ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

লেবাননের নাবাতিয়েহ যেন নতুন কারবালা, চারদিকে হায় হোসেন, হায় হোসেনের ধ্বনি


লেবাননের নাবাতিয়েহ যেন নতুন কারবালা, চারদিকে হায় হোসেন, হায় হোসেনের ধ্বনি

ধ্বংসস্তূপের মধ্য দিয়ে একটি শোকযাত্রা এগিয়ে যাচ্ছিল। ভিড়ের মানুষেরা বুক চাপড়াচ্ছিল এবং শোকধ্বনি তুলে একত্রিত হচ্ছিল। তাদের শোকের বিলাপের সঙ্গে মিশে যাচ্ছিল শহরের বাইরের পাহাড়ি এলাকায় চলমান গোলাবর্ষণের মৃদু শব্দ। ‘এটাই কারবালার ট্র্যাজেডি, হায় ইমাম হোসেন, দেখুন। এটাই কারবালার ট্র্যাজেডি,’ দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়েহ শহরে আশুরার শোভাযাত্রায় স্লোগানদাতা মানুষের আওয়াজ শোনা যাচ্ছিল।

আশুরা হচ্ছে ৬৮০ সালে কারবালার যুদ্ধে ইমাম হোসেনের শাহাদাত স্মরণে পালিত একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান। এটি এখন শিয়া মুসলিমদের কাছে জুলুমের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে পরিচিত। সাধারণ সময়ে নাবাতিয়েহর বার্ষিক এই অনুষ্ঠান শহরের গর্বের বিষয়। প্রতি বছর প্রায় ৩০ হাজার মানুষ এতে অংশ নেয় এবং শহরের রাস্তাঘাট তখন শোকের সমবেত ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে।

কিন্তু এবছর হিজবুল্লাহ-ইসরাইল যুদ্ধের কারণে কারবালা যেন নতুন করে ফিরে এসেছে। এই যুদ্ধে লেবাননে ৩,৯০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যাদের অধিকাংশই শিয়া মুসলিম। নাবাতিয়েহ হচ্ছে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত শহরগুলোর মধ্যে একটি এবং এর অধিকাংশ এলাকায় এখন কার্যত আশ্রয়হীনতার চিহ্ন দেখা যাচ্ছে।

আরও পড়ুন: তারেক রহমান: জামায়াত-এনসিপি আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান সহ্য করতে পারছে না

গত বুধবার (১৭ জুন) শহরের অধিবাসীদের শোকের ধ্বনিগুলো যেন চাপা পড়ে গিয়েছিল মাটির স্তূপ ও ধ্বংসাবশেষের নিচে। ১০০ দিনের যুদ্ধের পরে শহরের রাস্তাগুলো ফাঁকা হয়ে গিয়েছিল এবং ভবনগুলো ধ্বংসাবশেষে পরিণত হয়েছিল। ২০০ কিংবা তার বেশি মানুষের উপস্থিতি সেই নিস্তব্ধতা ভাঙতে যথেষ্ট ছিল না।

এবারের আশুরায় নাবাতিয়েহ তার সাম্প্রতিক নিহতদের জন্য শোক ও সম্মান প্রদর্শন করছিল। মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের চোখের জল স্মরণ করছিল সেই যুদ্ধের কথা, যা এই শহরের অধিকাংশ মানুষকে বাস্তুচ্যুত করেছে এবং অনেকের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে, যারা ইসরাইলের অবিরাম বিমান হামলার সময় পালানোর সুযোগ লাভেরও সম্ভাবনা পাননি।

শহরের রাস্তায় শহীদদের পোস্টার প্রদর্শিত ছিল। পাশের হারূফ গ্রামের প্রবেশমুখের গোলচত্বরে ৩ মিটার উচ্চতার একটি পোস্টারে শুধুমাত্র ওই গ্রামের নিহত ৫০ জন তরুণ হিজবুল্লাহ যোদ্ধার ছবি স্থান পেয়েছিল। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী ৫০ বছর বয়সি ইসমাইল ইয়াঘি বলেছেন, ‘এ বছরের আশুরার অর্থ আমাদের জন্য বিশেষ। এই যুদ্ধের পুরো তিন মাস আমরা প্রতিদিন কারবালার যুদ্ধের অভিজ্ঞতা লাভ করেছি।’

কথা বলতে বলতে তিনি নিহত তরুণদের ছবির দিকে তাকালেন, যেগুলো মসজিদের দেয়ালে টাঙানো ছিল এবং অংশগ্রহণকারীদের টি-শার্ট ও ব্যাজে দেখা যাচ্ছিল। তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমাদের হৃদয়ে যেমন দুঃখ রয়েছে, আবার আমাদের শহীদদের জন্য গর্বও রয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, কেউ মারা গেলে তার জীবন শেষ হয়ে যায় না। বরং তার অনন্ত জীবন তখনই শুরু হয়।’

আরও পড়ুন: আদাবরে যুবদল নেতাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম

যুদ্ধ পরিস্থিতি দেখেই বাসিন্দারা ভাবতেই পারেননি যে, তারা এ বছর নাবাতিয়েহতে আশুরা পালন করতে পারবেন। ইসরাইলি বোমাবর্ষণ এবং শহর ত্যাগের নির্দেশে প্রায় ৮০ হাজার বাসিন্দা বাস্তুচ্যুত হয়েছিলেন। গত সোমবার (১৫ জুন) যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ঘোষিত সমঝোতা স্মারক অপ্রত্যাশিতভাবে লেবাননের যুদ্ধ থামিয়ে দেয় এবং নাবাতিয়েহ পুরোপুরি দখল করার দ্বারপ্রান্তে থাকা ইসরাইলি বাহিনীর অগ্রযাত্রাও থেমে যায়।

এরপর সিভিল ডিফেন্স কর্মীরা দ্রুত আশুরার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন। নাবাতিয়েহ অ্যাম্বুলেন্স সেবার স্বেচ্ছাসেবকরা চিকিৎসা সরঞ্জাম নামিয়ে রেখে ঝাড়ু হাতে নেন। তারা শহরের কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে ধ্বংসাবশেষ পরিষ্কার করতে থাকে এবং বিমান হামলার ফলে সৃষ্ট দেয়ালের বড় গর্তগুলো ঢাকতে কালো ব্যানার টাঙাতে থাকে।

অ্যাম্বুলেন্স সেবার প্রধান ৪৫ বছর বয়সি মেহদি সাদেক বলেন, ‘সাধারনত আশুরার প্রস্তুতিতে পুরো এক মাস সময় লাগে। কিন্তু এবার আমাদের হাতে ছিল মাত্র দুই দিন।’ কথা বলতে বলতে তিনি পেঁয়াজ ও মসলা ভর্তি একটি বড় পাত্র নাড়াচ্ছিলেন। হঠাৎ ইসরাইলি গোলাবর্ষণের শব্দে ভবন কেঁপে উঠলে তিনি বাইরে তাকান। নাবাতিয়েহ ঘিরে থাকা পাহাড়ের ওপর ধোঁয়ার কুণ্ডলী তখন দেখা যাচ্ছিল।

যুদ্ধবিরতি থাকা সত্ত্বেও ইসরাইল ও হিজবুল্লাহ দক্ষিণ লেবাননের তথাকথিত ‘নিরাপত্তা অঞ্চল’-এ একে অপরের ওপর হামলা চালিয়ে যাচ্ছিল। ইসরাইলি সেনারা শহরের প্রান্তের আলি তাহের পাহাড়ের ঠিক ওপারেই অবস্থান করে।

আরও পড়ুন: শেরপুরে বাসের চাপায় সিএনজি যাত্রী নিহত, আহত ৪

গতরাতে সংঘর্ষের তীব্রতা আরও বাড়ে। হিজবুল্লাহর হামলায় চারেরও বেশি ইসরাইলি সেনা নিহত হন। তাদের জবাবে ইসরাইল নাবাতিয়েহ এবং আশপাশে বিমান হামলা চালায়, যা ১৮ জন নিহত এবং ৩৩ জন আহত করে। সাদেক বলেন, ‘গতকাল এখানে অনেক মানুষ ছিল। কিন্তু রাতটা ছিল কঠিন। প্রচুর গোলাবর্ষণ হয়েছে।’

ইসরাইল মঙ্গলবার (১৬ জুন) ফিরে আসা বাসিন্দাদের ওপর গুলি চালানোর পর লেবাননের সেনাবাহিনী শহরের উঁচু অংশ ও ইসরাইলি অবস্থানের কাছে গ্রামগুলোতে যাওয়ার পথ বন্ধ করে দেয়। অনেক পরিবার আবারও সহিংসতার আশঙ্কায় এলাকা ছেড়ে চলে যায়।

সাদেক বলেন, ‘আমরা আশা করেছিলাম পরিস্থিতি আরও ভালো হবে। আমরা একটি প্রকৃত যুদ্ধবিরতির প্রত্যাশা করেছিলাম। মানুষকে ফিরে আসার কারণ তৈরি করতেই আমরা নাবাতিয়েহতে আশুরা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

তবুও, খুব বেশি সংখ্যক মানুষ শহর ও আশপাশের গ্রামগুলোতে ফিরে আসেননি। কেউ কেউ শুধুমাত্র নিজেদের বাড়িঘর দেখতে এসেছিলেন এবং দ্রুত চলে গেছেন। ২০২৪ সালের নভেম্বরের যুদ্ধবিরতির পর যে বিপুল সংখ্যক মানুষ ফিরে এসে তাদের ঘরবাড়ি ও দোকানপাট পুনর্নির্মাণ শুরু করেছিলেন, এবার সেই জাতিগত পরিস্থিতি যেন অদৃশ্য।

আরও পড়ুন: কোনো দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে পেলে কতদিন ক্ষমতায় থাকবেন নেতানিয়াহু?

যুদ্ধে বৈরুতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হওয়া ৩৩ বছর বয়সি প্রকৌশলী হুসেইন নাহলে জানান, তার বাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে। তা সত্ত্বেও তিনি আশুরায় অংশ নিতে নাবাতিয়েহতে ফিরে এসেছেন। বর্তমানে তিনি শহরের এমন কিছু মানুষের বাড়িতে অবস্থান করছেন, যাদের ঘর এখনও অক্ষত রয়েছে।

তার পাশেই দাঁড়িয়ে কয়েকজন আকাশের দিকে তাকিয়ে ইশারা করলেন। দূরে আকাশের উপর একটি ইসরাইলি ড্রোন চক্কর দিচ্ছিল এবং শোক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের পর্যবেক্ষণ করছিল।

শোকযাত্রা চলার সময় সিভিল ডিফেন্স কর্মীরা ধ্বংসস্তূপ থেকে মরদেহ উদ্ধারের কাজ করছিলেন। যুদ্ধের সময় যেসব এলাকায় পৌঁছানো সম্ভব ছিল না, সেখানকার বিমান হামলার স্থানগুলো চিহ্নিত করে রাখার কাজ চলছিল।

যুদ্ধবিরতির সুযোগে তারা ধ্বংসস্তূপের মধ্যে মানবদেহের অবশিষ্টাংশ খুঁজছিলেন। তবে সব এলাকায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। মঙ্গলবার শহরের দক্ষিণে আগুন নেভাতে যাওয়া অ্যাম্বুলেন্সের কাছাকাছি এলাকায় ইসরাইলি বাহিনী গোলাবর্ষণ করেছিল।

আরও পড়ুন: ‘নেতানিয়াহু সরকারের প্রতি আস্থার অভাব’, বুথফেরত জরিপে মন্তব্য আইজেনকোটের

নাবাতিয়েহ অঞ্চলের সিভিল ডিফেন্স প্রধান হুসেইন ফাকিহ বলেন, ‘নাবাতিয়েহতে পরিস্থিতি আগের মতোই আছে, বরং অবস্থা আরও কঠিন হয়েছে। আসলেই যুদ্ধবিরতি আছে কি না সেটি পরিষ্কার নয়।’

সাক্ষাৎকারের মাঝখানে তিনি একটি ফোনকল পান। ফিরে এসে চোখ মুছতে মুছতে বলেন, ‘আমাকে ক্ষমা করবেন। আমার মেয়ে মাত্র জানিয়েছে, ইসরাইলিদের হামলায় আমাদের বাড়িটিও ধ্বংস হয়ে গেছে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চাঁদাবাজি বন্ধ করলে মানুষের ৩ ভাগের একভাগ শান্তি ফিরে আসবে : জামায়াত আমির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১৯ই জুন, ২০২৬ ইং

০৮:০০ পি.এম


চাঁদাবাজি বন্ধ করলে মানুষের ৩ ভাগের একভাগ শান্তি ফিরে আসবে : জামায়াত আমির

জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান মন্তব্য করেছেন যে, সারা দেশে চাঁদাবাজি বন্ধ করলে মানুষের তিন ভাগের একভাগ শান্তি ফিরে আসবে বলে মনে করেন।

শুক্রবার বিকেলে মুন্সীগঞ্জের একটি কমিউনিটি সেন্টারে জামায়াতে ইসলামীর মুন্সীগঞ্জ জেলার বার্ষিক সদস্য (রুকন) সম্মেলনে তিনি একথা বলেন।

জামায়াতের আমির জানালেন, যে দল নিজের দলের নেতাকর্মীদের সামাজিক অপকর্ম থেকে দূরে রাখতে পারে না, সে দলের দেশ শাসন করার অধিকার থাকা উচিত নয়। তিনি বলেন, যেদল নিজেদের কর্মীদের নিয়ন্ত্রণে সক্ষম হবে, তারা দেশের সুশাসন দিতে পারবে।

তিনি এই প্রসঙ্গে আরো বলেন, আমাদের স্বপ্ন সম্পদের পাহাড় গড়া নয়, বরং দেশবাসীকে ভালো রাখা। জামায়াতের নেতা বলেন, আমরা চেষ্টা করবো জনগণের দেয়া আমানত রক্ষা করতে, কিন্তু যদি সময় এসে যায় যে সংসদ আর কোনো যথার্থতা রাখে না—তাহলে এই সংসদ থেকে বের হতে এক সেকেন্ডও সময় লাগবে না। সংসদ জনগণের জন্য, আর যে সংসদ জনগণের প্রয়োজনে আসবে না, সে সংসদে আমাদের থাকার প্রয়োজন নেই।

বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা সরকারকে সময় দিতে চাই, কিন্তু এটি অনন্তকাল বছর হতে পারে না। তিনি ক্ষমতাসীন দলের প্রতি চাঁদাবাজি বন্ধের আহ্বান জানান, যা ভালো কাজের পরিচয় হিসেবে উপস্থাপন করা যেতে পারে।

জামায়াতের আমির সাম্প্রতিক বাজেটের প্রসঙ্গ উত্থাপন করে বলেন, বাজেটে অনেক ক্ষেত্রে কর কমানো হয়েছে, কিন্তু নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম কি এক টাকা কমেছে? কারণ সব জায়গায় সিন্ডিকেট বাড়ছে। এই সিন্ডিকেট রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পর্কিত। রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় না পেলে কোনো সিন্ডিকেট টিকে থাকার প্রশ্নই ওঠে না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নারী ও শিশু নির্যাতন, মাদক ও অপরাধ প্রতিরোধে বোয়ালিয়ায় সচেতনতামূলক বিট মিটিং ও উঠান বৈঠক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মাসুদ রানা রাব্বানী, রাজশাহী

শুক্রবার, ১৯ই জুন, ২০২৬ ইং

০৮:০৬ পি.এম


নারী ও শিশু নির্যাতন, মাদক ও অপরাধ প্রতিরোধে বোয়ালিয়ায় সচেতনতামূলক বিট মিটিং ও উঠান বৈঠক

নারী ও শিশু নির্যাতন, বাল্যবিবাহ, মাদক নির্মূল, চুরি-ছিনতাই, জুয়া ও অন্যান্য অপরাধ দমনে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে রাজশাহী মহানগরীর ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের ষষ্ঠীতলা এলাকায় সচেতনতামূলক বিট মিটিং ও উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার বিকাল ৫টায় এ বিট মিটিং ও উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বোয়ালিয়া জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মোস্তফা কামাল। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বোয়ালিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রবিউল ইসলাম এবং শিরোইল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ গোলাম রসুল।
বৈঠকে বক্তারা নারী ও শিশু নির্যাতন, বাল্যবিবাহ, মাদকাসক্তি, চুরি-ছিনতাই ও জুয়ার মতো সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে দ্রুত পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের তিনবারের সাবেক কাউন্সিলর রবিউল আলম মিলু।
বিট মিটিং ও উঠান বৈঠকে স্থানীয় নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। বক্তারা বলেন, পুলিশ ও জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি নিরাপদ ও অপরাধমুক্ত সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জনগণকে কেন্দ্র করে সমৃদ্ধি অর্জনে নেতাকর্মীদের কাজ করার আহ্বান সেতুমন্ত্রীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১৯ই জুন, ২০২৬ ইং

০৮:০৮ পি.এম


জনগণকে কেন্দ্র করে সমৃদ্ধি অর্জনে নেতাকর্মীদের কাজ করার আহ্বান সেতুমন্ত্রীর

জাতীয় স্বার্থে দলের নেতাকর্মীদের জনগণকে কেন্দ্র করে দেশের সমৃদ্ধি অর্জনের জন্য কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

শুক্রবার (১৯ জুন) রাজধানীর রায়ের বাজারে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী মন্তব্য করেন, জনগণকে ধারণ করে কাঠামোর বিষয়বস্তু ধরে আমাদের দেশের উন্নতি ও সমৃদ্ধির জন্য কাজ করতে হবে। আমাদের লক্ষ্য হবে দেশ ও জনগণের প্রাপ্তির দিকে মনোনিবেশ করা। বর্তমানে ১৭ বছর আঘাত প্রাপ্ত হওয়ার পর, দলীয় নেতাকর্মীদের এখন নিজের স্বার্থের পরিবর্তে দেশের সমৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করতে হবে।

একমাত্র এই সময়ে, জাতীয় কবিকে নিয়ে শেখ রবিউল আলম বলেন, কবি কাজী নজরুল ইসলাম একাধারে সাহিত্যিকের পাশাপাশি একজন রাজনীতিকও ছিলেন। জাতীয় কবিকে যথাযথভাবে স্মরণ করতে আমরা ব্যর্থ হয়েছি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নেছারাবাদে ইউএনও’র বিরুদ্ধে মানববন্ধনের ঘোষণায় ক্ষোভ শিক্ষকদের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নেছারাবাদ (পিরোজপুর) প্রতিনিধি

শুক্রবার, ১৯ই জুন, ২০২৬ ইং

০৮:০৯ পি.এম


নেছারাবাদে ইউএনও’র বিরুদ্ধে মানববন্ধনের ঘোষণায় ক্ষোভ শিক্ষকদের

 

 
পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় শিক্ষকের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমিত দত্তের বিরুদ্ধে মানববন্ধনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। তবে এ ঘোষণাকে ঘিরে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রবীণ শিক্ষক মোঃ ফজলুল হক ও মোঃ শাহ আলম বাহাদুর।
 
তারা দাবি করেছেন, ইউএনও’র সঙ্গে একটি সামান্য ভুল বোঝাবুঝির ঘটনাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বড় করে দেখিয়ে একটি পক্ষ মানববন্ধনের আয়োজন করছে। বিষয়টি যেহেতু তারা নিজেরাই সমাধান করেছেন, তাই এটিকে অতিরঞ্জিত করার কোনো যৌক্তিকতা নেই বলে তারা মনে করছেন।
 
জানা গেছে, সম্প্রতি স্বরূপকাঠি হোমিওপ্যাথিক কলেজের মাসিক সভায় অবসরপ্রাপ্ত দুই প্রবীণ শিক্ষক মোঃ শাহ আলম বাহাদুর ও মোঃ ফজলুল হক এবং ইউএনও অমিত দত্তের মধ্যে একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে সাময়িক ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়। পরে উভয় পক্ষ আলোচনার মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টির সমাধান করেন। কিন্তু সমাধান হয়ে যাওয়া সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি মহল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে ইউএনও’র বিরুদ্ধে মানববন্ধনের ঘোষণা দেয়।
 
প্রবীণ শিক্ষক মোঃ শাহ আলম বাহাদুর বলেন, "ইউএনও’র সঙ্গে আমাদের কোনো ব্যক্তিগত বিরোধ নেই। সভায় সৃষ্ট সামান্য ভুল বোঝাবুঝির বিষয়টি তখনই মিটে গেছে। অথচ একটি মহল অসৎ উদ্দেশ্যে বিষয়টিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে। বৃহস্পতিবার রাতে ফেসবুকে দেখি আমাদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ তুলে মানববন্ধনের ডাক দেওয়া হয়েছে, যা দেখে আমি হতবাক।" তিনি এ ধরনের অপপ্রচার বন্ধের আহ্বান জানান।
 
অপর প্রবীণ শিক্ষক মোঃ ফজলুল হক বলেন, “যে বিষয়টি আমরা নিজেরাই সমাধান করেছি, সেটিকে ইস্যু বানিয়ে মানববন্ধনের আয়োজন করার কোনো যৌক্তিকতা নেই। এতে অপ্রয়োজনীয় বিভ্রান্তি সৃষ্টি হবে এবং প্রশাসন ও শিক্ষকদের মধ্যে বিদ্যমান সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।” তিনি ঘোষিত মানববন্ধন কর্মসূচি বাতিলের আহ্বান জানিয়ে সংশ্লিষ্ট সকলকে দায়িত্বশীল আচরণ করার অনুরোধ জানান।
 
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমিত দত্ত বলেন, “হোমিওপ্যাথিক কলেজের একটি সভায় শাহ আলম স্যার আমার পাশের চেয়ারে বসা ছিলেন। তিনি সামনে বসা এক বয়স্ক ব্যক্তিকে ডাকছিলেন। তখন সভাও শেষ হয়ে গিয়েছিল। পরে শুনি, আমি নাকি স্যারদের সঙ্গে অসদাচরণ করেছি—এমন কথা শুনে আমিও হতবাক হয়েছি।”
 
এদিকে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকেরা ঘটনাটি আর না বাড়িয়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%