১১:১৮ এম
মিশরের ভূমধ্যসাগরীয় বন্দর দামিয়েত্তায় দুটি গ্যাসবাহী জাহাজে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে জাহাজ দুটিতে আগুন ধরে যায়।
এই হামলার পর সুয়েজ খাল দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত আরো বিস্তৃত হওয়ার মধ্যে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে। সৌদি আরবের তেল রপ্তানির জন্য গুরুত্বপূর্ণ পথগুলোর একটি হলো সুয়েজ খাল। এর কারণে এই অঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ রাতে জাপান যাচ্ছেন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও বিনিয়োগ আলোচনা করতে
মিশরের মন্ত্রিসভা বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, বুধবার দামিয়েত্তা বন্দরে একটি অজ্ঞাত ড্রোনের হামলায় দুটি জাহাজে আগুন লেগেছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। দামিয়েত্তা বন্দরটি সুয়েজ খালের কাছাকাছি অবস্থিত এবং এই খাল ভূমধ্যসাগর ও লোহিত সাগরকে যুক্ত করে। এটি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ।
ঘটনার সঙ্গে পরিচিত ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন গ্যাস সংরক্ষণকারী ট্যাংকার ‘এনারগোস উইন্টার’ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ড্রোনের আঘাতে জাহাজটিতে আগুন ধরে যায় এবং পরে আগুন পাশের আরেকটি জাহাজে ছড়িয়ে পড়ে। তবে এই হামলার সঙ্গে ইরানের কোনো সম্পর্ক নেই বলে জানিয়েছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে বলেন, মিশর তাদের গুরুত্বপূর্ণ বন্ধু ও অংশীদার।
তিনি দাবি করেছেন, আঞ্চলিক শান্তি নষ্ট করার উদ্দেশ্যে ইসরায়েল ষড়যন্ত্র ও ভুয়া হামলার পরিকল্পনা করতে পারে, তাই সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ পথগুলো চাপের মুখে পড়েছে। গত পাঁচ মাস ধরে চলা এই সংঘাতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। যুদ্ধ শুরুর আগে ওমান ও ইরানের মধ্যকার হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবহন করা হতো। বর্তমানে এই জলপথটি শান্তি আলোচনার বড় বাধা এবং সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।
আরও পড়ুন: সার্বিয়ায় ছাত্র আন্দোলন ভুসিসকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে
ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা গত ২০ জুলাই সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সমুদ্রপথে অবরোধের ঘোষণা দেয়। এর মাধ্যমে তারা যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের বিরুদ্ধে চলমান সংঘাতে নতুন চাপ তৈরি করেছে। হুথিদের জাহাজে হামলার পর লন্ডনের সামুদ্রিক বীমা বাজার বৃহস্পতিবার লোহিত সাগরের ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ এলাকা আরো বাড়িয়েছে। এর আওতায় সৌদি বন্দরের আশপাশের আরও কিছু উপকূলীয় এলাকা যুক্ত হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সৌদি আরব বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল ও জ্বালানি সরবরাহের পথ নিরাপদ রাখতে একটি বহুজাতিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোট গঠনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। এই জোট লোহিত সাগর অঞ্চলে কাজ করবে।
জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, মিশরের জলসীমায় গ্যাসবাহী জাহাজে ড্রোন হামলার পর সুয়েজ খাল এবং এর সঙ্গে যুক্ত সুমেদ পাইপলাইনের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-সংক্রান্ত সংঘাত শুরু হওয়ার পর সৌদি আরবের তেল রপ্তানির জন্য সুয়েজ খাল ও সুমেদ পাইপলাইন আরো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ক্লেপলারের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি তেলসহ বিভিন্ন পণ্যবাহী জাহাজ বর্তমানে লোহিত সাগরের উত্তর দিক দিয়ে সুয়েজ খাল ও সুমেদ পাইপলাইন ব্যবহার করছে। তবে এই পথ ব্যবহার করতে গিয়ে এশিয়ার ক্রেতাদের জন্য জাহাজ চলাচলের দূরত্ব বেড়ে গেছে। আগে এডেন উপসাগর হয়ে সরাসরি যাওয়া গেলেও এখন অনেক জাহাজকে আফ্রিকা ঘুরে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে।
বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত কয়েকজন ব্যক্তি জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি পরিচালনার জন্য ওমান ইরানের কাছে একটি পরিকল্পনা দিয়েছে। এতে উপসাগরীয় দেশগুলোর সমর্থনে প্রণালি ব্যবহারের জন্য স্বেচ্ছাভিত্তিক ফি নেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। যদিও ইরান প্রকাশ্যে এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে, দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ইলনা জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির বিষয় নিয়ে ওমানের সঙ্গে আলোচনা এখনও চলছে। এদিকে, চলমান সংঘাতে প্রথমবারের মতো সৌদি আরব প্রকাশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীর সঙ্গে যৌথ সামরিক অভিযানে অংশ নিয়েছে। বুধবার পূর্ব ইরাকে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর ওপর হামলা চালায় সৌদি ও যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী।
সৌদি আরব দাবি করেছে, ইরাকের ভূখন্ড থেকে তাদের তেল স্থাপনায় চালানো ড্রোন হামলার জবাব হিসেবেই এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে। সৌদি আরব ও তার আঞ্চলিক মিত্রদের দাবি, হুথিরা ইরাকের ভেতরে থাকা কিছু সশস্ত্র গোষ্ঠীর সহযোগিতায় সৌদির বিরুদ্ধে ওই হামলা চালিয়েছিল। তবে ইরাক সরকার বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের ওই হামলার বিষয়ে আগে থেকে তাদের কোনো তথ্য ছিল না এবং বাগদাদ এ অভিযানের অনুমোদনও দেয়নি।
আরও পড়ুন: যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী হত্যা: মিজানুর রহমানের মৃত্যুদণ্ড
ইরাক ও মিশরে সাম্প্রতিক এসব হামলার ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের আরো দেশকে চলমান সংঘাতে জড়িয়ে ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি সরবরাহ ও গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের নিরাপত্তা নিয়ে পরিস্থিতি আরো জটিল হতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন