প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পাকিস্তান, সৌদি আরব এবং তুরস্কের মধ্যে যে মক্কা চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে, তা তাদের নিজস্ব নিরাপত্তার স্বার্থে গৃহীত। মুসলিম বিশ্বের ঐক্যবদ্ধ করার জন্য প্রয়োজনীয় কাঠামো মক্কা চুক্তিতে বিদ্যমান কিনা, তা সন্দেহজনক। এ চুক্তির মাধ্যমে মুসলিম বিশ্বের স্বার্থ কতটা সুরক্ষিত হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
বাংলাদেশের জন্য মক্কা চুক্তিতে যোগদান করা একটি কঠিন সিদ্ধান্ত। এই বিষয়ে কোনো আবেগের পরিবর্তে গভীর চিন্তার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা আবশ্যক। সৌদি আরবে সৈন্য পাঠানোর বিষয়ে বাংলাদেশ কি পদক্ষেপ নেবে, তা বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। প্রয়োজনে, মক্কা চুক্তির আওতায় না গিয়েও সৌদি আরবের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিকভাবে সৈন্য পাঠানো সম্ভব। মধ্যপ্রাচ্য ও সৌদি আরবের চলমান সংঘাত যদি দীর্ঘায়িত হয়, তাহলে বাংলাদেশের শ্রমবাজার এবং রেমিট্যান্সে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
বাংলাদেশ যদি মক্কা চুক্তিতে যুক্ত হয়, তাহলে ভারত, ইসরায়েল এবং ইউএই মিলে একটি নতুন অক্ষশক্তি গঠনের সম্ভাবনা রয়েছে। এতে দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা এবং অর্থনৈতিক পরিবেশ বিঘ্নিত হতে পারে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য সংকট একটি জটিল অবস্থায় পৌঁছেছে। সম্প্রতি সৌদি আরবের সঙ্গে হুতিদের সংঘাত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। হুতিদের ক্ষতিপূরণ এবং পারস্পরিক সম্মান প্রদানের মাধ্যমে এই সংঘাতের সমাধান সম্ভব হতে পারে।
আজ (৩০ অক্টোবর ২০২৬, শুক্রবার) এফডিসিতে মুসলিম বিশ্বের সংকট নিরসনে মক্কা চুক্তি নিয়ে আয়োজিত ছায়া সংসদে সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবির প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব বিষয় তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। প্রতিযোগিতাটি ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজন করে।
সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, বর্তমানে মুসলিম বিশ্ব একটি চরম সংকটের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করছে। ফিলিস্তিন, কাশ্মীর, রোহিঙ্গা সহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে মুসলমানরা নির্যাতিত, বাস্তুচ্যুত এবং অধিকারবঞ্চিত। অভ্যন্তরীণ কোন্দল, শিয়া—সুন্নী সংঘাত, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং ইসলামবিদ্বেষীদের সন্ত্রাসী তকমা মুসলমানদের দুর্বল করে দিচ্ছে। ওআইসি, জিসিসি, আইএমসিটিসি এর মতো সংস্থাগুলো বর্তমানে কার্যকর নয়।
ইসলামবিদ্বেষীরা মুসলমানদের মধ্যে অনৈক্য ও অভ্যন্তরীণ কোন্দলের সুযোগ নিয়ে ইসলামোফোবিয়া তৈরি করছে। যা ইসলামবিরোধীরা তাদের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। এমনকি মুসলিমবিদ্বেষী মিডিয়া ইসলামকে একটি ‘সহিংস ও উগ্রপন্থী’ ধর্ম হিসেবে উপস্থাপন করছে। তিনি আরও বলেন, যেদিন ইসলামী শক্তিগুলো নিজেদের মধ্যে দেয়াল ভেঙে এক কাতারে দাঁড়াতে পারবে, সেদিন ইসলামবিদ্বেষীদের সব প্রোপাগান্ডা তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়বে।
মুসলিম বিশ্বের সংকট নিরসনে ‘মক্কা চুক্তি’ কতটুকু কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, তা দেখা জরুরি। সম্প্রতি ইরানের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে তেহরানে মক্কা প্যাক্টের অন্তর্ভুক্ত রাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধিদের আলোচনা চলমান সৌদি—হুতি সংঘাত বন্ধের সম্ভাবনা উন্মোচিত করেছে। তবে, দুদিন আগে ইয়েমেনে এবং হুতিদের ওপর সৌদি আরবের বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হুতিদের সঙ্গে সৌদি আরবের যুদ্ধ পরিস্থিতি আবারও উসকে দিচ্ছে। মক্কা চুক্তির প্রতি বাংলাদেশের ইতিবাচক মনোভাবকে কাজে লাগিয়ে শ্রমবাজার সম্প্রসারণ, সৌদি বিনিয়োগ, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানসহ আমাদের স্বার্থ সুরক্ষার উপায় খুঁজে বের করতে হবে।
‘মুসলিম বিশ্বের বিদ্যমান সংকট নিরসনে মক্কা চুক্তি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে’ শীর্ষক ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় সরকারি দল কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহের বিতার্কিকদের পরাজিত করে বিরোধী দল আনন্দ মোহন কলেজ, ময়মনসিংহের বিতার্কিকরা বিজয়ী হন। প্রতিযোগিতায় বিচারক হিসেবে ছিলেন অধ্যাপক আবু মোহাম্মদ রইস, সাংবাদিক মাঈনুল আলম, সাংবাদিক এ কে এম মঈনুদ্দিন, সাংবাদিক ইমরুল কায়েস এবং সাংবাদিক শাতিলা শারমিন। প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী দলকে ট্রফি, ক্রেস্ট এবং সনদপত্র প্রদান করা হয়। ছায়া সংসদটি ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজন করে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন