০৭:৪৬ পি.এম
বাগেরহাট সদর উপজেলার কাড়াপাড়া ইউনিয়নের সরকারি দেলভাষানি খালকে দখলমুক্ত করতে যেয়ে প্রশাসন দখলদারদের বাধার সম্মুখীন হয়ে উচ্ছেদ অভিযান স্থগিত করেছে। প্রশাসনের কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে খালটি বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করে আসা ব্যক্তিদের আবেদনের পর ১৫ দিনের সময় দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেছেন। এ সময় বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ, জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
শনিবার (৪ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী বাগেরহাট সদর উপজেলার কাড়াপাড়া ইউনিয়নের গোমতি এলাকায় দেলভাষানি খালের অবৈধ দখল উচ্ছেদে অভিযান শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ঘটনাস্থলে উপস্থিত অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ মোসা. আতিয়া খাতুন ও অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তা-শ্রমিকরা উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরুর আগেই দখলদারদের বাধার সম্মুখীন হন।
সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সেলিম কাজীর নেতৃত্বে কয়েকজন দখলদার প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কাছে খাল না কাটার অনুরোধ জানান। ঘটনাস্থলে উপস্থিত সংসদ সদস্য শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ ও জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেনের কাছেও একই দাবি উত্থাপিত হয়।
আরও পড়ুন: ভাণ্ডারিয়ায় বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত
দখলদারদের পক্ষ থেকে বলা হয়, তারা সরকারি খাল আটকে মাছ চাষের জন্য পাঁচ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগ করেছেন। এখন যদি খালটি কাটা হয়েছে, তাহলে তারা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হবেন। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারা সংসদ সদস্য ও জেলা প্রশাসকের কাছে দ্রুত খাল দখলমুক্ত করার দাবি জানান। তারা জানান, সরকারি খাল দখল করে মাছ চাষের কারণেই স্বাভাবিক পানি প্রবাহ হচ্ছে ব্যাহত এবং বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার ঝুঁকি বাড়ছে।
তবে প্রশাসন শেষ পর্যন্ত তাৎক্ষণিক উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা না করে দখলদারদের ১৫ দিনের সময় দেয়। এই সময়ে তারা মাছ তুলে নেয়ার নির্দেশে কর্মকর্তাগণ ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সেলিম কাজী দাবি করেন, তিনি খাল দখল করেননি। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত এক বছর ধরে ছাত্রদল, যুবদল ও দলীয় লোকজন খালটি ভোগদখল করছে। জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন জানান, জেলা প্রশাসনের তিন বছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনার আওতায় জেলার প্রাকৃতিক জলাধার ও খাল উন্মুক্ত করার উদ্যোগ চালানো হচ্ছে।
এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য হচ্ছে কৃষকদের জন্য সেচের পানি নিশ্চিত করা এবং প্রাকৃতিক জলসম্পদ সবার ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করা। তিনি আরো বলেন, শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং কৌশলগত কারণে দেলভাষানি খালের ক্ষেত্রে দুই সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময় শেষ হলে আইন অনুসারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আরও পড়ুন: ভাণ্ডারিয়ায় যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন, র্যালি ও সমাবেশ
বাগেরহাট-২ সংসদ সদস্য শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ জানান, খাল খনন ও অবৈধ দখল উচ্ছেদ সরকারের চলমান কর্মসূচির অংশ। ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকারি খাল ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, সরকারি খালে মাছ চাষকারীরা অর্থ বিনিয়োগ করেছেন। তাদের আবেদনের পর মানবিক ও কৌশলগত দিক বিবেচনা করে মাছ তুলে নেওয়ার জন্য ১৫ দিনের সময় দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময় শেষে আইন অনুযায়ী খাল সম্পূর্ণ দখলমুক্ত করা হবে।
প্রসঙ্গত, বাগেরহাট জেলার ৭৫টি ইউনিয়নে ছোট-বড় কয়েকশ সরকারি খাল অবৈধভাবে দখল করে প্রভাবশালীরা মাছ চাষ করছেন। এর ফলে পানি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে, জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে এবং কৃষি ও পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন