০৯:৩৮ পি.এম
দেশটির সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ পারস্পরিক সম্পর্ক মেরামত করতে লেবাননের কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। এটি দক্ষিণ বৈরুতে ইসরাইলের বোমা হামলার জবাবে ইসরাইলে ইরানের হামলার পর মঙ্গলবার (৯ জুন) তাঁদের এই আহ্বান জানানো হয়।
হিজবুল্লাহর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আমরা লেবানন কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি যে, তারা উপলব্ধ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে তাঁদের আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক সংশোধন করুক, যাতে উভয় দেশের স্বার্থ রক্ষা পায়।’
হিজবুল্লাহ বলেছে, ‘আমাদের লেবাননের জনগণের প্রতিরক্ষায়’ ইসরাইলের ওপর ইরানের হামলাটি লেবাননের প্রতি ইসলামী প্রজাতন্ত্রের নৈতিক, রাজনৈতিক এবং বাস্তবিক অঙ্গীকারের একটি বার্তা।
আরও পড়ুন: ডা. জুবাইদা রহমান টোকিওতে হাসপাতাল ও জাদুঘর পরিদর্শন
যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে লেবাননে বিরামহীন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইল। এই হামলার কারণে ইরান গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা স্থগিত করার ঘোষণা দেয়। শান্তি চুক্তির লক্ষ্যে ইরানের শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতি।
হিজবুল্লাহর হামলার জবাবে ইসরাইল ২ মার্চ থেকে লেবাননে ফের হামলা শুরু করেছে, যা এখনও অব্যাহত রয়েছে। এতে ৩ হাজার ৭০০ মানুষ নিহত হয়েছেন, অগণিত মানুষ আহত হয়েছেন এবং ১০ লক্ষাধিক মানুষ উদ্বাস্তু হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই রাজধানী বৈরুতে আশ্রয় নিয়েছেন।
সম্প্রতি, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরাইলের সঙ্গে শর্তসাপেক্ষ যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সম্মত হয় লেবানন কর্তৃপক্ষ। তবে হিজবুল্লাহ তা প্রত্যাখ্যান করে এবং হামলা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করে, যা সমর্থন জানিয়েছে ইরান।
প্রতিক্রিয়ায় লেবাননের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী তেহরানের প্রতি তাদের দেশের ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ’ বন্ধ করার আহ্বান জানান।
আরও পড়ুন: পাকিস্তানে বায়ুদূষণে মানুষের গড় আয়ু কমছে ৪ বছর
এদিকে, ইসরাইল বৈরুতে হামলার হুমকি দিলে তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, বৈরুতে হামলা হলে তারা চুপ করে থাকবে না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পও বৈরুতে হামলা না চালানোর আহ্বান জানান।
এরপরও গত রবিবার (৬ জুন) ইসরাইল লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপশহরগুলোতে বিমান হামলা চালায়। ইসরাইলের হামলার কয়েক ঘণ্টা পর সংঘাত আরও বিপজ্জনক মোড় নেয়। যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগে ওইদিন রাতেই উত্তর ইসরাইলের বিভিন্ন এলাকায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ইরান।
তারপর সোমবার (৮ জুন) সকালে ইরানে হামলা চালায় ইসরাইলি বাহিনী। রাজধানী তেহরান, তাবরিজ ও ইসপাহানে তীব্র বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। তৎক্ষণাৎ পাল্টা হামলা চালায় ইরান। গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর এটি দুই দেশের মধ্যে প্রথম বড় ধরনের সরাসরি সামরিক সংঘর্ষ ঘটে।
ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে এক পোস্টে উভয় পক্ষকে দ্রুত সংঘাত বন্ধ করার আহ্বান জানান। এরপর দুইদিনের তীব্র সংঘাতের পর অবশেষে ইসরাইল ও ইরান হামলা স্থগিত করার ঘোষণা দেয়।
আরও পড়ুন: তালেবান: আফগানিস্তানে আসা বেশিরভাগ ওষুধই পাকিস্তান থেকে পাচার হওয়া
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন