ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

উৎসবমুখর পরিবেশে বেরোবির গণিত বিভাগ ছাত্র সংসদ নির্বাচন, নতুন নেতৃত্বে মিতু-মশিয়ার


উৎসবমুখর পরিবেশে বেরোবির গণিত বিভাগ ছাত্র সংসদ নির্বাচন, নতুন নেতৃত্বে মিতু-মশিয়ার

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) গণিত বিভাগ ছাত্র সংসদ নির্বাচন-২০২৬ উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভোটগ্রহণ শেষে বিভিন্ন পদে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করেন নির্বাচন কমিশন। শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন হয়।

নির্বাচনের ফলাফলে সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে মনিবুর রহমান মিতু ১৫২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী পিয়াল হাসান পান ১০৩ ভোট।

সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে মশিয়ার রহমান ১৪৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। অপর প্রার্থী আহসান হাসান হাবিব সৌরভ পান ১০৮ ভোট।

আরও পড়ুন: জাবিতে মুক্তিযোদ্ধা মানিকের স্মরণে শিক্ষার্থীদের মোমবাতি প্রজ্বালন

এছাড়া সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে মো. নাজমুল কাজী ২০২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন এবং উপ-কোষাধ্যক্ষ পদে মহিনুল ইসলাম সিহাব ১৭৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন।

দপ্তর ও প্রচার সম্পাদক পদে রাব্বি হোসেন ১৩১ ভোট এবং শিক্ষা, গবেষণা ও পাঠাগার বিষয়ক সম্পাদক পদে ইফতেখার আমির সম্রাট ১৮৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন।

উপ-দপ্তর ও প্রচার সম্পাদক পদে তামজিদুল ইসলাম ১৮১ ভোট এবং ক্রীড়া সম্পাদক পদে সাকিব রেজা রায়হান ১৯১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন।

সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে আকাশ চন্দ্র ১৮২ ভোট এবং উপ-শিক্ষা, গবেষণা ও পাঠাগার বিষয়ক সম্পাদক পদে ইফতেখার আমির সম্রাট ১৮৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন।

আরও পড়ুন: চুয়েটে ৩৬ দিন পর বুধবার থেকে ক্লাস শুরু, বিভাগের প্রধানরা নিশ্চিত নন

এছাড়া উপ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে কল্যাণ রায় সৌমেন ১৫৭ ভোট এবং উপ-ক্রীড়া সম্পাদক পদে জাওয়াদ সাজিদ ২০৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন।

কার্যকরী সদস্য পদে নির্বাচিত হয়েছেন মো. শাহীন আলম (১৯৩ ভোট), মো. রাফে জামান (১৭৩ ভোট), মো. সাইদ আলম (১৬০ ভোট) এবং মহাদেব রায় (১২১ ভোট)।

নবনির্বাচিত সহ-সভাপতি (ভিপি) মনিবুর রহমান মিতু বলেন, “গণিত বিভাগের শিক্ষার্থীরা আমার ওপর যে আস্থা ও বিশ্বাস রেখেছেন, তার জন্য আমি সবার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে থেকে শিক্ষার্থীদের অধিকার, একাডেমিক পরিবেশের উন্নয়ন এবং বিভাগীয় বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সবার মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করব। গণিত বিভাগকে আরও ঐক্যবদ্ধ ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশে এগিয়ে নিতে সবাইকে সঙ্গে নিয়েই পথ চলতে চাই।”

নির্বাচন শেষে বিজয়ীরা গণিত বিভাগের শিক্ষার্থীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং বিভাগে শিক্ষাবান্ধব, অংশগ্রহণমূলক ও ইতিবাচক পরিবেশ গড়ে তুলতে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। নির্বাচনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরাও আশা প্রকাশ করেন, নবনির্বাচিত নেতৃত্ব শিক্ষার্থীদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নলকূপ খননের স্থান থেকে গ্যাসের আগুন, বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সিআইডি প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিলেন ব্যারিস্টার মোশাররফ হোছাইন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ২৯শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:২০ পি.এম


সিআইডি প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিলেন ব্যারিস্টার মোশাররফ হোছাইন

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) প্রধান হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বগ্রহণ করেছেন অ্যাডিশনাল আইজিপি (অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক) ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোছাইন। বুধবার ঢাকা সিআইডি সদর দফতরে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন তিনি। এর আগে, ২৮ জুন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ কর্তৃক জারিকৃত এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে সিআইডির প্রধান হিসেবে পদায়ন করা হয়। দায়িত্ব গ্রহণের আগে, তিনি প্রেষণে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এনএসআইয়ে কর্মরত অবস্থায় তিনি অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতি লাভ করেন। ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোছাইন ১৯৯৫ সালে ১৫তম বিসিএস-এর মাধ্যমে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশে যোগদান করেন। প্রায় তিন দশকের বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে, পেশাদারত্ব, দক্ষতা ও সততার সঙ্গে বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে দায়িত্ব পালন করে সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন তিনি। কর্মজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে, তিনি বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি, সারদায় প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও কারিকুলাম উন্নয়ন-সংশ্লিষ্ট একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। সিআইডির সদর দফতর, চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা ইউনিটে বিশেষ পুলিশ সুপার হিসেবে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করেন। মাঠ পর্যায়ে পিরোজপুর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার হিসেবেও সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি), চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি), র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব), পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স এবং রাজশাহী, বরিশাল, রংপুর, খুলনা ও ঢাকা রেঞ্জের বিভিন্ন ইউনিটে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে তিনি তদন্ত, গোয়েন্দা কার্যক্রম, প্রশিক্ষণ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। শিক্ষাগত জীবনে, তিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর (এমএস) ডিগ্রি অর্জন করেন। এছাড়াও, তিনি যুক্তরাজ্যের সিটি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকে বার-অ্যাট-ল (Bar-at-Law) সম্পন্ন করেন। দেশ-বিদেশে বিভিন্ন পেশাগত প্রশিক্ষণ, কর্মশালা ও আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তিনি আধুনিক পুলিশিং, তদন্ত এবং ফরেনসিক বিষয়ে বিশেষ দক্ষতা অর্জন করেছেন। উল্লেখযোগ্য প্রশিক্ষণের মধ্যে রয়েছে, মালয়েশিয়ায় ফরেনসিক ল্যাবরেটরি কোর্স, পাকিস্তানে বিশেষ আঞ্চলিক কর্মশালা এবং তুরস্কে অনুষ্ঠিত ১০ম ইন্টারপা (INTERPA) সম্মেলনে অংশগ্রহণ। দায়িত্ব গ্রহণ অনুষ্ঠানে সিআইডির ডিআইজি, অতিরিক্ত ডিআইজি, পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত থেকে নবনিযুক্ত সিআইডি প্রধানকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। সিআইডি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু তালেব যোগদানের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সংখ্যায় বাড়লেও সুন্দরবনে চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েল বেঙ্গল টাইগার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৯শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:২৩ পি.এম


সংখ্যায় বাড়লেও সুন্দরবনে চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েল বেঙ্গল টাইগার

বাংলাদেশে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের একমাত্র আবাস সুন্দরবন বলে উল্লেখ করা হয়। এই শীর্ষ শিকারির ভূমিকা বন ও বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সম্প্রতি পূর্ব সুন্দরবনের আন্দারমানিক ফরেস্ট অফিসের সামনের এলাকায় বাঘের অবাধ বিচরণ লক্ষ্য করা গেছে এবং দুই দিনের ব্যবধানে নদী সাঁতরে পার হওয়ার দৃশ্যও ধরা পড়েছে। কখনো নদীর তীরে, কখনো ক্যামেরা ট্র্যাপে ধরা দিচ্ছে বাঘের এই অবাধ বিচরণ।

এসব দৃশ্য সুন্দরবনের বাঘ সংরক্ষণে আশার বার্তা প্রদান করছে। সরকারি জরিপের ফলাফল অনুযায়ী সুন্দরবনে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের সংখ্যা বেড়ে ১২৫ এ পৌঁছেছে, যা সংরক্ষণ কার্যক্রমের ইতিবাচক ফল হিসেবে বিবেচনা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে সংকটও কম নয়। ছয় মাস আগে হরিণ ধরার ফাঁদে আটকা পড়া একটি বাঘ চিকিৎসা শেষে আবার বনে ফিরেছে, কিন্তু চোরা শিকারিদের ফাঁদ এখনও একটি বড় হুমকি হয়ে রয়েছে। হরিণ শিকার বাড়ার কারণে বাঘের খাদ্য কমতে শুরু করেছে। এর পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন, নিরাপদ আবাস ও প্রজননের সংকট, মানুষ-বাঘ সংঘাত এবং গবেষণার সীমাবদ্ধতা সংরক্ষণে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়েছে।

বাঘ জরিপ কারিগরি কমিটির সদস্য মফিজুর রহমান বলেন, সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধি অবশ্যই ইতিবাচক একটি বিষয়। কিন্তু, শুধুমাত্র সংখ্যা বাড়লেই হবে না, তাদের জন্য নিরাপদ আবাসস্থল, পর্যাপ্ত খাদ্য এবং নির্বিঘ্ন প্রজনন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনসহ বিভিন্ন নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য নিয়মিত গবেষণা এবং নজরদারি আরও বাড়ানো প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, বন বিভাগের উদ্যোগের পাশাপাশি জলবায়ু অভিযোজন, খাদ্য প্রাণী সংরক্ষণ, গবেষণা, নজরদারি এবং স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে একটি দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত পরিকল্পনার বাস্তবায়ন জরুরি।

সুন্দরবন একাডেমির ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য রফিকুল ইসলাম খোকন বলেন, বাঘ রক্ষা করতে হলে পুরো সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্র রক্ষা করা অপরিহার্য। খাদ্য, প্রাণী, হরিণ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, গবেষণা এবং প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি বৃদ্ধি করার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষকে সচেতন করা ও সম্পৃক্ত করা অত্যন্ত জরুরি।

বন বিভাগ জানায়, আধুনিক প্রযুক্তি, স্মার্ট পেট্রোলিং, ক্যামেরা ট্র্যাপ এবং উদ্ধার-পুনর্বাসন কার্যক্রমকে আরও জোরদার করা হচ্ছে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম আগামী জরিপে বাঘের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

তিনি বলেন, বাঘ সংরক্ষণে সরকার বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। প্রযুক্তির ব্যবহার, বন রক্ষায় নজরদারি বৃদ্ধি এবং জনসম্পৃক্ততার মাধ্যমে সুন্দরবনের বাঘকে নিরাপদ রাখা হবে। আগামী জরিপে বাঘের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আমরা আশাবাদী।

‘সবাই হই সচেতন, বাঘ করি সংরক্ষণ’ এই প্রতিপাদ্যের অধীনে পালিত হচ্ছে বিশ্ব বাঘ দিবস। বাংলাদেশসহ বাঘের আবাস থাকা বিশ্বের ১৩টি দেশে দিবসটি পালন করা হয়ে আসছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া গ্রেফতার না করার বিষয়ে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ২৯শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:২৫ পি.এম


সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া গ্রেফতার না করার বিষয়ে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত

সুনির্দিষ্ট কোনো মামলা না থাকলে কোনো ব্যক্তিকে শ্যোন অ্যারেস্ট, গ্রেফতার কিংবা অন্য কোনোভাবে হয়রানি করা যাবে না— এই আদেশটি হাইকোর্টের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছিল। তবে, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ এই আদেশটি স্থগিত করেছেন।

আজ বুধবার প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে এ সংক্রান্ত আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের পৃথক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আপিল বিভাগ এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেছেন, আপিল বিভাগের আদেশের অর্থ হলো— যদি ফৌজদারি অভিযোগের সঙ্গে কোনো ব্যক্তি সম্পৃক্ত না থাকলেও, কিন্তু তদন্তকারী কর্মকর্তা যদি তদন্তের সময় তাকে নিয়ে কিছু তথ্য পান, তাহলে তদন্তকারী কর্মকর্তা তাকে গ্রেফতার দেখানোর জন্য আবেদনের সুযোগ পাবেন।

এর আগে, হাইকোর্ট রায় দিয়েছিল যে, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে যদি কোনো মামলা না থাকে, তাহলে বিবাদীরা তাকে শ্যোন অ্যারেস্ট, গ্রেফতার কিংবা অন্য কোনোভাবে হয়রানি করতে পারবে না। এই রায়টি বিশেষ কয়েকজন ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রদান করা হয়েছিল।

এছাড়া, আবেদনকারী যদি বারবার শ্যোন অ্যারেস্টের শিকার হন এবং শুধুমাত্র হয়রানি, অপমান ও নিপীড়নের উদ্দেশ্যে গুরুতর প্রকৃতির মিথ্যা মামলায় জড়ানোর জন্য বিবাদীদের পদক্ষেপ কেন বেআইনি ও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, এবং আবেদনকারীর বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট কোনো মামলা না থাকলে তাকে শ্যোন অ্যারেস্ট, গ্রেফতার বা হয়রানি না করার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানাতে হাইকোর্ট রুল জারি করে। পরে হাইকোর্টের এমন কয়েকটি আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বৃহত্তর দিনাজপুরের জন্য ১,৪৯২ কোটি টাকার সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ২৯শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:২৮ পি.এম


বৃহত্তর দিনাজপুরের জন্য ১,৪৯২ কোটি টাকার সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ

উত্তরবঙ্গের বৃহত্তর দিনাজপুর অঞ্চলের গ্রামীণ পরিবহন অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য ১ হাজার ৪৯২ কোটি ৫০ লাখ টাকার একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে সরকার।

দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, অর্থনৈতিক কর্মকান্ডকে গতিশীল করা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীন স্থানীয় সরকার বিভাগ ‘বৃহত্তর দিনাজপুরের (দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়) সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্প’ শীর্ষক এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এর মাধ্যমে এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে। ১ হাজার ৪৯২ কোটি ৫০ লাখ টাকার পুরো প্রকল্প ব্যয় বাংলাদেশ সরকারের (জিওবি) নিজস্ব তহবিল থেকে অর্থায়ন করা হবে।

প্রকল্পটি ২০৩০ সালের ৩০ জুনের মধ্যে বাস্তবায়নের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (কৃষি, পানিসম্পদ ও গ্রামীণ প্রতিষ্ঠান বিভাগ) মো. মাহমুদুল হোসাইন খান বাসস’কে বলেন, গ্রামীণ সড়কগুলো উন্নত করে হাটবাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং অন্যান্য সেবাকেন্দ্রের সঙ্গে গ্রামের সংযোগ জোরদার করার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে কৃষি ও অকৃষি পণ্য পরিবহন ও বিপণন সহজ হবে। এর ফলে যাতায়াতের সময় ও খরচ কমবে এবং সরকারি সেবা প্রাপ্তি সহজ হবে। এছাড়া নির্মাণ ও পরিচালনা উভয় স্তরেই ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

প্রকল্পটিকে ‘যুগান্তকারী’ আখ্যা দিয়ে তিনি জানান, এলজিইডি’র আওতাধীন গ্রামীণ রাস্তা, ইউনিয়নের রাস্তা এবং উপজেলার রাস্তাগুলো আরও উন্নত ও প্রশস্ত করা হবে। প্রকল্পের আওতায় এলজিইডি উপজেলার ২১.৭৫ কিলোমিটার রাস্তা, ইউনিয়নের ১৭১.৫৫ কিলোমিটার রাস্তা এবং ৮৪২.৫২ কিলোমিটার গ্রামীণ রাস্তা সব ঋতুতে চলাচলের উপযোগী করে গড়ে তুলবে।

এছাড়া ৪১০ মিটার দীর্ঘ মোট ১৬টি সেতু নির্মাণ করা হবে।

সড়ক সুরক্ষা ও স্থায়িত্ব বাড়াতে প্রকল্পটিতে ১০.৭ লাখ ঘনমিটারের বেশি মাটি কাটার কাজ, ৩ হাজার ৬৫০টি ট্রাফিক সাইন, ৭ হাজার ৩০০টি গাইড পোস্ট স্থাপন করা হবে, ১৪ হাজার ৯০০ মিটার প্যালিসেডিং হবে এবং ১২৯ হাজার ৬৫০ বর্গমিটার রোড মার্কিংয়ের কাজ হবে।

পরিকল্পনা কমিশনের আরেক কর্মকর্তা বাসস’কে জানান, এই অঞ্চলের একটি বড় জনগোষ্ঠী কৃষির ওপর নির্ভরশীল। পর্যাপ্ত পরিবহন সুবিধা না থাকার কারণে এর ফলে গ্রামীণ দারিদ্র্যের হার তুলনামূলকভাবে বেশি।

যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং সামগ্রিক আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নতির জন্যই একনেক এই প্রকল্পটির অনুমোদন দিয়েছে। রংপুর বিভাগের দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় জেলার সবকটি উপজেলা এই প্রকল্পের আওতাভুক্ত থাকবে।

কমিশন জানিয়েছে, উন্নত সড়ক যোগাযোগ নেটওয়ার্ক কৃষকদের এবং ব্যবসায়ীদের স্থানীয় উৎপাদিত পণ্য আরও দক্ষতার সঙ্গে পরিবহনে সহায়তা করবে। এর মধ্যে রয়েছে দিনাজপুরের বিখ্যাত লিচু ও সুগন্ধি চাল, ঠাকুরগাঁওয়ের আম এবং পঞ্চগড়ের চা।

এছাড়া এই উদ্যোগ অসংখ্য প্রত্নতাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক স্থানের সূতিকাগার এই তিন জেলায় পর্যটন শিল্পেরও বিকাশ ঘটাবে।

প্রকল্পটি গ্রামীণ জনগণের জন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং অন্যান্য সরকারি পরিষেবা পাওয়ার সুযোগ উন্নত করবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা দারিদ্র্য বিমোচন এবং জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে অবদান রাখবে।

২০২৫ সালে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘মির্জা ইন্টারন্যাশনাল’-এর পরিচালিত এক সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় দেখা যায়, প্রকল্পটি কারিগরি ও অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক এবং এটি বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রকল্পটির জনসেবামূলক বৈশিষ্ট্যের কারণে সরাসরি কোনো আর্থিক মুনাফা বা রিটার্ন আশা না করা হলেও অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে এটি টেকসই ও কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়েছে। এর নিট বর্তমান মূল্য (এনপিভি) ৬৭৪ কোটি ৯৯ লাখ টাকা, অভ্যন্তরীণ আয়ের হার (আইআরআর) ১৭.১২ শতাংশ এবং সুবিধা-ব্যয় অনুপাত (বিসিআর) ১.৩২:১।

পরিকল্পনা কমিশন উল্লেখ করেছে, প্রকল্পটি গ্রামীণ সব রাস্তা পর্যায়ক্রমে পাকা করা এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে একদম শেষ প্রান্ত পর্যন্ত যোগাযোগ (লাস্ট-মাইল কানেক্টিভিটি) নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ।

এটি দারিদ্র্য বিমোচন, কৃষি উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির জাতীয় লক্ষ্যগুলোকেও সমর্থন করে। এছাড়া, এই উদ্যোগ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) বেশ কয়েকটি লক্ষ্য অর্জনে অবদান রাখবে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—দারিদ্র্য বিমোচন, টেকসই কৃষির প্রসার এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণ।

প্রকল্পটি ইতোমধ্যে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) অননুমোদিত নতুন প্রকল্পের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। চলতি বছরের গত ২ মার্চ অনুষ্ঠিত প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় তাদের পর্যবেক্ষণগুলো যুক্ত করার শর্তে প্রস্তাবটি অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়।

পরিকল্পনা কমিশন পর্যবেক্ষণ করেছে, এ প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে বৃহত্তর দিনাজপুরের গ্রামীণ পরিবহন অবকাঠামো উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে। এতে অর্থনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড সহজতর হবে, কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে এবং দারিদ্র্য বিমোচন ত্বরান্বিত হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%