০৮:১০ পি.এম
৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির নজিরবিহীন পরাজয়ের পর, মার্কিন-ইসরাইল সম্পর্কের ভিত্তি নিয়ে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে বিতর্ক শুরু হয়েছে। ভোটারদের ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার প্রশাসনের প্রতি এই প্রত্যাখ্যানের ফলস্বরূপ, ইসরাইলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের শর্তহীন সমর্থন অব্যাহত রাখা উচিত কি না—এটি এখন দলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে একটি বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পরাজয়ের কারণ বিশ্লেষণে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সবচেয়ে বড় চমক নিয়ে এসেছেন। তিনি একটি খোলামেলা সাক্ষাৎকারে স্বীকার করেছেন যে, মার্কিন নীতির প্রতি ইসরাইলের ভোটারদের চরম অসন্তোষই রিপাবলিকানদের পরাজয়ের অন্যতম মূল কারণ। ট্রাম্পের সমর্থকদের ডেমোক্র্যাটদের দিকে ঠেলে দেওয়ার পেছনে তিনি চারটি প্রধান কারণ চিহ্নিত করেছেন—ইরান যুদ্ধ, জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতি, ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির ব্যত্যয় এবং ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক পরিবর্তনের দাবি। ২০২৮ সালের সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী এবং প্রশাসনের দুই নম্বর ব্যক্তির মুখ থেকে এই স্বীকারোক্তি প্রমাণ করে যে, ইসরাইলের প্রতি অন্ধ সমর্থন এখন দলীয় কোন্দল ও ভোটের রাজনীতিতে একটি বড় দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মার্কিন রিপাবলিকান পার্টির দীর্ঘদিনের বড় শক্তি ছিল রক্ষণশীল খ্রিস্টান ও শক্তিশালী ইসরাইলপন্থী লবিং গ্রুপগুলো। তবে মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ, বিশেষ করে গাজার যুদ্ধ ও ইরানে সামরিক সংঘাত আমেরিকান করদাতাদের অর্থ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার হিসাব বদলে দিয়েছে। ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ ভাবধারায় বিশ্বাসী দলের তরুণ প্রজন্ম এখন প্রশ্ন তুলছে—নিজেদের দেশের অর্থনৈতিক সংকট ও মূল্যস্ফীতি উপেক্ষা করে কেন ইসরাইলের যুদ্ধ ও নীতির পেছনে ওয়াশিংটনের কোটি কোটি ডলার ও সামরিক শক্তি অপচয় করা হবে।
আরও পড়ুন: গুগল ওয়াইওমিংয়ে ১৭ বিলিয়ন ডলারে ডেটা সেন্টার নির্মাণ করছে
কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটরা পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ায় ইসরাইলকে সামরিক সহায়তা ও কূটনৈতিক সুরক্ষা দেওয়ার বিষয়টি আগামী দিনে আরও কঠোর নজরদারির মুখে পড়তে যাচ্ছে। যদিও লবিং নেটওয়ার্ক ও সামরিক চুক্তির কারণে হঠাৎ করেই বহু বছরের এই কৌশলগত মিত্রতা ছিন্ন করা সম্ভব নয়, তবে মধ্যবর্তী নির্বাচনের এই ফল একটি বিষয় স্পষ্ট করে দিয়েছে—ইসরাইল ইস্যুতে এতদিনের ধরাছোঁয়ার বাইরের রাজনৈতিক সুরক্ষাবলয় এবার ভাঙতে শুরু করেছে।
সূত্র: আল-জাজিরা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন