শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৩:৩৮ পি.এম
পাকিস্তান, সৌদি আরব এবং তুরস্কের মধ্যে যে মক্কা চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে, তা তাদের নিজস্ব নিরাপত্তার স্বার্থে গৃহীত। মুসলিম বিশ্বের ঐক্যবদ্ধ করার জন্য প্রয়োজনীয় কাঠামো মক্কা চুক্তিতে বিদ্যমান কিনা, তা সন্দেহজনক। এ চুক্তির মাধ্যমে মুসলিম বিশ্বের স্বার্থ কতটা সুরক্ষিত হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
বাংলাদেশের জন্য মক্কা চুক্তিতে যোগদান করা একটি কঠিন সিদ্ধান্ত। এই বিষয়ে কোনো আবেগের পরিবর্তে গভীর চিন্তার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা আবশ্যক। সৌদি আরবে সৈন্য পাঠানোর বিষয়ে বাংলাদেশ কি পদক্ষেপ নেবে, তা বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। প্রয়োজনে, মক্কা চুক্তির আওতায় না গিয়েও সৌদি আরবের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিকভাবে সৈন্য পাঠানো সম্ভব। মধ্যপ্রাচ্য ও সৌদি আরবের চলমান সংঘাত যদি দীর্ঘায়িত হয়, তাহলে বাংলাদেশের শ্রমবাজার এবং রেমিট্যান্সে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
বাংলাদেশ যদি মক্কা চুক্তিতে যুক্ত হয়, তাহলে ভারত, ইসরায়েল এবং ইউএই মিলে একটি নতুন অক্ষশক্তি গঠনের সম্ভাবনা রয়েছে। এতে দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা এবং অর্থনৈতিক পরিবেশ বিঘ্নিত হতে পারে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য সংকট একটি জটিল অবস্থায় পৌঁছেছে। সম্প্রতি সৌদি আরবের সঙ্গে হুতিদের সংঘাত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। হুতিদের ক্ষতিপূরণ এবং পারস্পরিক সম্মান প্রদানের মাধ্যমে এই সংঘাতের সমাধান সম্ভব হতে পারে।
আজ (৩০ অক্টোবর ২০২৬, শুক্রবার) এফডিসিতে মুসলিম বিশ্বের সংকট নিরসনে মক্কা চুক্তি নিয়ে আয়োজিত ছায়া সংসদে সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবির প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব বিষয় তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। প্রতিযোগিতাটি ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজন করে।
সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, বর্তমানে মুসলিম বিশ্ব একটি চরম সংকটের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করছে। ফিলিস্তিন, কাশ্মীর, রোহিঙ্গা সহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে মুসলমানরা নির্যাতিত, বাস্তুচ্যুত এবং অধিকারবঞ্চিত। অভ্যন্তরীণ কোন্দল, শিয়া—সুন্নী সংঘাত, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং ইসলামবিদ্বেষীদের সন্ত্রাসী তকমা মুসলমানদের দুর্বল করে দিচ্ছে। ওআইসি, জিসিসি, আইএমসিটিসি এর মতো সংস্থাগুলো বর্তমানে কার্যকর নয়।
ইসলামবিদ্বেষীরা মুসলমানদের মধ্যে অনৈক্য ও অভ্যন্তরীণ কোন্দলের সুযোগ নিয়ে ইসলামোফোবিয়া তৈরি করছে। যা ইসলামবিরোধীরা তাদের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। এমনকি মুসলিমবিদ্বেষী মিডিয়া ইসলামকে একটি ‘সহিংস ও উগ্রপন্থী’ ধর্ম হিসেবে উপস্থাপন করছে। তিনি আরও বলেন, যেদিন ইসলামী শক্তিগুলো নিজেদের মধ্যে দেয়াল ভেঙে এক কাতারে দাঁড়াতে পারবে, সেদিন ইসলামবিদ্বেষীদের সব প্রোপাগান্ডা তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়বে।
মুসলিম বিশ্বের সংকট নিরসনে ‘মক্কা চুক্তি’ কতটুকু কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, তা দেখা জরুরি। সম্প্রতি ইরানের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে তেহরানে মক্কা প্যাক্টের অন্তর্ভুক্ত রাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধিদের আলোচনা চলমান সৌদি—হুতি সংঘাত বন্ধের সম্ভাবনা উন্মোচিত করেছে। তবে, দুদিন আগে ইয়েমেনে এবং হুতিদের ওপর সৌদি আরবের বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হুতিদের সঙ্গে সৌদি আরবের যুদ্ধ পরিস্থিতি আবারও উসকে দিচ্ছে। মক্কা চুক্তির প্রতি বাংলাদেশের ইতিবাচক মনোভাবকে কাজে লাগিয়ে শ্রমবাজার সম্প্রসারণ, সৌদি বিনিয়োগ, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানসহ আমাদের স্বার্থ সুরক্ষার উপায় খুঁজে বের করতে হবে।
‘মুসলিম বিশ্বের বিদ্যমান সংকট নিরসনে মক্কা চুক্তি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে’ শীর্ষক ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় সরকারি দল কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহের বিতার্কিকদের পরাজিত করে বিরোধী দল আনন্দ মোহন কলেজ, ময়মনসিংহের বিতার্কিকরা বিজয়ী হন। প্রতিযোগিতায় বিচারক হিসেবে ছিলেন অধ্যাপক আবু মোহাম্মদ রইস, সাংবাদিক মাঈনুল আলম, সাংবাদিক এ কে এম মঈনুদ্দিন, সাংবাদিক ইমরুল কায়েস এবং সাংবাদিক শাতিলা শারমিন। প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী দলকে ট্রফি, ক্রেস্ট এবং সনদপত্র প্রদান করা হয়। ছায়া সংসদটি ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজন করে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভোক্তাদের জন্য পণ্যের পরিসর বৃদ্ধির লক্ষ্যে, বাণিজ্যিক আয় বৃদ্ধি এবং সরকারি ভর্তুকির ওপর নির্ভরতা কমানোর উদ্দেশ্যে আগামী নভেম্বর থেকে প্যাকেটজাত হলুদ গুঁড়া, মরিচ গুঁড়া ও চা বিক্রি শুরু করার পরিকল্পনা করেছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)।
টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ফয়সল আজাদ জানিয়েছেন, সাশ্রয়ী মূল্যে ভোক্তাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহের পাশাপাশি সংস্থার আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করার জন্য বাণিজ্যিক পণ্যের পরিসর সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, “আমরা ইতোমধ্যে সাবান ও ডিটারজেন্ট বিক্রি শুরু করেছি। আগামী নভেম্বর থেকে প্যাকেটজাত হলুদ ও মরিচের গুঁড়া বিক্রির পরিকল্পনা রয়েছে। চা বিক্রিরও অনুমোদন পেয়েছি। আশা করছি, নভেম্বরেই এটি বাজারে আনতে পারব।”
টিসিবি চেয়ারম্যান আরও জানান, সংস্থাটি আটা বিক্রির পরিকল্পনাও করছে। বাজারের চাহিদা যাচাই করে নতুন পণ্য বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে বাজার জরিপ চলছে এবং জরিপের ফল ইতিবাচক হলে নতুন পণ্য বাজারে আনা হবে।
আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে বাণিজ্যিক কার্যক্রম থেকে আয় বাড়িয়ে এবং সরকারি ভর্তুকির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হওয়ার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে টিসিবি পণ্যের পরিসর বাড়াচ্ছে।
ইতোমধ্যে সংস্থাটি কাপড় কাচার সাবান, গোসলের সাবান, ডিটারজেন্ট ও লবণ বিক্রি শুরু করেছে। এসব পণ্য প্রচলিত বাজারদরের চেয়ে কম দামে বিক্রি করা হলেও সংগ্রহমূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।
ফলে ভোক্তারা সাশ্রয়ী মূল্যে প্রয়োজনীয় পণ্য পাচ্ছেন, পাশাপাশি এসব পণ্য থেকে টিসিবি সামান্য মুনাফাও করছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাণিজ্যিক কার্যক্রম থেকে টিসিবি ২৪ কোটি ৩৭ লাখ টাকা মুনাফা করেছে।
ফয়সল আজাদ বলেন, পণ্যের পরিসর বাড়ানো এবং আরো বেশি ভোক্তার কাছে পৌঁছাতে পারলে সংস্থার আয় বৃদ্ধি পাবে। তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হলো পণ্যের পরিসর বাড়িয়ে অতিরিক্ত আয় করা।”
তিনি জানান, সম্প্রসারিত পণ্যসম্ভারের মাধ্যমে এক কোটি গ্রাহকের কাছে পৌঁছাতে পারলে টিসিবির প্রায় ৭০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত আয় বা আর্থিক সুবিধা অর্জনের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে প্রকৃত আয় নির্ভর করবে বিক্রির পরিমাণ ও পরিচালন কার্যক্রমের দক্ষতার ওপর।
বর্তমানে টিসিবি নতুন বাণিজ্যিক পণ্যের মাধ্যমে প্রতি মাসে প্রায় ৫০ লাখ গ্রাহকের কাছে পৌঁছাচ্ছে। চলতি অর্থবছরে এ সংখ্যা ৭০ থেকে ৮০ লাখে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। আগামী অর্থবছরে গ্রাহকসংখ্যা এক কোটিতে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে সংস্থাটি।
টিসিবি চেয়ারম্যান বলেন, মাত্র চার মাস আগে নতুন পণ্যগুলো বিক্রি শুরু হয়েছে। গ্রাহকদের কাছ থেকে সাড়া মোটামুটি ভালো পাওয়া যাচ্ছে। তবে গ্রাহকসংখ্যা আরও বাড়াতে চান তারা।
নতুন পণ্য বিক্রির কারণে বিদ্যমান ভর্তুকির পণ্যের দাম বাড়বে না বলে জানান তিনি। এসব নতুন পণ্য কেনা বা না কেনার সিদ্ধান্ত ভোক্তাদের ওপরই থাকবে।
তিনি বলেন, “সরকার ভর্তুকির আওতায় বর্তমানে যেসব পণ্য বিক্রি করছে, সেগুলোর দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই। আগের দামেই এসব পণ্য বিক্রি অব্যাহত থাকবে।”
নতুন পণ্যগুলো বাজারদরের চেয়ে কম দামে বিক্রি করা হবে কি না, জানতে চাইলে টিসিবি চেয়ারম্যান বলেন, “হ্যাঁ, নতুন পণ্যগুলোর দামও প্রচলিত বাজারদরের চেয়ে কম থাকবে।”
তিনি বলেন, একসঙ্গে সব পরিবর্তন না এনে ধাপে ধাপে পণ্যের পরিসর বাড়ানোর কৌশল নিয়েছে টিসিবি। এর লক্ষ্য হলো, যাতে ভোক্তারা সংস্থার বিক্রয়কেন্দ্র থেকেই এক জায়গায় তাঁদের নিয়মিত প্রয়োজনীয় অধিকাংশ নিত্যপণ্য কিনতে পারেন।
এদিকে স্মার্ট কার্ডভিত্তিক বিতরণ কর্মসূচির বাইরে ভোজ্যতেল, ডাল ও চিনিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রির সুযোগও খতিয়ে দেখছে টিসিবি। এ লক্ষ্যে ভোজ্যতেল বিক্রির একটি পরীক্ষামূলক উদ্যোগ চলছে। প্রস্তাবিত এ কর্মসূচির আওতায় পণ্য বিক্রির জন্য সম্ভাব্য ডিলারদের কাছ থেকে আবেদনও আহ্বান করেছে সংস্থাটি।
পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানোর পাশাপাশি অর্থায়ন ও পরিচালন ব্যয় কমানোর উদ্যোগও নিয়েছে টিসিবি। এর অংশ হিসেবে ব্যাংকঋণের পরিবর্তে নগদ অর্থে চিনি ও মসুর ডাল কেনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তুলনামূলক কম সুদের প্রস্তাব দেওয়া বেসরকারি ব্যাংকের সেবা নেওয়া এবং অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেসের (এপিআই) মাধ্যমে সরাসরি ব্যাংক হিসাবে বিক্রির অর্থ জমা নেওয়ার ব্যবস্থাও চালু করা হয়েছে।
পরিবহন, পণ্য ওঠানো-নামানো এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যয় কমাতে আঞ্চলিক গুদাম থেকে সরাসরি পণ্য বিতরণের ব্যবস্থাও চালু করেছে সংস্থাটি।
টিসিবি চেয়ারম্যান বলেন, ভোক্তাদের জন্য সাশ্রয়ী মূল্য বজায় রেখেই ভর্তুকির বোঝা কমাতে পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানো জরুরি। শুধু ব্যয় কমিয়ে ভর্তুকির চাপ কমানো সম্ভব নয়, একই সঙ্গে আয়ও বাড়াতে হবে।
তিনি বলেন, “আমরা শুধু খরচ কমিয়ে ভর্তুকির বোঝা কমাতে পারব না। আমাদের আয়ও বাড়াতে হবে।”
নতুন মসলা, চা ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য যুক্ত করার পাশাপাশি গ্রাহকসংখ্যা বাড়লে টিসিবির বাণিজ্যিক কার্যক্রম আরো শক্তিশালী হবে বলে আশা করছে সংস্থাটি। এর মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক স্বনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্য বাস্তবায়ন সহজ হবে।
ফয়সল আজাদ বলেন, নতুন পণ্যগুলোও বাজারদরের চেয়ে কম দামে বিক্রি করা হবে। এ কারণেই চার থেকে পাঁচ বছর মেয়াদি ধাপে ধাপে সম্প্রসারণ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। একসঙ্গে সব পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, “আমরা ইতোমধ্যে কয়েকটি পণ্য বাজারে এনেছি। আগামী মাসগুলোতে আরও পণ্য যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।”
টিসিবি থেকে নিয়মিত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কম দামে কিনতে পারলে একটি পরিবারের বছরে কয়েক হাজার টাকা সাশ্রয় হতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, “আমরা চাই মানুষ টিসিবির বিক্রয়কেন্দ্রে এসে প্রতি মাসে প্রয়োজনীয় পণ্য কিনুক। ধীরে ধীরে পণ্যের পরিসর বাড়ানো হবে। তবে ভর্তুকির বোঝা কমাতে এবং অতিরিক্ত আয় করতে আমাদের পণ্যের সংখ্যা বাড়াতে হবে।”
বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় পেঁয়াজ কেনে টিসিবি।
পণ্য সংগ্রহ পরিকল্পনা সম্পর্কে টিসিবি চেয়ারম্যান বলেন, চিনি ও অন্যান্য নিয়মিত পণ্য সংগ্রহের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি পরিচালনগত প্রয়োজন অনুযায়ী টয়লেট সাবান ও কাপড় কাচার সাবানও কেনা হচ্ছে।
তবে পেঁয়াজ ও আলু সারা বছর নিয়মিতভাবে সংগ্রহ করে না টিসিবি। বাজারে পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার প্রয়োজন মনে করলে এসব পণ্য কেনা হয়।
তিনি বলেন, “২০২২, ২০২৩ ও ২০২৪ সালে আমরা পেঁয়াজ কিনেছিলাম। বর্তমানে পেঁয়াজের কোনো সংকট নেই। তাই এখনই নতুন করে পেঁয়াজ কেনার পরিকল্পনা নেই।”
তিনি আরও বলেন, বাজার পরিস্থিতি অনুযায়ী সরকারের প্রয়োজন দেখা দিলেই পেঁয়াজ ও আলু সংগ্রহ করা হবে। চাহিদা ও সরবরাহ পরিস্থিতি বিবেচনা না করে সারা বছর এসব পণ্য কেনার পরিকল্পনা নেই টিসিবির।
এ ধরনের নীতি অনুসরণের ফলে বাজারের চাহিদা ও সরবরাহ পরিস্থিতি এবং সরকারের প্রয়োজন অনুযায়ী পণ্য সংগ্রহের সুযোগ থাকে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগন অঙ্গরাজ্যে দুটি হেলিকপ্টারের সংঘর্ষের ঘটনায় তিনজন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) স্থানীয় সময় বিকেলে একটি ছোট বিমানবন্দরের নিকটবর্তী এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। খবরটি প্রকাশ করেছে বিবিসি।
কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ম্যাকমিনভিল মিউনিসিপ্যাল বিমানবন্দরের কাছে রবিনসন আর২২ এবং এয়ারবাসের একটি হেলিকপ্টারের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। সংঘর্ষের পর, উভয় হেলিকপ্টারই মহাসড়কের পাশে একটি খোলা মাঠে বিধ্বস্ত হয়।
নিহতদের মধ্যে একজন ২২ বছর বয়সী ফ্লাইট প্রশিক্ষক ছিলেন। তার সঙ্গে একই হেলিকপ্টারে ছিলেন যুক্তরাজ্যের এক শিক্ষানবিশ পাইলট। অন্য হেলিকপ্টারে থাকা একমাত্র আরোহীও প্রাণ হারিয়েছেন।
কর্তৃপক্ষ জানায়, রবিনসন আর২২ হেলিকপ্টারে থাকা ফ্লাইট প্রশিক্ষকের নাম ম্যাডি আসবো। তবে যুক্তরাজ্যের শিক্ষানবিশ পাইলটের পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তার স্বজনদের দুর্ঘটনার বিষয়ে জানাতে কনস্যুলেট ও এফবিআইয়ের সঙ্গে কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।
অন্য হেলিকপ্টারটির একমাত্র আরোহীর নাম টাইলার ডেলেন স্টারডেভ্যান্ট (৩৮)। তিনি ওরেগনের নিউবার্গ এলাকার বাসিন্দা ছিলেন।
এ দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানা যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) এবং ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (এনটিএসবি) ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে।
বিবিসি জানায়, দুর্ঘটনার বিষয়ে মন্তব্য জানতে এফএএর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।
দুর্ঘটনাকবলিত একটি হেলিকপ্টার পরিচালনা করছিল জেরি ট্রিম্বল হেলিকপ্টারস নামের একটি ফ্লাইট প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির অবস্থান ম্যাকমিনভিল মিউনিসিপ্যাল বিমানবন্দরে।
এক বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, তাদের একটি হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় জড়িত হওয়ায় তারা গভীরভাবে শোকাহত। তারা তদন্তকারীদের সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতা করছে।
এদিকে, উদ্ধার ও তদন্ত কার্যক্রম চলাকালে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সাধারণ মানুষকে দুর্ঘটনাস্থল এড়িয়ে চলার অনুরোধ জানিয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর হাতিরঝিল থানা এলাকা থেকে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) দুই যুবককে গ্রেফতার করেছে, তাদের কাছে ৪টি ককটেল পাওয়া গেছে।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন গণমাধ্যমকে এই তথ্য জানিয়েছেন।
গ্রেফতারকৃত যুবকদের নাম হলো: জাহিদুল ইসলাম অনিক (২১) এবং শিহাব হোসেন আমি (১৯)।
রমনা মডেল থানার সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাত ৮টার সময় রমনা মডেল থানাধীন রমনা শপিং কমপ্লেক্সের বিপরীত পাশে অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃতকারীরা দুটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিল। এই ঘটনার পর রমনা মডেল থানায় বিস্ফোরক আইনে একটি মামলা রুজু করা হয়।
পরবর্তীতে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং গোপন তথ্যের ভিত্তিতে আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় আজ শুক্রবার সকাল সোয়া ৭টার দিকে হাতিরঝিল থানাধীন মগবাজার নয়াটোলা চেয়ারম্যান গলির একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে অনিক ও শিহাবকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে ৪টি তাজা ককটেল উদ্ধার করা হয়।
জননিরাপত্তার স্বার্থে উদ্ধার করা ৪টি ককটেল ডিএমপির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে নিষ্ক্রিয় করে। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬ : বৃহস্পতিবার ইথিওপিয়ার আমহারা অঞ্চলে একটি আশ্রয়শিবিরে বাস্তুচ্যুত মানুষের ওপর একাধিক ড্রোন হামলার ফলে অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে শিশু রয়েছে। এই হামলার ঘটনা রাজধানী আদ্দিস আবাবা থেকে প্রায় ২৫০ মাইল উত্তর-পূর্বে ঘটেছে। শুক্রবার বার্তা সংস্থা এএফপির কাছে তিনজন প্রত্যক্ষদর্শী এ তথ্য জানিয়েছেন।
বার্তা সংস্থা এএফপি’র খবর অনুযায়ী, ইয়াসিন (ছদ্মনাম) নামে একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানালেন, ‘পরপর চারটি ড্রোন হামলা চালানো হয়। বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয়শিবিরে আমরা ১৪ জনকে দাফন করেছি। চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই প্রত্যক্ষদর্শী আরও জানান, হামলায় নিহতদের মধ্যে অন্তঃসত্ত্বা নারী এবং শিশুদেরও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ