ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং
বিআইডিএসের গবেষণা

কিস্তি পরিশোধে আয়ের ৪০ শতাংশের বেশি ব্যয় করছে গ্রামীণ ঋণগ্রহীতারা


কিস্তি পরিশোধে আয়ের ৪০ শতাংশের বেশি ব্যয় করছে গ্রামীণ ঋণগ্রহীতারা

গ্রামীণ ঋণগ্রহীতাদের আয়ের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ঋণের কিস্তি পরিশোধে ব্যয় হচ্ছে। ঋণের কিস্তি পরিশোধে ৪০ শতাংশের বেশি ব্যয় করেন এমন ঋণগ্রহীতার সংখ্যা এক বছরে ২২ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪১ শতাংশে পৌঁছেছে। সবচেয়ে দরিদ্র এক-পঞ্চমাংশ ঋণগ্রহীতার ক্ষেত্রে এই হার ৭৯ শতাংশ। জরুরি খরচ মেটাতে অনেক পরিবার আবার মহাজনের কাছ থেকে ঋণ নিতে বাধ্য হচ্ছে। ফলে গ্রামীণ পরিবারগুলোর ঋণনির্ভরতা বাড়ছে, কিন্তু কৃষিতে অর্থায়নের অংশ কমে যাচ্ছে।

সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস) এবং আন্তর্জাতিক খাদ্যনীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইএফপিআরআই) আয়োজিত ‘বাংলাদেশের খাদ্যব্যবস্থায় অর্থায়ন : প্রমাণ ও নীতিসংলাপ’ শীর্ষক কর্মশালায় এই তথ্য উপস্থাপন করা হয়।

এ কর্মশালায় বক্তব্য রাখেন পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুল কাদের, বিআইডিএসের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. একে এনামুল হক, ক্ষুদ্রঋণ নিয়ন্ত্রক সংস্থার (এমআরএ) নির্বাহী ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম খান প্রমুখ।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তার ব্যাংক হিসাব তলব করেছে বিএফআইইউ

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে ঋণ নেওয়া গ্রামীণ পরিবারের হার ৩৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪২ শতাংশ হয়েছে। অথচ মোট গ্রামীণ ঋণে কৃষির অংশ ২৫ শতাংশ থেকে কমে ১৬ শতাংশে নেমে এসেছে। অর্থাৎ গ্রামীণ পরিবারে ঋণ নেওয়ার প্রবণতা বাড়লেও কৃষি খাতে ঋণের অংশ কমছে। গ্রামীণ ঋণের প্রায় ৭৫ শতাংশ এনজিও ও ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান থেকে আসছে।

ঋণ পরিশোধের চাপের পাশাপাশি এক ঋণ শোধ করতে আরেক ঋণ নেওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এনজিও থেকে ঋণ নেওয়া পরিবারগুলোর মধ্যে একই সঙ্গে মহাজনের কাছ থেকেও ঋণ নেওয়ার হার ২৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪৯ শতাংশ হয়েছে। ফলে ঋণ পরিশোধের দায় মেটাতে গিয়ে পরিবারগুলো আরও ব্যয়বহুল ঋণের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

কর্মশালায় বক্তারা উল্লেখ করেন, কৃষি ও খাদ্যব্যবস্থায় অর্থায়নকে শুধুমাত্র ঋণ বিতরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। কৃষি উপকরণ সরবরাহ, উৎপাদন, সংগ্রহ, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং বাজারজাতকরণ— এই পুরো ব্যবস্থায় অর্থায়নের সুযোগ বৃদ্ধি করতে হবে। একই সঙ্গে কৃষকের আয় ও উৎপাদন মৌসুমের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ঋণের কিস্তি নির্ধারণ করা জরুরি।

পিকেএসএফের এমডি ফজলুল কাদের বলেন, খাদ্যব্যবস্থায় অর্থায়নের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র উৎপাদন পর্যায়ে ঋণ দেওয়া যথেষ্ট নয়; সরবরাহব্যবস্থার বিভিন্ন ধাপেও বিনিয়োগ প্রয়োজন। কৃষিতে উৎপাদন খরচ কমাতে এবং মূল্য সংযোজন বাড়াতে পরিবেশবান্ধব কৃষিপদ্ধতি ও কার্যকর অর্থায়ন অপরিহার্য। বিআইডিএসের মহাপরিচালক এনামুল হক বলেন, ক্ষুদ্র কৃষকের অর্থায়নের ক্ষেত্রে ঝুঁকি ভাগাভাগির ব্যবস্থা জরুরি। প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি না হলে কৃষকের ঋণের বোঝা বাড়তে পারে এবং অনেকে কৃষি ছেড়ে দিতে পারেন।

আরও পড়ুন: রেমিট্যান্স ও ডিজিটাল সেবা বৃদ্ধিতে ওয়ান ব্যাংক ও নগদের চুক্তি

এমআরএ’র নির্বাহী ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, ক্ষুদ্রঋণ খাতের অর্থায়ন ও সেবামূল্যের বিষয়টি নতুন করে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। তার উপস্থাপনায় বলা হয়, ক্ষুদ্রঋণ খাতের সঞ্চিত উদ্বৃত্ত ২০০৬ সালের ৩ হাজার কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৬৯ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে। বর্তমানে সর্বোচ্চ সেবামূল্য ২৪ শতাংশ। ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাংকঋণের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বেশি সঞ্চয় সংগ্রহ করতে পারলে অর্থায়নের খরচ ও সেবামূল্য কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি পরিবারের ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা নিয়েও গবেষণা প্রয়োজন।

কৃষি সচিব সেলিম খান কৃষির যান্ত্রিকীকরণে অর্থায়নের সীমাবদ্ধতার বিষয়টি তুলে ধরেন। গবেষণায় দেখা গেছে, দুই শতাংশেরও কম কৃষক পরিবারের নিজস্ব ট্রাক্টর বা পাওয়ার টিলার রয়েছে। কৃষিযন্ত্র কেনার অর্থের মাত্র ২ থেকে ৭ শতাংশ ব্যাংক থেকে আসে। ফলে অনেক উদ্যোক্তাকে যন্ত্র বিক্রেতাদের কাছ থেকে কিস্তিতে যন্ত্র কিনতে হয়।

কৃষিযন্ত্রের আয় মৌসুমনির্ভর। বিশেষ করে ধান কাটার মৌসুমে এপ্রিল ও মে মাসে আয়ের বড় অংশ আসে। কিন্তু মাসিক কিস্তি পরিশোধের বাধ্যবাধকতা থাকায় বছরের অন্য সময়ে অর্থসংকট তৈরি হয়।

গবেষণায় বলা হয়েছে, গবাদিপশু খাতেও অর্থায়নের ঘাটতি রয়েছে। দেশের কৃষি জিডিপির ৭ দশমিক ৬ শতাংশ আসে এই খাত থেকে এবং ৯০ শতাংশ গবাদিপশুর মালিক ক্ষুদ্র কৃষক। অথচ কৃষিঋণের ৫ শতাংশেরও কম এ খাতে যায়। গবেষণায় গরু মোটাতাজাকরণে ছয় মাসে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ মুনাফার সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। এ খাতে ঝুঁকি ভাগাভাগিভিত্তিক অর্থায়ন কৃষকের অংশগ্রহণ বাড়াতে পারে কি না, তা নিয়েও গবেষণা করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: রেমিট্যান্স প্রবাহ বছরে ১৩.৩% বেড়ে ২৫৪ কোটি ৩০ লাখ ডলারে পৌঁছেছে

কর্মশালায় আলোচকরা মনে করেন, কৃষকের আয় ও উৎপাদন মৌসুমের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিস্তি, কৃষিযন্ত্র কেনায় সহজ অর্থায়ন এবং ঝুঁকি ভাগাভাগির কার্যকর ব্যবস্থা চালু করা জরুরি। ঋণ পরিশোধে আয়ের বড় অংশ ব্যয় করতে হলে পরিবারের দৈনন্দিন চাহিদা মেটানো এবং উৎপাদনে নতুন করে বিনিয়োগের সুযোগ সংকুচিত হয়। তাই শুধুমাত্র ঋণের প্রবাহ বাড়ানো নয়, ঋণের শর্ত ও অর্থায়নের কাঠামোও পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তিন নারী কর্মকর্তার পদোন্নতি, পেয়েছেন সচিব পদমর্যাদা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:২০ এম


পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তিন নারী কর্মকর্তার পদোন্নতি, পেয়েছেন সচিব পদমর্যাদা

বিদেশে বাংলাদেশ মিশনে নেতৃত্ব দিয়ে আসা তিন নারী হাই কমিশনার ও রাষ্ট্রদূত সচিব হিসেবে একযোগে পদোন্নতি পেয়েছেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সোমবার (১২ অক্টোবর) তাদেরকে সচিব পদমর্যাদায় পদোন্নতি দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

পদোন্নতিপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন ব্রুনাই দারুস সালামে বাংলাদেশের হাই কমিশনার নওরীন আহসান, নিউজিল্যান্ডে বাংলাদেশের হাই কমিশনার সামিনা নাজ এবং গ্রিসে বাংলাদেশ রাষ্ট্রদূত নাহিদা রহমান সুমনা।

সামিনা ও নওরীন বিসিএস পররাষ্ট্র ক্যাডারের ১৫তম ব্যাচের কর্মকর্তা, অন্যদিকে সুমনা ১৭তম ব্যাচের সদস্য।

নিউ জিল্যান্ডের ওয়েলিংটন মিশনে দায়িত্ব গ্রহণের পূর্বে সামিনা ভিয়েতনাম ও মিশরে বাংলাদেশ রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করেছেন। ওয়েলিংটনে তিনি প্রথম বাংলাদেশি আবাসিক হাই কমিশনার হিসেবে কাজ করছেন।

২০১৩ সালে ভারতের মুম্বাইতে প্রথম ডেপুটি হাই কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের সময়, কোনো নারী কূটনীতিকের নেতৃত্বে প্রথমবারের মতো একটি বাংলাদেশ মিশনের যাত্রা শুরু হয়েছিল। সামিনা হেগ, দিল্লি ও নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের স্থায়ী মিশনে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন।

অন্যদিকে, গ্রিসের এথেন্সে যাওয়ার আগে সুমনা চার বছর ব্রুনাই দারুস সালামে বাংলাদেশ হাই কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। কূটনৈতিক ক্যারিয়ারের অংশ হিসেবে তিনি ব্রাসিলিয়া, অটোয়া, কলকাতা ও ক্যানবেরার বাংলাদেশ মিশনে বিভিন্ন দায়িত্বে ছিলেন।

নওরীন ১৯৯৫ সালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগদান করেন এবং কূটনৈতিক ক্যারিয়ারে প্রিটোরিয়া, হেগ ও অটোয়া মিশনে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা পদোন্নতির অব্যবহিত পূর্বে দায়িত্ব পালন করা নিজ নিজ কর্মস্থলেই দায়িত্ব পালন করবেন।

এ প্রজ্ঞাপন জনস্বার্থে জারি করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে পুলিশের অভিযান, ৬০ বোতল দেশীয় মদসহ নারী আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:২১ এম


দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে পুলিশের অভিযান, ৬০ বোতল দেশীয় মদসহ নারী আটক

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে অভিযান পরিচালনা করে গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশ ৬০ বোতল দেশীয় মদ এবং পাঁচ লিটার চোলাই মদ উদ্ধার করেছে। এ অভিযানের সময় নার্গিস আক্তার (৫৫) নামের একজন নারীকে আটক করা হয়।

সোমবার (১২ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত নার্গিস আক্তারের (৫৫) বাড়ি এবং লালমিয়া বাড়িয়ালার (৬০) বাড়িতে অভিযান চালিয়ে এসব মদ উদ্ধার করা হয়।

আটক নার্গিস আক্তার উত্তর দৌলতদিয়ার মৃত রব মোল্লার স্ত্রী। তবে লালমিয়া এবং অন্যান্যরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি সফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে থানা পুলিশের একটি টিম অভিযান পরিচালনা করে নার্গিস বাড়ীয়ালীর বাড়ি থেকে ৬০ বোতল কেরু অ্যান্ড কোম্পানির মদ এবং লালমিয়ার বাড়ি থেকে পাঁচ লিটার চোলাই মদ উদ্ধার করে। এ সময় নার্গিস বাড়ীয়ালীকে আটক করা হয়। লালমিয়াসহ অন্যান্যরা পালিয়ে যায় এবং তাদের আটকের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুর্গাপূজায় সারা দেশে প্রায় ১০ হাজার বিজিবি মোতায়েন থাকবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৩৩ এম


দুর্গাপূজায় সারা দেশে প্রায় ১০ হাজার বিজিবি মোতায়েন থাকবে

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সারা দেশে প্রায় ১০ হাজার বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হবে। এই তথ্য বিজিবি সদর দফতরের পরিচালক (অপারেশন) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব মুর্শেদ রহমান প্রদান করেছেন।

তিনি উল্লেখ করেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ১৬ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত সারাদেশে এই সংখ্যক বিজিবি সদস্য মোতায়েন থাকবে।

দুর্গাপূজা যেন শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন করা যায়, সেই উদ্দেশ্যে বিজিবি একটি সমন্বিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব মুর্শেদ রহমান বলেন, ‘এর মূল অংশ হলো নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়। সম্ভাব্য ঝুঁকি আগেই চিহ্নিত করা, গুজব ও সাম্প্রদায়িক উসকানির বিষয়ে সতর্ক নজর রাখা এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় দ্রুত সাড়া দেওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।’

তিনি আরও জানান, সীমান্তের ৮ কিলোমিটারের মধ্যে এবং ব্যাটালিয়ন সদরের নিকটবর্তী এলাকাসহ মোট ২ হাজার ৭২৭টি পূজামণ্ডপে বিজিবি নিরাপত্তা সহায়তা প্রদান করবে। দূরবর্তী ও দুর্গম এলাকায় দ্রুত টহল ও সহায়তা পৌঁছানোর জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপনের পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে।

ঢাকায় বিজিবি মোতায়েন ও দায়িত্বের পরিধি সরকারের নির্দেশনা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চাহিদার ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে টহল, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা সহায়তা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার জন্য বিজিবি প্রস্তুত থাকবে।

তিনি আরও বলেন, দুর্গাপূজা আমাদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার দীর্ঘ ঐতিহ্যের একটি উজ্জ্বল প্রকাশ। সনাতন ধর্মাবলম্বী ভাইবোনেরা যেন নিরাপদে, নির্বিঘ্নে ও আনন্দের সঙ্গে তাদের ধর্মীয় উৎসব পালন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে বিজিবি সর্বাত্মকভাবে প্রস্তুত থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তাজমীন হত্যাকাণ্ড: প্রেমিক রাজুকে নিয়ে কক্সবাজারে ডিবির নাটকীয়তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৩৪ এম


তাজমীন হত্যাকাণ্ড: প্রেমিক রাজুকে নিয়ে কক্সবাজারে ডিবির নাটকীয়তা

কুমিল্লায় আলোচিত জান্নাতুন তাজমীন (১৫) হত্যা মামলার কেন্দ্রীয় ব্যক্তি রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজু চৌধুরীকে নিয়ে কক্সবাজারে এক দিনের ব্যবধানে ঘটেছে নাটকীয় ঘটনা। স্থানীয় জনগণের হাতে আটক হওয়ার পর তাকে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার করা হয়।

এই ঘটনার মধ্যে তাজমীন হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও কুমিল্লা জেলা ডিবির উপপরিদর্শক (এসআই) পবিত্র সরকার অধিযাচনপত্রের মাধ্যমে তাকে নিজেদের হেফাজতে নেন। প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে আবার কক্সবাজার সদর মডেল থানায় ফেরত পাঠানো হয়। পরে তাকে আদালতে সোপর্দ করে থানা-পুলিশ।

সোমবার (১২ অক্টোবর) এসব ঘটনা ঘটে। তাজমীনের সঙ্গে রাজুর পূর্বপরিচয়, তাদের যোগাযোগ এবং কক্সবাজারে একসঙ্গে অবস্থানের তথ্য যাচাই করতে কুমিল্লা ডিবি তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তবে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে ফেরত দেওয়ার কারণ এবং এ সময় কী তথ্য পাওয়া গেছে, তা স্পষ্ট করেনি সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তা।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রোববার (১১ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকা থেকে রাজুকে আটক করা হয়। সদর মডেল থানার পুলিশের আদালতে দেওয়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, তাজমীন হত্যার ঘটনায় গণমাধ্যমে রাজুর নাম আসার পর স্থানীয় লোকজন তাকে আটক করে রাখেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে হেফাজতে নেয়।

ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, তখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মামলা বা এজাহার না থাকায় এবং ঘটনাকে কেন্দ্র করে ধর্তব্য অপরাধ সংঘটনের আশঙ্কায় ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় রাজুকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তী সময়ে মামলা হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়।

এরপর সোমবার সকালে তাজমীন হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও কুমিল্লা জেলা ডিবির উপপরিদর্শক (এসআই) পবিত্র সরকার কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসির কাছে অধিযাচনপত্র দেন। এতে রাজুকে গ্রেফতার করে হস্তান্তরের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।

অধিযাচনপত্রে বলা হয়, তাজমিনের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরের কললিস্ট ও অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে ঘটনার আনুমানিক দুই দিন আগে কক্সবাজার সদর থানা এলাকায় তার অবস্থানের তথ্য পাওয়া গেছে। ওই সময় রাজুর সঙ্গে তার দেখা-সাক্ষাৎ এবং ঘটনার আগে একাধিকবার মোবাইলে যোগাযোগের তথ্যও পাওয়া যায়।

তাজমীনের সঙ্গে রাজুর পূর্বপরিচয় ও সম্পর্কের ধরন, যোগাযোগের কারণ, ডিজিটাল মাধ্যমে তাদের কথাবার্তা এবং হত্যা মামলার বিষয়ে তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ কোনো তথ্য রয়েছে কিনা- তা জানতে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন বলে অধিযাচনপত্রে উল্লেখ করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, কুমিল্লা ডিবির একটি দল কক্সবাজারে এসে রাজুকে নিয়ে তদন্তের বিভিন্ন বিষয় যাচাই করে। প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর বিকাল পাঁচটার দিকে তাকে সদর মডেল থানার ডিউটি অফিসারের কাছে ফেরত দেওয়া হয়। পরে ডিবির দলটি সেখান থেকে চলে যায়।

কেন তাকে ফেরত দেওয়া হলো, জিজ্ঞাসাবাদে কী তথ্য পাওয়া গেল এবং তদন্তে নতুন কোনো সূত্র মিলেছে কিনা- তা জানতে তদন্তকারী কর্মকর্তা পবিত্র সরকারের মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, কুমিল্লার পুলিশ রাজুকে নিতে যায়নি। তাকে কিছু বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন ছিল। হোটেল-সংক্রান্ত কিছু বিষয়েও তদন্তের প্রয়োজন ছিল। সেসব যাচাই করে তাকে আবার কক্সবাজার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তাজমীনের বাবা-মা রাজুর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ দিতে চাইলে কক্সবাজার জেলা পুলিশের কাছে দিতে পারবেন।

অন্যদিকে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অহিদুর রহমান বলেন, অধিযাচনপত্র অনুযায়ী রাজুকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল। কিন্তু কুমিল্লা ডিবির সদস্যরা তাকে আবার ফেরত দেওয়ায় পরে কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ আদালতে সোপর্দ করেছে।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জগতপুর এলাকার একটি ধানখেত থেকে তাজমীনের লাশ উদ্ধার করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%