০৯:৫৫ পি.এম
ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয় হওয়ার পর দুই বছরের একটি প্রেমের সম্পর্ক স্থাপন হয়েছিল। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক ছাদের নিচে তারা বসবাস করেছিল।
এর পরে মধ্যপ্রাচ্যে গিয়ে যোগাযোগটি বজায় রাখা হয়। কিন্তু সৌদি আরবে ফিরে এসে তরুণটি তার প্রেমিকার সঙ্গে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান এবং সব যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
এখন বিয়ের দাবিতে তরুণী রংপুরের পীরগঞ্জের বাসিন্দা মিম কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের বাড়িতে গিয়ে অনশন করছেন। মঙ্গলবার রাত থেকে তিনি উজিরপুর ইউনিয়নের কোমারডোগা গ্রামে প্রেমিক রাকিবুল ইসলাম রাকিবের (২৫) বাড়িতে অবস্থান করছেন।
আরও পড়ুন: জামায়াতের কর্মী ছাড়া কাউকে ভিক্ষাও দেয় না’ এমপি খোকন তালুকদার
ঘটনা জানা মাত্র এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। অভিযুক্ত রাকিব কোমারডোগা গ্রামের আবুল হাসেমের ছেলে। খবর পাওয়া মাত্র প্রেমিকা মিমকে একনজর দেখতে উৎসুক জনতার ভিড় রাকিবের বাড়িতে জমিয়েছে। পরিস্থিতি খারাপ হতে দেখে অভিযুক্ত রাকিব বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়।
জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে ফেসবুকে পীরগঞ্জ উপজেলা ইবরাহিমপুর গ্রামের মৃত জাহিদুল ইসলামের মেয়ে ফেনসী আক্তার মিমের পরিচয় হয় রাকিবের। পরিচয়ের পর শুরু হয় প্রেম। এক পর্যায়ে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে গাজীপুরের বাইপাস এলাকায় এবং পরে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে তারা স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বসবাস করতে থাকেন।
বিয়ের জন্য চাপ দিলে রাকিব নানা তালবাহানা করে সময় দিলেন। এক বছর আগে সে চাকরির জন্য সৌদি আরব চলে যায়। বিদেশে থাকাকালীনও তারা নিয়মিত যোগাযোগ করেন এবং রাকিব মিমকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘরে তোলার আশ্বাস দেয়।
গত ১৮ জুলাই রাকিব তার ছুটিতে দেশে ফেরে। দেশে ফিরার দিন মিমের সঙ্গে ফোনে দীর্ঘ সময় কথা বলে সে। কিন্তু বাড়িতে যাওয়ার পর তার আচরণ একদম পরিবর্তন হয়ে যায়। সে জানিয়ে দেয় মিমকে বিয়ে করা সম্ভব নয় এবং সব যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়।
আরও পড়ুন: চট্টগ্রাম রেঞ্জে পুলিশের অভিযানে ৫৪৮ জন গ্রেফতার
নিরুপায় হয়ে মঙ্গলবার রাতে মিম পীরগঞ্জ থেকে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম রাকিবের বাড়িতে এসে উপস্থিত হন। তার উপস্থিতি দেখে রাকিব ফাঁকি দিয়ে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায়।
বুধবার সকালে সরেজমিনে রাকিবের বাড়ির সামনে দেখা যায়, মিম চেয়ারে বসে অনশন করছেন। তার পাশেই উৎসুক মানুষের ভিড় জমেছে। অনশনে বসা ফেনসী আক্তার মিম বলেন, 'রাকিব বিয়ের আশ্বাস দিয়ে আমার সব কিছু শেষ করেছে। সে আমাকে গাজীপুর ও কুমিল্লায় বাসা ভাড়া নিয়ে রেখেছিল। তার পরিবারও আমাদের সম্পর্কের বিষয়ে জানত, তারা পদুয়ার বাজারের বাসায় আসা-যাওয়া করত। কিন্তু এখানে আসার পর তারা আমার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করছে। রাকিব যদি আমাকে বিয়ে না করে, তবে আমার আত্মহত্যা করা ছাড়া কোনো পথ নেই।'
রাকিবের বাবা আবুল হাসেম দাবি করেন, মেয়েটির আগমন পরিবারের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে। তিনি বলেন, 'আমার ছেলের সঙ্গে তাদের প্রেম ছিল কিনা বা ঘটনা সত্য কিনা, এগুলো রাকিব না থাকলে আমরা নিশ্চিত হতে পারছি না।'
রাকিবের ব্যক্তিগত মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিক পরিচয় জানার সাথে সাথে তিনি কলটি কেটে দেন এবং ফোনটি বন্ধ করে দেন।
আরও পড়ুন: মণ্ডপের দেয়ালে শিল্পকর্মে বাবার আত্মত্যাগের গল্প ও কৃষকের অবদান
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. মামুন বলেন, 'খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তরুণীর সঙ্গে কথা বলেছি। সৌদি ফেরত রাকিবের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ও আশ্বাসের প্রমাণ পাওয়া গেছে। কিন্তু অভিযুক্ত যুবক পালিয়ে যাওয়ায় এখনই আমরা কোনো সামাজিক সমাধানের দিকে যেতে পারছি না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন