০৫:২২ পি.এম
নাটোরে ২৫০ শয্যার একটি হাসপাতালে একটি শিশুর মাকে ধর্ষণের অভিযোগে পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরের পর হাসপাতাল চত্বর থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
এর আগে, ভুক্তভোগী নারীর বাবা বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন।
ভুক্তভোগী নারী জানান, তার মেয়ে অসুস্থ হলে ৪ দিন আগে তাকে নাটোর ২৫০ শয্যার আধুনিক সদর হাসপাতালে শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করানো হয়। এর পর গত ৭ জুন রাত ১০টার সময় ওষুধ দেওয়ার কথা বলে হাসপাতালের আউটসোসিং সুইপার অমিত তাকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর জোরপূর্বক তাকে হাসপাতালের ৬তলা সিঁড়িঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে।
আরও পড়ুন: শেরপুরে বাস-সিএনজির সংঘর্ষে জুয়েল মিয়া নিহত, আহত ৪
এ ঘটনায় ভিডিও মোবাইলে ধারণ করে অমিতের দুই সহযোগী ও হাসপাতালের আউটসোর্সিং সুইপার অনিল এবং প্রাঙ্গন। পরে সেই ভিডিও দেখিয়ে ভুক্তভোগীকে ব্ল্যাক মেইল করে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়।
এদিকে, রাত ২টার সময় শিশু ওয়ার্ডের দায়িত্বরত নার্স ও ওয়ার্ডবয়রা শিশুকে ৪ ঘণ্টা একা দেখে তার মাকে খোঁজাচ্ছে। সকলের প্রচেষ্টায় সিসি ক্যামেরা দেখে ৬ তলায় গিয়ে তাদের হাতেনাতে ধরেন।
এরপর আনসার সদস্যরা তাদের হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে নিয়ে ঘটনার বিবরণ মোবাইলে রেকর্ড করেন।
অন্য একটি সংবাদে বলা হয়েছে, চট্টগ্রামের ধর্ষণ মামলার আসামি কাপ্তাই থেকে গ্রেপ্তার হয়েছে।
আরও পড়ুন: কেন্দুয়ায় পাচারের সময় ৩২ বস্তা সার জব্দ, চালক পালিয়েছে
দায়িত্বরত আনসার সদস্য মো. সালাউদ্দিন বলেন, নার্স এবং ওয়ার্ড বয়দের কাছ থেকে শুনে শিশুর মাকে খুঁজতে থাকি। পরে ৬ তলার সিঁড়িতে গিয়ে তাদের হাতেনাতে ধরা হয়। এরপর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে আসামি এবং ভুক্তভোগীকে হস্তান্তর করা হয়। এরপর আসামিরা কিভাবে চলে গেল, তা জানা নেই।
নাটোর ২৫০ শয্যার আধুনিক সদর হাসপাতালের আনসার প্লাটুন কমান্ডার মো. মোন্নাফ হোসেন জানিয়েছেন, আনসার সদস্যরা ভুক্তভোগী নারীর ধর্ষণের অভিযোগ এবং আসামিদের স্বীকারোক্তি মোবাইল ফোনে রেকর্ড করে রেখেছেন। তাদের কাছে প্রমাণও রয়েছে। আসামিদের কাছেও ওই নারীকে ধর্ষণের ভিডিও রয়েছে।
নাটোর ২৫০ শয্যার আধুনিক সদর হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. আরশেদ আলী বলেন, যারা ধর্ষণ এবং ভিডিও ধারণের সঙ্গে জড়িত, তাদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
আরও পড়ুন, চট্টগ্রামে আ. লীগ এর লিফলেট তৈরির সময় নারী নেত্রীসহ গ্রেপ্তার দুইজন।
আরও পড়ুন: উখিয়ায় ১৫ ঘণ্টা পরও জ্বলছে গ্যাসের আগুন, ১৫ কিলোমিটার এলাকায় বিদ্যুৎ বন্ধ
এই ঘটনার কারণে নাটোর সদর হাসপাতালের অন্যান্য রোগী এবং তাদের স্বজনরা আতঙ্কিত রয়েছেন। তারা বলছেন, হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে অনেক সময় রাত্রি যাপন করতে হয়। যদি এমন ঘটনা ঘটে, তাহলে মানুষ কিভাবে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আসবে?
সাজিদ আলী নামের এক সাংস্কৃতিক কর্মী বলেন, হাসপাতালের স্টাফরাই যদি এ ধরনের ঘটনা ঘটায়, তাহলে রোগী এবং তাদের স্বজনদের নিরাপত্তা কে দেবে?
সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) নাটোরের সভাপতি অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, হাসপাতালের ভিতর তিন সুইপার মিলে রোগীর স্বজনকে ধর্ষণের ঘটনায় সাধারণ মানুষের ক্ষোভ থাকলেও পুলিশের এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব অবহেলা দেখা যাচ্ছে। তারা শাস্তির দাবি জানিয়ে নাটোরের সচেতন মহল।
নাটোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনসুর আহমেদ জানিয়েছেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে থানায় ওই নারীর বাবাকে ডেকে মামলাটি করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: তাহিরপুরে প্রবাসীর স্ত্রী ও পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে উধাও নাজমুল, পরিবার উদ্বিগ্ন
ওসি আরো বলেন, এ ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং গ্রেপ্তারদের আদালতে হস্তান্তর করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন