অর্থের মাত্র ১৬ শতাংশ ব্যয় হয়েছে রেলপথের রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতে। বাকি অর্থ ব্যয় হয়েছে অবকাঠামো নির্মাণে।

অন্যদিকে ইতালি, জার্মানি ও ফ্রান্স তাদের রেল নেটওয়ার্কের রক্ষণাবেক্ষণে মোট বাজেটের গড়ে ৩৩ থেকে ৩৯ শতাংশ ব্যয় করেছে। অথচ এসব দেশের প্রতিটির উচ্চগতির রেল নেটওয়ার্ক স্পেনের ৪ হাজার কিলোমিটারের নেটওয়ার্কের চেয়ে ছোট।

রেলপথের রক্ষণাবেক্ষণে বিনিয়োগ বাড়ানোর তাগিদ

আরও পড়ুন: ঢাকায় আন্তর্জাতিক নারী সংসদ ও আইকনিক উইমেন অ্যাওয়ার্ড ২০২৬ অনুষ্ঠিত

স্প্যানিশ অ্যাসোসিয়েশন অব সিভিল ইঞ্জিনিয়ার্সের মুখপাত্র হোসে মারিয়া গোইকোলেয়া আলজাজিরাকে বলেন, রেল নেটওয়ার্কের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এর রক্ষণাবেক্ষণে ব্যয়ও বাড়াতে হবে।

তিনি বলেন, ‘১৯৮২ সালে যখন প্রথম রেলপথ চালু হয়েছিল, তখন নেটওয়ার্কটি ছিল খুব ছোট। এখন এটি অনেক বড় হয়েছে এবং ব্যবহারও বেড়েছে। পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ ভিন্ন। শুধু নতুন রেললাইন নির্মাণের দিকে নজর দিলে চলবে না, রক্ষণাবেক্ষণেও বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।’

২০২৪ সালে স্পেনের উচ্চগতির ট্রেনে প্রায় ৪ কোটি মানুষ যাতায়াত করেছেন। ২০১৯ সালের তুলনায় এই সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে উচ্চগতির রেল নেটওয়ার্কে যাত্রী ছিলেন প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ। তবে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় যাত্রীর সংখ্যা ১৪ শতাংশ কমেছে।

এ বছর দুটি দুর্ঘটনাই ঘটেছে মাদ্রিদ-সেভিয়া রেলপথে। স্পেনের রেল নেটওয়ার্কে এই একমাত্র পথটিতে জার্মানিতে তৈরি ১৯৭০-এর দশকের এলজেডবি নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়। বর্তমানে এই প্রযুক্তি ধাপে ধাপে সরিয়ে ফেলা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: পুরো ইসরাইলের ওপরই যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া উচিত: ক্লাইভ লুইস

গোইকোলেয়া মনে করেন, এলজেডবি ব্যবস্থা পুরোপুরি সরিয়ে না নেওয়া পর্যন্ত মাদ্রিদ-সেভিয়া রেলপথটি বন্ধ রাখা উচিত।

তিনি বলেন, ‘আমি মাদ্রিদ-সেভিয়া রেলপথটি বন্ধ রাখার পক্ষে, যতক্ষণ না এলজেডবি ব্যবস্থা সরিয়ে ফেলা হচ্ছে। বুধবারের দুর্ঘটনার জন্য ব্যবস্থাটি আংশিকভাবে দায়ী ছিল। এটি কাজ করেনি। তবে মনে হচ্ছে, মানুষের ভুলও দুর্ঘটনার আরেকটি কারণ। অবশ্য এ সিদ্ধান্ত রাজনীতিবিদদের, আমার নয়।’

গোইকোলেয়া আরো বলেন, জানুয়ারির দুর্ঘটনার কারণ ছিল রেলপথের ত্রুটি।

কাতালোনিয়ার পলিটেকনিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক ও অবকাঠামো বিশেষজ্ঞ রামিরো আউপিন লোপেরা বলেন, ২০১১ সাল থেকে অর্থনৈতিক সংকটের পর স্পেনের উচ্চগতির রেল নেটওয়ার্কের রক্ষণাবেক্ষণে বিনিয়োগ হাস্যকর পর্যায়ে কমে গেছে।

তিনি আলজাজিরাকে বলেন, ‘একদিকে রেল নেটওয়ার্কের ব্যবহার বেড়েছে, অন্যদিকে রক্ষণাবেক্ষণে বিনিয়োগ কমেছে। এক বছরেরও কম সময়ে দুটি দুর্ঘটনা ঘটেছে, এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। রাজনীতিবিদদের বিজ্ঞান ও অবকাঠামো সম্পর্কে অজ্ঞতা কিংবা এসবের প্রতি অবহেলা থেকে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে।’

স্পেনের রাষ্ট্রীয় রেল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান রেনফে ছাড়াও দেশটিতে দুটি বেসরকারি রেল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এগুলো হলো ফ্রান্সের ওউইগো এবং ইতালির একটি ব্যবসায়ী জোটের অংশ ইরিও। প্রতিষ্ঠান দুটি মাদ্রিদ-সেভিয়া রেলপথের এলজেডবি নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে।

গত বছর স্পেনের ওউইগোর তৎকালীন পরিচালক হেলেন ভেনেজুয়েলা দেশটির রেডিও ক্যাদেনা সেরকে বলেছিলেন, ‘মাদ্রিদ-সেভিয়া রেলপথে এলজেডবির মতো পুরোনো ব্যবস্থা রয়েছে। বিষয়টি অনেকটা সাদাকালো পর্দায় নেটফ্লিক্স দেখার মতো। আমরা নেটফ্লিক্স, অথচ এই ব্যবস্থা এখনো সাদাকালোতেই আটকে আছে।’

এদিকে সর্বশেষ দুর্ঘটনার জন্য রেলকর্মীদের দায়ী করার বিষয়ে সতর্ক করেছেন স্পেনের ট্রেনচালকদের ইউনিয়ন সেমাফের কর্মকর্তা দিয়েগো মার্তিন। তিনি বলেন, ‘দোষারোপ করে দুর্ঘটনা ঠেকানো যায় না। দুর্ঘটনার কারণ চিহ্নিত করা এবং তা নির্ধারণ করাই পারে এমন ঘটনা প্রতিরোধ করতে।’

এএম

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত শ্রমবাজার ও রেমিট্যান্সে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে: এম হুমায়ুন কবির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৩৮ পি.এম


মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত শ্রমবাজার ও রেমিট্যান্সে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে: এম হুমায়ুন কবির

পাকিস্তান, সৌদি আরব এবং তুরস্কের মধ্যে যে মক্কা চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে, তা তাদের নিজস্ব নিরাপত্তার স্বার্থে গৃহীত। মুসলিম বিশ্বের ঐক্যবদ্ধ করার জন্য প্রয়োজনীয় কাঠামো মক্কা চুক্তিতে বিদ্যমান কিনা, তা সন্দেহজনক। এ চুক্তির মাধ্যমে মুসলিম বিশ্বের স্বার্থ কতটা সুরক্ষিত হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

বাংলাদেশের জন্য মক্কা চুক্তিতে যোগদান করা একটি কঠিন সিদ্ধান্ত। এই বিষয়ে কোনো আবেগের পরিবর্তে গভীর চিন্তার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা আবশ্যক। সৌদি আরবে সৈন্য পাঠানোর বিষয়ে বাংলাদেশ কি পদক্ষেপ নেবে, তা বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। প্রয়োজনে, মক্কা চুক্তির আওতায় না গিয়েও সৌদি আরবের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিকভাবে সৈন্য পাঠানো সম্ভব। মধ্যপ্রাচ্য ও সৌদি আরবের চলমান সংঘাত যদি দীর্ঘায়িত হয়, তাহলে বাংলাদেশের শ্রমবাজার এবং রেমিট্যান্সে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

বাংলাদেশ যদি মক্কা চুক্তিতে যুক্ত হয়, তাহলে ভারত, ইসরায়েল এবং ইউএই মিলে একটি নতুন অক্ষশক্তি গঠনের সম্ভাবনা রয়েছে। এতে দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা এবং অর্থনৈতিক পরিবেশ বিঘ্নিত হতে পারে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য সংকট একটি জটিল অবস্থায় পৌঁছেছে। সম্প্রতি সৌদি আরবের সঙ্গে হুতিদের সংঘাত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। হুতিদের ক্ষতিপূরণ এবং পারস্পরিক সম্মান প্রদানের মাধ্যমে এই সংঘাতের সমাধান সম্ভব হতে পারে।

আজ (৩০ অক্টোবর ২০২৬, শুক্রবার) এফডিসিতে মুসলিম বিশ্বের সংকট নিরসনে মক্কা চুক্তি নিয়ে আয়োজিত ছায়া সংসদে সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবির প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব বিষয় তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। প্রতিযোগিতাটি ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজন করে।

সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, বর্তমানে মুসলিম বিশ্ব একটি চরম সংকটের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করছে। ফিলিস্তিন, কাশ্মীর, রোহিঙ্গা সহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে মুসলমানরা নির্যাতিত, বাস্তুচ্যুত এবং অধিকারবঞ্চিত। অভ্যন্তরীণ কোন্দল, শিয়া—সুন্নী সংঘাত, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং ইসলামবিদ্বেষীদের সন্ত্রাসী তকমা মুসলমানদের দুর্বল করে দিচ্ছে। ওআইসি, জিসিসি, আইএমসিটিসি এর মতো সংস্থাগুলো বর্তমানে কার্যকর নয়।

ইসলামবিদ্বেষীরা মুসলমানদের মধ্যে অনৈক্য ও অভ্যন্তরীণ কোন্দলের সুযোগ নিয়ে ইসলামোফোবিয়া তৈরি করছে। যা ইসলামবিরোধীরা তাদের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। এমনকি মুসলিমবিদ্বেষী মিডিয়া ইসলামকে একটি ‘সহিংস ও উগ্রপন্থী’ ধর্ম হিসেবে উপস্থাপন করছে। তিনি আরও বলেন, যেদিন ইসলামী শক্তিগুলো নিজেদের মধ্যে দেয়াল ভেঙে এক কাতারে দাঁড়াতে পারবে, সেদিন ইসলামবিদ্বেষীদের সব প্রোপাগান্ডা তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়বে।

মুসলিম বিশ্বের সংকট নিরসনে ‘মক্কা চুক্তি’ কতটুকু কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, তা দেখা জরুরি। সম্প্রতি ইরানের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে তেহরানে মক্কা প্যাক্টের অন্তর্ভুক্ত রাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধিদের আলোচনা চলমান সৌদি—হুতি সংঘাত বন্ধের সম্ভাবনা উন্মোচিত করেছে। তবে, দুদিন আগে ইয়েমেনে এবং হুতিদের ওপর সৌদি আরবের বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হুতিদের সঙ্গে সৌদি আরবের যুদ্ধ পরিস্থিতি আবারও উসকে দিচ্ছে। মক্কা চুক্তির প্রতি বাংলাদেশের ইতিবাচক মনোভাবকে কাজে লাগিয়ে শ্রমবাজার সম্প্রসারণ, সৌদি বিনিয়োগ, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানসহ আমাদের স্বার্থ সুরক্ষার উপায় খুঁজে বের করতে হবে।

‘মুসলিম বিশ্বের বিদ্যমান সংকট নিরসনে মক্কা চুক্তি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে’ শীর্ষক ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় সরকারি দল কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহের বিতার্কিকদের পরাজিত করে বিরোধী দল আনন্দ মোহন কলেজ, ময়মনসিংহের বিতার্কিকরা বিজয়ী হন। প্রতিযোগিতায় বিচারক হিসেবে ছিলেন অধ্যাপক আবু মোহাম্মদ রইস, সাংবাদিক মাঈনুল আলম, সাংবাদিক এ কে এম মঈনুদ্দিন, সাংবাদিক ইমরুল কায়েস এবং সাংবাদিক শাতিলা শারমিন। প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী দলকে ট্রফি, ক্রেস্ট এবং সনদপত্র প্রদান করা হয়। ছায়া সংসদটি ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজন করে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নভেম্বর থেকে টিসিবি হলুদ-মরিচের গুঁড়া ও চা বিক্রি করবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৪১ পি.এম


নভেম্বর থেকে টিসিবি হলুদ-মরিচের গুঁড়া ও চা বিক্রি করবে

ভোক্তাদের জন্য পণ্যের পরিসর বৃদ্ধির লক্ষ্যে, বাণিজ্যিক আয় বৃদ্ধি এবং সরকারি ভর্তুকির ওপর নির্ভরতা কমানোর উদ্দেশ্যে আগামী নভেম্বর থেকে প্যাকেটজাত হলুদ গুঁড়া, মরিচ গুঁড়া ও চা বিক্রি শুরু করার পরিকল্পনা করেছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)।

টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ফয়সল আজাদ জানিয়েছেন, সাশ্রয়ী মূল্যে ভোক্তাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহের পাশাপাশি সংস্থার আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করার জন্য বাণিজ্যিক পণ্যের পরিসর সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, “আমরা ইতোমধ্যে সাবান ও ডিটারজেন্ট বিক্রি শুরু করেছি। আগামী নভেম্বর থেকে প্যাকেটজাত হলুদ ও মরিচের গুঁড়া বিক্রির পরিকল্পনা রয়েছে। চা বিক্রিরও অনুমোদন পেয়েছি। আশা করছি, নভেম্বরেই এটি বাজারে আনতে পারব।”

টিসিবি চেয়ারম্যান আরও জানান, সংস্থাটি আটা বিক্রির পরিকল্পনাও করছে। বাজারের চাহিদা যাচাই করে নতুন পণ্য বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে বাজার জরিপ চলছে এবং জরিপের ফল ইতিবাচক হলে নতুন পণ্য বাজারে আনা হবে।

আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে বাণিজ্যিক কার্যক্রম থেকে আয় বাড়িয়ে এবং সরকারি ভর্তুকির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হওয়ার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে টিসিবি পণ্যের পরিসর বাড়াচ্ছে।

ইতোমধ্যে সংস্থাটি কাপড় কাচার সাবান, গোসলের সাবান, ডিটারজেন্ট ও লবণ বিক্রি শুরু করেছে। এসব পণ্য প্রচলিত বাজারদরের চেয়ে কম দামে বিক্রি করা হলেও সংগ্রহমূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

ফলে ভোক্তারা সাশ্রয়ী মূল্যে প্রয়োজনীয় পণ্য পাচ্ছেন, পাশাপাশি এসব পণ্য থেকে টিসিবি সামান্য মুনাফাও করছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাণিজ্যিক কার্যক্রম থেকে টিসিবি ২৪ কোটি ৩৭ লাখ টাকা মুনাফা করেছে।

ফয়সল আজাদ বলেন, পণ্যের পরিসর বাড়ানো এবং আরো বেশি ভোক্তার কাছে পৌঁছাতে পারলে সংস্থার আয় বৃদ্ধি পাবে। তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হলো পণ্যের পরিসর বাড়িয়ে অতিরিক্ত আয় করা।”

তিনি জানান, সম্প্রসারিত পণ্যসম্ভারের মাধ্যমে এক কোটি গ্রাহকের কাছে পৌঁছাতে পারলে টিসিবির প্রায় ৭০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত আয় বা আর্থিক সুবিধা অর্জনের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে প্রকৃত আয় নির্ভর করবে বিক্রির পরিমাণ ও পরিচালন কার্যক্রমের দক্ষতার ওপর।

বর্তমানে টিসিবি নতুন বাণিজ্যিক পণ্যের মাধ্যমে প্রতি মাসে প্রায় ৫০ লাখ গ্রাহকের কাছে পৌঁছাচ্ছে। চলতি অর্থবছরে এ সংখ্যা ৭০ থেকে ৮০ লাখে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। আগামী অর্থবছরে গ্রাহকসংখ্যা এক কোটিতে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে সংস্থাটি।

টিসিবি চেয়ারম্যান বলেন, মাত্র চার মাস আগে নতুন পণ্যগুলো বিক্রি শুরু হয়েছে। গ্রাহকদের কাছ থেকে সাড়া মোটামুটি ভালো পাওয়া যাচ্ছে। তবে গ্রাহকসংখ্যা আরও বাড়াতে চান তারা।

নতুন পণ্য বিক্রির কারণে বিদ্যমান ভর্তুকির পণ্যের দাম বাড়বে না বলে জানান তিনি। এসব নতুন পণ্য কেনা বা না কেনার সিদ্ধান্ত ভোক্তাদের ওপরই থাকবে।

তিনি বলেন, “সরকার ভর্তুকির আওতায় বর্তমানে যেসব পণ্য বিক্রি করছে, সেগুলোর দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই। আগের দামেই এসব পণ্য বিক্রি অব্যাহত থাকবে।”

নতুন পণ্যগুলো বাজারদরের চেয়ে কম দামে বিক্রি করা হবে কি না, জানতে চাইলে টিসিবি চেয়ারম্যান বলেন, “হ্যাঁ, নতুন পণ্যগুলোর দামও প্রচলিত বাজারদরের চেয়ে কম থাকবে।”

তিনি বলেন, একসঙ্গে সব পরিবর্তন না এনে ধাপে ধাপে পণ্যের পরিসর বাড়ানোর কৌশল নিয়েছে টিসিবি। এর লক্ষ্য হলো, যাতে ভোক্তারা সংস্থার বিক্রয়কেন্দ্র থেকেই এক জায়গায় তাঁদের নিয়মিত প্রয়োজনীয় অধিকাংশ নিত্যপণ্য কিনতে পারেন।

এদিকে স্মার্ট কার্ডভিত্তিক বিতরণ কর্মসূচির বাইরে ভোজ্যতেল, ডাল ও চিনিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রির সুযোগও খতিয়ে দেখছে টিসিবি। এ লক্ষ্যে ভোজ্যতেল বিক্রির একটি পরীক্ষামূলক উদ্যোগ চলছে। প্রস্তাবিত এ কর্মসূচির আওতায় পণ্য বিক্রির জন্য সম্ভাব্য ডিলারদের কাছ থেকে আবেদনও আহ্বান করেছে সংস্থাটি।

পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানোর পাশাপাশি অর্থায়ন ও পরিচালন ব্যয় কমানোর উদ্যোগও নিয়েছে টিসিবি। এর অংশ হিসেবে ব্যাংকঋণের পরিবর্তে নগদ অর্থে চিনি ও মসুর ডাল কেনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তুলনামূলক কম সুদের প্রস্তাব দেওয়া বেসরকারি ব্যাংকের সেবা নেওয়া এবং অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেসের (এপিআই) মাধ্যমে সরাসরি ব্যাংক হিসাবে বিক্রির অর্থ জমা নেওয়ার ব্যবস্থাও চালু করা হয়েছে।

পরিবহন, পণ্য ওঠানো-নামানো এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যয় কমাতে আঞ্চলিক গুদাম থেকে সরাসরি পণ্য বিতরণের ব্যবস্থাও চালু করেছে সংস্থাটি।

টিসিবি চেয়ারম্যান বলেন, ভোক্তাদের জন্য সাশ্রয়ী মূল্য বজায় রেখেই ভর্তুকির বোঝা কমাতে পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানো জরুরি। শুধু ব্যয় কমিয়ে ভর্তুকির চাপ কমানো সম্ভব নয়, একই সঙ্গে আয়ও বাড়াতে হবে।

তিনি বলেন, “আমরা শুধু খরচ কমিয়ে ভর্তুকির বোঝা কমাতে পারব না। আমাদের আয়ও বাড়াতে হবে।”

নতুন মসলা, চা ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য যুক্ত করার পাশাপাশি গ্রাহকসংখ্যা বাড়লে টিসিবির বাণিজ্যিক কার্যক্রম আরো শক্তিশালী হবে বলে আশা করছে সংস্থাটি। এর মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক স্বনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্য বাস্তবায়ন সহজ হবে।

ফয়সল আজাদ বলেন, নতুন পণ্যগুলোও বাজারদরের চেয়ে কম দামে বিক্রি করা হবে। এ কারণেই চার থেকে পাঁচ বছর মেয়াদি ধাপে ধাপে সম্প্রসারণ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। একসঙ্গে সব পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, “আমরা ইতোমধ্যে কয়েকটি পণ্য বাজারে এনেছি। আগামী মাসগুলোতে আরও পণ্য যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।”

টিসিবি থেকে নিয়মিত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কম দামে কিনতে পারলে একটি পরিবারের বছরে কয়েক হাজার টাকা সাশ্রয় হতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, “আমরা চাই মানুষ টিসিবির বিক্রয়কেন্দ্রে এসে প্রতি মাসে প্রয়োজনীয় পণ্য কিনুক। ধীরে ধীরে পণ্যের পরিসর বাড়ানো হবে। তবে ভর্তুকির বোঝা কমাতে এবং অতিরিক্ত আয় করতে আমাদের পণ্যের সংখ্যা বাড়াতে হবে।”

বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় পেঁয়াজ কেনে টিসিবি।

পণ্য সংগ্রহ পরিকল্পনা সম্পর্কে টিসিবি চেয়ারম্যান বলেন, চিনি ও অন্যান্য নিয়মিত পণ্য সংগ্রহের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি পরিচালনগত প্রয়োজন অনুযায়ী টয়লেট সাবান ও কাপড় কাচার সাবানও কেনা হচ্ছে।

তবে পেঁয়াজ ও আলু সারা বছর নিয়মিতভাবে সংগ্রহ করে না টিসিবি। বাজারে পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার প্রয়োজন মনে করলে এসব পণ্য কেনা হয়।

তিনি বলেন, “২০২২, ২০২৩ ও ২০২৪ সালে আমরা পেঁয়াজ কিনেছিলাম। বর্তমানে পেঁয়াজের কোনো সংকট নেই। তাই এখনই নতুন করে পেঁয়াজ কেনার পরিকল্পনা নেই।”

তিনি আরও বলেন, বাজার পরিস্থিতি অনুযায়ী সরকারের প্রয়োজন দেখা দিলেই পেঁয়াজ ও আলু সংগ্রহ করা হবে। চাহিদা ও সরবরাহ পরিস্থিতি বিবেচনা না করে সারা বছর এসব পণ্য কেনার পরিকল্পনা নেই টিসিবির।

এ ধরনের নীতি অনুসরণের ফলে বাজারের চাহিদা ও সরবরাহ পরিস্থিতি এবং সরকারের প্রয়োজন অনুযায়ী পণ্য সংগ্রহের সুযোগ থাকে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্রে ওরেগনে দুই হেলিকপ্টারের সংঘর্ষ, নিহত ৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৪৩ পি.এম


যুক্তরাষ্ট্রে ওরেগনে দুই হেলিকপ্টারের সংঘর্ষ, নিহত ৩

যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগন অঙ্গরাজ্যে দুটি হেলিকপ্টারের সংঘর্ষের ঘটনায় তিনজন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) স্থানীয় সময় বিকেলে একটি ছোট বিমানবন্দরের নিকটবর্তী এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। খবরটি প্রকাশ করেছে বিবিসি।

কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ম্যাকমিনভিল মিউনিসিপ্যাল বিমানবন্দরের কাছে রবিনসন আর২২ এবং এয়ারবাসের একটি হেলিকপ্টারের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। সংঘর্ষের পর, উভয় হেলিকপ্টারই মহাসড়কের পাশে একটি খোলা মাঠে বিধ্বস্ত হয়।

নিহতদের মধ্যে একজন ২২ বছর বয়সী ফ্লাইট প্রশিক্ষক ছিলেন। তার সঙ্গে একই হেলিকপ্টারে ছিলেন যুক্তরাজ্যের এক শিক্ষানবিশ পাইলট। অন্য হেলিকপ্টারে থাকা একমাত্র আরোহীও প্রাণ হারিয়েছেন।

কর্তৃপক্ষ জানায়, রবিনসন আর২২ হেলিকপ্টারে থাকা ফ্লাইট প্রশিক্ষকের নাম ম্যাডি আসবো। তবে যুক্তরাজ্যের শিক্ষানবিশ পাইলটের পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তার স্বজনদের দুর্ঘটনার বিষয়ে জানাতে কনস্যুলেট ও এফবিআইয়ের সঙ্গে কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।

অন্য হেলিকপ্টারটির একমাত্র আরোহীর নাম টাইলার ডেলেন স্টারডেভ্যান্ট (৩৮)। তিনি ওরেগনের নিউবার্গ এলাকার বাসিন্দা ছিলেন।

এ দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানা যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) এবং ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (এনটিএসবি) ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে।

বিবিসি জানায়, দুর্ঘটনার বিষয়ে মন্তব্য জানতে এফএএর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।

দুর্ঘটনাকবলিত একটি হেলিকপ্টার পরিচালনা করছিল জেরি ট্রিম্বল হেলিকপ্টারস নামের একটি ফ্লাইট প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির অবস্থান ম্যাকমিনভিল মিউনিসিপ্যাল বিমানবন্দরে।

এক বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, তাদের একটি হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় জড়িত হওয়ায় তারা গভীরভাবে শোকাহত। তারা তদন্তকারীদের সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতা করছে।

এদিকে, উদ্ধার ও তদন্ত কার্যক্রম চলাকালে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সাধারণ মানুষকে দুর্ঘটনাস্থল এড়িয়ে চলার অনুরোধ জানিয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হাতিরঝিলে ৪ ককটেলসহ ২ যুবককে গ্রেফতার করেছে ঢাকা পুলিশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৪৩ পি.এম


হাতিরঝিলে ৪ ককটেলসহ ২ যুবককে গ্রেফতার করেছে ঢাকা পুলিশ

রাজধানীর হাতিরঝিল থানা এলাকা থেকে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) দুই যুবককে গ্রেফতার করেছে, তাদের কাছে ৪টি ককটেল পাওয়া গেছে।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন গণমাধ্যমকে এই তথ্য জানিয়েছেন।

গ্রেফতারকৃত যুবকদের নাম হলো: জাহিদুল ইসলাম অনিক (২১) এবং শিহাব হোসেন আমি (১৯)।

রমনা মডেল থানার সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাত ৮টার সময় রমনা মডেল থানাধীন রমনা শপিং কমপ্লেক্সের বিপরীত পাশে অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃতকারীরা দুটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিল। এই ঘটনার পর রমনা মডেল থানায় বিস্ফোরক আইনে একটি মামলা রুজু করা হয়।

পরবর্তীতে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং গোপন তথ্যের ভিত্তিতে আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় আজ শুক্রবার সকাল সোয়া ৭টার দিকে হাতিরঝিল থানাধীন মগবাজার নয়াটোলা চেয়ারম্যান গলির একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে অনিক ও শিহাবকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে ৪টি তাজা ককটেল উদ্ধার করা হয়।

জননিরাপত্তার স্বার্থে উদ্ধার করা ৪টি ককটেল ডিএমপির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে নিষ্ক্রিয় করে। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৭
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৪
মাগরিব ০৫:২০
ইশা ০৬:৩২
সূর্যোদয় : ০৬:০৪ সূর্যাস্ত : ০৫:২০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%