১২:২৩ পি.এম
বাংলাদেশে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের একমাত্র আবাস সুন্দরবন বলে উল্লেখ করা হয়। এই শীর্ষ শিকারির ভূমিকা বন ও বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সম্প্রতি পূর্ব সুন্দরবনের আন্দারমানিক ফরেস্ট অফিসের সামনের এলাকায় বাঘের অবাধ বিচরণ লক্ষ্য করা গেছে এবং দুই দিনের ব্যবধানে নদী সাঁতরে পার হওয়ার দৃশ্যও ধরা পড়েছে। কখনো নদীর তীরে, কখনো ক্যামেরা ট্র্যাপে ধরা দিচ্ছে বাঘের এই অবাধ বিচরণ।
এসব দৃশ্য সুন্দরবনের বাঘ সংরক্ষণে আশার বার্তা প্রদান করছে। সরকারি জরিপের ফলাফল অনুযায়ী সুন্দরবনে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের সংখ্যা বেড়ে ১২৫ এ পৌঁছেছে, যা সংরক্ষণ কার্যক্রমের ইতিবাচক ফল হিসেবে বিবেচনা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে সংকটও কম নয়। ছয় মাস আগে হরিণ ধরার ফাঁদে আটকা পড়া একটি বাঘ চিকিৎসা শেষে আবার বনে ফিরেছে, কিন্তু চোরা শিকারিদের ফাঁদ এখনও একটি বড় হুমকি হয়ে রয়েছে। হরিণ শিকার বাড়ার কারণে বাঘের খাদ্য কমতে শুরু করেছে। এর পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন, নিরাপদ আবাস ও প্রজননের সংকট, মানুষ-বাঘ সংঘাত এবং গবেষণার সীমাবদ্ধতা সংরক্ষণে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়েছে।
আরও পড়ুন: শেরপুরে বাস-সিএনজির সংঘর্ষে জুয়েল মিয়া নিহত, আহত ৪
বাঘ জরিপ কারিগরি কমিটির সদস্য মফিজুর রহমান বলেন, সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধি অবশ্যই ইতিবাচক একটি বিষয়। কিন্তু, শুধুমাত্র সংখ্যা বাড়লেই হবে না, তাদের জন্য নিরাপদ আবাসস্থল, পর্যাপ্ত খাদ্য এবং নির্বিঘ্ন প্রজনন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনসহ বিভিন্ন নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য নিয়মিত গবেষণা এবং নজরদারি আরও বাড়ানো প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, বন বিভাগের উদ্যোগের পাশাপাশি জলবায়ু অভিযোজন, খাদ্য প্রাণী সংরক্ষণ, গবেষণা, নজরদারি এবং স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে একটি দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত পরিকল্পনার বাস্তবায়ন জরুরি।
সুন্দরবন একাডেমির ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য রফিকুল ইসলাম খোকন বলেন, বাঘ রক্ষা করতে হলে পুরো সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্র রক্ষা করা অপরিহার্য। খাদ্য, প্রাণী, হরিণ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, গবেষণা এবং প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি বৃদ্ধি করার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষকে সচেতন করা ও সম্পৃক্ত করা অত্যন্ত জরুরি।
বন বিভাগ জানায়, আধুনিক প্রযুক্তি, স্মার্ট পেট্রোলিং, ক্যামেরা ট্র্যাপ এবং উদ্ধার-পুনর্বাসন কার্যক্রমকে আরও জোরদার করা হচ্ছে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম আগামী জরিপে বাঘের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
আরও পড়ুন: কেন্দুয়ায় পাচারের সময় ৩২ বস্তা সার জব্দ, চালক পালিয়েছে
তিনি বলেন, বাঘ সংরক্ষণে সরকার বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। প্রযুক্তির ব্যবহার, বন রক্ষায় নজরদারি বৃদ্ধি এবং জনসম্পৃক্ততার মাধ্যমে সুন্দরবনের বাঘকে নিরাপদ রাখা হবে। আগামী জরিপে বাঘের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আমরা আশাবাদী।
‘সবাই হই সচেতন, বাঘ করি সংরক্ষণ’ এই প্রতিপাদ্যের অধীনে পালিত হচ্ছে বিশ্ব বাঘ দিবস। বাংলাদেশসহ বাঘের আবাস থাকা বিশ্বের ১৩টি দেশে দিবসটি পালন করা হয়ে আসছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন