সোমবার, ৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:৪৭ পি.এম
চট্টগ্রামের ক্রিকেটকে পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে চার দলের একটি টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই প্রতিযোগিতা আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্টেডিয়ামে শুরু হতে যাচ্ছে। টুর্নামেন্টের সবগুলো ম্যাচ একই ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে।ন
এক সময় চট্টগ্রাম ও খুলনা ক্রিকেটার তৈরির কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল। চট্টগ্রাম থেকে মিনহাজুল আবেদীন নান্নু, আকরাম খান, আফতাব আহমেদ প্রমুখ তারকা ক্রিকেটার উঠে এসেছেন। পরবর্তীতে তামিম ইকবালও দেশের ক্রিকেটে চট্টগ্রামের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তবে সময়ের সাথে চট্টগ্রামে নিয়মিত মাঠের ক্রিকেট আয়োজনের সংখ্যা কমে গেছে। এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় ক্রিকেটকে চাঙা করতেই নতুন এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
টুর্নামেন্টের জন্য পুরো চট্টগ্রাম বিভাগকে চারটি জোনে ভাগ করে দল গঠন করা হবে। প্রতিটি দলে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের দুজন করে ক্রিকেটার খেলার সুযোগ পাবেন। চট্টগ্রাম বিভাগ ও চট্টগ্রাম মহানগর নিয়ে গঠিত দলের নাম ইস্পাহানী কর্ণফুলি। অন্যদিকে রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও কক্সবাজারকে নিয়ে গড়া দলের নাম সাম্পান।
টুর্নামেন্ট আয়োজনের বিষয়ে বিসিবি পরিচালক সাঈদ ইব্রাহিম মন্তব্য করেন, "কক্সবাজারের সাম্পান দলের স্পন্সর হিসেবে আমি এবং আরও কয়েকজন ক্রিকেটপ্রেমী মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, মাঠের ক্রিকেটকে থামতে দেওয়া যাবে না।" তিনি আরও বলেন, "এই লক্ষ্যেই আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে চট্টগ্রামে চার দলের একটি টি-২০ টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে যাচ্ছি।"
তিনি যোগ করেন, "আমাদের চেষ্টা থাকবে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটের মাধ্যমে খেলোয়াড়দের সুযোগ তৈরি করা এবং স্থানীয় ক্রিকেটের প্রতি মানুষের আগ্রহ ও ভালোবাসা আরও বাড়ানো। লিগ বন্ধ হতে পারে, কিন্তু ক্রিকেটের প্রতি আমাদের ভালোবাসা ও উদ্যোগ বন্ধ হবে না।"
আয়োজকেরা আশা করছেন, এই টুর্নামেন্ট স্থানীয় ক্রিকেটে নতুন খেলোয়াড়দের সুযোগ তৈরি এবং প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটের পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : নেপালে ভয়াবহ হিমবাহজনিত বন্যায় মৃতদের স্মরণে সোমবার জাতীয় শোক দিবস পালন করা হয়েছে।
এদিকে নিখোঁজ জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের শ্রমিকদের স্বজনেরা আশা করছেন, গভীর সুড়ঙ্গে আটকে থাকা তাদের প্রিয়জনদের হয়তো এখনো জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
গত ২৬ আগস্ট চীন-নেপাল সীমান্তে হিমবাহ ও পাহাড় ধসে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় অন্তত ১ হাজার ৩৯৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এখনো ৫ হাজার ৫০০ জনের বেশি নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে প্রায় ৮০০ জন বিদেশি নাগরিক।
জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে দেশজুড়ে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। দিনের শেষভাগে বিভিন্ন স্থানে মোমবাতি প্রজ্বলন করে মৃতদের স্মরণ করার কর্মসূচিও রয়েছে।
হিন্দু ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী মৃত্যুর ১৩তম দিনে শোক পালনের অংশ হিসেবেই এসব কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
নিখোঁজদের মধ্যে শত শত জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের শ্রমিক রয়েছেন। তবে সম্প্রতি গভীর সুড়ঙ্গ থেকে তিন শ্রমিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার দুই নেপালি শ্রমিক ও শনিবার একজন চীনা নাগরিককে উদ্ধার করা হয়। তাদের উদ্ধারের ঘটনায় অন্য নিখোঁজ শ্রমিকদেরও জীবিত পাওয়ার আশা বেড়েছে।
নেপাল সেনাবাহিনীর মুখপাত্র রাজা রাম বাসনেট সোমবার এএফপিকে বলেন, প্রথম দিনের মতো একই গতিতে উদ্ধার অভিযান চলছে।
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য তিনভাবে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চালানো— স্থলপথে, আকাশপথে এবং সুড়ঙ্গের ভেতরে। আমরা নিশ্চিত করতে চাই, কেউ এখনো কোথাও আটকে থাকলে যেন তাকে উদ্ধার করা যায়।’
বন্যা ও পাহাড়ধসে পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে অনেক জনপদ। ধ্বংস হয়েছে সড়ক, ভেঙে পড়েছে অসংখ্য বাড়িঘর।
তবে নিখোঁজ শ্রমিকদের কয়েকটি পরিবারের সদস্যরা সোমবার রাজধানী কাঠমান্ডুতে জড়ো হয়ে অভিযোগ করেন, সরকারকে উদ্ধার অভিযান আরও দ্রুত করতে হবে।
নিখোঁজ ভাইয়ের সন্ধানে থাকা রীনা আমাত্য শ্রেষ্ঠা বলেন, ‘আমাদের অনেক আশা আছে।’
তারা বলছে উদ্ধার অভিযান চলছে। যদি সত্যিই উদ্ধার অভিযান চলে, তাহলে তার ফল কোথায়? আমরা ফলাফল দেখতে চাই।’
নেপালি উদ্ধারকারী দলকে পরামর্শ দেওয়া অস্ট্রেলীয় সুড়ঙ্গ উদ্ধার বিশেষজ্ঞ আর্নল্ড ডিক্স বলেন, এই উদ্ধার অভিযান তার দেখা সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতিগুলোর একটি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘আমরা এমন একটি পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছি, যা আগে কখনো দেখিনি।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঠাকুরগাঁও, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঠাকুরগাঁও জেলার দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন।
আজ ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জামালপুর এলাকায় রাষ্ট্রপতি ফলক উন্মোচন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়টির নির্মাণকাজ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন।
প্রায় ৮৬ একর জমির ওপর এ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে বলে বঙ্গবভনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একটি প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হলো।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রপতি আবারো উল্লেখ করেন, সংঘাত নয় সহনশীলতার রাজনীতি দেশে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।
তিনি বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয় কেবল উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠান নয়। এটি একটি অঞ্চলের জ্ঞানচর্চা, গবেষণা, উদ্ভাবন ও মানবসম্পদ উন্নয়নের কেন্দ্র।
ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয় উত্তরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক ও মানসম্মত উচ্চশিক্ষার নতুন দ্বার উন্মোচন করবে এবং জাতীয় উন্নয়নে দক্ষ, যোগ্য ও মানবিক নাগরিক গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ফলক উন্মোচন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে রাষ্ট্রপতি সার্বিক উন্নতি কামনা করে মোনাজাত ও দোয়া করেন।
তিনি সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্ধারিত সময়ে উন্নত মান বজায় রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো নির্মাণের আহ্বান জানান এবং শিক্ষা খাতে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির সাথে উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু , পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মামুন আহমেদ, ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. ইসরাফিলসহ পদস্থ কর্মকর্তাগণ।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিশিষ্ট নাগরিক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ জানিয়েছেন, দেশে ৭ বছর ও তদূর্ধ্ব জনগণের সাক্ষরতার হার বর্তমানে ৭৭ দশমিক ৯ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, ‘অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৫-এর আলোকেই এই পরিসংখ্যান উঠে এসেছে, যা দেশের বিগত বছরগুলোর সাক্ষরতা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি প্রকাশ করে।’
আগামীকাল ৮ সেপ্টেম্বর ‘আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস ২০২৬’ উপলক্ষ্যে আজ দুপুরে সচিবালয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সাক্ষরতার হার প্রায় ৭৭ শতাংশের বেশি পৌঁছানো নিঃসন্দেহে আশাব্যঞ্জক অগ্রগতি। তবে, এখনো একটি বড় অংশ শিক্ষার মৌলিক অধিকার ও প্রয়োজনীয় দক্ষতার সুযোগ থেকে বাইরে রয়ে গেছে। বিদ্যালয়বহির্ভূত শিশু, ঝরে পড়া কিশোর-কিশোরী, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এবং অনগ্রসর প্রাপ্তবয়স্কদের দ্রুত সাক্ষর ও দক্ষ করে তোলাই এখন সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।’
সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ আরও বলেন, বর্তমান বাস্তবতায় সাক্ষরতা কেবল নাম দস্তখত বা বর্ণমালা চেনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। ইউনেস্কো নির্ধারিত এ বছরের আন্তর্জাতিক প্রতিপাদ্য— ‘লিটারেসি ফর পিপল, দ্য প্ল্যানেট অ্যান্ড প্রসপারিটি’-কে সামনে রেখে সাক্ষরতাকে কর্মসংস্থান, জীবনদক্ষতা, ডিজিটাল সক্ষমতা ও পরিবেশ সচেতনতার সাথে যুক্ত করা হচ্ছে।
তিনি জানান, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর মাধ্যমে বর্তমানে ৬৪ জেলার সদর উপজেলায় ‘কার্যকর সাক্ষরতা ও ব্যবহারিক কর্মদক্ষতা প্রশিক্ষণ’ পরিচালিত হচ্ছে। প্রথম ধাপে নিবন্ধিত ৪ হাজার ৩১২ জন ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর মধ্যে ৪ হাজার ১৯৮ জন ন্যাশনাল কোয়ালিফিকেশন ফ্রেমওয়ার্ক (বিএনকিউএফ)-এর মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হয়েছেন। এদের মধ্যে ৩ হাজার ৮৮২ জন বা ৯২.৪৭ শতাংশ শিক্ষার্থী সরাসরি স্থায়ী চাকরি, শোভন কাজে শিক্ষানবীশ বা নতুন উদ্যোক্তা হিসেবে কাজের সুযোগ পেয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী আরো জানান, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা বঞ্চিতদের স্বাবলম্বী করতে এবং দেশকে নিরক্ষরতামুক্ত করার লক্ষ্যে ‘ইচ ওয়ান টিচ ওয়ান’ মডেলের আলোকে ‘অ্যাডাল্ট অ্যান্ড ফাংশনাল লিটারেসি ফর অ্যাবিলিটি এনহ্যান্সমেন্ট প্রোগ্রাম (আলফা) গ্রহণ করা হয়েছে। অর্থাৎ বৈশ্বিক মডেলের ওপর ভিত্তি করে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হবে।
চতুর্থ শ্রেণিতে চালু হতে যাওয়া নতুন বিষয়ে শিক্ষক নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্পোর্টস ও কালচারাল এডুকেশনের একটি প্রাথমিক পাঠ্যবই চতুর্থ শ্রেণিতে দেওয়া হচ্ছে। আগামী ২০২৮ সালে এই ব্যাচ পঞ্চম শ্রেণিতে উঠলে পূর্ণাঙ্গ কারিকুলাম কার্যকর হবে। আপাতত সহকারী শিক্ষকদের থিওরেটিক্যাল প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি ক্রীড়া ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক্সপার্টদের পিটিআই/পিটিসির মাধ্যমে যুক্ত করা হবে।
প্রধান শিক্ষকদের রায় ও নিয়োগ বিষয়ে তিনি জানান, প্রায় ৩৫ হাজার ৪০০ প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য বা আইনি প্রক্রিয়ায় ছিল। পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) সাথে আলোচনা শুরু হয়েছে— যাতে দ্রুততম সময়ে এসব পদে শিক্ষক নিয়োগ-পদায়ন নিশ্চিত করা যায়।
‘সবার আগে বাংলাদেশ’ অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যম, বেসরকারি সংস্থা ও নাগরিক সমাজের সম্মিলিত অংশগ্রহণে একটি সাক্ষর, প্রযুক্তি-সচেতন ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষম বাংলাদেশ নির্মাণে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব জেসমিন নাহার, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর মহাপরিচালক মনোয়ারা ইশরাত (অতিরিক্ত দায়িত্ব), প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট, যা একটি স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিনির্ধারণ, বাজেট অনুমোদন, প্রশাসনিক জবাবদিহি ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য অন্যতম প্রধান ফোরাম, দীর্ঘদিন ধরে অকার্যকর অবস্থায় রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিবছর অন্তত একবার সিনেটের অধিবেশন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। কিন্তু রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সেই সিনেটের অধিবেশন গত এক দশক ধরে অনুষ্ঠিত হয়নি। এক বছর বা দুই বছরের কথা নয়, টানা প্রায় দশ বছর ধরে সিনেটের কোনো অধিবেশন বসেনি।
সর্বশেষ ২০১৬ সালের ১৯ মে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সিনেটের ২২তম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এরপর কেটে গেছে প্রায় ১০ বছর, যার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে একাধিক প্রশাসন এসেছে, উপাচার্য বদলেছে এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কিন্তু সিনেটের নিয়মিত অধিবেশন আর অনুষ্ঠিত হয়নি।
সিনেট ভবনে বিভিন্ন অনুষ্ঠান, সভা-সেমিনার ও আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলেও, সিনেটের মূল কাজ, অর্থাৎ অধিবেশন বসানো হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ওয়েবসাইটেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সিনেট ভবনে বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজনের তথ্য রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯৭৩ সালের অধ্যাদেশের ২১ নম্বর ধারা অনুযায়ী, উপাচার্য বছরে অন্তত একবার সিনেটের সভা ডাকবেন। অধ্যাদেশের ২০(১) ধারা অনুযায়ী, সিনেটের সদস্য সংখ্যা ১০৫ জন। উপাচার্য পদাধিকারবলে সিনেটের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, এবং উপ-উপাচার্যদ্বয়, কোষাধ্যক্ষ সদস্য এবং রেজিস্ট্রার সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
এছাড়া, সরকারের মনোনীত পাঁচজন, স্পিকারের মনোনীত পাঁচজন সংসদ সদস্য, আচার্যের মনোনীত পাঁচজন শিক্ষাবিদ, সিন্ডিকেট মনোনীত গবেষণা সংস্থার পাঁচজন প্রতিনিধি, শিক্ষা পরিষদ মনোনীত পাঁচজন কলেজ অধ্যক্ষ, শিক্ষা পরিষদ মনোনীত ১০ জন কলেজ শিক্ষক, বিশ্ববিদ্যালয়-অধিভুক্ত শিক্ষা বোর্ডের দুই চেয়ারম্যান, নিবন্ধিত গ্র্যাজুয়েটদের ভোটে নির্বাচিত ২৫ জন, শিক্ষকদের ভোটে নির্বাচিত ৩৩ জন এবং শিক্ষার্থীদের ভোটে নির্বাচিত পাঁচজন প্রতিনিধি সিনেটের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেটের অচলাবস্থা নতুন নয়। এর আগে ২০০১ সালের ২৮ ও ২৯ জুন ২০তম সিনেট অধিবেশন অনুষ্ঠিত হওয়ার পর দীর্ঘ ১৪ বছর আর কোনো অধিবেশন হয়নি। পরে ২০১৫ সালের ১৮ মে ২১তম অধিবেশনের মধ্য দিয়ে সেই অচলাবস্থা ভাঙেন বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ মিজানউদ্দীন।
এর এক বছর পর, ২০১৬ সালের ১৯ মে, তার সভাপতিত্বে ২২তম সিনেট অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। সেটিই এখন পর্যন্ত রাবি সিনেটের সর্বশেষ অধিবেশন।
দীর্ঘদিন পর ২০২৫ সালের ১৬ অক্টোবর রাকসু ও সিনেট শিক্ষার্থী প্রতিনিধি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সরাসরি ভোটে পাঁচজন শিক্ষার্থী সিনেট সদস্য নির্বাচিত হন। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন করে প্রত্যাশা তৈরি হয়, এবার হয়তো সিনেটের অচলাবস্থার অবসান হবে।
তবে নির্বাচনের প্রায় ১১ মাস পেরিয়ে গেলেও নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের শপথ হয়নি। অনুষ্ঠিত হয়নি সিনেটের কোনো অধিবেশনও। ফলে ভোটের মাধ্যমে প্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ার পরও সিনেটের কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়নি তাঁদের।
রাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) ও সিনেট সদস্য মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বিষয়টি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে আরটিভিকে বলেন, "শিক্ষার্থীদের ভোটে প্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ার পরও তাদের শপথ না হওয়া এবং সিনেটের অধিবেশন অনুষ্ঠিত না হওয়া বিব্রতকর।"
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাঠামোয় সিনেট একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী ফোরাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট, প্রশাসনিক বিভিন্ন সিদ্ধান্ত এবং উপাচার্য নির্বাচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সিনেটের কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত।
সিনেটের গুরুত্ব তুলে ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ও তিনবারের সাবেক ডিন ড. ফজলুল হক আরটিভিকে বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য সিনেট কার্যকর হওয়া প্রয়োজন। অনেক দিন ধরেই সিনেট বন্ধ রয়েছে। শিক্ষার্থীরা মনে করে, শুধু শিক্ষার্থী প্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছে, তাই সিনেট দরকার—বিষয়টি এমন নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো এই সিনেটেই গ্রহণ করা দরকার।"
দীর্ঘদিন ধরে সিনেটের কার্যক্রম অচল থাকায় দ্রুত এটি সচল করার দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও নির্বাচিত সিনেট প্রতিনিধিরা। তাদের মতে, সিনেট সক্রিয় হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিনির্ধারণে বিভিন্ন পক্ষের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি প্রশাসনিক জবাবদিহি ও স্বচ্ছতাও বাড়বে।
বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত পাঁচজন প্রতিনিধি এখনো শপথ না নেওয়ায় দ্রুত শপথ আয়োজন এবং সিনেটের অধিবেশন আহ্বানের দাবি আরও জোরালো হয়েছে।
রাকসুর এজিএস ও সিনেট সদস্য সালমান সাব্বির আরটিভিকে বলেন, "সিনেট দীর্ঘদিন অকার্যকর থাকলেও সেখানে শিক্ষার্থীদের কোনো প্রতিনিধি ছিল না। রাকসু নির্বাচনের মাধ্যমে এবার আমরা পাঁচজন শিক্ষার্থী সিনেট সদস্য নির্বাচিত হয়েছি। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এখন পর্যন্ত সিনেট কার্যকরের কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেখা যায়নি। বিগত ও বর্তমান প্রশাসনের সঙ্গে একাধিকবার এ বিষয়ে কথা বললেও তারা নানা অজুহাতে বিষয়টি এড়িয়ে গেছে। এটি প্রশাসনের সদিচ্ছার অভাব। আমরা দ্রুতই সিনেট কার্যকর চাই।"
দীর্ঘ প্রায় এক দশক ধরে সিনেটের কোনো অধিবেশন না হওয়ায় কবে এই অচলাবস্থার অবসান হবে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। নতুন করে শিক্ষার্থী প্রতিনিধি নির্বাচিত হলেও তাদের শপথ ও সিনেটের অধিবেশন এখনো অনুষ্ঠিত হয়নি। ফলে নির্বাচনের মাধ্যমে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হওয়ার পরও সিনেট কার্যকর না হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক জবাবদিহি ও অংশগ্রহণমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও সিনেটের সভাপতি অধ্যাপক ড. ফরিদুল ইসলাম আরটিভিকে বলেন, "সিনেট কার্যকরের বিষয়টি আমরা চিন্তাভাবনায় রেখেছি। আশা করি, কিছুদিনের মধ্যেই সিনেটের অধিবেশন আয়োজন করতে পারব। কিছু টেকনিক্যাল সমস্যা রয়েছে। সেগুলো সমাধান করে যত দ্রুত সম্ভব আমরা সিনেটের কার্যক্রমের দিকে এগোচ্ছি।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ